• প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১২ এএম

গাজীপুর মহানগর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিতে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। 


বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ডেসকো, সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে বস্তির বিভিন্ন স্থাপনায় থাকা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অবৈধ পানির লাইন এবং ইন্টারনেট সংযোগও কেটে দেওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলমান ছিল এবং পর্যায়ক্রমে আরও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছিল। 


অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, ডেসকোর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম নাজিমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, হাজীর মাজার বস্তিকে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। মাদক কারবার টিকিয়ে রাখতে যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করছে, তাদের সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আইনবহির্ভূত সব ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। 


তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। গাজীপুর মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। 


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামো ভেঙে দেওয়াই এ অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।



সর্বশেষ সব খবর

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৯ পিএম

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তারেক রহমান সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খনন ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় মানুষের পাশে দাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে খাল খনন এর কাজ শুরু করেছিলেন। আর কোন সরকার এর প্রয়োজনীয়তা মনে করেন নাই। তারেক রহমান সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। 


শুক্রবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে পঞ্চগড়ে ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম অংশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলাধীন বন্দরমনি ও বোয়ালমারী নামক স্থানে করতোয়া নদীর ডান তীর বরাবর ১১৫০ মিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ এর উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন তিনি। 


বিএনপি সরকার কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী উল্লেখ করে এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দেশের বন্যা ভূমিধস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান সরকার নদী পাড়ের মানুষের দু:খ দুর্দশার কথা চিন্তা করে নদীর পার রক্ষা বাধ নির্মানে কাজ করে যাচ্ছেন। 


তিনি আরও বলেন, এখানে হিন্দু সনাতনীদের তীর্থস্থল হিসেবে বারূনি স্নান ঘাট নির্মিত হচ্ছে, যেখানে নির্বিঘ্নে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে।  এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বিভিন্ন কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লীবিদ্যুতের কর্মচারীদের গাফিলতিতে বিদ্যুতায়ীত হয়ে আনোয়ার খান নামে (৫০) এক ব্যাক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ রা অক্টোবর) দুপুরে কলাপাড়া পৌরশহরের এতিমখানা গোরস্থান সংলগ্ন এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই ব্যাক্তি কলাপাড়া পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের এতিমখানার বাসিন্দা মৃত এন্তেজ খান এর পুত্র। তিনি ৩ সন্তানের জনক ছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শী মৃতের আপন ভাগিনা সজিব  বলেন, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এতিমখানা গোরস্থান সংলগ্ন রাস্তার ওপরের একটি মেইন লাইন ছিড়ে তাদের বাসার টিনের বেড়ায় লেগে আগুন জ্বলতে থাকে । এতে ওই খানের অন্তত ৭/৮ টি ঘর বিদ্যুৎতায়িত হয়। এর পর ১১: ৪৫ মি.দিকে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে তারা জরুরীভিত্তিতে আসার জন্য আরও কয়েকবার ফোন করলে তারা শুধু আসবে বলে কালক্ষেপণ করেন। যে কারনে আজকে তার মামার মৃত্যু হয়েছে।


নিহত আনোয়ার খানের আপন ভাই মাসুম খান বলেন, তার ছিড়ে পড়ার পর থেকে তাদের বহুবার ফোন করা হয়েছে। তারা ফোন পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আসলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হোতনা। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতিতে আজ এই ঘটনা ঘটেছে।


এবষয়ে কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সজীব পাল'র কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিউট্রাল লাইন ছিড়ে পড়েছিলো। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানালে সাথে সাথে লাইন বন্ধ করা হয়। তবে, দূর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান।


