শিক্ষক জাকির

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ পিএম

নরসিংদীর পলাশে শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন জাকির খান। উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী গ্রামে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্মার্ট এগ্রো কেয়ার’ নামে একটি কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে মাটির পরিবর্তে ককোপিট ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজির চারা। এসব চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি।


সরেজমিনে দেখা যায়, স্মার্ট এগ্রো কেয়ারে সারি সারি ট্রেতে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। পেঁপে, করলা, ধুন্দল, বরবটি, শসা, লাউ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, মরিচ ও ডাঁটাসহ নানা ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এখানে। প্রচলিত মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ককোপিট ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চারা উৎপাদন করছেন তিনি।


জাকির খান জানান, তার বাবা ও দাদা কৃষিকাজ করার সময় বীজ কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হতেন। এক জাতের বীজ কিনে অন্য জাতের ফসল পাওয়া কিংবা বীজের মান ভালো না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তেন তারা। পরিবারের এই অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ থেকে উন্নত চারা উৎপাদনের চিন্তা মাথায় আসে তার।


সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের দক্ষতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন স্মার্ট এগ্রো কেয়ার।


ককোপিটে উৎপাদিত চারার বিশেষত্ব হলো, উপযুক্ত পরিচর্যায় এসব চারা সহজে নষ্ট হয় না এবং জমিতে রোপণের পর ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এসব চারা রোপণে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকেরা আগাম জাতের সবজির চারা রোপণ করে মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে পারছেন। এতে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চারা আকার ও জাতভেদে প্রতিটি ৪ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন জাকির খান।


জাকির খানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, স্বল্পমূল্যে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মানসম্মত চারা আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যাতে কৃষকেরা সঠিক জাতের ভালো চারা রোপণ করে অধিক ফলন ও মুনাফা অর্জন করতে পারেন।


কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি জাকির খান স্থানীয় বিদ্যাসাগর মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকেও কৃষিতে তার এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


তার এই উদ্যোগে পলাশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।


শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাকির খানের এই প্রচেষ্টা একদিকে যেমন তার আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য মানসম্মত চারা উৎপাদন ও আগাম সবজি চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।




সর্বশেষ সব খবর

গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ এএম

জাতিসংঘ শিশু তহবিল–ইউনিসেফের প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতার দুজনের মধ্যে একজনকে চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোজাম্মেল হক (২৯) ও মো. আল আমিন সরদার (২৫)। বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।


তিনি জানান, ডিবির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুকে একটি পেজে ইউনিসেফের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি। চক্রটি অনলাইনে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ফরম বিক্রির কথা বলে প্রথমে ৫৮০ টাকা নিত। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ হাজার ৫৮০ টাকা আদায় করত। টাকা পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিত তারা।


এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ রমনা থানায় একটি মামলা করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করা হয়।


তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার একটি বাসা থেকে আল আমিন সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ফেসবুক পেজ-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও মোবাইল সিম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডিবিকে জানিয়েছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বুস্টিং ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন তারা। গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালী থানা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৪ এএম

নোয়াখালীর সেনবাগে অটোরিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে মো. আরমান মিয়া (৪১) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সেনবাগ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপুর ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে।


নিহত আরমান উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সাহাপুর গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরমান অটোরিকশা চালিয়ে বাবুপুর এলাকা থেকে সেনবাগ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাবুপুর ব্রিজের ওপর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


 স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে সাদা রঙের এক ধরনের ওষুধ জাতীয় পদার্থ দেখতে পান। পুলিশের ধারণা, স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা.কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় লোকজন আরমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


সর্বশেষ সব খবর

উত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের রামু পেঁচারদ্বীপ পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সবার পরিচয় পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে রোহান (২৩), শহীদুল ইসলাম (২৩) ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. আকাশ (২১)। নিখোঁজরা হলেন- চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০) ও অন্যজন হলেন ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন রেজুখাল পেয়ে খাল ও সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যায়। বিকেল পেরোলে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানি বেড়ে চরটি ডুবতে শুরু করে। কিন্তু পর্যটক দলের সদস্যরা সে বিষয়টি খেয়াল করেননি। এক পর্যায়ে চরটি পানিতে ডুবে গেলে তলিয়ে যান দুই দলের পর্যটকরা।


তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজ হন দুজন। জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী ও বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কক্সবাজারে পৌঁছে আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপে একটি রিসোর্টে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাগরে নামেন এবং রেজুখাল পেরিয়ে ওই চরে চলে যান। একইভাবে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরা আমাদের মতো খাল পেরিয়ে চরে চলে যান। পরে এ ঘটনা ঘটে।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান রাত সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, মরদেহগুলো হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। অন্যদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ এএম

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।


রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ যে অন্যায় করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের আর বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নাই। ৫ আগস্ট যে আওয়ামী লীগকে বিদায় জানিয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সেই আওয়ামী লীগকে আর কখনোই এ দেশের জনগণ স্বাগত জানাতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবে না।


এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, ইসরাইল হোসেন জীবনসহ প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

সিলেটে সিএনজি চালক হত্যাঃ বাবা ও চার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মজন আলী ও তার চার ছেলে ইয়াহইয়া, জাকারিয়া, শাহরিয়ার ও কিবরিয়া।


পুলিশ জানায়, বুধবার নিহত শাহাব উদ্দিনের ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।


কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে গাড়িতে যাত্রী ওঠানোর সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রায় এক মাস আগে একটি বিষয় নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ হয়। বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের আগেই তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।


এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে কানাইঘাট উপজেলার সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে শাহাব উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শাহাব উদ্দিন (৩০) ওই গ্রামের মৃত মতরিস আলীর পুত্র।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্রাহাম (১১)। সে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার দুবাইপ্রবাসী আব্দুল আলীমের ছেলে।


নিহত শিশুর মা কনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কোনো পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসকের চরম অবহেলায় এই অস্ত্রোপচার করা হয়। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্রাহামের নাকে পলিপাস ও টনসিলের জটিলতা দেখা দিলে কয়েক দিন আগে তাকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সুমন হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তখন দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকো পরীক্ষা করাতে বলেন। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকো পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে ইকো করিয়ে আনার কথা বললেও ডা. সুমন হোসেন জানান, ইসিজি ভালো থাকায় ইকোর আর প্রয়োজন নেই।


কনা আক্তার জানান, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে সরাসরি অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে চিকিৎসক ও নার্সদের অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি দেখতে পান স্বজনেরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করতে হবে।


পরবর্তীতে হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে দুপুর দুইটার দিকে আব্রাহামকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মেডিকেল অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার কোনো হৃদস্পন্দন ছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুটিকে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুমন হোসেন, হাসপাতালের মালিক মো. আব্বাস উদ্দিনসহ অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ফেলে পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


হাসপাতালটি কর্মীশূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অস্ত্রোপচার হওয়া এক রোগী জানান, দুপুরের ঘটনার পর থেকে কোনো ডাক্তার বা নার্স হাসপাতালে নেই, ফলে তারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন। দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঘটনার পরপরই রোগী ও স্টাফরা চলে গেছেন, বর্তমানে মাত্র দু-তিনজন রোগী অবস্থান করছেন।


সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী জানান, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওটিতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল করার সময় শরীরে কোনো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন মেলেনি, তবে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজ্ঞান করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর