বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় হোটেল ব্লু পেয়ার এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম মারুফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা ডা. মুজিবুর রহমান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম স্বপন, সাংবাদিক এস এম শাহাদাত, পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম দুলাল, জাকির হোসেন জুয়েল সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং পল্লী চিকিৎসকরা।
বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার এবং জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। সম্মেলনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, পল্লী চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় মনোয়ারা হায়দার পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। প্রধান বক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলম ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সবুজের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমান গণি মলিক মাখন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, খালেক পাঠান এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হকসহ অন্যরা।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশ নেন।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন। পরে এসব বিষয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।
★পুলিশ দিয়ে হয়রানি
★জীবন নাশের হুমকি
★চলাচলের রাস্তায় বাঁধা
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার জমি দখল কেন্দ্রীক গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শেষ পাতায় স্থানীয় ভুক্তভোগী অসহায় নারী মেহেরুন্নেসার জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর দখলকারীরা বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আইন অমান্য করে জেলহাজতে আদালত কর্তৃক প্রেরণ করা হতে পারে এমন আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে তার সত্যতা মিলেছে। দখলকারী সন্ত্রাসীরা বিষয়টি যাতে আদালতে উপস্থাপন না হয় এজন্যও তাদের সাঙ্গো পাঙ্গদের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী।
এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে কেননা গত ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদটি ধামাচাপা দিতে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রদূত পত্রিকায় ৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৩ ও ৪ নং কলমে মিথ্যা প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছে। তাছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ রিসিভ না করে ফেরত দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে বিষয়টি একপেশে মিমাংসা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় মেতেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাহমুদুর বলে একটি তথ্য বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ তথ্যটি বিশ্বাস যোগ্য করতে অপেক্ষা করি আমরা অতঃপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারকে স্থানীয় কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বোরহান ০১৭১১-০০৪৯৪৩ নাম্বার থেকে সকাল ১১টায় কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁড়িতে ডাকেন। ব্যস্ততার কারণে যেতে পারছিনা এমন মন্তব্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ডাকেন ফাঁড়িতে বলে জানান ভুক্তভোগী ছেলে মামুন হোসেন। যেখানে আদালতে মামলা চলমান থাকলে অন্য কোন কার্যালয়ে ভূমি সংক্রান্ত কোন বিচারের সুযোগ থাকে না সেক্ষেত্রে সরাসরি বিচার করতে দেখা গেছে ফাঁড়ির ও এসআইকে।
তবে কেন এবং কার কথায় করছেন তার কোন জবাব মেলেনি। সেখানকার দুই পক্ষের বিচারের অডিও রেকর্ড এসেছে নওরোজের হাতেও। রেকর্ডটিতে শোনা যাচ্ছে দখলকারীদের মধ্যে হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলছেন ওসি সাহেব জমি দখল করতে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে ওসি সাহেব সত্যি কি জমি দখলের সম্মতি দিয়েছেন কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী মেহেরুন্নেছার অভিযোগ আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কোন পুলিশ প্রশাসন কিভাবে আবার নতুন করে একপেশে একেরপর এক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করতে পারেন। আমি তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই।
এ ক্ষেত্রে পথ বন্ধ করে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের মিথ্যা অভিযোগে আমাদের কেন চাপ প্রয়োগ করছেন? সাধারণ পুলিশ ফাঁড়ি এমনকি থানা পুলিশ কি জমির সমস্যা সমাধান করতে পারেন বলে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে তার প্রশ্নের তীর ছুড়ে দেন এবং এসকল বিষয়ে শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
সর্বশেষ জমির কাগজপত্র সঠিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজারো নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এসব ঘটনায় স্বজনদের চোখের পানি এখনো শুকায়নি।
তিনি আরো বলেন, যারা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, বাড়িছাড়া ছিলেন কিংবা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেবেন না।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, ভালুকা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমানগনি মাখন ও শাখাওয়াত হোসেন পাঠান।
এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদ উল্যাহ চৌধুরী ধ্রুব, সদস্যসচিব তোজাম্মেল হক বকুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সৌমিক হাসান সুহাগ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. সুজন, মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রমিদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারু, সংসদ সদস্যের সহকারী এফ এম শরিফুল আলম সোহেলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
