সাজিদ আব্দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা, খুনীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং অতিদ্রুত খুনীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় তারা প্রশাসনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী হত্যার ৬ মাস পার হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি-এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমরা এখানে অনিরাপদ। আমরা সব সময় শঙ্কিত থাকি। দিনে-দুপুরে হত্যা করা হলেও প্রশাসন শুধু টালবাহানা করছে। আমরা দ্রুত বিচার চাই এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
এ সময় ছাত্রশিবির ইবি শাখার সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, সাজিদের হত্যাকান্ডের পর থেকে শুনে আসছি হত্যাকারীদের মুখ উন্মোচন হবে। যখন বিচার চেয়ে সোচ্চার হয়েছি তখন প্রশাসন তদন্ত রিপোর্ট আসতেছে বলে আমাদেরকে বিরত রাখছে। কিন্তু সেই তদন্ত রিপোর্ট ঠেলা গাড়িতে আসতেছে নাকি ট্রেনে আসতেছে আমরা এখনো জানি না। কোন অদৃশ্য শক্তির ভয়ে আপনারা বিচার করতে পারছেন না শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের মুখ উন্মোচন করুন। সাজিদ হত্যাসহ প্রত্যেকটি অনিয়মের সাথে জড়িতদের মুখ উন্মোচন করুন।
ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ বলেন,"এই ছয় মাসে প্রশাসন অনেক নয়-ছয় করেছে। এই নয়-ছয় আর চলতে দেওয়া হবে না।
প্রশাসনকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হুশিয়ারী করে বলতে চাই, ব্যর্থ প্রোক্টর বডিকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় অপসারণ করবেন। যদি প্রোক্টরবডিকে অপসারণ করতে ব্যর্থ হোন তাহলে আগামী বুধবার ১১টার সময় ভিসি অফিস ঘেরাও করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সাথে যারা জড়িত তাদেরকেও আমার সন্দেহ হয়, তাদেরকেও তদন্তের আওতায় আনুন।
উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়ে উপ-উপাচার্যকে জানাতে গেলে তিনি বলেন, আমি একজন কনভেনর হিসেবে এটি উপাচার্য'র সামনে উপস্থাপন করবো।
এ বিষয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিরাপত্তা থেকে সাজিদ হত্যার বিষয়ে প্রক্টরের দায় নেই। যেহেতু প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগকৃত। যদি দায় থেকে থাকে তাহলে সেটা সম্পূর্ণ আমাদের প্রশাসনের। বর্তমান হত্যাকাণ্ডটি পুলিশী কেসের তদন্তাধীন, ভিসি থেকে প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি নাই। যদি কোন কারণে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন কিছু কর্মসূচি দেয় তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের কাতারে চলে যাব।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হ্যাপি আক্তারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন হ্যাপি আক্তার।
হ্যাপি আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, অপপ্রচারে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিতে কোনো বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই নম্বরকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিং-সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া একটি মোবাইল নম্বরকে আমার নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাতে আমার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
হ্যাপি আক্তারের ভাষ্য, সম্প্রতি ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর জের ধরে একটি মহল তাঁকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হ্যাপি আক্তার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে প্রচার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করতে এবং এসব বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে তাঁর নাম, পরিচয় বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পেয়ার আহমেদ। এর আগে শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত এ অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১২ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জন, চরজব্বর থানায় দুজন, সোনাইমুড়ী থানায় ছয়জন, চাটখিল থানায় ছয়জন এবং কবিরহাট থানায় সাতজনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে থানায় দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার বাবা আব্দুল মান্নান (৫৮)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাবা আব্দুল মান্নান ও ছেলে সাব্বির আহমদকে (২১) নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার সাব্বির উপজেলার চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার বাবা আব্দুল মান্নান চাষিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সোনাইমুড়ী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছেলের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তাকে দেখতে থানায় যান বাবা আব্দুল মান্নান। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরিবারের দাবি, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর মামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং বর্তমানে কারাগারে আটক মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে এবার নিজ এলাকায় কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও মুসল্লিরা এই ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঢাকা ও সারাদেশে নানা অপকর্মে বিতর্কিত মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কোনো তোয়াক্কা না করে শাহরিয়ার মাহমুদ ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, টয়লেট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একইভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অকার্যকর কমিটির দোহাই দিয়ে ভুয়া রশিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলন ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। সরকারি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, রাজধানী ঢাকায় আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সম্প্রতি শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার ভুক্তভোগী নিরীহ মানুষ ও মুসল্লিরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাই তাদের দাবি, শাহরিয়ার মাহমুদ বর্তমানে কারান্তরীণ থাকা অবস্থায়ই যেন তার এই দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও ভীতি প্রদর্শনের অবসান ঘটিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং তাকে ভূমিদস্যুতার অপরাধেও যথাযথ আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো.মানিক, মো.রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তার
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রেনু আক্তার নামের সাজাপ্রাপ্ত এক বিএনপি নেত্রীর উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা তৈরি হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তাফা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির মুন্সি, যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মহিবুল্লাহ এনমি, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আবু নাইম, বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেনু আক্তার উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। চেক প্রতারণার মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাওয়ায় গত ৬ মে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানার চিঠিতে তাঁর ঠিকানা হিসেবে উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড এলাকা এবং ছিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে চেক প্রতারণার (ডিজঅনার) অভিযোগে রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। চলতি বছরের ৪ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ আদালত। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দুই দিন পর ৬ মে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানার আদেশ পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত ১৬ আগস্ট তা গলাচিপা থানায় পাঠানো হয়।
চেক প্রতারণার মামলায় সাজা পাওয়া কিংবা নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তার। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা নেই। বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। গত আগস্ট মাসে চট্টগ্রামের একটি আদালতে তিনি হাজিরাও দিয়েছেন।
তবে রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে ওসি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির বিস্তারিত পরিচয় না থাকায় এবং কোনো মহল থেকে তাঁর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর রেনু আক্তারকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
রেনু আক্তার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সদস্য নন বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি দলীয় নেতাদের সঙ্গে সভায় অংশ নেন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত কি না, সেটা পুলিশ বিভাগের নজরে থাকার কথা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয়।
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর রেনু আক্তারকে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু দলীয় কোনো ঘটনা নয়, তাই তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কম।
আনন্দে শিখি, শৃঙ্খলায় থাকি, দেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন আঁকি- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচদিনব্যাপী একাদশ জেলা কাব ক্যাম্পুরির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার, ২ অক্টোবর) বিকেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাব ক্যাম্পুরির উদ্বোধন করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পুরির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা স্কাউটসের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল হক।
তিনি বলেন, ‘স্কাউটসের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সুন্দর হতে শেখায়, মানবিক মানুষ হতে শেখায়। ক্যাম্পুরিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজে সুন্দর হবে, মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করবে। সর্বোপরি সততা ও সত্যের পথে দেশের যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সরদার মোস্তফা শাহিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, বাংলাদেশ স্কাউটস দিনাজপুর অঞ্চলের কমিশনার আখতারুজ্জামান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলার স্কাউটর্স এর সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে কাব স্কাউটদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। ডিসপ্লেতে স্কাউটদের শৃঙ্খলা, দলগত কার্যক্রম ও বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়। ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ কাব ক্যাম্পুরি অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এ ক্যাম্পুরিতে জেলার ৭৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৯০জন কাব স্কাউটরা অংশগ্রহণ করছে।