পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ এএম

রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলার রিপোর্ট দাখিল নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 


এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের তদন্ত সংস্থাটি বলেছে, পিবিআই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাসহ সকল মামলা আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ১৭টি জিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালাতে চার্জশীট ও ৬৭টি সিআর মামলার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধীআন্দোলনের একটি হত্যা চেষ্টা মামলার (ধানমন্ডি থানার মামলা নং—০১, তারিখ—০৩/০৯/২০২৪ খ্রি.) ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনামটি ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। পরিপূর্ণ তথ্য এই যে, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ শরিফ (৩৭), পিতা—সিরাজ, ৪১/১ ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা, হাজারীবাগ, ঢাকা বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ভিকটিম হিসেবে মো. সাহেদ আলী (২৭), পিতা— মো. কুদ্দুস, ৩৮ ট্যানারী মোড়, হাজারীবাগ, ঢাকাসহ শুধুমাত্র নাম ও ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ উল্লেখ করে আহত হিসেবে আরও ৯ জনের শুধুমাত্র নাম উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি ২৭ এর মিনা বাজারের আশপাশের এলাকা এবং ঘটনার সময় ০৪/০৮/২০২৪ তারিখ সকাল ১১টা উল্লেখ করেন। আসামী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করেন। বাদী ভিকটিম সাহেদ আলী তার ছোট ভাই হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন (যদিও ঠিকানা ভিন্ন)। 


তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিম সাহেদ আলীর সন্ধানে এজাহারের উল্লেখিত ঠিকানায় এবং বাদীর ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারেন যে, সাহেদ আলী নামে কেউ উক্ত ঠিকানায় কখনো বসবাস করেন নাই এবং ভিকটিম বাদীর ভাই নয়। 


ভিকটিমের এজাহারে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর কোন মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নাই। ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমান্ত স্কয়ার উল্লেখ করায় সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট কমিটির সাথে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও উক্ত ভিকটিম সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। 


অন্যান্য ভিকটিমদের তথ্য যাচাই করার জন্য ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা সিটি কলেজ এর অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, উল্লেখিত ছাত্র—ছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয় নাই। 


বাদীকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করে এবং সরাসরি বাদীর সাথে সাক্ষাৎ করে যেকোন ভিকটিম উপস্থাপন করতে বলা হলেও তিনি কোনো ভিকটিম হাজির করতে পারেন নাই। তাছাড়া একাধিকবার বলা সত্ত্বেও  বাদী ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ঠিকানা প্রদান করেন নাই। ঘটনাস্থলের সাক্ষ্য প্রমাণেও উক্ত সময় উক্ত স্থানে কোন ঘটনা ঘটে নাই মর্মে প্রমাণিত হয়। সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্টে তথ্যগত ভুল দাখিল করা হয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় একটি গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্যারেজে থাকা ১১টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল এবং সংলগ্ন মুদির দোকানের মালামাল ও একটি ফ্রিজ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের মামারিশপুর এলাকায় ইদ্রিস অটো গ্যারেজে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাতে গ্যারেজে অটোরিকশাগুলো চার্জে দেওয়া ছিল। এ সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্যারেজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।


প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ১৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডে গ্যারেজে চার্জে থাকা ১১টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। একই সঙ্গে পাশের মুদির দোকানের মালামাল ও একটি ফ্রিজও আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত অটো গ্যারেজটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় আশপাশের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, "বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"

সর্বশেষ সব খবর

মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই পুলিশ প্রশাসন এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।


ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে। কথা বুঝস না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না। আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’


এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।



এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর তাকে রাতেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও অবগত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. মাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাব।’

সর্বশেষ সব খবর

নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

পঞ্চগড়ে রিকশাচালক আল আমিনকে গুম করে হত্যার মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পঞ্চগড়ে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হন রিকশাচালক আল আমিন। পরে তার বাবা মনু মিয়া গত ১০ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় গুম ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আল আমিনকে গুম ও হত্যার অভিযোগের এ মামলাসহ বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলাসহ মুক্তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

 

সর্বশেষ সব খবর

নবীগঞ্জের দিনারপুরে নিজের মাল্টা বাগানে আবুল খয়ের

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে হবিগঞ্জঞ্জের নবীগঞ্জে পাহাড়ের টিলায় কমলা ও মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ। সেখানকার দিনারপুর পাহাড়ের প্রায় প্রতিটি টিলায় এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি কমলা ও মাল্টার বাগান। সমতল ভূমি না হলেও দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় মাল্টা ও কমলা চাষ করে নতুন এক কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন তিন উদ্যোক্তা। তারা হলেন–গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কামাল উদ্দিন জুবেদ, কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের আবুল খয়ের কায়েদ এবং প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন। তাদের এই সাফল্য দেখে এখন এলাকার বহু যুবক ও উদ্যোক্তা পাহাড়ি টিলায় মাল্টা ও কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।


ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হওয়া যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ জানান, নিজ বাড়ির একটি টিলায় প্রায় ৩০০টি মাল্টা ও ৫০টি কমলা গাছ দিয়ে তিনি প্রথম চাষাবাদ শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এ বছর তিনি তিন থেকে চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছেন। জুবেদ বলেন, কমলার ফল আসতে একটু দেরি হলেও মাল্টা এক বছরেই ফলন দেয়। সে কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আরও দুটি নতুন বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।


সবুজের ছায়াঘেরা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ। উঁচুনিচু টিলা আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মধ্যে সকাল হলেই শোনা যায় বিভিন্ন ধরনের পাখির কিচিরমিচির। এমনই অপরূপ সাজে সজ্জিত পাহাড়ি জনপদ নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনা এখন নতুন সম্ভাবনার সাক্ষী।


একই এলাকার কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল খয়ের কায়েদ ২০১৪ সালে শখের বশে বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে শুরু করা এই বাগানে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন, যার মধ্যে তাঁর লাভ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। বাগান পরিচর্যাকারী হারুনুর রশিদ জানান, মালিক কায়েদ মিয়ার সাফল্য দেখে তারা আরও নতুন বাগান করার জন্য জায়গা খুঁজছেন। অন্যদিকে, প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন তাঁর বাড়ির আঙিনায় ৩০০টি গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।


স্থানীয়রা জানান, জুবেদ ও কায়েদ মিয়ার বাগানগুলোর সুনাম এখন হবিগঞ্জ ও সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে ও ফল কিনতে আসছেন। বাজারে যে মাল্টা পাওয়া যায় তা অনেক সময় টক হলেও এখানকার গাছের মাল্টা অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন এসে বাগান থেকে তাজা ফল সংগ্রহ করছেন।


নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জুল হোসেন বকুল এবং স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, তাদের সফলতা দেখে দিনারপুর এলাকায় এখন অনেকে বেকারত্ব দূর করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি এসব বাগানে কাজ করে অনেক শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।


নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ধনঞ্জয় দেবনাথ জানান, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে জুবেদ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পুরো ঋণ পরিশোধ করেছেন। তাদের এমন সাফল্য ব্যাংকের জন্য আনন্দের।


নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফিন হাসান জানান, দিনারপুরের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা, লেবু ও কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জুবেদ মিয়ার কমলার পরীক্ষামূলক চাষও সফল হয়েছে।






সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ এএম

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।


নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।


নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।


শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।


স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।


চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।  


চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে । 


আজ সোমবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে অভিযান পরিচালিত হয় এবং সুজনের বাড়ি থেকে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। 


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ পরিদর্শক মো: রাশিদুল  ইসলাম, সহকারি উপ পরিদর্শক মো: জিয়াউল হক, মো: আলমগীর হোসেন, সিপাই প্রবাল চন্দ্র সরকার, মো: ফরহাদ হোসেন, অক্ষয় কুমার, জাহাঙ্গীর মাতাব্বর, সুমাইয়া আক্তার।   


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে মুত অন্তু রবিদাসের ছেলে সুজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালিনা করা হয়, সুজন পলাতা রয়েছে, তার বাড়িতে তল্লাশি করে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ সব খবর