বরইবাগানে মোসলেম উদ্দিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

একসময় অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন মোসলেম উদ্দিন। যে টাকা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। পরে এই কাজ ছেড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আচার ও বাদাম বিক্রি শুরু করেন। তাতেও আয় তেমন হতো না। পরে জমি ইজারা নিয়ে লেবু ও মাল্টার চাষ করেন। এখন টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন টক বরইয়ের বাগান।  আগাম জাতের টক বরই জীবন পাল্টে দিয়েছে মোসলেমের। এ মৌসুমে নিজের বাগান থেকে কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাভ হবে তাঁর।


দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারেননি মোসলেম। মানুষের বাড়িতে থেকে গরু-বাছুর চরিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ে করার পর সংসারের সচ্ছলতা আনতে ফেরি করে আচার ও বাদাম বিক্রির শুরু করেন। কখনো বাড়ি বাড়ি, কখনো কোনো বিদ্যালয়ের সামনে, আবার কখনো বাজারে আচার-বাদাম বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোরকমে তাঁর সংসার চলত।


২০১০ সালের দিকে ১২ বছরের জন্য ছয় একর জমি ইজারা নিয়ে প্রথমবারের মতো লেবুর চাষ শুরু করেন মোসলেম। এতে দ্রুতই তাঁর সাফল্য আসে।


লেবু থেকে টক বরই


লেবুর বাগান করে সাফল্য পাওয়ার পর নতুন করে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন মোসলেম। তাঁর মনে হলো, যে বরই দিয়ে মানুষের পছন্দের আচার তৈরি হয়, সেই বরই তিনি চাষ করবেন। বিশেষ করে টক বরইয়ের আচার নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়—বিষয়টি তাঁর ভাবনায় বেশি ছিল।


প্রথমে সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে ১০ একর জমিতে আগাম জাতের টক বরই চাষ শুরু করেন মোসলেম। পরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী গ্রামের সাতটি স্থানে আরও প্রায় ৪০ একর জমি ইজারা নিয়ে বরই চাষ করেন। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এখন তাঁর বরইয়ের বাগান। গত আগস্টের শুরু থেকে তাঁর বাগানের আগাম জাতের টক বরই বিক্রি হচ্ছে।

বাগান থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বস্তা বরই পাঠানো হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি বরই থাকে। প্রতি কেজি আগাম টক বরই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৭২ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।


৫ সেপ্টেম্বর মোসলেমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বড়ই। গাছের নিচে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন।


মোসলেম বলেন, যখন মৌসুম পুরোদমে চলে (নভেম্বর-ডিসেম্বর), তখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কম হলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। এ মৌসুমে অন্তত এক কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন।


মোসলেম বলেন, গত মৌসুমে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বরইগাছে ফুল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফলন কমে যায়। গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করলেও জমির ইজারা, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর লাভ ছিল মাত্র ছয়-সাত লাখ টাকা। তবে তাঁর আশা, এবার এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হলে তাঁর অন্তত ৩০ লাখ টাকা লাভ থাকবে।


১৫ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান


বরইয়ের বাগান শুধু মোসলেমের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। তাঁর বাগানে সারা বছর স্থায়ীভাবে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন শ্রমিক। বরই পাড়ার মৌসুমে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন।


বাগানের বরইয়ের বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে টক বরই কিনে থাকে। ফলে উৎপাদিত বরই বিক্রি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না বলে জানান তিনি।

ছনের ঘর থেকে তিনতলা ভবন


সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের ধুমখালী এলাকায় নিজের কেনা প্রায় এক একর জমিতে এখন মোসলেমের তিনতলা বাড়ি। যে মানুষটি একসময় সর্বোচ্চ টিনের ঘর করার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি এখন অট্টালিকায় থাকেন।


মোসলেম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলায় মানুষের বাড়িতে রাখাল থেকেছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর বাড়ি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে আচার-বাদাম বিক্রি করেন। তখন বাড়িতে দোচালা ছনের ঘর ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন দোচালা টিনের ঘর হবে। এখন তিনি তিনতলা বাড়ির মালিক। কৃষির আয় দিয়েই তিনি এ বাড়ি করেছেন।


মোসলেমের এক মেয়ে। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) শেষ করে মালয়েশিয়ার লিঙ্কন ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে এবার সখীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।


