মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান
নিরাপত্তার আশঙ্কা তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপি–মনোনীত প্রার্থী ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি। তিনি মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর এই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুজ্জামান বলেন, দল থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি এলাকায় গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। মানুষের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। মনে হয়েছে, ভোটারদের একটা স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত কারণে আমি নির্বাচন করব না, আমি মনোনয়ন কিনব না। এ কারণে শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব।’
বিএনপি–মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি জানি আমি কী কাজটা করতে যাচ্ছি। এ সিদ্ধান্তের কারণে আমার দলের ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের আশা–আকাঙ্ক্ষা আজ মাটি হয়ে গেল। এ সিদ্ধান্ত অনেক শক্ত করেই নেওয়া।’
মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় এযাবৎকালে যতগুলো অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলন করেছি, এই সংবাদ সম্মেলটা ভিন্ন। এখানে পিনপতন পরিবেশ। আমি জানি, এই অবস্থা কেমন; তারপরও এটার বিশদ বর্ণনা দেওয়ার মতো নয়। কীভাবে যে না করব...এই কয়েকটা দিন নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম। যাঁরাই এই আসনে মনোনয়ন পাবেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের নেতা–কর্মীদের নিয়ে দলের হয়ে কাজ করব। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈরিতা থাকবে না, আমরা সবাই একযোগে কাজ করব।’
নিজেকে একজন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সবার আগে পরিবার এবং নিরাপত্তা। আমি আগেই বলেছি, পরিবার থেকে বিদায় নিয়েই রাজনীতিতে এসেছি। সেখানে তাদের কোনো বাধা ছিল না। তারা রাজি না হয়েও রাজি হয়েছে। আমি ইচ্ছা প্রকাশ করেছি মানুষের জন্য কাজ করার। সাম্প্রতিক ঘটনা ও পরিবেশ–পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ব্যথিত ও ভীত। এর বাইরেও আরও কিছু নিরাপত্তা ইস্যু আছে, সেটা আমি বিশদভাবে বলতে চাই না। পরিবেশটাই নেগেটিভ। এটি দলের নয়, আমার নিজের সিদ্ধান্ত।’
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাসুদুজ্জামান আরও বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) আমাকে সম্মান দিয়েছিলেন, এটা আমি ধরে রাখতে পারলাম না। আশা করছি, দল বিষয়টি বিবেচনা করবে। আমার দুর্ভাগ্য আমি এটা ধরে রাখতে পারলাম না। বিএনপি বড় একটি দল, আমি পরিবারের কাছে পারছি না, পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দু–একটি ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি এখনো ভালো আছে। আশা করছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।’
শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের শহর-বন্দর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি গঠিত। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলা পড়েছে। গত ২৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামানকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর পর থেকে তিনি ভোট চেয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির রাজনীতি করা মাসুদুজ্জামান দীর্ঘদিন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। দলীয় মনোনয়নও পান। এই আসনে মাসুদুজ্জামান ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ, বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। আবু আল ইউসুফ দলীয় প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের পক্ষে কাজ শুরু করলেও অপর তিনজন নির্বাচনে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জনমুখী করতে নিয়মিত নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভবন বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।
সার সংকট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, যেসব এলাকায় বিরোধী দলের এমপি রয়েছেন, সেসব এলাকায় কৃত্রিমভাবে সার সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সকালে গাইবান্ধায় পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্কিট হাউসে প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে সার্কিট হাউসে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় জেলার বিভিন্ন বিষয় ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন।
দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ড. মো. মনির উজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ ডা. ময়নুল হাসান সাদিক, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টুটুলসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে ফিরে যান। পরে বিকেলে সার্কিট হাউস থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর বামতীরের কানিশাইল এলাকায় নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সিলেট শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তায় সমন্বিত ও মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর বামতীরের কানিশাইল এলাকায় নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি নদী ভাঙন রোধ, নগর নিরাপত্তা, এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সুরমা নদী ও চেঙ্গার খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনি নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে টেকসই পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করেন।
