গিয়াস উদ্দিন তাহেরী
হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা, কৃষি এবং ব্যাংক আমানতের সুদ।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি। এমনকি স্ত্রীর কোনো অলংকার বা নগদ অর্থ না থাকার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এই আলোচিত বক্তা।
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী তার হলফনামায় উল্লেখ করেন, তাহেরীর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি খাত থেকে বছরে আয় হয় ২৬ হাজার ৪শ। ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার। আর ব্যাংক সুদ থেকে পান ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। নগদ অর্থ আছে ৪১ হাজার ২৮৬ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৬ টাকা। স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি, যার মূল্য ৬ লাখ টাকা। এছাড়া আসবাবপত্র আছে ৫ লাখ টাকার। এই হিসেবে তার মোট অস্থাবর সম্পদ দাঁড়ায় ১৯ লাখ চার হাজার আটশত বিরানব্বই টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের নামে স্বর্ণ আছে ৩১ ভরি। আয়ের খাত ব্যবসা, কৃষি ও ব্যাংক সুদ। স্থাবর-অবস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯২ টাকা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। সম্পদ যা আছে সবই নিজের নামে, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই; এমনকি স্বর্ণ, গহনাও নেই।
এ ছাড়া, স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কৃষিজমি আছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার টাকার, যার বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তবে তাহেরীর স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের কারও নামে কোনো সম্পদ, গহনা, আসবাবপত্র, নগদ টাকা কিছুই নেই।
হলফনামায় তাহেরী উল্লেখ করেন, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা গ্রামে। হবিগঞ্জের মাধবপুরে তার শ্বশুর বাড়ি, সে সূত্রেই তিনি এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৩ মামলা রয়েছে, সবগুলোই চলমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রতিটি মামলাই দায়ের হয়েছে উল্লেখ করেন গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদার উন্নয়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিঃসৃত করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ মর্যাদা না পেলে মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করেছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি কন্টেইনারে মিলেছে সম্পূর্ণ সিকেডি অবস্থায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ সেডানের সামনের অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাক। কাস্টমস নথিতে যেসব পণ্য আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কায়িক পরীক্ষায় তার সঙ্গে কন্টেইনারে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণায় গাড়ি ও গাড়ির বিভিন্ন অংশ আমদানির অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি’ থেকে কন্টেইনারটি আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড’। কাস্টমস নথিতে চালানটিতে ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষা করার পর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে।
চালানটির কায়িক পরীক্ষায় কন্টেইনারের ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সিকেডি বা কমপ্লিটলি নকড ডাউন অবস্থায় ২০০৯ মডেলের দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিএমডব্লিউ এস-ড্রাইভ ২৩আই স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২৫০০ সিসি। গাড়িটি সাধারণ যন্ত্রাংশের পরিবর্তে সিকেডি অবস্থায় থাকায় কাস্টমস ঘোষণার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের প্রায় ৩০০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন বিএমডব্লিউ ৭৪০আই মডেলের একটি প্রিমিয়াম সেডানের সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ-কাট। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুধু সামনের অংশ কীভাবে ওই চালানে এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে গোপনে খালাস করা হয়েছে কিনা, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএমডব্লিউর গাড়ি ও অংশবিশেষ নয়, কন্টেইনারে ইসুজু ব্র্যান্ডের পাঁচটি হাফ-কাট ট্রাকও পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতর কৌশলে প্যাক করে রাখা হয়েছিল আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ। কাস্টমস গোয়েন্দাদের ধারণা, গাড়ির বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় একাধিক চালানে আমদানি করে পরে দেশে সেগুলো পুনঃসংযোজনের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এভাবে গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বা সংশ্লিষ্ট অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে প্রকৃত পণ্য ও মূল্য গোপন করে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও গাড়ির অংশগুলোর ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রকৃত শুল্ক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং বিদ্যমান আমদানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমডব্লিউ গাড়িটির বাকি অংশের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের গাড়ি বা গাড়ির অংশ আমদানির সম্ভাব্য চক্র ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন
‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন। এ মামলায় পুলিশ গভীর রাতে রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা, সরকারি মালামাল লুট ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ গভীর রাতে আব্দুস সালাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অন্য আসামিদের ধরতেও চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন।
এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে এলেও কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলাম।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের পরিবেশ তৈরি হয়নি। পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানের সাথে এমন ঘটনার পর থেকে সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মঙ্গলবার বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অফিসে গিয়ে তাদের লিখে নেওয়া পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। উপাচার্যকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগ করানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের ৪০-৫০ নেতাকর্মী মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম। তাঁর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ। দরজায় ধাক্কা দিয়ে তারা উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। উপাচার্যের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ান আব্দুস সালাম ও হারুনুর রশীদ। এ সময় সাগর নামে এক বিএনপিকর্মী আগে থেকে লেখা পদত্যাগপত্র এনে হারুনুর রশীদের হাতে দেন। হারুন ও সালাম উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।
তখন স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আওয়ামী লীগের আস্তানা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের ভিসি হুঁশিয়ার, সাবধান’।
পরে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু লোক এর আগেও আমার পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছিল। বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে ঠিকাদারি কাজ চাইত। তাদের দাবি, আমি যেন জোর করে তাদের কাজ পাইয়ে দিই। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় তারা হঠাৎ আমার অফিসে জোর করে ঢুকে যায়। তারা অভিযোগ করে, তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারকে দিয়েছি। এ সময় তারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে লাঞ্ছিত করে। তারা মব সৃষ্টি করে আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের লেখা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘তারা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জোর করে এভাবে কখনও পদত্যাগ করানো যায় না। কিন্তু অফিসে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তারা আমার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকে অবরুদ্ধ করে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক, কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’
উপাচার্যের একান্ত সচিব (সেকশন অফিসার অর্থ) নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে কৃষক দলের রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘তাঁতী দলের মহানগর সভাপতি কাজল, কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল, হারুন এবং আমার নেতৃত্বে ভিসিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটার বিষয়ে আমাদের নেতা নজরুল হুদা (মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি) সব জানেন। কিছু জানার থাকলে নজরুল হুদার কাছে জানেন।’
এ বিষয়ে নজরুল হুদা বলেন, ‘এটা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, ছাত্র-জনতার ব্যানারে স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী করেছে। এটা ভিসির কারণেই হয়েছে। ভিসি নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। ঠিকাদারি কাজ নিয়েও ঝামেলা করে। এ নিয়ে মানববন্ধন করেছিল। পরে ভিসি পদত্যাগ করেছে শুনলাম।’
এটি ‘মব’ কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাকে মব বলা ঠিক হবে না। এটা প্রতিবাদ। জনগণ ব্যানার দিয়ে করেছে, এটা ৫ আগস্টের মতো ছোটখাটো আন্দোলন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যানার দিয়ে কিছু করলে মব বলা যাবে না। ৫ আগস্টও এভাবেই হয়েছে।’
সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছয়জন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে ঘোরানোর পর নতুন করে আরও টাকা দাবি করাই কাল হলো ওই প্রতারকের জন্য। ফাঁদ পেতে বাকি টাকা দেওয়ার অজুহাতে ডেকে এনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম নার্গিস আক্তার (৩৬)। তিনি স্থানীয় মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রে এবং বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সন্ধ্যায় তাকে সরাসরি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীরা সবাই পাশের নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন—হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে নার্গিস আক্তার তাদের আশ্বাস দেন যে স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেবেন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন দেন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন দেন ১৬ হাজার টাকা করে—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার টাকা। টাকা হস্তান্তরের পর থেকেই ভুক্তভোগীদের প্রায় দেড় মাস ধরে নানা টালবাহানায় ঘোরাতে থাকেন নার্গিস।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন জানান, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব খাটিয়ে কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। কিন্তু কার্ড তো মেলেইনি, উল্টো সম্প্রতি নার্গিস আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে তাদের সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর বুদ্ধি খাটিয়ে বাকি ৪ হাজার টাকা পরিশোধের কথা বলে মঙ্গলবার নার্গিসকে রায়েরবাজারে ডেকে আনা হয় এবং পৌঁছামাত্র স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গত সোমবার বিষয়টি তার নজরে আসে। তাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ফাঁদ পেতে তাকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতারণা মামলা দায়েরসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
