কাদের মির্জা-স্ত্রী-ছেলে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাশিকের নামে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় তাদের আসামি করে তিনটি মামলা করেছে সংস্থাটি।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইদ্রিস। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। মঙ্গলবার সকালে আদালতে মামলার কপি দেওয়া হয়।
আবদুল কাদের মির্জা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি। তিনি দলটির সাধারণ সম্পাদক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।
দুদক সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদের মির্জার নামে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া তাদের ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাশিকের নামে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক।
দুদকের সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল এবং ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ অর্জন করেন আবদুল কাদের মির্জা। অন্যদিকে, তার স্ত্রী গৃহিণী এবং বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদী চিন্ময় চক্রবর্তী বলেন, কমিশনের অনুমোদনের পর তিনটি মামলা করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স
ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সমন্বয়ের আহ্বান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৪ অক্টোবর বিকালে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবনের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ বলেন, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য।
তিনি অপরাধ তদন্তের মানোন্নয়ন, সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আলামত সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন এবং মেডিকেল ও ফরেন্সিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রাপ্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত সমন্বয় সভা জেলার বিচারসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। মাদক জিরো ট্রলারেন্সে নিতে বিজিবিকে সীমান্তে সিলগালা করার আহবান জানান।
‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পুলিশ সুপার (পিবিআই) শচীন চাকমা, পুলিশ সুপার (সিআইডির) সুত্রধর ত্রিপুরা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক একেএম আব্দুল হাই, জজ কোর্ট পিপি এডঃ ফখর উদ্দিন আহমেদ খাঁন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডঃ তারিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার, সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লতা দাস, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক, জেলা সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রতন কুমার ঢালী, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডাঃ মাহমুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (র্যাব প্রতিনিধি) শেখ মাহফুজার রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি যৌথ পরিচালনা করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
ঢাকার সাভারে গ্যারেজ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যারেজ ভাড়া কমানোসহ যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
এর আগে গতকাল মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে অটোরিকশা চালকদের সম্মিলিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সকল চালকদের আজ কোন অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বের না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আজ বুধবার সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধভাবে লাঠি হাতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ কোন সড়ক বা লেনে যেন কোন অটোরিকশা চলাচল করতে না পারে সেই লক্ষে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়াও এই আন্দোলন আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
এসময় সড়ক মহাসড়কে কোন অটোরিকশা চলাচল করতে দেখলেই তাদের থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশাগুলো আটকে রাখছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও অন্য কোন যান চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেখা যায়নি তাদের।
সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও সমর্থনে কর্মবিরতি পালন করা মো আলম, ফরহাদ সহ একাধিক অটোরিকশা চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতোপূর্বে এই এলাকার গ্যারেজগুলোতে অটোরিকশা প্রতি ব্যাটারি চার্জিং বিলসহ ১৫০ টাকা হারে নেওয়া হয়। গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর অজুহাতে গ্যারেজ মালিকরা এই ভাড়া পর্যায়ক্রমে কয়েক দফা বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ গতকাল এই ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন গ্যারেজ মালিকরা।
আন্দোলনরত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকরা এসময় অনতিবিলম্বে বর্ধিত গ্যারেজ ভাড়া প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো সাপেক্ষে যৌক্তিকভাবে গ্যারেজ ভাড়া নির্ধারণ ও যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানান।
বেলা ১১ টা নাগাদ সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল, তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা এসব এলাকার সড়কগুলোর কোনটিতেই কোন অটোরিকশা চলাচল করছে না।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসময় কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেলেও, মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে চলাচলরত এসব অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়াসহ কয়েকজন অটোরিকশা চালক যাত্রী পরিবহন করায় তাদের মারধরও করতে দেখা যায় আন্দোলনরতদের।
তবে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনের এসব স্পটের কোনটিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, 'লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান, কোন অটোরিকশা আটকে চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া বা মারধর করার মত কোন তথ্য আমরা এখনো পাইনি। এমন অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও আমাদের অতিরিক্ত পুলিশও বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কাছে তারা জানিয়েছেন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। তবুও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, আন্দোলনের পেছনে অন্য কোন গোষ্ঠীর কোন হাত বা হীন কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।'
মান নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি বিবেকের শুদ্ধতা জরুরী। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকী এবং উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম।
তাঁরা বলেছেন, পণ্যের মান রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা ও বিবেকের শুদ্ধতাও জরুরী। একই সঙ্গে জেলার যেসব বেকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), দিনাজপুরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এবারের প্রতিপাদ্য ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানী’। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘Shared Vision for a Better World’-এর আলোকে মানসম্মত পণ্য ও সেবা, ভোক্তার অধিকার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানীর গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাঞ্চন-১ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আলোচনা সভায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও সমাজের অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। এতে মান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে।
মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলা ভাষার নিজস্ব মান, সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। এ মর্যাদা রক্ষায় বাঙালীদের সচেতন ও দায়ীত্বশীল হতে হবে। তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে মাতৃভাষার যথাযথ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মান নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকী অপরিহার্য।
