• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:১৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে কাউসার নামে এক ইউপি সদস্য ডিআইজি’র ভাতিজা পরিচয়ে দৈনিক মানবকন্ঠের সংবাদিক রাশেদুল ইসলামকে পুলিশ নিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।


সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দৈনিক মানবকন্ঠে পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছিল। গত ২৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এসকল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশিদের ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাউসার মিয়া ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় তিনি গালাগালাজ করতে নিষেধ করলে কাউসার ক্ষিপ্ত হয়ে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনকে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গুম করবে বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। বর্তমানে রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবারের চরম আতঙ্কে দিন পার করছে।


ভোলাব এলাকার স্থানীয়রা জানান, ইউপি সদস্য কাউসারের বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে কাউসার আওয়ামীলীগের সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর খুব কাছের লোক ছিলেন। গোলাম দস্তগীরের সক্ষ্যতা কাজে লাগিয়ে কাউসার বনে যান ইউপি সদস্য। কাউসার ও তার বাবা আব্দুর রশিদ ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক গ্রামে ছিল আতঙ্কের নাম। তারা বাবা ছেলে মিলে অবৈধভাবে কৃষকের জমিতে বালু, অবৈধ ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ থেকে একাধিক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের চারিতালুক এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। গত ৫ ই আগষ্টের পর কাউসার মিয়া দল পাল্টে বনে যায় বিএনপি নেতা। বিএনপিতে যোগ দিয়ে ইউপি সদস্য কাউসার আবারো বেপরোয়া হয়ে যেতে থাকে।


এ ঘটনায় রূপগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।


এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাউসার মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিআইজি নাজমুলের ভাতিজা পরিচয়ে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তবে আমি তাকে কোন হুমকি ধামকি বা গুম করার কথা বলিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।


এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সিজারমূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযানে এসব প্রত্নসম্পদ উদ্ধার করে।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি ও এলআই বিজিবির একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলাাধীন তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।


অভিযানকালে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর একই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাাধীন চান্দোহর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের খণ্ডাংশ, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযানে উদ্ধার করা পাথরের খণ্ডাংশগুলোর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ২২৪ কেজি ৪০০ গ্রাম।


বিজিবি জানিয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, যা ১৯৭৬ সালে সংশোধিত হয়, অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়ীত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।


উদ্ধারকৃত কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশের মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব নিদর্শনের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ অর্থমূল্যের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্রসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।

সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব নিদর্শন উদ্ধার দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ এএম

হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এ ধর্মঘটে জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।


তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।


এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।


আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনও ছাড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করুক। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে আছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। বিষয়টির সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে বসতে হবে।’


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৬৮ বছর ধরে চলা মামলার রায়ের পর বেদখল থাকা ৪৫৩ শতাংশ জমি ও একটি মন্দিরের দখল মূল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আদালতের রায় বাস্তবায়নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের প্রতিনিধিদল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেদখল জমি চিহ্নিত করে মূল মালিক কমল চক্রবর্তীর কাছে দখল বুঝিয়ে দেন।


রায় বাস্তবায়নকালে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জজ আদালতের নাজির মো. আব্দুল কাদের, জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট ও কমিশনার আব্দুস সামাদ, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালোসহ পুলিশের সদস্যরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ ও মামলা চলছিল। প্রায় ৬৮ বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমি ও মন্দিরের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।


রায় বাস্তবায়নের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শেষ হয়।


দিনাজপুরে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০২ এএম

দিনাজপুরে পৃথক অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় চক্রটির আরও এক সদস্য পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কোতয়ালী থানাধীন ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের সুন্দরবন (দাসপাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলসহ নয়ন দাস (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানার যাদুরহাট এলাকার একটি বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।


দিনাজপুর জেলা পুলিশের তথ্যমতে, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবন (দাসপাড়া) গ্রামের নয়ন দাসের বসতবাড়ীতে অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে নীল রঙের নাম্বারবিহীন ১২৫ সিসির Honda Shine SP CB 125cc মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে নয়ন দাস পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাকা শ্বশুর অনন্ত দাস ওরফে খাকাওয়ের কাছে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল থাকার তথ্য দেন।


ওই তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন যাদুরহাটের দাসপাড়া/জেলেপাড়া এলাকায় অনন্ত দাস ওরফে খাকাওয়ের বাড়ীতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনন্ত দাস পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। পরে তার বসতঘর তল্লাশী করে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি লাল রঙের নাম্বারবিহীন TVS Metro 100cc, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। অপরটি নীল রঙের নাম্বারবিহীন Bajaj Pulsar 150cc, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা।


পুলিশের দাবী, উদ্ধার করা তিনটি মোটরসাইকেল দিনাজপুর জেলা ও বিভিন্ন থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নয়ন দাসের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পলাতক অনন্ত দাস ওরফে খাকাওকে গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


অভিযানটি দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি দিনাজপুরের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট চুরি সংক্রান্ত তথ্য যাচাইসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান ত্রাণমন্ত্রীর

মাদক, অনলাইন জুয়া, দুর্নীতি, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান


আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান ত্রাণমন্ত্রীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ এএম

দিনাজপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণসহ সামাজিক নানা সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।


তিনি বলেছেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ (কাঞ্চন-১)-এ জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।


ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “সবার আগে এই জেলার আইনশৃঙ্খলা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।” এ বিষয়ে তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং দায়ীত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম থাকা উচিত নয়। দিনাজপুর শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার সার-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় সরকারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একদিনে আসেনি। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দায়ীত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে দিনাজপুরে আত্মহত্যার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগ করে এসব সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়ীত্ব প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর একটি। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট নানা সংকট মোকাবিলায় সরকারকে কাজ করতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুধু দুর্যোগ মোকাবিলা নয়, গ্রামভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়। এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।


মন্ত্রী আরও বলেন, তিনি প্রতিমাসে অন্তত একবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে চান। পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং তার জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


সভায় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. জেড. এম. রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সহ-সভাপতি মোঃ খালুকুজ্জামান বাবু, সহ-সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল, যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা, দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন মন্ডল বকুলসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সভায় উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারীও বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক সমস্যা ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন জুয়া বন্ধ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সভায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। 


মো. শাহীন

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর কবিরহাটে পাওনা পারিশ্রমিকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহীন (৪৪) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদের বিরুদ্ধে। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। 


মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শাহীন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অমরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।


ভুক্তভোগী শাহীন অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে একটি জায়গা ক্রয় করেন। পরে দলীয় লোকজন নিয়ে ওই জায়গা মাপ দিয়ে দখলে নেয়। ওই সময় তিনি সেখানে কাজ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান। ফিরে এসে কাজের পারিশ্রমিক চাইলে মাসুদ একাধিকবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তিনি মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন।  


শাহীন অভিযোগ করে আরও বলেন, একাধিকবার ফোন দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে মাসুদ তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে  বেধড়ক পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। আমরা গরিব মানুষ। তার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেব, তাও বুঝতে পারছি না।


তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মাসুদ। তিনি বলেন, শাহীন তাকে আঁচড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে বাজারে থাকা লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। জায়গা মাপার সময় শাহীন আমিনের সঙ্গে গিয়ে ফিতা ধরেছিলেন। আমিন তাকে মজুরি দিয়েছেন। পরে তিনিও শাহীনকে কিছু টাকা দেন। তবে শাহীন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন।


চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন শাহীন। তিনি বলেন, হয়তো তিনি (মাসুদ) ভুলে গেছেন। তুমি টাকা চাইলে দিয়ে দেবেন। পরে তিনি শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন।


এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তবে তারা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।