নড়িয়া থানায় ওসি ও বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনার পর নড়িয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সাগর ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আব্দুস সালামকে ছেড়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করতে যান ঘড়িষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর।
এ সময় জমির মালিক আবু তালেব বিলবোর্ড স্থাপনে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেখানে যান আবু তালেবের ভাই আব্দুস সালাম।
অভিযোগ উঠেছে, পরে সাগর ও তার অনুসারীরা আব্দুস সালামকে মারধর করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যান। সাগর তার নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়া ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের দাবি করেন। পাশাপাশি তার দায়ের করা আগের একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আব্দুস সালামকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।
তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে ওই হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুস সালাম বলেন, তার বড় ভাইয়ের জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে সাগরের সঙ্গে তার ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার ভাইকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখান থেকে চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তার বাড়ির সামনে ৮ থেকে ১০ জন লোক গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে তাকে ‘যুবলীগ’ ট্যাগ দিয়ে থানায় আটকের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগটি এসেছিল, সেটি ভেরিফাই করেছি। এটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল আব্দুস সালামের ভাইয়ের সঙ্গে। তাই আব্দুস সালামকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।’
ওসিকে হুমকির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তারা রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেন। কোনো ভুল হলে রাষ্ট্র বিষয়টি দেখবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে সেটিও রাষ্ট্র দেখবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। এসব ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাগর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘তিনি যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি এবং রাজনীতি করি, আমাদের এভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি আগামী দুই দিনের মধ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। তদন্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে বিষয়টি পাঠাব।
প্রায় এক যুগ আগে সিলেট নগরীর বন্দবাজার এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিলো ‘টাইম টাওয়ার’ নামে একটি টাওয়ার। সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছিল এ টাওয়ার। তবে সম্প্রতি সিটি করপোরেশই রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলেছে সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য নির্মিত টাওয়ার। গত বুধবার রাতে বুলডজার দিয়ে বন্দরবাজার করিমউল্লাহ মার্কেটের সামনে হকার পয়েন্টের এ টাওয়ারটি ভেঙে ফেলে সিলেট সিটি করপোরেশন। হঠাৎ করে কেন এ টাওfয়ারটি ভেঙে ফেলা হলো এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিসিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ১৪২ বছরের পুরোনো আলী আমজদের ঘড়ির আদলে নগরের বন্দরবাজার এলাকার হকার পয়েন্টে ‘টাইম টাওয়ার’ নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে নগরের সৌন্দর্যবর্ধণের জন্য এ টাওয়ার নির্মিত হয়। এর আগে ওই স্থানে পত্রিকার হকাররা বসতেন ও নানা ধরণের ব্যানার-ফেস্টুন সবসময় ঝুলে থাকতো।
সিসিক সূত্র জানায়,, টাওয়ারটির উচ্চতা মাটির ওপরে ২১ ফুট এবং মাটির নিচে ৮ ফুট। সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে এটির নির্মাণ করা হয়। ৪৪ ফুট লম্বা ভূমিতে ত্রিভুজাকৃতির এই টাওয়ারের সম্মুখ, ডান ও বাঁ দিকের অংশে মোট তিনটি ঘড়ি থাকার কথা ছিল। এসব ঘড়িতে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের সময় সংযুক্ত থাকার কথা ছিল। টাওয়ারটির নকশা করেছিলেন মো. এহতেশাম আলী।
যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন ও সৌদি আরবে সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী থাকায় স্থানীয় মানুষের সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের সঙ্গে তিন দেশের সময় নির্দেশকের ব্যবস্থা টাওয়ারে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ এই টাওয়ার ভেঙে ফেলা প্রসঙ্গে সোমবার রাতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহাররঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, এই টাওয়ারের জায়গায় নতুন আরেকটি টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। তাই এটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।