গাজীপুরের দুই প্রধান মহাসড়কে যানজট
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের ঢলে গাজীপুরের দুই প্রধান মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এর সঙ্গে ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাড়িমুখী যাত্রীরা।
পুলিশ, পরিবহন চালক ও স্থানীয় লোকজন বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানি বাজার এলাকা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। কোথাও কোথাও কয়েক মিনিট পরপর যানবাহন একেবারে থেমে যাচ্ছে। সকালের দিকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা থেকে ছুটি পাওয়া শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং পশুবাহী যানবাহনের চাপ একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ি, ভোগড়া, বোর্ডবাজার ও চান্দনা চৌরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চন্দ্র এলাকায় কথা হয় বাসের যাত্রী আবদুল হালিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ অতিক্রম করতে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে, সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে যানবাহনে বসে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সড়কের কিছু অংশে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলের গতি আরও কমে গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার, ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এই মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হওয়ায় চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশ।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোয় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তাঁরা যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে কাজ করছেন।
তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যান চলাচল সচল রাখা যায়।
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ফের ১৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়।
থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ২৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৭ জন, সেনবাগ থানায় ৯ জন, চরজব্বর থানায় ৭ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ৫ জন এবং কবিরহাট থানায় ৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হাতিয়া থানায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার, পাঁচজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ।
সিলেট বিভাগের তিন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রত্যাহার করেছে সরকার। তারা হলেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি এবং মৌলভীবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমিন। তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
দেশের বিভিন্ন উপজেলার মোট ৬৮ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার এসিল্যান্ড রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার করা কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রত্যাহারের পর তাদের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পরিচিতি নম্বর, বর্তমান কর্মস্থল এবং যে বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার খারুয়ালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন খারুয়ালী গ্রামের আজিদ আকন্দের ছেলে সাহাবউদ্দিন আকন্দ (৬৫) ও একই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে ধনু আকন্দ (৬০)। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকালে ধনু আকন্দ কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। এ সময় মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি ছেঁড়া তারে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য চাচাতো ভাই সাহাবউদ্দিন আকন্দ এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় শিক্ষক মো. জান্নাতুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সকাল ৯টার দিকে তিনি একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দ্রুত তারটি সরানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দুই প্রবীণ চাচাতো ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে খারুয়ালী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন বন বিভাগের কর্মীরা
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাইয়ের পাহাড় ও বনাঞ্চলে ঘুরতে এসে পর্যটকদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এবং পথ হারিয়ে বিপদে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতা পাহাড়ে ভ্রমণে এসে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সাদিজ শাহরিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীতার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সন্ধ্যায় পথ হারিয়ে ফেলেন চার পর্যটক। পাহাড় থেকে নামার সময় তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ও বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পর্যটক পথ হারিয়ে বিপদে পড়ছেন। অনেকেই বন বিভাগের নিয়ম-কানুন না মেনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের রামপাহাড় বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিঠু তালুকদার জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকরা পথ হারিয়ে ফেলছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিরাপত্তা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বন বিভাগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প অনুমোদন নোয়াখালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ।
প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরে রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পূর্বশত্রুতার জেরে জয় (২৩) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে টঙ্গী কেরানিটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয় টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে বাসায় ফিরছিলেন জয়। এ সময় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় জয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম হোসেন জানান, এ ঘটনায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।