বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে।
সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।
কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন।
জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন।
তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।
আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।
কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়।
মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।
কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরূপা ভৌমিক, সাংবাদিক নিয়াজ মোঃ খান বিটু, গভঃ মডেল গালর্স হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল লতিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন, এনজিও নেতা এস.এম শাহীন, জেলা বিএনপির নেতা মোঃ নূরুল হুদা, নারী নেত্রী ফারজানা খানম জারমিন, ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান শফিক, জেলা বিএনপির নেতা আতিকুল ইসলাম জালাল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু এ ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলী বাজারের বিভিন্ন দোকানের ছাদে ও তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে মাইমল হাটিতে প্রতিদিন বিকেল থেকেই প্রকাশ্যে জুয়া খেলা শুরু হয়, চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। জুয়া খেলে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে। এ ব্যাপারে প্রতিকার হওয়া দরকার।
এছাড়াও অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে মানুষ দিশেহারা। বক্তারা অনলাইন জুয়া বন্ধে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ও মাদক কারবারিদের পুলিশের অভিযান জোরদার করার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, শহরে অবৈধ মোটর সাইকেলের চলাচল বেড়েছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই টানা গাড়ি। এসব মোটর সাইকেলের চালকরা হেলমেট ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালায়। এতে একদিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে। অপরদিকে অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে।
বক্তারা বলেন, শহরে ছিচকে চুরির প্রবনতা বেড়েছে, এসব চোরেরা বিভিন্ন বাড়ির টিউবওয়েল, বাসা-বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস লাইন, এসির কুলিং পাইপ, নির্মাণাধীন বাড়ির দরজা-জানলা, রড খুলে নিয়ে ভাঙ্গারীর দোকানগুলো বিক্রি করছে।
বক্তারা এসব ভাঙ্গারীর দোকানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা দুর্ঘটনারোধে শহরের বিরাসার মোড় গ্যাস ফিল্ডের সামনে, পৌর এলাকার গোর্কণঘাট ব্রীজের গোড়ায় ও সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের সামনে নিয়মিত একজন করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান। শহরের যানজট নিরসনকল্পে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শহরের মসজিদ রোড ও পুরাতন কোর্টরোডকে ওয়ানওয়ে করার দাবি জানান।
সভায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। মাদকরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সাধ ও সাধ্যেও মধ্যে সমন্বয় কওে সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবো।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সকলের সহযোগীতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি করা হবে। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোন আপোষ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাও দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পৌরসভার রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে গিয়ে জনগন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব ভাঙ্গা-চুরা রাস্তাঘাট সংস্কার করতে পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, যানজট আমাদের বড় সমস্যা। অতিরিক্ত যানজটের কারনে শহরে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। যানজট লাঘবে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকরা সিএনজিচালিত অটোরিকসার বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেউ যাতে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে সেজন্য সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানগন, সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঝালকাঠির নলছিটিত মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল। মিছিলটি শহর ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপততিত্ব করনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন শাহীন। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব পলাশ সজ্জন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু সিকদার, যুগ্ম আহ্বায় রেজওয়ানুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান শিমুল, শহর যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম শরীফ, সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাজন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ মুন্সি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাজিব এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সভায় বক্তারা বলেন, সারাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করার ষড়যন্ত্র করছে। এই সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা নলছিটিতে হবে না। এদের প্রতিহত করতে নলছিটি উপজেলা ও পৌর যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে বায়ু ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ‘গ্রীন এনার্জি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধল্লা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধল্লা এলাকায় গ্রীন এনার্জি নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে টায়ার পুড়িয়ে বায়ু ও পরিবেশ দূষণ করে আসছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার সকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার ৮(১) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির বলেন, ‘জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পাশের দোকানে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় চারজন নিহত হন। আহত হয়েছেন সাতজন। নিহত সবাই অটোরিকশার আরোহী।
আজ সোমবার সকাল আটার দিকে লালমনিরহাট-পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কের ঘুন্টি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী উফারমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফাতুল মিয়া (৩৫), মো. মোস্তাকিম (৩৮) ও আনোয়ার হোসেন (২০) এবং একই ইউনিয়নের ইসলামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. নুর আমিন (৩০)।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি বাজার এলাকার মো. বাদশা (৫৫) ও জাফর উদ্দিন (৬০), গুড়িয়াটারী উফারমারা গ্রামের মো. দিপু মিয়া (৩০), মো. মিশন মিয়া (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং ইসলামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আইনুল হক (৩৫)। তাঁরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পাটগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি ঘুন্টি বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারোনো ট্রাকটি সড়কের পাশের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান দুজন।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চাইলে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ মোছা. মাজেদা বেগম (৩৭) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। টঙ্গী গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাজেদা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ধরাভাঙ্গা (মধ্যপাড়া ছলিমগঞ্জ) গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে এবং আরিফুল ইসলাম বাছেদের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ৫ম তলার ডি-৫ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার একটি টিম গাজীপুরা কাজীবাড়ি এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ৫ম তলার ডি-৫ ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাজেদা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নম্বর-৫০, ধারা ৩৬(১) এর ১৯(খ)) রুজু করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পুলিশ পাহারাধীন অবস্থায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি উদ্যোগে ও ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি'র সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম শরীফ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আলম লাবু, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম সহ অন্যরা।
এ সময় শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ ও বনজ ও ঔষধি জাতের দুুইশত গাছের চারা বিতরণ করা হয় ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষর্পণ করা হয়।