কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা পদক পেয়ে গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের মূল্যায়ন তালিকায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনসেবা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক উদ্যোগসহ সার্বিক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম এ সম্মাননায় ভূষিত হন।
এটিএম কামরুল ইসলাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যলয়ে ঢাকা বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে গত বছরের ২৮ আগষ্ট কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসেবামূলক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রেখে স্থানীয় জনগণের মাঝে আস্থা অর্জন করেন। অবৈধ মাটি কাটা রোধে ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমি উদ্ধার, এলাকা পরিদর্শন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহায়তা, শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিন তদারকি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাইকেল র্যালি, স্বাধীনতা দিবসে ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনেও তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য কাজ করিনি। সরকারের অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার কাজকে মূল্যায়ন করেছেন, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা আসবেই, ইনশাআল্লাহ।’
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, মানবিক ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হওয়া কালীগঞ্জ উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।
নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে ।
আজ সোমবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে অভিযান পরিচালিত হয় এবং সুজনের বাড়ি থেকে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ পরিদর্শক মো: রাশিদুল ইসলাম, সহকারি উপ পরিদর্শক মো: জিয়াউল হক, মো: আলমগীর হোসেন, সিপাই প্রবাল চন্দ্র সরকার, মো: ফরহাদ হোসেন, অক্ষয় কুমার, জাহাঙ্গীর মাতাব্বর, সুমাইয়া আক্তার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে মুত অন্তু রবিদাসের ছেলে সুজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালিনা করা হয়, সুজন পলাতা রয়েছে, তার বাড়িতে তল্লাশি করে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপুর ও গোড়াই এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রির অভিযোগে সোহাগপুর বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে গোড়াই এলাকার মোল্লা ওরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ৫ হাজার টাকা এবং গোড়াই ওয়াল সেতুর নিচে অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রির অভিযোগে তিন ফল বিক্রেতাকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৫ আগস্ট (সোমবার) সকালে শ্রী শ্রী কালিবাড়ী'র নাট মন্দির প্রাঙ্গনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর প্রধান উপদেষ্টা ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি শ্যামল হোড় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি, টাঙ্গাইলের জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক পিনাকী দে, সদস্য সচিব শংকর সরকার, শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর উপদেষ্টা মনিন্দ্র মোহন ঘোষ, সহসভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টির সহকারী পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকার, শ্রী শ্রী ছোট কালিবাড়ীর সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভার শুরুতেই পবিত্র গীতা পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নরেশ সরকার। সভাটি সঞ্চালনা করেছেন শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার।
টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর টাঙ্গাইল জেলায় ১৩৫৭ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২৩৩ টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৭০ টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২৮ টি, সখীপুর উপজেলায় ৪৪ টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮২ টি, নাগরপুর উপজেলায় ১৩৮ টি, বাসাইল উপজেলায় ৮১ টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৪ টি, গোপালপুর উপজেলায় ৫৭ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ৩৬ টি, মধুপুর উপজেলায় ৬০ টি ও ঘাটাইল উপজেলায় ৯৪ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
‘Standing with Teachers’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনাজপুর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, দিনাজপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম জেলা পরিষদ, দিনাজপুরের প্রশাসক জনাব এ্যাড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল; শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট, দিনাজপুরের সভাপতি জনাব অধ্যাপক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম; দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), দিনাজপুর জনাব এস এম হাবিবুল হাসান; জেলা শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব খন্দকার মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব মোঃ সাইফুজ জামান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়ীত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, দায়ীত্ব ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Standing with Teachers’-শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হলে শিক্ষার গুণগত মান আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে দিনাজপুরের এই আলোচনা সভায়।
'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদার উন্নয়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার।
আলোচনায় বক্তারা বলেন,মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিঃসৃত করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ মর্যাদা না পেলে মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করেছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।