যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনা

রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জনের প্রাণহানি

সড়ক দুর্ঘটনা টাঙ্গাইলে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬, সময় : ২:৩৩ এএম

যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। 


সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময়ে বালুবোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।




স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি(ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। 


দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত অন্তত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।




নিহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), রহিমের ছেলে বাদশা(৩২), মো. একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব(২০), সুলতানের ছেলে তারেক(২০), একই থানার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস(২০) ও তার ভাই মাইনুল(২৮), একই জেলার নিয়ামতপুর থানার মালঞ্চী গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল(২৫),


রাজশাহী জেলার তানোর থানার বাতানপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার নজরুল(৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মামুন (৪৫)। অন্যদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। 


আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই থানার হোসেনপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন(৩০), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), একই থানার রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ(২৭) এবং নাটোর জেলার মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২)। তারা সবাই নোয়াখালীতে বসবাস করে হরেক মালের ব্যবসা করতেন। রডবোঝাই ট্রাকে কম ভাড়ায় ঈদ করতে তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছিলেন।


এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।


এদিকে, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সেতুগামী স্টক ইয়ার্ড বাইপাস সড়কে এদিন প্রায় একই সময়ে বালুবোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রংপুরের যাওয়ার পথে মোস্তাফিজুর রহমান(৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। 


যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে এডিদন প্রায় একই সময়ে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন।  


দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।



সর্বশেষ সব খবর

মো. শাহীন

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর কবিরহাটে পাওনা পারিশ্রমিকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহীন (৪৪) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদের বিরুদ্ধে। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। 


মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শাহীন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অমরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।


ভুক্তভোগী শাহীন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে একটি জায়গা ক্রয় করেন। পরে দলীয় লোকজন নিয়ে ওই জায়গা মাপ দিয়ে দখলে নেয়। ওই সময় তিনি সেখানে কাজ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান। ফিরে এসে কাজের পারিশ্রমিক চাইলে মাসুদ একাধিকবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তিনি মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন।  


শাহীন অভিযোগ করে আরও বলেন, একাধিকবার ফোন দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে মাসুদ তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে  বেধড়ক পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। আমরা গরিব মানুষ। তার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেব, তাও বুঝতে পারছি না।


তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মাসুদ। তিনি বলেন, শাহীন তাকে আঁচড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে বাজারে থাকা লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। জায়গা মাপার সময় শাহীন আমিনের সঙ্গে গিয়ে ফিতা ধরেছিলেন। আমিন তাকে মজুরি দিয়েছেন। পরে তিনিও শাহীনকে কিছু টাকা দেন। তবে শাহীন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন।


চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন শাহীন। তিনি বলেন, হয়তো তিনি (মাসুদ) ভুলে গেছেন। তুমি টাকা চাইলে দিয়ে দেবেন। পরে তিনি শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন।


এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তবে তারা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছয় মাসে জনতার মুখোমুখি মসিক প্রশাসক রোকন

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে নগরীর সমস্যা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি নাগরিকদের মুখোমুখি হয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। ব্যতিক্রমী এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক নাগরিক অংশ নিয়ে তাদের নানা সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রশাসকও এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।


আাজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা সরাসরি প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন করেন এবং তাদের এলাকার সমস্যা ও নাগরিক সেবা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।


নাগরিক সেবায় ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ


নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মসিক প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন সেবাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে।


তিনি বলেন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে।


যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সহযোগিতা প্রয়োজন


নগরীর যানজট ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় এখনো প্রত্যাশিত সফলতা আসেনি বলে স্বীকার করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা পাওয়া গেলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।


জনতার মুখোমুখি এ আয়োজনে নগরবাসী সড়ক, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা ও নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। প্রশাসক এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করলেন মেহেদী শাহরিয়ার

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৮ পিএম

চুয়াডাঙ্গার ৩২তম পুলিশ সুপার(এসপি) হিসেবে যোগদান করেছেন মেহেদী শাহরিয়ার। গত সোমবার দুপুরে তিনি চুয়াডাঙ্গার নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।


চৌকশ এ পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী শাহরিয়ার যশোর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (মার্কেটিং) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এ-তে কর্মরত ছিলেন। 


নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন।


দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দৈনিক আমাদের সময়  পত্রিকাকে নবাগত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করা। তবে এই যাত্রা একক কোনো প্রচেষ্টা নয়; মিডিয়াকর্মী, রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্ব এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে। আসুন, সবাই মিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে আরও জনমুখী, দক্ষ ও গতিশীল হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা জনগণের পাশে থাকতে এবং তাদের আস্থা অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর বিসিক এলাকার সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে ১৮ লাখ টাকার ওষুধ ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিসিক এলাকার সৌহার্দ্য ফার্মেসির শাটারের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।




অভিযোগের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে। পরে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে চুরির সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকেও আটক করাও হয়।


এসময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

পঞ্চগড় পৌর শহরের রাজনগর এলাকায় রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজনগর এলাকার তুলারডাঙ্গা রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


নিহত রেজাউল করিম রেজা ঠাকুরগাঁও জেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় বাড়ি করে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। পাশাপাশি পঞ্চগড় সদর থানার সামনে কম্পিউটারে কম্পোজের ব্যবসা করতেন।




পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল ও ক্রাইম সিনের কার্যক্রম শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে রেজাউল করিম রেজা রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। সকালে স্থানীয়রা খালের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।


পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ফের ১৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।


পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়।


থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ২৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৭ জন, সেনবাগ থানায় ৯ জন, চরজব্বর থানায় ৭ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ৫ জন এবং কবিরহাট থানায় ৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া হাতিয়া থানায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার, পাঁচজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ।

সর্বশেষ সব খবর