বরই চাষে অন্যদেরও আগ্রহ


মোসলেমের বরইয়ের বাগান দেখে সখীপুরের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যে নতুন করে বরইয়ের বাগানও করেছেন। তিনি বলেন, বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফল হতে পারেন। এ দেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ পেশায় অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।

মোসলেমের মতে, লাভজনক ফলের বাগান করতে হলে জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও বাজারজাত—এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। আগাম জাতের বরইয়ের ক্ষেত্রে বাজারে ফল আসার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।


সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন প্রথম আলোকে বলেন, আগাম জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


প্রায় ৫০ একর জমির বাগানে ঝুলে থাকা টক বরইগুলো তাই শুধু ফল নয়; মোসলেমের কাছে এগুলো তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের প্রতিচ্ছবি।





নীলফামারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ পিএম

নীলফামারীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে কেয়ারটেকার নিয়োগে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভুয়া ঠিকানা ও জাল সনদের অভিযোগ আনা হলেও তিনটি তদন্ত কমিটি তাঁর পক্ষে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দেয়। এরপরও তিন লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে তাঁর যোগদান আটকে রেখেছেন উপপরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম। 


২০২৪ সালের ১৫ মার্চ নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের কেয়ারটেকার পদে উত্তীর্ণ হন জলঢাকার খারিজা গোলনার এলাকার হাফেজ আব্দুল আলিম শেখ। ১৭ এপ্রিল জলঢাকা সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের কেয়ারটেকার পদে নিয়োগপত্র পেয়ে ২২ এপ্রিল তিনি জেলা কার্যালয়ে যোগ দেন। তবে ঠিকানা ও সনদ জালের অভিযোগ তুলে তাঁর যোগদান স্থগিত করেন উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম।


​পরে জেলা পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান পৃথক তিনটি তদন্ত করেন। ২০২৪ সালের ১ ও ২ অক্টোবর জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।


আলিমের অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা না মিললেও জেলা প্রশাসন ও ঢাকা কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দুই ধাপে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁকে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।

টাকা লেনদেনের এই অভিযোগের সত্যতা মেলে একটি ফোনালাপেও। মুঠোফোনের ওই কথোপকথনে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলমকে বলতে শোনা যায়, এই টাকা তো দেওয়া লাগবে ডিসি অফিস ও হেড অফিসে। এই ৩০ হাজার টাকায় কিচ্ছু হবে না। টাকা বেশি দেওয়া লাগবে।


​জবাবে আলিম বলেন, ‘স্যার, আপাতত আরও ৩০ হাজার নিয়ে যাইতেছি আর ২০ হাজার পরে দেব। আমার চাকরিটা করে দেন স্যার, আপনার হাত পা ধরি স্যার। আমার ছাগল-টাগল ছিল, ওগুলো বিক্রি করি আমি ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করছি। আর অফিসের মাহমুদ ভাইকে দিয়েছি, ১০ হাজার দিয়েছি আপনাকে দেওয়ার জন্য। ​একপর্যায়ে বিষয়টি ফাঁস হলে নিয়োগ বাতিলের ভয় দেখিয়ে গোপনে টাকা পরিশোধের তাগাদাও দেন মোছাদ্দেকুল আলম।


নিয়োগ পেয়ে টাকা দিয়েও চাকরি না পেয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আলিম। আদালত বিষয়টি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও প্রায় ১১ মাস পর ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলামের সই করা এক স্মারকে আলিমের নিয়োগ আবারও জাল সনদের অভিযোগে বাতিল করা হয়। অথচ এসব অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। 


​এদিকে সরকারি বাড়িভাড়া ভাতা নেওয়ার পরও জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের অতিথি কক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে দখল করে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেখানে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসি, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক চুলা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি খরচে একাধিকবার হজ পালনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


​টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম বলেন, গত বছর হজে যাওয়ার সময় আলিম তাঁর হাতে ২৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি, ওই টাকা তাঁকে জোর করে দেওয়া হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বাতিল করায় এতে তাঁর কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন তিনি। মডেল মসজিদ কক্ষ দখলের বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে থাকেন।


​ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিয়োগ প্রার্থীর কাছে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি । 


তবে প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।


শফিকুল আজিম ওরফে সুমন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় শফিকুল আজিম ওরফে সুমন (৪৬) নামে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।  


