আসামি গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:১০ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাশেদুল ইসলাম ও নাজমুল হাসান নামে দুই সাংবাদিককে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 


রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ হিন্দুপাড়া  এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে রুপগঞ্জ থানায় একটি মামলা  দায়ের করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ আফজাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আফজাল হোসেন উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। 


রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী আফজাল হোসেন, জাকির হোসেন, জয়নাল, সুখেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে সাধারণ মানুষের জমি জবর দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে। ৫ ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রাশেদুল ইসলাম সহ তার সহকর্মীরা ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করে। 


রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রাশেদুল ইসলাম তার সহকর্মী এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল হাসানকে নিয়ে দক্ষিণবাগ এলাকায় তার জমি দেখতে যান। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন, জাকির হোসেন, জয়নাল, সুখেনসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাশেদুল ইসলাম ও নাজমুল হাসানের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন রাশিদুল হাসান ও নাজমুল হাসানকে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে আহত করে। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। পরে সাংবাদিকরা রাশেদুল ইসলাম ও নাজমুল হাসানকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করান। এই ঘটনায় সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানা একটি মামলা দায়ের করেন। 


এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে সাথে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।




  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

পঞ্চগড় পৌর শহরের রাজনগর এলাকায় রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজনগর এলাকার তুলারডাঙ্গা রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


নিহত রেজাউল করিম রেজা ঠাকুরগাঁও জেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় বাড়ি করে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। পাশাপাশি পঞ্চগড় সদর থানার সামনে কম্পিউটারে কম্পোজের ব্যবসা করতেন।




পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল ও ক্রাইম সিনের কার্যক্রম শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে রেজাউল করিম রেজা রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। সকালে স্থানীয়রা খালের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।


পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ফের ১৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।


পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান চালিয়ে ১৬৩ জনকে আটক করা হয়।


থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে সুধারাম মডেল থানায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকি ২৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনজন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৭ জন, সেনবাগ থানায় ৯ জন, চরজব্বর থানায় ৭ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ৫ জন এবং কবিরহাট থানায় ৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া হাতিয়া থানায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার, পাঁচজনকে ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে ।


  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

সিলেট বিভাগের তিন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রত্যাহার করেছে সরকার। তারা হলেন সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি এবং মৌলভীবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমিন। তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।


গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।


দেশের বিভিন্ন উপজেলার মোট ৬৮ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার এসিল্যান্ড রয়েছেন।


প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার করা কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রত্যাহারের পর তাদের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পরিচিতি নম্বর, বর্তমান কর্মস্থল এবং যে বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়েছে।


এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার খারুয়ালী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন খারুয়ালী গ্রামের আজিদ আকন্দের ছেলে সাহাবউদ্দিন আকন্দ (৬৫) ও একই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে ধনু আকন্দ (৬০)। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকালে ধনু আকন্দ কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। এ সময় মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি ছেঁড়া তারে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য চাচাতো ভাই সাহাবউদ্দিন আকন্দ এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।


পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।


স্থানীয় শিক্ষক মো. জান্নাতুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সকাল ৯টার দিকে তিনি একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দ্রুত তারটি সরানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


দুই প্রবীণ চাচাতো ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে খারুয়ালী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন বন বিভাগের কর্মীরা

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৮ পিএম

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাইয়ের পাহাড় ও বনাঞ্চলে ঘুরতে এসে পর্যটকদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এবং পথ হারিয়ে বিপদে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতা পাহাড়ে ভ্রমণে এসে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সাদিজ শাহরিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীতার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সন্ধ্যায় পথ হারিয়ে ফেলেন চার পর্যটক। পাহাড় থেকে নামার সময় তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।


বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ও বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পর্যটক পথ হারিয়ে বিপদে পড়ছেন। অনেকেই বন বিভাগের নিয়ম-কানুন না মেনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


এ বিষয়ে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের রামপাহাড় বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিঠু তালুকদার জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকরা পথ হারিয়ে ফেলছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। 


তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিরাপত্তা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বন বিভাগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৩ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।  


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প অনুমোদন নোয়াখালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ।  


প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরে রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।