অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও সোচ্চার ও কার্যকর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ‘আন-এডিটেড’ বা অসম্পাদিত ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তিনি শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না।
তাই সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। মানুষ যাতে ব্রেকিং নিউজ দেখে মূলধারার পোর্টালে গিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে, সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে।”
ক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ূন কবীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার।
সিলেটের সাথে আত্মিক সম্পর্ক সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিলেট প্রেসক্লাবের দৃঢ়তার প্রশংসা করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলগুলোর নামকরণ নিয়ে অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। হরতাল-বিক্ষোভের কারণে তিনি অনেকটা হতাশও হয়ে পড়েছিলেন।
সেই অচলাস্থা নিরসনে সিলেট প্রেসক্লাব অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল। প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নূরের নিরলস প্রচেষ্টায়-সেই সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছিল।
তাদের কারণে কালেক্টরেটে বসেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়েছিল। ‘নিজে অন্তর্মুখী মানুষ হওয়া স্বত্বেও’ মূলত সেই কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই তিনি প্রেসক্লাবের অভিষেকে আসতে সম্মত হয়েছেন।
সিলেট প্রেসক্লাব অতীতে যেভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে; আগামীতেও সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন-সাবেক মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব। সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য খাতের মতো সাংবাদিকতাতেও কিছুটা অধঃপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেশাদার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন। তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থেকে দেশ ও জনস্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন।
হুমায়ুন কবিরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম খুবই জরুরি। কিন্তু, বর্তমানে ভুয়া ও অপতথ্যের কারণে মানুষজন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব মোকাবেলায় সিলেট প্রেসক্লাবের মতো সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিলেট প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রেসক্লাব মজবুত হলে সুস্থ ও স্বাভাবিক সাংবাদিকতা মজবুত থাকবে, উন্নয়নের দাবিও মজবুত হবে। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকরা সঠিকভাবে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। তাই, নির্বাচনে সঠিকভাবে নেতৃত¦ নির্বাচন করতে হবে। ‘হ্যা’ ভোট দিয়ে দেশের সংস্কার কাজে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারঃ সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা অনেকক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মীও। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব সাংবাদিকের নৈতিকতা নেই, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। তবেই, ভালো-মন্দের পার্থক্য নিরূপন করা সম্ভব হবে।
পাশা খন্দকারঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি)-দের মূল্যায়ণ করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে এ দেশের পঞ্চম প্রজন্ম বিলেতে অবস্থান করছে-এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রজন্মকে হারাতে বসেছি। এজন্য তাদেরকে দেশমুখী করতে হবে। চায়না যেভাবে তাদের প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে আনছে-বাংলাদেশেরও অনুরুপ ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সিলেট প্রেসক্লাবকে ভূমিকা রাখতে হবে।
মুকতাবিন উন নূরঃ সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। পবিত্র আল কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ সিলেট প্রেসক্লাব এই ধরনের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে চায়-উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই পেশাকে সম্মানিত করতে চাই। অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় তিনি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ অন্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্য দিলেন যারাঃ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ইকবাল সিদ্দিকী ও আহমেদ নূর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার নজির আহমদ, দৈনিক সিলেট সংলাপ সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অতিথি সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, দৈনিক নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধাান আব্দুল কাদের তাপাদার, দৈনিক আমার দেশের সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ।
স্বাগত বক্তব্যে রাখেন অভিষেক কমিটির আহব্বায়কও সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির। অনষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলায়ত করেন ক্লাব সদস্য মুন্সী ইকবাল ও গীতা পাঠ করেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সিলেট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন(এসএমইউহজে), বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় পত্রিকা-দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক সিলেট মিরর, দৈনিক সিলেট বাণী, দৈনিক কাজিরবাজার, দৈনিক জৈন্তাবার্তা, দৈনিক প্রভাতবেলা ও দৈনিক শুভ প্রতিদিন-এর পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে প্রধান অতিথি সিলেট প্রেসক্লাবের মকবুল হোসেন চৌধুরী পাঠাগার পরিদর্শন করেন।এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরন করেন সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান। এসময় তিনি পাঠাগারের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।অভিষেক অনুষ্টানে পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমানের সম্পাদনায় অভিষেক স্মারক ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও মানবসম্পদ) মো. মাসুদ রানা, সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কর্মককর্তাবৃন্দ ও ক্লাব সদস্যসহ সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে ।
আজ সোমবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে অভিযান পরিচালিত হয় এবং সুজনের বাড়ি থেকে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ পরিদর্শক মো: রাশিদুল ইসলাম, সহকারি উপ পরিদর্শক মো: জিয়াউল হক, মো: আলমগীর হোসেন, সিপাই প্রবাল চন্দ্র সরকার, মো: ফরহাদ হোসেন, অক্ষয় কুমার, জাহাঙ্গীর মাতাব্বর, সুমাইয়া আক্তার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে মুত অন্তু রবিদাসের ছেলে সুজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালিনা করা হয়, সুজন পলাতা রয়েছে, তার বাড়িতে তল্লাশি করে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপুর ও গোড়াই এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রির অভিযোগে সোহাগপুর বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে গোড়াই এলাকার মোল্লা ওরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ৫ হাজার টাকা এবং গোড়াই ওয়াল সেতুর নিচে অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রির অভিযোগে তিন ফল বিক্রেতাকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৫ আগস্ট (সোমবার) সকালে শ্রী শ্রী কালিবাড়ী'র নাট মন্দির প্রাঙ্গনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর প্রধান উপদেষ্টা ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি শ্যামল হোড় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি, টাঙ্গাইলের জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক পিনাকী দে, সদস্য সচিব শংকর সরকার, শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর উপদেষ্টা মনিন্দ্র মোহন ঘোষ, সহসভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টির সহকারী পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকার, শ্রী শ্রী ছোট কালিবাড়ীর সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভার শুরুতেই পবিত্র গীতা পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নরেশ সরকার। সভাটি সঞ্চালনা করেছেন শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার।
টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর টাঙ্গাইল জেলায় ১৩৫৭ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২৩৩ টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৭০ টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২৮ টি, সখীপুর উপজেলায় ৪৪ টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮২ টি, নাগরপুর উপজেলায় ১৩৮ টি, বাসাইল উপজেলায় ৮১ টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৪ টি, গোপালপুর উপজেলায় ৫৭ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ৩৬ টি, মধুপুর উপজেলায় ৬০ টি ও ঘাটাইল উপজেলায় ৯৪ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
‘Standing with Teachers’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনাজপুর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, দিনাজপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম জেলা পরিষদ, দিনাজপুরের প্রশাসক জনাব এ্যাড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল; শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট, দিনাজপুরের সভাপতি জনাব অধ্যাপক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম; দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), দিনাজপুর জনাব এস এম হাবিবুল হাসান; জেলা শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব খন্দকার মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব মোঃ সাইফুজ জামান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়ীত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, দায়ীত্ব ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Standing with Teachers’-শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হলে শিক্ষার গুণগত মান আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে দিনাজপুরের এই আলোচনা সভায়।
'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদার উন্নয়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার।
আলোচনায় বক্তারা বলেন,মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিঃসৃত করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ মর্যাদা না পেলে মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করেছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পিরোজপুরের কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) উভয় উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল-‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’।
কাউখালী: কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. এনামুল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রেহেনা আক্তার তাঁর জীবনে শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “একজন সত্যিকারের শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারেন।”
তিনি শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদানে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তাঁর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
ভাণ্ডারিয়া: সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের প্রধান কারিগর। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।