আবাসিক এলাকায় কন্টেইনার ডিপো নির্মাণে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রস্তাবিত কন্টেইনার ডিপো নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এই ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




জানা যায়, ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্লাগ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ডিপো স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক সীমানা নির্ধারণ ও মাইকিং করে  বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ডিপোর আওতায় ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজার থেকে মুসাবিন হাকিম ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তরর্ভুক্ত রয়েছে।এখানে রয়েছে একটি ডিগ্রি কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, নিবন্ধিত খেলাধুলা করার ক্লাব, সরকারি ডাকঘরসহ ঐতিহ্যবাহী পাল পাড়া। 


স্থানীয়রা বলেন, এখানে কন্টেইনার ডিপো স্থাপন আমাদের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। উন্নয়নের নাম দিয়ে যদি আমাদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয় তা হলে সেই উন্নয়ন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কন্টেইনার ডিপো স্থাপন মানে শুধু একটি প্রকল্প নয়। এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের ওপর এক ভয়াবহ চাপ। অবিরাম শব্দদূষণ, অমানবিক যানজট, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় একটি পুরো জনপদকে ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ করে তোলা হবে। এটা কোনোভাবেই উন্নয়ন নয়। এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া। আমাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আমাদের সন্তানের নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার নিশ্চয়তা, প্রবীণদের শান্ত ও নিরাপদ জীবন, আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধন সবকিছুই আমাদের কাছে অমূল্য। এই মূল্যবোধগুলোকে ভেঙে দিয়ে কোনো তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পকে আমরা স্বাগত জানাতে পারি না।




ঘোড়াশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাও. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘোড়াশাল শুধু একটি এলাকা নয়- এটি মানুষের বসতি, স্বপ্ন, শিক্ষা আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত কেন্দ্র। এখানে কন্টেইনার ডিপোর মতো ভারী ও ঝুকিপূর্ণ প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি জনপদকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা। উন্নয়নের নামে যদি মানুষের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়, মসজিদ-মাদ্রাসা-ঈদগাহ-খেলার মাঠ হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন আসলে উন্নয়ন নয়, সেটি হচ্ছে অবিচার। সরকারের নিজস্ব নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, এ ধরনের ডিপো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। 


আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিতে চাই। ঘোড়াশালের মানুষ নীরব থাকতে জানে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও জানে। এই প্রকল্প যদি জনমত উপেক্ষা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ও গণতান্ত্রিক সব ধরনের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকসা দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক কায়ছারুল আলম খান মিঠু বলেন, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের প্রকল্প হলে পড়াশোনায় ব্যঘাত ঘটবে। ভারী যানবাহনের শব্দে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের প্রকল্প স্থাপন করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিক্ষার্থীদের উপড়। 


তাছাড়া ভারী যানবাহনের অবিরাম চলাচল, হর্নের উচ্চ শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে তীব্র শব্দদূষণ সৃষ্টি হবে, যা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রণের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে। সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




ক্রীড়া সংগঠক উদয়ন সংঘ ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এস.এম.আল আমিন বলেন, কন্টেইনার ডিপো নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়।এটি সরাসরি আমাদের ক্রীড়া সংস্কৃতি, তরুন সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আঘাত। 


এই এলাকায় যে মাঠে প্রতিদিন শত শত তরুন খেলাধুলা করে, সেটা ধ্বংস হয়ে গেলে তারা বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুনদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য নয়। 


পরিবেশবীদরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, সার্বক্ষণিক যানবাহনের আসা-যাওয়া, হর্নের শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে শব্দ দূষণ উল্লেখ্য যোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে। পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া ও অন্যান্য নির্গমনের ফলে বায়ু দূষণও বাড়বে, যা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


এছাড়াও এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়বে, ভারী যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে। এতে করে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। 


সব মিলিয়ে, এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়ে এলাকা ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে ‘আইসিডি ও কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী, নতুন কন্টেইনার ডিপো স্থাপনের ক্ষেত্রে তা শহর বা পৌরসভার বাইরে এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।প্রস্তাবিত স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।


প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে সহকারী পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। এ ব্যপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

দিনাজপুরের বিরল থানার একটি চৌকস দল গাজীপুর জেলা থেকে মোঃ ইমন হোসেন (৪৫) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


দিনাজপুর জেলা পুলিশের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিরল থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ইমন হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান থানার মামলা নম্বর-২২, তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, ওই মামলায় একজনকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।


