তালাকের পরও সাবেক স্বামীর হুমকি ও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীর দুমকির এক নারী। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কবির শরিফ তাঁকে প্রায় চার মাস আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাইবার আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপসের চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী লিমার অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট বরিশালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কবির শরিফের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তিনি জানতে পারেন, কবিরের আগের দুই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
লিমার দাবি, একপর্যায়ে কবির তাঁকে বরিশাল থেকে দুমকির বোর্ড অফিস বাজার এলাকায় নিজের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে নিয়ে প্রায় চার মাস আটকে রাখেন। কক্ষের বাইরে তালা দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কাজি অফিসের মাধ্যমে কবিরকে তালাকের নোটিশ পাঠান।
এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ লিমার। তাঁর ভাষ্য, তালাকের পর কবির তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আদালতে মামলা করেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া শুরু করেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দুমকি থানায় গেলেও তাঁর অভিযোগ বা জিডি গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
লিমা আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার জন্য বারবার মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন করেও রেহাই পাননি। প্রতিবারই তাঁর নতুন নম্বরের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে হুমকি দেওয়া হতো। এ কাজে থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। একপর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেন তিনি।
এদিকে, কবির শরিফ নিজের ফেসবুক আইডিসহ একাধিক আইডি থেকে লিমার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও আপত্তিকর মন্তব্যসহ প্রকাশ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পরিচিতজনদের মোবাইল ফোনে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখে সাইবার আদালতের দ্বারস্থ হন লিমা। আদালতের নির্দেশে দুমকি থানায় সাইবার আইনে মামলা নেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব।
তবে লিমার অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ না নিয়ে তাঁকে থানার ওসির কক্ষে বসিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও আসামির সঙ্গে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কবিরের লোকজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।
গত ১৯ অক্টোবর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান লিমা। পুলিশ সুপারকে না পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিকভাবে বিস্তারিত অভিযোগ জানান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুমকি থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।
এরপরও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি বলে অভিযোগ লিমার। গত ২৪ অক্টোবর মা-কে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। ডিআইজি তাঁকে আশ্বস্ত করলেও এখনো ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সামনে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বা আপস-মীমাংসা করতে চাপ দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের উদাসীনতার অভিযোগও সত্য নয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কবির শরিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
লিমার দাবি, তিনি এখন নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচার চান। অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা চান তিনি।
নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা
খুলনা নগরীর ব্যস্ততম পিটিআই মোড়। সময়- শনিবার দুপুর পৌনে একটা। পাশের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তখন রোগীদের ভিড়। অসংখ্য মানুষের সামনে চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে প্রবেশ করলেন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কাঁচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছে কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে ফেলে।
এরপর সবার সামনে দিয়ে বীরের মতোই বের হয়ে যায়। গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা ও ভাঙচুরের চতুর্থ ঘটনা এটি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পঞ্চম। আগের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও মালিকপক্ষ ‘বোবা’ হয়ে গেছেন। পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।
ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান এবং ভুক্তভোগীরা জানান, পিটিআই মোড় কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পাওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিন দিন সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাঁচজন যুবক খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দু’টি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার গ্লাস, রিসিপশনের কাউন্টারসহ সামনে যা পেয়েছে সব কিছু ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। ভাঙচুর শেষ হলে তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন দেয়। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে হতে ফোন কেটে দেয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’ আগের ঘটনাগুলোর মতোই দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে সকলকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে অবস্থিত সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়।
যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত ‘চাইনিজ প্যালেস’রেস্তোরাঁ য় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে।
মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকেরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে অবস্থিত রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেনি। সন্ধানীতে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নাটোরের লালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুব্রত কুমার সরকার, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম প্রমুখ,
আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এসময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ও বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে রংপুরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে চলছে নির্মাণ কাজ
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও থানা পুলিশ আদালতের আদেশ প্রতিপালনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পুলিশ বলছে উভয়পক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের চকহরিবল্লভ প্রকাশ কুশাপুকুর গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অজিত কুমার মন্ডল অভিযোগ করেন যে, তিনি আমমোক্তার হিসেবে উপজেলার সিদ্দিকপুর গ্রামের মৃত প্রাণকৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে বিশ^নাথ মন্ডল এবং মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র মন্ডলের দুই ছেলে প্রদীপ কুমার মন্ডল ও পবিত্র কুমার মন্ডলের পক্ষে বাদী হয়ে মোট ১০ দশমিক ৮০ একর জমি বাবদ ২০১২ সালে শ্রী অনুকুল চন্দ্র মন্ডলসহ ১৩ জনকে বিবাদী করে নওগাঁর তৃতীয় সাব জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নং ২৩/২০১২, পরে তা নওগাঁর মহাদেবপুর সিভিল জজ আদালতে ২২৯/২০২১ নম্বরে বদলী হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ওই মামলায় ২০১২ সালের ২৫ জুন মোকদ্দমা নিস্পত্তিকালতক নালিশী তপশীল সম্পত্তিতে স্ট্যাটাসকো (স্থিতাবস্থা) বজায় রাখার আদেশ দেন। কিন্তু আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ গত ২৬ অক্টোবর মহাদেবপুর মৌজার দুটি স্থানে মোট ৪ দশমিক ৩২ শতক জমির উপর পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তারা বাদীপক্ষকে নানান হুমকি প্রদান করে।
অজিত কুমার মন্ডল এব্যাপারে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের ইনফরমেশন স্লিপ দাখিল করে দরিয়াপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্রের ছেলে শ্রী অমিত কুমার, মহাদেবপুর কুশার সেন্টারপাড়া মহল্লার মৃত সুরেশ চন্দ্রের দুই ছেলে অনুকুল চন্দ্র ও অরুন চন্দ্র, মৃত রনজিতের ছেলে রাহুল চন্দ্র, অরুন চন্দ্রের ছেলে শ্রী মিঠুন, চক ধর্মপুর গ্রামের মৃত বিভূতির ছেলে শ্রী সন্দিপের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহাদেবপুর থানার এসআই জহির উদ্দিনকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। আবেদনের পর তিন দিন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখলেও এরপর বিবাদীরা আবার নির্মাণ কাজ করতে থাকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মহাদেবপুর মডেল মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণের ফাঁকা জায়গায় নতুন করে ভীত কেটে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া গরুর গাড়ী মোড়ের পূর্বদিকে একটি বিশাল মার্কেটে নতুন করে দোতালা নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিবাদী রাহুল চন্দ্র দাবি করেন যে, মামলাটি একবার খারিজ হয়েছিল। ফলে স্থিতাবস্থার আদেশও বাতিল হয়েছে। কিন্তু আদালত সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসে মামলাটি সাক্ষি হাজির না হওয়ায় খারিজ হয়। দুসপ্তাহ পর আদালতে কষ্ট (জরিমানা) প্রদান করলে মামলাটি পুনরায় আগের অবস্থায় চালু হয়।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার এসআই জহির উদ্দিন বলেন, উভয়পক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার এবং আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি করে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিভাজন ও নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সুদৃঢ় ও কার্যকর নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনা। এই চেতনাকে ধারণ করেই আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম হলরুমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এই তিন প্রজন্মই জাতীয় ঐক্যের রাজনীতিকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আগামী দিনে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদ-বিভাজন ভুলে দেশের মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পঞ্চগড়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পঞ্চগড় একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এ জেলার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জেলার সার্বিক উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত পঞ্চগড় উপহার দিতে হলে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজলসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গুলজার হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন পাঠান ও উছমান গনী মল্লিক মাখনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা জাতীয় জীবনে এ দিবসের গুরুত্ব, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে দেশ গঠনে পারস্পরিক সংহতি, সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।