এবিষয়ে কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া সশস্ত্র ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে পূবাইলের হায়দরাবাদ শুকুন্দিরবাগ এলাকার লাল ব্রিজের ওপর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃতরা হলো—টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদ নগর (০৪ নম্বর ব্লক) এলাকার মোঃ লেবু মিয়ার ছেলে মোঃ আতিকুল ইসলাম রাকিব (১৯), একই এলাকার আব্দুল আলেফের ছেলে মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ (১৯) এবং টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া মোল্লাবাড়ী এলাকার মৃত ফুল মিয়ার ছেলে মোঃ শুভ রাহাত (২০)।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূবাইল থানার এসআই (নিঃ) মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিল। লাল ব্রিজের ওপর কতিপয় যুবক ডাকাতির উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্রসহ জড়ো হয়েছে—এমন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে ১ নম্বর আসামী আতিকুল ইসলাম রাকিবের কাছ থেকে একটি ধারালো সুইচ গিয়ার এবং ২ নম্বর আসামী শুভ রাহাতের কাছ থেকে একটি স্টিলের চাকু উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রসহ আসামীদের পূবাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে পূবাইল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

এনসিটির পর সিসিটিও যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরের হাতে

দায়িত্ব পাচ্ছে সৌদির আরএসজিটিআই


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

এনসিটির পর চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্বও পেতে যাচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এই টার্মিনাল এখন পরিচালনা করছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।


চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএ-কে অনুরোধ করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে সিসিটির অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (আইবিএ) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরএসজিটিআই-এর আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়।


প্রকল্প দুটি হলো—সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল।


সিসিটি পরিচালনার জন‍্য ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের আগ্রহ বেশি সৌদি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে।


টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড গত ৮ এপ্রিল এবং সৌদি আরবের আরএসজিটিআই ২২ এপ্রিল প্রস্তাব জমা দিয়েছিল আলাদাভাবে। দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী এমজিএইচ গ্রুপও একটি প্রস্তাব জমা দেয়। তবে আরএসজিটিআই সিসিটির পাশাপাশি জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালও পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা বলছেন সুযোগ পেলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে তাদের।


২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার পরিবহনের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয়েছে সিসিটি দিয়ে। এছাড়া এনসিটিতে প্রায় ৪৪ শতাংশ, জিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ৪ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করছে আরএসজিটিআই।


দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধাসম্পন্ন এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে খসড়া চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এখন আলোচনায় আছে সিসিটি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে সার গুদামজাত করার অভিযোগে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির-২ মনিরুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার গুদাম থেকে মজুত করা ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম (৪৫) ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।


স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি অটোরিকশায় করে ২০-২৫ বস্তা সার গোপনে ওই গুদামে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।


এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই ব্যক্তি একজন ডিলারের নিকট থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করেছিলেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ এবং তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 


তিনি আরও জানান, জব্দ করা সারগুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং তা ভদ্রঘাট ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।


এদিকে ঘটনার বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম নিজ জমি ও আশপাশের কয়েকজন কৃষকের চাষাবাদের জন্য এই সার কিনেছিলেন। সকালে সেগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একটি মহল প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


অভিযান পরিচালনার সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন, কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সর্বশেষ সব খবর

মো. লিয়াকত আলী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদে এক রোহিঙ্গা নারীকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. লিয়াকত আলীকে তার দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এই অপসারণের আদেশ জারি করা হয়।


ঘটনার পটভূমি


প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার ১ নম্বর ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১ নম্বর ওয়ার্ড) মো. লিয়াকত আলী বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও মোছা. রোকেয়া বেগম নামের এক নারীকে ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। ওই সময় রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিস ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের কক্সবাজারের উখিয়া টেংখালী ক্যাম্প-১২-এর জি-৪ এলাকার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে স্বীকার করেন।

 

বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বরখাস্ত


রোহিঙ্গাকে নাগরিক সনদ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গত ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে লিয়াকত আলীর দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৪(৪)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে একই আইনের ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ পদ থেকে অপসারণ করা হয়।


বর্তমান পরিস্থিতি


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী উচ্চ আদালত থেকে তার পদ বহালের বিষয়ে চার মাস সময় বাড়ানোর আদেশ নিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি কোনোভাবেই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

সর্বশেষ সব খবর