পুলিশ আরও জানায়, মামলার আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মামলার চার্জ গঠনের পর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে জিআর (সাজা) মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট জারী করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন মহাজনপাড়া (জগতপুর) এলাকায় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারী করা ওয়ারেন্ট দিনাজপুর জেলায় আসে।


এরপর বিরল থানা পুলিশ আসামীর অবস্থান শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায়। পরে শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ ইমন হোসেন (৪৫), পিতা—মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে বাবুর; সাং—মহাজনপাড়া; থানা—বিরল; জেলা—দিনাজপুর। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আদালতের জারী করা মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্টের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ পিএম

নাগরিক সেবাকে সহজীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত সিলেটে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থী ঘরে বসেই নাগরিক আবেদন সাবমিট করাসহ ট্রাকিং করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসীরা দ্রুততম সেবা নিশ্চিতে প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিসও এতে সন্নিহিত থাকবে। যাতে ১ মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদন সহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা যায়। 


আজ শনিবার দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদি।


তিনি বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর সারাদেশের মত সিলেটে প্রথমবারের মত বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করবে সিউক। এদিন দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালায় থাকবে র‍্যালি, আলোচনা সভা, ইসিপিএস উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইডিয়া প্রতিযোগিতা, মডেল প্রদর্শনী, স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। 


পরদিন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নগরের দু'টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টেকসই নগরায়ন ও আবাসন বিষয়ক সেমিনার, আইডিয়া ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।


এসব অনুষ্ঠানমালায় আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগর বিনির্মানের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন সংশ্লিষ্টরা। দিবসকে কেন্দ্র করে সিলেটে এই প্রথমবারের মত আবাসন সংক্রান্ত সকল অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান। 


সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইসিপিএস তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন।


তিনি বলেন, প্রবাসীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ইসিপিএসের সঙ্গে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


সিউক জানিয়েছে, আগে সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে হলেও এবারই প্রথম সিউক দিবসটি আয়োজন করছে। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দুই দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। দিবসটি সামনে রেখে আবাসন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকেও একই আয়োজনে যুক্ত করা হয়েছে। 


সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্মসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। দুই দিনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 


এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ও নগরায়ণ বিষয়ে ভাবনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন মডেল প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ইতিমধ্যে নগরায়ণ সংক্রান্ত ৩০টির বেশি ভাবনা জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে সিউক।


৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনে পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হবে। এরপর টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন প্রতিযোগিতাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।


সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার পাশাপাশি আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ব বসতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও চেষ্টা থাকবে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

নদীর ভাঙন রোধে তীরে জিওব্যাগ ফেলার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। কিন্তু ভাঙন রোধে ফেলা ব্যাগগুলো ভরা হচ্ছে সেই ভাঙনকবলিত নদীর তলদেশ থেকে তোলা বালু দিয়েই। স্থানীয় লোকজনের প্রশ্ন, এভাবে কি আদৌ ভাঙন রোধ করা সম্ভব? এটি যেন 'মাছের তেলে মাছ ভাজা'। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চাড়ালকাটা নদীতে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙন আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চাড়ালকাটা নদীর উজানের পানির চাপ ও টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।


জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই টাকায় জলঢাকা উপজেলার হরিশচন্দ্র পাঠ, বসুনিয়াপাড়া ও বাবুপাড়াসহ ভাঙনকবলিত এলাকার ৯টি প্যাকেজে ১ হাজার ৩৫ মিটার চাড়ালকাটা নদীর ডান তীর রক্ষা কাজ করা হচ্ছে।


নিয়ম অনুযায়ী অন্য জায়গা থেকে শুকনা ও নির্দিষ্ট মানের মোটা বালু এনে তা দিয়ে জিওব্যাগ ভরাটের কথা থাকলেও ভাঙনকবলিত নদী থেকেই বালু তুলে ব্যাগ ভরা হচ্ছে। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী নদীর তলদেশে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি ওপরের অংশে পাটের বস্তায় নির্দিষ্ট অনুপাতে বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার কথা। এ ছাড়া জিওব্যাগ ভর্তিতে ছয় বস্তা বালুর সঙ্গে এক বস্তা নির্দিষ্ট মানের সিমেন্ট মেলানোর কথা থাকলেও ঠিকাদার তা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।