পরে ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দিনাজপুর জিলা স্কুলে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি। “বৃক্ষ রোপণে দেশ সবুজায়ন করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর জিলা স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মাদকের কুফলবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনাজপুর জিলা স্কুলের মুক্তমঞ্চে এসএসসি ২০২৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল-“সবুজ প্রকৃতি-সুস্থ জীবন-সুন্দর ভবিষ্যৎ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে একাধিক গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শহরাঞ্চলেও সবুজায়নের সুযোগ রয়েছে; জায়গার স্বল্পতা থাকলেও বাড়ীর ছাদসহ উপযুক্ত স্থানে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষার উপাদান নয়, মানুষের মনন ও জীবনযাত্রার সঙ্গেও সবুজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একদিকে নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানী, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে গাছ কাটা হচ্ছে। তাই শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে দায়ীত্বশীল হতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, মাদক তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়ংকর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের দূরে রাখতে না পারে, তাহলে তাদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। শিক্ষার্থীদের কখনো মাদকের প্রতি আগ্রহী না হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জিলা স্কুলের সরকারী শিক্ষক আহামাদ আলী আজাদ কোরআন-হাদিসের আলোকে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। তিনি মাদককে প্রত্যাখ্যান করে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজ থেকে মাদককে না বলি, বৃক্ষকে হ্যাঁ বলি।”
আরেক সহকারী শিক্ষক বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রোপণ করা প্রতিটি গাছের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। তিনি সরকারী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশকে সবুজ রাখতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। এ সময় তিনি-“বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে, সবুজ দেশে সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে”-এই স্লোগানকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, একটি গাছ মানুষের জন্য শুধু পার্থিব কল্যাণের উৎস নয়; যত্নসহকারে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণ মানবকল্যাণে অবদান রাখার একটি স্থায়ী মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বৃক্ষের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশান কর্মকারও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের কৃষি শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান।
আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি সবুজ ও সুস্থ সমাজ গঠনের দায়ীত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ।
‘আলোকিত গাজীপুর’ মানবিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর, আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ পথচারী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, দুপুরের খাবার ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কক্সবাজার ডলফিন মোড়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে পথচারীদের সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে সংগঠনটি।
এরপর, কক্সবাজার পূর্ব কলাতলী আদর্শ শিক্ষা নিকেতন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশে দুপুরের খাবার এবং তাদের পড়ালেখা ও বিনোদনের জন্য খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের উৎসাহ জোগাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘আলোকিত গাজীপুর’ মানবিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তাকিম খান, উপদেষ্টা মাসুম রানা, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান শেখ সাংগঠনিক সম্পাদক আলী শিকদার নির্বাহী সদস্য মো: হানিফ হোসেন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একঝাঁক সংবাদকর্মী।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানুষের কল্যাণে এবং মানবিক মূল্যবোধ থেকে তাঁদের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিতে সুপারি চারা রোপণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারগানা এলাকার চাঁন মিয়া ভাঙ্গী তাঁদের জমিতে সুপারি চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে তাঁকে বাধা দিয়ে প্রায় ২০টি সুপারি চারা উপড়ে ফেলে। এতে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষতি গ্রস্ত হয়। চাঁন মিয়া তার প্রতিবাদ করায় দেশীয় অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথা ও পেটের বাঁ পাশে এবং ছেন দিয়ে ডান চোখের ওপর আঘাত করেন। চাঁন মিয়ার ডাক চিৎকারে তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন, ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম ও ছেলের স্ত্রী লিবা আক্তার ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করেন। এতে তরিকুল ইসলাম, ফরিদা খাতুন ও লিবা আক্তারও গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, হামলার সময় নারীদের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় এবং বসতঘরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও আলমারিতে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময় ভাঙচুরে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চাঁন মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছা. ফরিদা খাতুন দক্ষিণ নারগানা এলাকার জনি, জুয়েল, আশিক ওরফে সাব্বির, শাহিনা বেগম, জরিনা বেগম, সুমন, শাকিল মোড়ল ও আবির মোড়লকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, ফরিদা খাতুনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।