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার জয়নাল আবেদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন হাজী সফি মঞ্জিলের সামনের চৌমুহনী- মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন উপজেলার উত্তর কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন এবং উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটলা গ্রামের ওয়ালী বেপারী বাড়িরে মাস্টার আবুল খায়েরের ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে সুমন চৌমুনহী পৌরসভার চৌরাস্তা এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে জেলা শহর মাইজদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রা পথে তিনি জয়নাল আবেদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন হাজী সফি মঞ্জিলের সামনের চৌমুহনী- মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌঁছলে অজ্ঞাত বেপরোয়া গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।  


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সহায়তার জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


 মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাতিয়ার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণকক্ষে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ইভিসিআর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে চর ঈশ্বর ইউনিয়ন, চর কিং ইউনিয়ন ও হাতিয়া পৌরসভার ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।


দুই দিনের প্রশিক্ষণে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আগাম পদক্ষেপ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কীভাবে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের ধারণা দেওয়া হয়।


এছাড়াও স্ফিয়ার কী, স্ফিয়ারের মানবিকতার ঘোষণাপত্র, সুরক্ষা নীতিমালা ও মানবিকতার মূলমান বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ে আহত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।


বিশেষভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অধিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সাইক্লোন শেল্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভূমিকা এবং দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।


আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাই অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে কাজ করেন। তাই দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানো এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।


স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইভিসিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুই হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলছেন, এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণেই হতে পারে।


উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পুরাতন বন্দর মালিপাড়া গ্রামের আরিফ ও লিজা দম্পতির ঘরে শিশুটির জন্ম হয়।


গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শিশুটিকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।


জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে লিজা অসুস্থ হলে তাঁকে পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন বিকেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম দেন। নবজাতকটি ওই দম্পতির প্রথম সন্তান।


শিশুটির প্রতি হাত-পায়ে সাতটি করে আঙুল রয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির ঠোঁটও কাটা রয়েছে। প্রতিটি আঙুলেই রয়েছে নখ। তবে জন্মের দুই দিন পর বাম হাতের একটি আঙুল ঝরে পড়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন জানান, তাঁদের এলাকায় এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে হয়নি।


পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির জন্মের পর তার হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুল দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁরা এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছেন।


নবজাতকটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের প্রথম সন্তান। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা, আমরা সন্তুষ্ট।’


দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এস কে সাদেক আলী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত আঙুল থাকা অবস্থাকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শিশুটির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। তবে উপজেলা বিএনপির দাবি, মাদকসংক্রান্ত কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব বর্তমানে এমপি রুমিন ফারহানার সমর্থক বলে জানা গেছে।


আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।


আবেদনে বলা হয়, খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারটি ২০১৮ সাল থেকে পল্লিগ্রামে শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। পাঠাগারটি জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি বেসরকারি পাঠাগার।


১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের—সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ—সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইউএনওকেও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


পাঠাগারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অগ্রগতি জানতে উপজেলা পরিষদে যান আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব। ইউএনওর কক্ষের দিকে গিয়ে তাঁরা সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। পরে তাঁরা কক্ষে না ঢুকে নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন।


রাসেল বিপ্লব বলেন, ‘নিচে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম আমরা। দুপুরে জোহর নামাজের সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এসে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আছে।’


তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেপেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।’


ইউএনও মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১২ পিএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহের সেবার_ মান ও জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


(১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিটিজেন ভয়েস এ্যান্ড এ্যাকশন (সিডিএ) ওয়ার্কিং গ্রুপের আয়োজনে ও দাতা সংস্থা গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা'র অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আনিসুর রহমান সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খাইরুল ইসলাম।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নাদিয়া আকতার, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ লুতফর রহমান মিঠু,জুলিয়াস আর্থার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সহ অন্যরা।


সভাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নে সামাজিক জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে আয়োজন করা হয়। 


সভায় কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্ধারিত সেবার মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জনগণ বাস্তবে এসব সেবা কতটুকু পাচ্ছেন, সেবার প্রাপ্যতা, মান, সহজলভ্যতা, কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সিভিএ দলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অংশীজন ও জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগৃহীত মতামত উপস্থাপন করেন।