'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০'-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, নদীর তীর, বাঁধ বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে শ্যালো ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে বালু তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনটির ১৫(১) ধারা অনুসারে এ নিয়ম অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ীও নদী রক্ষা কাজে নদী তলদেশের পলি বা ভাঙনকবলিত এলাকার বালু ব্যবহার করা যাবে না।


কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, চাড়ালকাটা নদীর যে স্থানে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, তার ৫০ মিটারের মধ্যে ২৪ হর্স পাওয়ারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক শ্যালো ইঞ্জিনচালিত খননযন্ত্র (বোমা মেশিন) দিয়ে গভীর গর্ত করে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ব্যাগে নির্দিষ্ট এফএম (Fineness Modulus) মানের মোটা বালু দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে নদীর পলিযুক্ত চিকন বালু। নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও পাউবোর যৌথ টাস্কফোর্স কমিটি থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর নজরদারি দেখা যায়নি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'সরকার থেকে টেন্ডার নেওয়া হয়েছে বাইরে থেকে বালু আনার জন্য। কিন্তু এই নদী থেকেই বালু তুলে আবার নদীর কিনারেই দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নদী, বালু বা রাস্তাঘাট, কোনোটাই টিকবে না।'


আরেক বাসিন্দা জানান, তাঁদের এলাকা এমনিতেই নিচু। এভাবে নদী থেকে বালু তুলে ভাঙন বাড়লে তাঁরা কোথায় যাবেন, কোথায় আশ্রয় নেবেন-তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছেন। সামনের বর্ষায় তীর রক্ষা বাঁধ পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছয় বস্তা বালুর বিপরীতে এক বস্তা সিমেন্ট ব্যবহারের কথা থাকলেও পুরোনো চটের ছেঁড়া বস্তায় পলিযুক্ত বালুর সঙ্গে নামমাত্র সিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে কাজ শেষ হতে না হতেই বস্তা নষ্ট হয়ে বালু ঝরে পড়ছে। স্থানীয় লোকজন কাজের অনিয়মে বাধা দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েও কাজ হয়নি।


এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজা আহমেদ বলেন, "আমরা আইটেম অ্যাসেস করি। যদি কোনো প্রকার অসঙ্গতি হয়, অ্যাসেসমেন্ট কমিটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা সামনে এগোব। প্রকল্প শেষে বিষয় টি খতিয়ে দেখা হবে।"


তবে কাজ চলাকালেই নিয়মিত তদারকি ও পরীক্ষার  নিয়ম থাকলেও প্রকল্প শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। বালু উত্তোলন বন্ধে  আরও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। 

দিনাজপুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়

খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুন্দর দেশ গঠন করা সম্ভব: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

খেলাধুলার সার্বিক প্রসার ও অনুশীলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।


শনিবার দিনাজপুর সরকারি কলেজে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার (রংপুর বিভাগ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


তিনি জানান, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচিত ৩০৬ জন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অ্যাথলেট বর্তমানে বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সারাদেশে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে 'স্পোর্টস ভিলেজ' প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণে দিনাজপুর বিকেএসপিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। 


যুব সমাজের স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে  প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গত ৬ মাসে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে ৩৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া সরকারের  'আর্ন' প্রকল্পের  মাধ্যমে দেশের ৯ লাখ যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা দিনাজপুরের ১০টি উপজেলাতে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।


প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই একসাথে কাজ করে এবং খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

গাজীপুর মহানগরের ডেগেরচালার ফকির মার্কেট এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কারখানার ভেতরে আটকে পড়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৭০ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। 


আজ শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে।


গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, সাততলা ওই কারখানার তিনতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আশপাশে পুকুর বা পানির কোনো উৎস না থাকা এবং কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।


অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আরও জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটিসহ মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর সোসাইটি মাঠ সংলগ্ন মহব্বতনগর এলাকায় একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মহব্বতনগর এলাকার সোসাইটি মাঠ সংলগ্ন শাহিন আলম নামের এক ব্যক্তির ঝুটের গোডাউনে হঠাৎ আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। গোডাউনটিতে বিপুল পরিমাণ ঝুট কাপড়, প্লাস্টিক এবং নষ্ট ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বিকেল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। 


গোডাউনের মালিক শাহিন আলম ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনে গোডাউনে থাকা মালামাল পুড়ে গিয়ে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। 


এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শাহিন আলম বললেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ডাম্পিনার কাজ চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদুল আলম এবং শিল্প পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তৎপরতায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।