• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১:০৭ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১:০৭ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১:০৭ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে এক বিশাল আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে যুবদল নেতা আবু মোহাম্মদ মাসুম ও শামীম ভুঁইয়ার নেতৃত্বে এ আনন্দ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি উপজেলার পূর্বাচল তিনশ ফিট সড়কের জ্বলসিরি দেড়শ ফিট সড়ক এলাকা থেকে শুরু হয়ে ২নং সেক্টরের লেংটার মাজার চত্বর প্রদক্ষিণ করে স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ আজ আশার আলো দেখছে এবং বিএনপির নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

বক্তারা আরও জানান, রূপগঞ্জ রাজধানীর পাশ্ববর্তী এলাকা হওয়ায় তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর আগমন ঘটবে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় আগত নেতা-কর্মীদের ভোগান্তি এড়াতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে খাবার পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, শুকনা খাবার (বিস্কিটসহ) এবং প্রাথমিক সেবাসহ নানা সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান আয়োজকরা। তারা বলেন, আগত নেতা-কর্মীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যুবদলের নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ সময় উপজেলা যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০১ এএম

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। তবে কে বা কারা এটি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে জুতার মালা ঝোলানো হয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।


জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে ফোন করে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।


কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’


ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভালো স্থপতির মাধ্যমে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কামালুজ্জামান।


ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে কোনো আপডেটও নেই।’


জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’


বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছবি সংগ্রহের পর তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

চিকিৎসকের ভুলে আর মা হতে পারবেন না কুলসুম

টের পেলেন ৬ বছর পর


২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মরাপুকুরপাড় গ্রামের শামসুজ্জামান সবুজ ও স্ত্রী কুলসুম আক্তার দম্পতি। ২০২০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কুলসুম একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মাত্র চার মাস বয়সে পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। এরপর ওই দম্পতি সন্তানের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। চিকিৎসক দেখিয়েও সুফল মেলেনি। তবে চলতি বছর তারা সন্তান না হওয়ার কারণ হিসেবে জানতে পারেন কুলসুম আক্তারের অনুমতি ছাড়াই তার লাইগেশন করা হয়েছে।


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ জিনান রেজা অনুমতি ছাড়াই কুলসুমের দুই ফেলোপিয়ান টিউব কেটে বন্ধ দিয়েছিল (লাইগেশন)। চিকিৎসকের এই ভুলে বন্ধ্যত্বকরণের কবলে পড়ে সন্তান নিতে পারছেন না গৃহবধূ কুলসুম।


তবে হাসপাতালের ভাষ্য, গাইনি ওয়ার্ডে লাইগেশনের রেজিস্ট্রারে এই রোগীর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। রোগীসহ পরিবারের সম্মতি ছাড়া লাইগেশন সম্পন্ন হয় না। ওই রোগী কোথায় কী করেছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোথায়, কীভাবে এই লাইগেশন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে তৎকালীন চিকিৎসার মূল নথিপত্র চেয়েছেন ভুক্তভোগী স্বামী।


অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন কুলসুম আক্তার। ওই দিন দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সে সময় অস্ত্রোপচার করান চিকিৎসক জিনান রেজা। এর চার দিন পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। কিন্তু ২০২০ সালের ১০ এপ্রিল শিশুটি মারা যায়। সন্তান হারিয়ে দম্পতি পুনরায় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে স্থানীয় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে ঘুরেও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।


সন্তান ধারণ না হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে এক চিকিৎসকের পরামর্শে কুলসুম আক্তারের পরীক্ষা করানো হলে তার জরায়ুর দুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে গত ২ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুলসুম আক্তারের ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা হলে সেখানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়।


সন্তান পাওয়ার শেষ চেষ্টায় দম্পতি ছোটেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৩ আগস্ট সেখানে ভর্তি হন। গত ৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা কুলসুম আক্তারের ‘মাইক্রোসার্জিক্যাল রিক্যানালাইজেশন’ (টিউব পুনর্সংযোগ) অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের অপারেশন নোটে উল্লেখ করা হয়, কুলসুমের ডান ও বাম উভয় পাশের ফ্যালোপিয়ান টিউব ‘ইস্থমাস’ অংশে শক্ত করে লাইগেশন (বাঁধা) ও কাটা ছিল। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউব দুটির ব্লকেজ অপসারণ করে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করেন।


এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ২০২০ সালের ২ জানুয়ারির অস্ত্রোপচার কক্ষের রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রেজিস্টারের ২০ নম্বর ক্রমিকে কুলসুমের অপারেশনের বিবরণে শুধু লোয়ার ইউটেরিন সিজারিয়ান সেকশন উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নথিতে লাইগেশন করার কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই।


ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, ছয়টি বছর আমার চোখের জলে কেটেছে। এখনো আমার স্ত্রী অসুস্থ। বেঁধে রাখা টিউব জোড়া লাগানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বাধা থাকায় টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুব কম। আমি চিকিৎসকের বিচার চাই।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক জিনান রেজা বলেন, এটি ২০২০ সালের ঘটনা। একজন রোগীর সব চিকিৎসা কার্যক্রম রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে। ওই রোগীর স্থায়ী লাইগেশন হয়েছে এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ হাসপাতালের ওটির রেজিস্ট্রারে নেই। ওই রোগীর কোনো লাইগেশন করা হয়নি। আমি অনুমতি ছাড়া রোগীর লাইগেশন করিনি। রোগী ও তার স্বজনের অনুমতি ছাড়া স্থায়ী বন্ধ্যত্বকরণ করা হয় না। আমরা কুমিল্লা মেডিকেলের প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে তারা ওই রোগীর টিউব ব্লকের কথা উল্লেখ করেছে। আর টিউব ব্লক ইনফেকশন বা নানা কারণে হয়ে থাকতে পারে। আমরা সাধারণত দলগতভাবে কাজ করি। তখনও আমি দলগত কাজের অংশ ছিলাম।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ওই রোগীর স্বজন হাসপাতালে একটি অভিযোগ করেছিল। ছয় বছর আগের ঘটনা এটি। নথিপত্র ঘেঁটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের তথ্য রেজিস্ট্রারে আছে। কিন্তু ওই রোগীর লাইগেশন করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। গৃহবধূর স্বামীর সামনেই সব নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই রোগীর অন্যান্য প্রতিবেদন দেখে আমাদের ধারণা, অন্য কোথাও তার অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে।


এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোগীর অনুমতি ছাড়া সার্জনরা লাইগেশন করার কোনো সুযোগ নেই। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের ওটি নোট কিংবা কোথাও ওই রোগীর লাইগেশনের কথা উল্লেখ নেই। ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার একপর্যায়ে এক নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চরগঙ্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোশনা বেগম (৪০) ওই গ্রামের মজিবল মোসলমানের স্ত্রী।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে কালো রঙের একটি হিরো মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক রোশনা বেগমের বাড়ির সামনে যায়। তারা নিজেদের সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।


একপর্যায়ে ‘লাইভ ভেরিফিকেশনের’ জন্য ছবি তুলতে হবে বলে রোশনা বেগমকে জানানো হয়। তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরার দিকে তাকালে সুযোগ বুঝে তার কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নেয় ওই দুই যুবক। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসসহ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।


ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম সিকদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। বর্তমানে এলাকায় প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’


এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের বক্তব্য জানতে একাধিক ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

‎জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে আসা টনি সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

‎

আজ ‎মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) সন্ধ্যা ৪টায় কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ২২দিবসে পায়ে হেঁটে ৭৮৩ কিলোমিটার একক পদযাত্রা মাসফিকুল হাসান টনির সমাপনী অনুষ্ঠান ধরা কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফরিদুল আলম শাহীনের সভাপতিত্বে ও জেলা ধরার শামশুল আলম শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। 

‎



‎প্রধান অতিথি টেকনাফ উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি' সভাপতি নুরুল আলম, ‎সদর উপজেলা ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, চকরিয়া ধরা'র আহ্বায়ক একেএম বেলাল উদ্দীন, মহেশখালী ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইছার হামিদ। 

‎

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন, সহসম্পাদক মোঃ আমিন উল্লাহ আমিন, জেলার ধরা'র সদস্য প্রভাষক রিয়াজ মাহমুদ, নুরুল ইসলাম সুমন, হেলাল উদ্দীন, মোঃ রুবায়েত, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনীতিক, বিভিন্ন পেশাজীবিও  শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎

‎অপরদিকে সংবর্ধিত হন 'লাগও বৃক্ষ, কামাও লক্ষ লক্ষ' স্লোগানে- ভেজাল নাই ডটকম কর্তৃক আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন ক্যাম্পিংএ ৬৯১টি ঔষধি, ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা রোপন করে ‎ওই ক্যাম্পিং প্রথমস্থান অধিকার করে ভেজাল নাই ডটকম এর এডভাইজার তাসরিফ খাঁনের হাত থেকে হেলাল উদ্দীন নিশাদ পুরষ্কার গ্রহণ করায় সংবর্ধনা প্রদান করেন ধরা জেলা শাখা। 

‎

‎উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনার সাতক্ষীরা শ্যামপুর উপজেলা উপকূলের চার নদীর মূখ থেকে ‎তাঁর একক পদযাত্রার ২২তম দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পৌঁছান।

‎

‎জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনসহ ৩৫টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে এ পদযাত্রা আয়োজন। পরিবেশযোদ্ধা মাসফিকুল হাসান টনির এটি নবম পদযাত্রা। এর আগে তিনি ছোট-বড় আরও আটটি পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

‎

‎মাসফিকুল হাসান টনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে তাঁর এই পদযাত্রা। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে সিলেট নগরীর জালালাবাদ পার্ক। তবে এবার পুরোনো রূপে নয়। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নতুন সাজে উন্মুক্ত করা হবে নগরবাসীর জন্য। পার্কটিকে শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি থাকবে বসার ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশ। সংস্কার করা হবে পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীরও। সোমবার পার্কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পার্কটি দ্রুত জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


সিসিক প্রশাসক বলেন, “জালালাবাদ পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানো হবে।”


তিনি বলেন, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। নগরবাসী যেন এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। পার্কের সীমানাপ্রাচীর নিয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। 


প্রশাসক বলেন, বর্তমান গেট ও সীমানাপ্রাচীরের কারণে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই দেয়াল ও গেট সংস্কার করা হবে। বাইরে থেকেও যেন পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষ হাঁটতে যান। অবসর কাটান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কার শেষ হলে নগরবাসীকে এখানেও অবসর সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য আসার আহ্বান জানানো হবে। 


তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটাচলা ও মুক্ত বাতাসে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ পার্কটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত। নগরবাসীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। তাই পার্কটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, পার্কটির অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বীন ব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের পর এটি নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। 


সিসিক প্রশাসক বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্ককে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।