জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ এএম

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসিয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্ধবছর থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখতে চায় না। অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি  নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়।


‎জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। দেশে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তারা যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি কায়েম হবে।


‎তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয় অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয়নি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচন হয়েছে। জনগণতো আমাদের ভোট দিয়েছে।


‎ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।


‎তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।


‎সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


‎তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমার নাকি কোথায় জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছি। আপনারা কি কোথাও কোনও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করেনি। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করেনি। জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছেন অমুক নেতার নাম ১০০ বার জপলে আপনি জান্নাতে যাবেন।


‎জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যান্যরা।


‎পরে জামায়াতের আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।



ব্রাহ্মণবাড়িয়া

চিকিৎসকের ভুলে আর মা হতে পারবেন না কুলসুম

টের পেলেন ৬ বছর পর


২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মরাপুকুরপাড় গ্রামের শামসুজ্জামান সবুজ ও স্ত্রী কুলসুম আক্তার দম্পতি। ২০২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কুলসুম একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মাত্র চার মাস বয়সে পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। এরপর ওই দম্পতি সন্তানের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। চিকিৎসক দেখিয়েও সুফল মেলেনি। তবে চলতি বছর তারা সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে জানতে পারেন কুলসুম আক্তারের অনুমতি ছাড়াই তার লাইগেশন করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ জিনান রেজা অনুমতি ছাড়াই কুলসুমের দুই ফেলোপিয়ান টিউব কেটে বন্ধ দিয়েছিল (লাইগেশন)। চিকিৎসকের এই ভুলে বন্ধ্যত্বকরণের কবলে পড়ে সন্তান নিতে পারছেন না গৃহবধূ কুলসুম।


তবে হাসপাতালের ভাষ্য, গাইনি ওয়ার্ডে লাইগেশনের রেজিস্ট্রারে এই রোগীর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। রোগীসহ পরিবারের সম্মতি ছাড়া লাইগেশন সম্পন্ন হয় না। ওই রোগী কোথায় কী করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোথায়, কীভাবে এই লাইগেশন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে তৎকালীন চিকিৎসার মূল নথিপত্র চেয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।


অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন কুলসুম আক্তার। ওই দিন দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সে সময় অস্ত্রোপচার করান চিকিৎসক জিনান রেজা। এর চার দিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। কিন্তু ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল শিশুটি মারা যায়। সন্তান হারিয়ে দম্পতি পুনরায় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে স্থানীয় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে ঘুরেও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।


সন্তান ধারণ না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে কুলসুম আক্তারের পরীক্ষা করানো হলে তার জরায়ুর দুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গত ২ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুলসুম আক্তারের ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা হলে সেখানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়।


সন্তান পাওয়ার শেষ চেষ্টায় দম্পতি ছোটেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৩ আগস্ট সেখানে ভর্তি হন। গত ৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা কুলসুম আক্তারের ‘মাইক্রোসার্জিক্যাল রিক্যানালাইজেশন’ (টিউব পুনর্সংযোগ) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের অপারেশন নোটে উল্লেখ করা হয়, কুলসুমের ডান ও বাম উভয় পাশের ফ্যালোপিয়ান টিউব ‘ইস্থমাস’ অংশে শক্ত করে লাইগেশন (বাঁধা) ও কাটা ছিল। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউব দুটির ব্লকেজ অপসারণ করে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেন।


এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ২০২০ সালের ২ জানুয়ারির অস্ত্রোপচার কক্ষের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রেজিস্টারের ২০ নম্বর ক্রমিকে কুলসুমের অপারেশনের বিবরণে শুধু লোয়ার ইউটেরিন সিজারিয়ান সেকশন উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নথিতে লাইগেশন করার কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।


ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ছয়টি বছর আমার চোখের জলে কেটেছে। এখনো আমার স্ত্রী অসুস্থ। বেঁধে রাখা টিউব জোড়া লাগানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বাধা থাকায় টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুব কম। আমি চিকিৎসকের বিচার চাই।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক জিনান রেজা বলেন, এটি ২০২০ সালের ঘটনা। একজন রোগীর সব চিকিৎসা কার্যক্রম রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে। ওই রোগীর স্থায়ী লাইগেশন হয়েছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ হাসপাতালের ওটির রেজিস্ট্রারে নেই। ওই রোগীর কোনো লাইগেশন করা হয়নি। আমি অনুমতি ছাড়া রোগীর লাইগেশন করিনি। রোগী ও তার স্বজনের অনুমতি ছাড়া স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরণ করা হয় না। আমরা কুমিল্লা মেডিকেলের প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে তারা ওই রোগীর টিউব ব্লকের কথা উল্লেখ করেছে। আর টিউব ব্লক ইনফেকশন বা নানা কারণে হয়ে থাকতে পারে। আমরা সাধারণত দলগতভাবে কাজ করি। তখনও আমি দলগত কাজের অংশ ছিলাম।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ওই রোগীর স্বজন হাসপাতালে একটি অভিযোগ করেছিল। ছয় বছর আগের ঘটনা এটি। নথিপত্র ঘেঁটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের তথ্য রেজিস্ট্রারে আছে। কিন্তু ওই রোগীর লাইগেশন করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। গৃহবধূর স্বামীর সামনেই সব নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই রোগীর অন্যান্য প্রতিবেদন দেখে আমাদের ধারণা, অন্য কোথাও তার অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে।


এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর অনুমতি ছাড়া সার্জনরা লাইগেশন করার কোনো সুযোগ নেই। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের ওটি নোট কিংবা কোথাও ওই রোগীর লাইগেশনের কথা উল্লেখ নেই। ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার একপর্যায়ে এক নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চরগঙ্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোশনা বেগম (৪০) ওই গ্রামের মজিবল মোসলমানের স্ত্রী।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে কালো রঙের একটি হিরো মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক রোশনা বেগমের বাড়ির সামনে যায়। তারা নিজেদের সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।


একপর্যায়ে ‘লাইভ ভেরিফিকেশনের’ জন্য ছবি তুলতে হবে বলে রোশনা বেগমকে জানানো হয়। তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরার দিকে তাকালে সুযোগ বুঝে তার কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নেয় ওই দুই যুবক। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসসহ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।


ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম সিকদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। বর্তমানে এলাকায় প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’


এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের বক্তব্য জানতে একাধিক ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

‎জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে আসা টনি সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

‎

আজ ‎মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) সন্ধ্যা ৪টায় কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ২২দিবসে পায়ে হেঁটে ৭৮৩ কিলোমিটার একক পদযাত্রা মাসফিকুল হাসান টনির সমাপনী অনুষ্ঠান ধরা কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফরিদুল আলম শাহীনের সভাপতিত্বে ও জেলা ধরার শামশুল আলম শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। 

‎



‎প্রধান অতিথি টেকনাফ উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি' সভাপতি নুরুল আলম, ‎সদর উপজেলা ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, চকরিয়া ধরা'র আহ্বায়ক একেএম বেলাল উদ্দীন, মহেশখালী ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইছার হামিদ। 

‎

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন, সহসম্পাদক মোঃ আমিন উল্লাহ আমিন, জেলার ধরা'র সদস্য প্রভাষক রিয়াজ মাহমুদ, নুরুল ইসলাম সুমন, হেলাল উদ্দীন, মোঃ রুবায়েত, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনীতিক, বিভিন্ন পেশাজীবিও  শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎

‎অপরদিকে সংবর্ধিত হন 'লাগও বৃক্ষ, কামাও লক্ষ লক্ষ' স্লোগানে- ভেজাল নাই ডটকম কর্তৃক আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন ক্যাম্পিংএ ৬৯১টি ঔষধি, ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা রোপন করে ‎ওই ক্যাম্পিং প্রথমস্থান অধিকার করে ভেজাল নাই ডটকম এর এডভাইজার তাসরিফ খাঁনের হাত থেকে হেলাল উদ্দীন নিশাদ পুরষ্কার গ্রহণ করায় সংবর্ধনা প্রদান করেন ধরা জেলা শাখা। 

‎

‎উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনার সাতক্ষীরা শ্যামপুর উপজেলা উপকূলের চার নদীর মূখ থেকে ‎তাঁর একক পদযাত্রার ২২তম দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পৌঁছান।

‎

‎জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনসহ ৩৫টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে এ পদযাত্রা আয়োজন। পরিবেশযোদ্ধা মাসফিকুল হাসান টনির এটি নবম পদযাত্রা। এর আগে তিনি ছোট-বড় আরও আটটি পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

‎

‎মাসফিকুল হাসান টনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে তাঁর এই পদযাত্রা। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে সিলেট নগরীর জালালাবাদ পার্ক। তবে এবার পুরোনো রূপে নয়। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নতুন সাজে উন্মুক্ত করা হবে নগরবাসীর জন্য। পার্কটিকে শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি থাকবে বসার ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশ। সংস্কার করা হবে পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীরও। সোমবার পার্কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পার্কটি দ্রুত জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


সিসিক প্রশাসক বলেন, “জালালাবাদ পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানো হবে।”


তিনি বলেন, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। নগরবাসী যেন এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। পার্কের সীমানাপ্রাচীর নিয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। 


প্রশাসক বলেন, বর্তমান গেট ও সীমানাপ্রাচীরের কারণে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই দেয়াল ও গেট সংস্কার করা হবে। বাইরে থেকেও যেন পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষ হাঁটতে যান। অবসর কাটান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কার শেষ হলে নগরবাসীকে এখানেও অবসর সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য আসার আহ্বান জানানো হবে। 


তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটাচলা ও মুক্ত বাতাসে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ পার্কটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত। নগরবাসীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। তাই পার্কটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, পার্কটির অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বীন ব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের পর এটি নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। 


সিসিক প্রশাসক বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্ককে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রেমিকের বাড়ীতে এক সন্তানের জননীর অনশন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন ১২ বছরের কন্যা সন্তানের জননী। দাবি না মানলে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ষোলঘর সদারামপুর গ্রামে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই সুশান্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।


সুশান্ত দাস(৩৮) ওই গ্রামের স্বপন দাসের ছেলে। ভুক্তভোগী বিথী রানী রাজবংশী একই গ্রামের বাসিন্দা।  


জানা গেছে, প্রেমিকা বিথী রানী রাজবংশীর সাথে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বিয়ের আগেই থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৩ বছর পূর্বে বিথীর মা-বাবা বিথীকে অন্যত্র বিয়ে দেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পরও প্রেমিক সুশান্ত প্রেমিকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করত। 


ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর আমার স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে সুশান্ত আমার সাথে যোগাযোগ করত। গত তিন বছর পূর্বে অসুস্থতার কারণে আমার স্বামী মারা যান। এর পর থেকে সুশান্তর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এই বিষয়ে জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয় যে, ভবিষ্যতে  কেউ কারো সাথে আর সম্পর্ক রাখতে পারবে না। পুনরায সম্পর্ক করলে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হবে। শালিসের মাস দেড় পর সুশান্ত মালয়েশিয়া চলে যায় এবং আমি নিষেধ না সত্বেও পূনরায় সে আমার সাথে যোগাযোগ অব্যহত রাখে। গত ৮ মাস পূর্বে সুশান্ত দাস আমাকে ফোন দিয়ে বলে তার ছোট ভাই হৃদয় পর্তুগালে যাবে তাকে ৫ লক্ষ টাকা দাও আমি বিদেশ থেকে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। পরে সুশান্তের বিয়ের আশ্বাসে আমি হৃদয়ের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দেই। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুশান্ত দেশে আসে এবং আমাকে বিয়ে করবে বলে তার জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি দেন এবং আমাকে নিয়ে নিমতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে। গত দুইদিন যাবত সে আমার ফোন ধরছে না এবং নাম্বার বক্ল করে রেখেছে।


ভুক্তভোগী আরও জানান, সুশান্ত দাসের বিয়ের আশ্বাসে তাকে টাকা দেয়া হয়েছে। এখন তাকে গ্রহণ না করলে তার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দাবি আদায় না হলে তিনি সুশান্তের বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।


এদিকে ঘটনার পর থেকে সুশান্ত দাস পলাতক থাকায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।