বিএসটিআইয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি পণ্যের গায়ে বাংলাদেশী মান নির্দেশক বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন এবং আন্তর্জাতীক মানের ক্ষেত্রে আইএসওর মতো স্বীকৃত ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পণ্যের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, “যতদিন বিবেকের মান ঠিক না হবে, ততদিন কোনো কিছুর মান ঠিক হবে না।” তিনি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বজায় রাখার বিষয়ে পবিত্র কোরআনের শিক্ষার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, খাদ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ক্ষতিকর প্রভাব ব্যক্তি ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তাই ভেজাল প্রতিরোধ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়ীত্বশীল হওয়া জরুরী।”
সভায় দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ জেলার কিছু বেকারীর অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেলায় এমন কিছু বেকারী রয়েছে, যেগুলোর বিএসটিআই সনদ নেই এবং বেকারী পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারী কাগজপত্রও সম্পূর্ণ নয় বলে তাঁর জানা রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তাস্বার্থে অভিযোগগুলো যাচাই করার আহ্বান জানান।
তাঁর বক্তব্য, বেকারী পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব বেকারী মালিককে বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনায় বাধ্য করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাবিবা খাতুন এবং দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবু বকর ছিদ্দীক এবং বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক। উপপরিচালকও সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম. হাবিবুল হাসান। সভায় বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব মান দিবসের আলোচনায় বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্ব নয়; এর সঙ্গে জড়িত উৎপাদক, ব্যবসায়ী, তদারককারী সংস্থা এবং ভোক্তা-সব পক্ষের সচেতনতা ও দায়ীত্বশীলতা। নিয়মিত বাজার তদারকী, আইনানুগ ব্যবস্থা, নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগই পারে নিরাপদ পণ্য ও সুস্থ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় রংপুরে নেটওয়ার্কিং সভা হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।
ব্লাস্ট রংপুরের সমন্বয়কারী অ্যাড. দিলরুবা রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল আলম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শাকিল, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সেলোয়ারা বেগম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুসরাত ফাতেমা, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এএসআই নবয়িন আক্তার চম্পা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কারী ডাঃ সোহেলী বিনতে মোস্তফা, রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আফতাব উদ্দিন, ব্লাষ্টের আইনজীবি অ্যাড. মোনালিসা আক্তারসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত নারী, শিশু, দলিত, সমতল ভূমির আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জলবায়ু-প্রভাবিত এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এ প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই নানা ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা-বেসরকারী সংস্থা একসাথে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার ফৌজদারী অপরাধ ব্যতিত অন্য মামলা আপোষ মিমাংসার উপর জোর দিয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের অর্থ খরচ ও হয়রানি হতে হচ্ছে না। সেই সাথে বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন করে কোন বিরোধ সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানসহ আপোস মিমাংসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং অসহায় বিচার প্রার্থীরা ন্যায্য বিচার পাবে।
ব্লাস্টের আয়োজনে এ সভায় জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, হাসপাতাল, জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং স্থানীয় অন্যান্য বেসরকারি আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থারা অংশ নেন।
ঘটনার তারিখের বহুপূর্ব থেকেই যিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, এমন এক প্রবাসীকে মামলার ‘প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী’ হিসেবে দেখানো এবং তার মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অপেশাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কিশোরগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নি:) মো: মাহাসীনুল হকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: দেলোয়ার হোসেন এই আদেশ দেন।
কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থানার জি.আর ৩২৮/২০২৫ (কিশোরগঞ্জ) মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: মাহাসীনুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানিকালে আসামীপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতকে জানান যে, মামলার সাক্ষী মো: আশরাফুল ইসলাম (পিতা-মৃত জামাজ্জল হক, সাং- মাগুড়া সবুজপাড়া, নামাটারী, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী) ঘটনার তারিখের অনেক আগে থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা হীন উদ্দেশ্যে তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তার মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সত্যতা নিরুপণের জন্যই পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এজাহারকারীর উপস্থাপিত সাক্ষীকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা কোনো তদন্ত কর্মকর্তার কাজ নয়।
আদালত আরও বলেন, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং সত্য-মিথ্যা উদঘাটন করে প্রকৃত ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরাই তদন্ত কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল এজাহারকারীর কথা শুনে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার অজুহাতে তদন্ত কর্মকর্তা দায় এড়াতে পারেন না। একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে কোনো প্রকার যাঁচাই-বাছাই ছাড়াই এমনভাবে উপস্থাপন করা চরম অপেশাদারিত্বের শামিল, যা কেবল তদন্ত প্রতিবেদনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, পুলিশের কার্যক্রমকে জনগণের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আদালতের পক্ষে অপরাধ আমলে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।
তদন্ত কর্মকর্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণের সামিল বলে গণ্য করে আদালত তার বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তা লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করার জন্য তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুনে মাদ্রাসাতুল মদিনার এতিম শিশুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন আলোকিত গাজীপুর মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এ মানবিক আয়োজন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুম রানা, সভাপতি মোস্তাকিম খান, গাজীপুর জেলা রিপোর্টাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ ফরিদ, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ সরকার, আলী শিকদার, হানিফ হোসেন ও সহিদসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
আয়োজনের মধ্য দিয়ে এতিম শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ সময় মাদ্রাসাতুল মদিনার মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি তানবীর আল মাহমুদি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এলে এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।