নদীর ভৌগোলিক চিত্র ও ম্যাপ প্রদর্শন করে তিনি উল্লেখ করেন, নদীভাঙনের মূল প্রভাব বা সুরুর সূত্রপাত হয় মূলত নদীর তলদেশ (বেড) থেকে, যা পরবর্তীতে তীরে এসে আঘাত হানে। তাই কেবল পাড় বাঁধাই নয়, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও ভাঙন রোধে চলতি প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর প্রায় ৫১ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে সুরমা নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যে মন্ত্রী সিলেটের নদীভাঙন রোধ ও নদী পুনর্খননে গৃহীত বেশ কিছু স্থায়ী প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরেন। প্রকল্প গুলো হচ্ছে, সুরমা নদী (কানিশাইল এলাকা): ৫৫০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মিরেরচক এলাকা): ৩০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মেন্দিবাগ এলাকা): ৪০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (টোকেরবাজার এলাকা): ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। সুরমা নদী (মিরেরগাঁও এলাকা): ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। কুশি নদী পুনর্খনন: ২৩ কিলোমিটার। বাসিয়া নদী পুনর্খনন: ২৩ কিলোমিটার। সুরমা নদী ড্রেজিং কাজ: ৩.২ কিলোমিটার। শারী-গোয়াইন নদী (নয়াগাঁও এলাকা): ৫০৫ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ। শারী-গোয়াইন নদী (মেরিন একাডেমি এলাকা): ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ।
সিলেটের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪,৭০০ কোটি টাকার এক বিশাল মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকবে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ ও সুরক্ষার জন্য পথ (রাস্তা) নির্মাণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বন্যা প্রতিরোধের পাশাপাশি পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে এবং স্থানীয় অধিবাসীদের চলাফেরা ও প্রাতঃভ্রমণের চমৎকার সুযোগ তৈরি করবে।
উন্নয়নমূলক কাজে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজের হক আদায়ের ব্যাপারে নিজেকেই সতর্ক ও যত্নবান হতে হবে।” কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি এলাকায় মসজিদের ইমাম, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি করে ‘স্থানীয় তদারকি কমিটি’ গঠনের পরামর্শ দেন। এই কমিটি নির্মাণকাজের মান সময় সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজের অপরাধের বড় একটি অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়া কেন্দ্রিক। অনলাইন জুয়া বন্ধে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে। মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ অপতৎপরতা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কমে আসবে। ইতোমধ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
নগরীর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন সম্পর্কে তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) অর্থায়নে নাইট-ভিশন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক লাইট সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে, যা সরাসরি এসএমপি পরিচালনা করবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সিলেটে সুসংহত নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা হবে।
নদী তীরবর্তী ও সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছ ২০ বছর পার হলে নিয়ম অনুযায়ী কাটার বিধান রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ চার লেনের কাজ করুক বা না করুক—যেখানেই গাছ কাটা হবে, সেখানেই যাতে নতুন করে পুনরায় গাছ লাগানো নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক বাজারদর ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষে নতুন শীতকালীন সবজি বাজারে আসার আগ পর্যন্ত সময়ে সরবরাহ কিছুটা কমে যায়, যার প্রভাব বাজারে পড়ে। এছাড়া তীব্র গরমের সময় হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যাওয়া ও ডিম নষ্ট হওয়ার কারণেও দামে কিছুটা তারতম্য ঘটে। তবে শীতের আগমন ও সবজির সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ সকল মৌসুমি ও কারিগরি কারণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ নামের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম কুলছুমা আকতার (২৫)।
পুলিশ ধারণা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর আড়াই বছর বয়সী শিশুও হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, কুলছুমা জেলার ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী মো. হারুণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। বিচারাধীন ওই মামলার শুনানির দিন ছিল গতকাল। ওই মামলার হাজিরা দিতে কুলছুমা ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার এসে ওই হোটেলে ওঠেন। পরে রাতে ওই হোটেল কক্ষের শৌচাগার থেকে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে কুলছুমা হোটেলে আসেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তাঁদের সঙ্গে শিশুটিও ছিল। বুধবার সকাল থেকে তাঁরা বাইরে ছিলেন। এরপর বেলা তিনটার দিকে তাঁরা ফিরে আসেন। পরে রাতে হোটেলটির শৌচাগারে কুলছুমার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্বামী পরিচয়ে যে ব্যক্তি কুলছুমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন।
জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত কুলছুমার সঙ্গে কক্ষে থাকা ব্যক্তি তাঁর স্বামী হারুন নন। হোটেল কক্ষে থাকা ব্যক্তির ঠিকানার সঙ্গে নিহত কুলছুমার পরিবারের সদস্যদের চেনাজানা নেই। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য মো. ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “দেশের মৎস্যসম্পদ বাড়াতে জলাশয়গুলোতে নিয়মিত পোনামাছ অবমুক্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত হবে। সরকারি জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরগুলোতে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমানগনি মাখন, মুজিবুর রহমান মজু, শাখাওয়াত হোসেন পাঠান, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিদুল আলম এবং মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুঞ্জুরুল হক পাঠানসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ভালুকার সাতটি জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে মোট ৫২৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ৪০ কেজি, মংলা দায়ের বিল (রাজৈ) ৮৫ কেজি, বাঁকা খাল (কুঁচ খাল) ১৬০ কেজি, মনা পাথার বিল (বিরুনিয়া) ১০০ কেজি, শিল্প পুলিশ লাইন পুকুর (ভরাডোবা) ৪০ কেজি, হাতিবেড় গুচ্ছগ্রাম পুকুর (উথুরা) ৬০ কেজি এবং মেদুয়ারী গুচ্ছগ্রাম পুকুরে ৪০ কেজি পোনামাছ ছাড়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হবে বলে জানান।
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার অর্ডারে উৎসাহিত করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মাইজদীর নাইস গেস্ট হাউজ-২-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক প্রান যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অর্ডার, বেশি রান্না এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ না করায় অপচয় বাড়ছে। কোনো কোনো হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয়। অপচয় কমাতে ভোক্তা সচেতনতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় রোধ সম্ভব নয়। শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য ও অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনজিও বন্ধন'র ইডি আমিনুজ্জামান মিলন, প্রান'র কর্মসূচি সমন্বয় প্রধান উম্মে সালমা পপি, পপিপার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান'র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকি রনি, প্রথম আলো নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।
সভা শেষে রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ফুড ওয়েস্ট’ পোস্টার ও টেবিল স্ট্যান্ড বিতরণ করা হয়। এসবের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসে কী পরিমাণ খাবার অপচয় হচ্ছে, তার হিসাব রাখা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এফবিএমএসএর নির্বাহী কমিটির সভাপতি ডা. রশিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম সারোয়ার।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ)-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের চিকিৎসক ডা. রশিদ আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের চিকিৎসক ডা. গোলাম সারোয়ার।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিডনিতে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা, বার্ষিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬-এ নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা করেন এফবিএমএসএর নির্বাচন কমিশনার ডা. মো. ওয়াজিদ।
নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হয়েছেন ডা. মোহাম্মদ শহীদ রাজু, সহসভাপতি ডা. মাহফুজ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. লুৎফর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. ফারহানা রওশন খান। শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. সাতিলা জাফরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ চৌধুরী এবং প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন ডা. আশরাফ উল ইসলাম।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. ময়েজুর রহমান, ডা. সাইদুল ইসলাম, ডা. নাজমুন নাহার, এ/প্রফেসর রেজা আলী, ডা. মিহির রায়, ডা. মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন আহমেদ, ডা. তাশফীন আহমেদ ভূঁইয়া, ডা. মোহাম্মদ ইসলাম, ডা. মাজহার হক, ডা. মোহাম্মদ আহমেদুল্লাহ, ডা. ফাতিমা মুসরাত, ডা. আহমেদ তানভীর তাহের, ডা. মোহাম্মদ মাইনুল হাসান ও ডা. জান্নাতুল তাজরিন। সদ্য সাবেক সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ডা. মোশাররফ হোসেন খান।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম সারোয়ার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের ছোট ভাই। গোলাম ফারুক খোকন বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএসটিএমপিআইএ-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এফবিএমএসএ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও টেরিটোরিতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও দুটি টেরিটোরিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পেশাগত, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও কমিউনিটিমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া চিকিৎসকদের দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও মেন্টরশিপ কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের শিক্ষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত বিকাশে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন কমিটি।