মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ইকো রিসোর্টের নামে এভাবে হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা এমনই। যত্রতত্র হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ, নিয়মনীতি না মানা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারিতে বাড়ছে ঝুঁকি। ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতির ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ পর্যটন খাত। কিন্তু দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার সেই স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। একটি আদর্শ পর্যটন শহরে যা কিছু বিদ্যমান থাকার কথা, তার অধিকাংশ কক্সবাজারে অনুপস্থিত। 


অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানার মধ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়। কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার ছুটির পর সব সংস্থা মিলে এটি শুরু হবে। এর আগে শনিবার হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপদ পর্যটনের জন্য করণীয় বিষয়ে সেখানে উঠে আসবে। টুপটুপ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারে ঠিক কতগুলো হোটেল রিসোর্ট রয়েছে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমরা প্রতিদিন সার্ভে করি না। কিন্তু অনেকে রাতারাতি হোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তবে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পূজার ছুটির পর আমরা বড় পরিসরে অভিযান চালাব।’ 


তিনি বলেন, ইকো রিসোর্টের প্রতি পর্যটকের আগ্রহ বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। 


তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকলে অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধের কারণে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো শহরে প্রবেশ করে। পর্যটকরা তাদের হোটেলের সামনে বা কাছাকাছি স্থান থেকে বাসে উঠতে চান। 


কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সোমবার যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। কক্সবাজারে এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।  


সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনিরাপদ পর্যটনের পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী। এর মধ্যে আছে, সৈকতসহ পুরো শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব। পর্যটকদের টার্গেট করে একের পর এক গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ।  অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা সেখানে রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। মেরিন ড্রাইভের পাশে জমি কিনছেন প্রভাবশারীরা। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসনে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, চিপসের প্যাকেট ও নানা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পয়োনিষ্কাশন ও তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) অবৈধভাবে বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন জোনিংয়ের অভাব কক্সবাজারের কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন একটি ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে। 


সুনির্দিষ্ট কোনো পর্যটন জোনিং বা মহাপরিকল্পনা না থাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন উঠছে। পাহাড় কাটা, বালিয়াড়ি দখল এবং বাঁকখালী নদী ভরাটের মতো পরিবেশবিধ্বংশী কর্মকাণ্ড শহরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সৈকতে হকার, ভিক্ষুক এবং অপেশাদার গাইডদের কারণে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন।  ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার অটোরিকশা হয়ে উঠছে দুর্ঘটনার কারণ। আবার পর্যটকদের জন্য খোলা গাড়ি শহরের ভেতরে যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। 


সমুদ্র সৈকতের চোরাবালি ও অদৃশ্য গর্তে ডুবে প্রতিবছরই পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রে ভাটার সময় লাল পতাকা বা বিপৎসংকেত থাকার পরও অনেক পর্যটক তা মানছেন না, আর সেখানে লাইফগার্ডের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। ছুটির দিনগুলোতে বা পর্যটনের ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ করা হয়। এর জন্য একটি কার্যকর ভাড়ার রেগুলেটরি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। কতজন পর্যটক আসছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা ডেটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তথ্যের অভাবে কোনো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। গত চার-পাঁচ দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণি ও কলাতলী পয়েন্টে চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়াড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা  নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে– এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 


পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে কক্সবাজারে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। 


তিনি বলেন, এ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জোনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর পরও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। 


শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে নয়তলা বিশিষ্ট তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘উইন্ডি টেরেস’। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি এ হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাড়পত্রবিষয়ক কমিটির ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত মতে ১২ শর্তে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থাৎ পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে এর নকশা এবং কার্যকারিতা প্ল্যান পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।  এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এসব শর্তে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়নও করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পর এ হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 


২০ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয় থেকে হোটেল উইন্ডি টেরেস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, পয়োবর্জ্য শোধনাগারের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ক্যালকুলেশন, হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র এবং এসটিপি নির্মাণের অগ্রগতির কাগজপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের পর ৯ মাস পার হলেও তারা কোনো কাগজপত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে পরিবেশ ছাড়পত্র আর নবায়ন করা হবে না। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪টি আবাসিক হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করতে না পারায় ২৯ হোটেলের ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি হোটেলে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১১ কিলোমিটার সড়কে ২৩ হাজারের বেশি তিন চাকার যান চলাচল করে। এর বাইরে দূরপাল্লার আরও চার শতাধিক গণপরিবহন, পাঁচ হাজারের বেশি মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার-জিপ চলাচল করে। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে যখন কক্সবাজারে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে, তখন যানবাহনের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বেড়ে যায়। কক্সবাজার শহরে তিন হাজার ইজিবাইক চলতে পারে। কিন্তু এখন চলছে ২৩ হাজার। গত এক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মাত্র দুই শতাধিক বাস রাখার জায়গা রয়েছে। অবশিষ্ট গাড়ি ফেলে রাখা হয় বাইপাস, কলাতলী ও সৈকত সড়কের দুই পাশে। 


পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, এক যুগ আগে শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৫০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করা হলেও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। 


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করা তিন চাকার গাড়িগুলোয় ব্যাটারি চার্জ দিতে দৈনিক দুই থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। শহরের নানা জায়গায় গ্যারেজে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। 


কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, তিন চাকার যান এতই বেড়েছে যে সড়কে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। শহরের লালদীঘিরপাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।





গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ এএম

জাতিসংঘ শিশু তহবিল–ইউনিসেফের প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতার দুজনের মধ্যে একজনকে চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোজাম্মেল হক (২৯) ও মো. আল আমিন সরদার (২৫)। বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।


তিনি জানান, ডিবির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুকে একটি পেজে ইউনিসেফের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি। চক্রটি অনলাইনে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ফরম বিক্রির কথা বলে প্রথমে ৫৮০ টাকা নিত। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ হাজার ৫৮০ টাকা আদায় করত। টাকা পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিত তারা।


এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ রমনা থানায় একটি মামলা করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করা হয়।


তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার একটি বাসা থেকে আল আমিন সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ফেসবুক পেজ-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও মোবাইল সিম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডিবিকে জানিয়েছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বুস্টিং ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন তারা। গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নোয়াখালী থানা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৪ এএম

নোয়াখালীর সেনবাগে অটোরিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে মো. আরমান মিয়া (৪১) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সেনবাগ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপুর ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে।


নিহত আরমান উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সাহাপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরমান অটোরিকশা চালিয়ে বাবুপুর এলাকা থেকে সেনবাগ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাবুপুর ব্রিজের ওপর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


 স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে সাদা রঙের এক ধরনের ওষুধ জাতীয় পদার্থ দেখতে পান। পুলিশের ধারণা, স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা.কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় লোকজন আরমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।



উত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের রামু পেঁচারদ্বীপ পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সবার পরিচয় পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে রোহান (২৩), শহীদুল ইসলাম (২৩) ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. আকাশ (২১)। নিখোঁজরা হলেন- চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০) ও অন্যজন হলেন ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন রেজুখাল পেয়ে খাল ও সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যায়। বিকেল পেরোলে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানি বেড়ে চরটি ডুবতে শুরু করে। কিন্তু পর্যটক দলের সদস্যরা সে বিষয়টি খেয়াল করেননি। এক পর্যায়ে চরটি পানিতে ডুবে গেলে তলিয়ে যান দুই দলের পর্যটকরা।


তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজ হন দুজন। জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী ও বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কক্সবাজারে পৌঁছে আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপে একটি রিসোর্টে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাগরে নামেন এবং রেজুখাল পেরিয়ে ওই চরে চলে যান। একইভাবে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরা আমাদের মতো খাল পেরিয়ে চরে চলে যান। পরে এ ঘটনা ঘটে।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান রাত সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, মরদেহগুলো হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। অন্যদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চলছে।


রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ এএম

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।


রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ যে অন্যায় করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের আর বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নাই। ৫ আগস্ট যে আওয়ামী লীগকে বিদায় জানিয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সেই আওয়ামী লীগকে আর কখনোই এ দেশের জনগণ স্বাগত জানাতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবে না।


এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, ইসরাইল হোসেন জীবনসহ প্রমুখ।


সিলেটে সিএনজি চালক হত্যাঃ বাবা ও চার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মজন আলী ও তার চার ছেলে ইয়াহইয়া, জাকারিয়া, শাহরিয়ার ও কিবরিয়া।


পুলিশ জানায়, বুধবার নিহত শাহাব উদ্দিনের ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।


কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে গাড়িতে যাত্রী ওঠানোর সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রায় এক মাস আগে একটি বিষয় নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ হয়। বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের আগেই তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।


এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে কানাইঘাট উপজেলার সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে শাহাব উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শাহাব উদ্দিন (৩০) ওই গ্রামের মৃত মতরিস আলীর পুত্র।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্রাহাম (১১)। সে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার দুবাইপ্রবাসী আব্দুল আলীমের ছেলে।


নিহত শিশুর মা কনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কোনো পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসকের চরম অবহেলায় এই অস্ত্রোপচার করা হয়। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্রাহামের নাকে পলিপাস ও টনসিলের জটিলতা দেখা দিলে কয়েক দিন আগে তাকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সুমন হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তখন দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকো পরীক্ষা করাতে বলেন। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকো পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে ইকো করিয়ে আনার কথা বললেও ডা. সুমন হোসেন জানান, ইসিজি ভালো থাকায় ইকোর আর প্রয়োজন নেই।


কনা আক্তার জানান, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে সরাসরি অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে চিকিৎসক ও নার্সদের অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি দেখতে পান স্বজনেরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করতে হবে।


পরবর্তীতে হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে দুপুর দুইটার দিকে আব্রাহামকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মেডিকেল অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার কোনো হৃদস্পন্দন ছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুটিকে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুমন হোসেন, হাসপাতালের মালিক মো. আব্বাস উদ্দিনসহ অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ফেলে পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


হাসপাতালটি কর্মীশূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অস্ত্রোপচার হওয়া এক রোগী জানান, দুপুরের ঘটনার পর থেকে কোনো ডাক্তার বা নার্স হাসপাতালে নেই, ফলে তারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন। দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঘটনার পরপরই রোগী ও স্টাফরা চলে গেছেন, বর্তমানে মাত্র দু-তিনজন রোগী অবস্থান করছেন।


সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী জানান, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওটিতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল করার সময় শরীরে কোনো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন মেলেনি, তবে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজ্ঞান করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।