কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:১৯ এএম

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদজামাত আয়োজনকে সামনে রেখে সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। ১৯৯তম এই ঈদজামাতকে ঘিরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবারের ঈদজামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়।


জানা যায়, ঈদগাহ মাঠে ইতোমধ্যে মুসল্লিদের জন্য সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, রং ও সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ হয়েছে। স্থায়ী অজুখানার পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে অতিরিক্ত অজুখানা। এছাড়া সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে টিউবওয়েল ও পানির ট্যাংক। মুসল্লিদের সুবিধার্থে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত অস্থায়ী টয়লেট।


প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিশ্বাস, শোলাকিয়ায় লাখো মানুষের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। এই বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে ছুটে আসেন। ঈদের দিন বিশাল এই মাঠ মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়কেও নামাজ আদায় করতে দেখা যায় অনেককে।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহে প্রবেশের প্রতিটি পথে বসানো হচ্ছে তল্লাশি চৌকি। মোতায়েন থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। চারটি ড্রোন ও বাইনোকুলারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।


তিনি জানান, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। এতে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনীর চার প্লাটুন, র‌্যাব ছয়টি টিম, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি ও পাঁচ প্লাটুন আনসার মোতায়েন থাকবে। দায়িত্ব পালন করবেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া পুরো এলাকায় বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে চেকপোস্ট।


পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, র‌্যাব ও এন্টি-টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি গেইটে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।


আজ বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় সাংসদ জানান, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্যোগ নিয়েছেন।


ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৮২৮ সালে এই মাঠে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকেই মাঠটির নাম হয় সোয়া লাখিয়া, যা সময়ের পরিক্রমায় শোলাকিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।




এসআই হানিফ মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফ মাহমুদ। এ ঘটনায় শাওন ও সাগর নামে দুই চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গীর সাতাইশ-সখিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ শাওন ও সাগরকে আটক করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের আটক করতে গেলে ছিনতাইকারীদের একজন ছুরি দিয়ে এসআই হানিফ মাহমুদের বাঁ পায়ে আঘাত করে।


ছুরিকাঘাতে এসআই হানিফ মাহমুদের পায়ে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টঙ্গীর গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুর রহমান বলেন, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে গিয়ে পুলিশের একজন এসআই আহত হয়েছেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে ছিনতাইকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। আহত হওয়ার পরও তিনি অভিযান থেকে পিছিয়ে যাননি। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাই, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০১ এএম

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। তবে কে বা কারা এটি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে জুতার মালা ঝোলানো হয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।


জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে ফোন করে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।


কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’


ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভালো স্থপতির মাধ্যমে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কামালুজ্জামান।


ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে কোনো আপডেটও নেই।’


জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’


বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছবি সংগ্রহের পর তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

চিকিৎসকের ভুলে আর মা হতে পারবেন না কুলসুম

টের পেলেন ৬ বছর পর


২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মরাপুকুরপাড় গ্রামের শামসুজ্জামান সবুজ ও স্ত্রী কুলসুম আক্তার দম্পতি। ২০২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কুলসুম একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মাত্র চার মাস বয়সে পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। এরপর ওই দম্পতি সন্তানের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। চিকিৎসক দেখিয়েও সুফল মেলেনি। তবে চলতি বছর তারা সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে জানতে পারেন কুলসুম আক্তারের অনুমতি ছাড়াই তার লাইগেশন করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ জিনান রেজা অনুমতি ছাড়াই কুলসুমের দুই ফেলোপিয়ান টিউব কেটে বন্ধ দিয়েছিল (লাইগেশন)। চিকিৎসকের এই ভুলে বন্ধ্যত্বকরণের কবলে পড়ে সন্তান নিতে পারছেন না গৃহবধূ কুলসুম।


তবে হাসপাতালের ভাষ্য, গাইনি ওয়ার্ডে লাইগেশনের রেজিস্ট্রারে এই রোগীর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। রোগীসহ পরিবারের সম্মতি ছাড়া লাইগেশন সম্পন্ন হয় না। ওই রোগী কোথায় কী করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোথায়, কীভাবে এই লাইগেশন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে তৎকালীন চিকিৎসার মূল নথিপত্র চেয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।


অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন কুলসুম আক্তার। ওই দিন দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সে সময় অস্ত্রোপচার করান চিকিৎসক জিনান রেজা। এর চার দিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। কিন্তু ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল শিশুটি মারা যায়। সন্তান হারিয়ে দম্পতি পুনরায় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে স্থানীয় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে ঘুরেও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।


সন্তান ধারণ না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে কুলসুম আক্তারের পরীক্ষা করানো হলে তার জরায়ুর দুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গত ২ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুলসুম আক্তারের ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা হলে সেখানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়।


সন্তান পাওয়ার শেষ চেষ্টায় দম্পতি ছোটেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৩ আগস্ট সেখানে ভর্তি হন। গত ৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা কুলসুম আক্তারের ‘মাইক্রোসার্জিক্যাল রিক্যানালাইজেশন’ (টিউব পুনর্সংযোগ) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের অপারেশন নোটে উল্লেখ করা হয়, কুলসুমের ডান ও বাম উভয় পাশের ফ্যালোপিয়ান টিউব ‘ইস্থমাস’ অংশে শক্ত করে লাইগেশন (বাঁধা) ও কাটা ছিল। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউব দুটির ব্লকেজ অপসারণ করে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেন।


এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ২০২০ সালের ২ জানুয়ারির অস্ত্রোপচার কক্ষের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রেজিস্টারের ২০ নম্বর ক্রমিকে কুলসুমের অপারেশনের বিবরণে শুধু লোয়ার ইউটেরিন সিজারিয়ান সেকশন উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নথিতে লাইগেশন করার কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।


ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ছয়টি বছর আমার চোখের জলে কেটেছে। এখনো আমার স্ত্রী অসুস্থ। বেঁধে রাখা টিউব জোড়া লাগানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বাধা থাকায় টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুব কম। আমি চিকিৎসকের বিচার চাই।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক জিনান রেজা বলেন, এটি ২০২০ সালের ঘটনা। একজন রোগীর সব চিকিৎসা কার্যক্রম রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে। ওই রোগীর স্থায়ী লাইগেশন হয়েছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ হাসপাতালের ওটির রেজিস্ট্রারে নেই। ওই রোগীর কোনো লাইগেশন করা হয়নি। আমি অনুমতি ছাড়া রোগীর লাইগেশন করিনি। রোগী ও তার স্বজনের অনুমতি ছাড়া স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরণ করা হয় না। আমরা কুমিল্লা মেডিকেলের প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে তারা ওই রোগীর টিউব ব্লকের কথা উল্লেখ করেছে। আর টিউব ব্লক ইনফেকশন বা নানা কারণে হয়ে থাকতে পারে। আমরা সাধারণত দলগতভাবে কাজ করি। তখনও আমি দলগত কাজের অংশ ছিলাম।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ওই রোগীর স্বজন হাসপাতালে একটি অভিযোগ করেছিল। ছয় বছর আগের ঘটনা এটি। নথিপত্র ঘেঁটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের তথ্য রেজিস্ট্রারে আছে। কিন্তু ওই রোগীর লাইগেশন করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। গৃহবধূর স্বামীর সামনেই সব নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই রোগীর অন্যান্য প্রতিবেদন দেখে আমাদের ধারণা, অন্য কোথাও তার অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে।


এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর অনুমতি ছাড়া সার্জনরা লাইগেশন করার কোনো সুযোগ নেই। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের ওটি নোট কিংবা কোথাও ওই রোগীর লাইগেশনের কথা উল্লেখ নেই। ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার একপর্যায়ে এক নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চরগঙ্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোশনা বেগম (৪০) ওই গ্রামের মজিবল মোসলমানের স্ত্রী।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে কালো রঙের একটি হিরো মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক রোশনা বেগমের বাড়ির সামনে যায়। তারা নিজেদের সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।


একপর্যায়ে ‘লাইভ ভেরিফিকেশনের’ জন্য ছবি তুলতে হবে বলে রোশনা বেগমকে জানানো হয়। তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরার দিকে তাকালে সুযোগ বুঝে তার কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নেয় ওই দুই যুবক। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসসহ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।


ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম সিকদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। বর্তমানে এলাকায় প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’


এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের বক্তব্য জানতে একাধিক ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

‎জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে আসা টনি সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

‎

আজ ‎মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) সন্ধ্যা ৪টায় কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ২২দিবসে পায়ে হেঁটে ৭৮৩ কিলোমিটার একক পদযাত্রা মাসফিকুল হাসান টনির সমাপনী অনুষ্ঠান ধরা কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফরিদুল আলম শাহীনের সভাপতিত্বে ও জেলা ধরার শামশুল আলম শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। 

‎



‎প্রধান অতিথি টেকনাফ উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি' সভাপতি নুরুল আলম, ‎সদর উপজেলা ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, চকরিয়া ধরা'র আহ্বায়ক একেএম বেলাল উদ্দীন, মহেশখালী ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইছার হামিদ। 

‎

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন, সহসম্পাদক মোঃ আমিন উল্লাহ আমিন, জেলার ধরা'র সদস্য প্রভাষক রিয়াজ মাহমুদ, নুরুল ইসলাম সুমন, হেলাল উদ্দীন, মোঃ রুবায়েত, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনীতিক, বিভিন্ন পেশাজীবিও  শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎

‎অপরদিকে সংবর্ধিত হন 'লাগও বৃক্ষ, কামাও লক্ষ লক্ষ' স্লোগানে- ভেজাল নাই ডটকম কর্তৃক আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন ক্যাম্পিংএ ৬৯১টি ঔষধি, ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা রোপন করে ‎ওই ক্যাম্পিং প্রথমস্থান অধিকার করে ভেজাল নাই ডটকম এর এডভাইজার তাসরিফ খাঁনের হাত থেকে হেলাল উদ্দীন নিশাদ পুরষ্কার গ্রহণ করায় সংবর্ধনা প্রদান করেন ধরা জেলা শাখা। 

‎

‎উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনার সাতক্ষীরা শ্যামপুর উপজেলা উপকূলের চার নদীর মূখ থেকে ‎তাঁর একক পদযাত্রার ২২তম দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পৌঁছান।

‎

‎জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনসহ ৩৫টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে এ পদযাত্রা আয়োজন। পরিবেশযোদ্ধা মাসফিকুল হাসান টনির এটি নবম পদযাত্রা। এর আগে তিনি ছোট-বড় আরও আটটি পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

‎

‎মাসফিকুল হাসান টনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে তাঁর এই পদযাত্রা। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।