ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আওলাদে রাসূল দ. আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।
কেয়ামতের আগে দা'জ্জাল জান্নাতের টিকেট বিক্রি করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আওলাদে রাসূল দ. আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী। গত ১০ জানুয়ারী শনিবার পঞ্চদশ শতাব্দীর মোজাদ্দেদ অলীয়ে কামেল আওলাদে রাসূল দ. আল্লামা সৈয়দ আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) প্রতিষ্ঠিত ৬২তম পবিত্র ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে তিনি একথা বলেন।
হাদীস শরীফের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, দাজ্জাল এক হাতে জান্নাত ও এক হাতে জাহান্নাম দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। যেটা দেখতে জান্নাতের মতো মূলত সেটি হবে জাহান্নামের অগ্নিকুন্ড।
তিনি সমসাময়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দূর্ণীতি ও অন্যায়ভাবে প্রতারণা ও জুলুম ছেয়ে গেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, কেউ রাজনীতিকে ধর্মের হাতিয়ার, আবার কেউ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামের মূল শক্তি সুফিজমকে আড়াল করছে। প্রকৃতপক্ষে সুন্নীয়্যত ভিত্তিক কোরআন-সুন্নাহর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা কেউ ভাবছে না।
জানা গেছে, কাইউমে জামান, মুজাদ্দীদে জামান, ছানীয়ে ওয়ায়েছ কুরুণী, ইমামে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত, কুতুবে জামান, হাদ্বীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত, হযরত আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমনের পর চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ধেররা নামক এলাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেন ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সুমহান আদর্শ ও মহান সুন্নাত বায়আতে রাসূল (দ.) গ্রহণ ও প্রদানের মাধ্যমে ইসলামের মূল ভাবধারা বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের প্রচার ও প্রসারের অংশ হিসেবে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে ওরছে নববী (দ.) উদযাপন শুরু করেন তিনি।
গত শনিবার বিকেল ৩টা থেকে অনুষ্ঠিত ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সভাপতিত্ব ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের গদ্দীনশীণ পীর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরার অন্যতম সদস্য আওলাদে ওলি ও আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী। ৬২তম পবিত্র ওরছে নববীতে প্রতি বছরের ন্যয় এবারও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও প্রবাস থেকে লাখো মুসল্লী অংশ গ্রহণ করেন।
ওরছ সঞ্চালনায় ছিলেন মাদরাসায়ে আবেদীয়া মোজাদ্দেদীয়ার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ আলী নক্সবন্দী, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের খলিফা মুফতী আবুল হাশেম শাহ্ মিয়াজী আল আবেদী ও দরবারের খাদেম মাওলানা মো. আল-আমিন দেওয়ান আল-আবেদী।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল ক্বাদরী, আল্লামা মোশারফ হোসেন হেলালী, মুফতী আলাউদ্দিন জিহাদী, মুফতী শহীদুল্লাহ বাহাদুর ও মাওলানা মো. মনির হোসাইন মোজাদ্দেদী সহ দেশবরেণ্য অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখগণ কোরআন-সুন্নাহ্ ভিত্তিক আলোচনা করেন।
এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের বড় সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলমগীর শাহ্ মোজাদ্দেদী, ছোট সাহেবজাদা সৈয়দ মাহমুদ শাহ্ মোজাদ্দেদী সহ অন্যান্য সাহেবজাদাগণ ও বাংলাদেশ হিযবুর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কমিটির নেতৃবৃন্দ, আগত ভক্তবৃন্দ ও মুরিদান-মুহীব্বানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কোরআন, খতমে খাজেগান, খতমে গাউছিয়া, বিকেল থেকে নসীহতমূলক আলোচনা, হযরত আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) ও তাঁর সহধর্মীনি হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.) এর রওজা শরীফে গিলাফ ছড়ানো এবং রাতব্যাপী নসীহতমূলক আলোচনা শেষে ফজরের নামাজের পর বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতের পূর্বে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের অন্যতম দ্বীনী মারকাজ হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.) হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ১২ জন ছাত্রকে পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ায় পাগড়ী, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
নবীগঞ্জের দিনারপুরে নিজের মাল্টা বাগানে আবুল খয়ের
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে হবিগঞ্জঞ্জের নবীগঞ্জে পাহাড়ের টিলায় কমলা ও মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ। সেখানকার দিনারপুর পাহাড়ের প্রায় প্রতিটি টিলায় এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি কমলা ও মাল্টার বাগান। সমতল ভূমি না হলেও দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় মাল্টা ও কমলা চাষ করে নতুন এক কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন তিন উদ্যোক্তা। তারা হলেন–গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কামাল উদ্দিন জুবেদ, কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের আবুল খয়ের কায়েদ এবং প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন। তাদের এই সাফল্য দেখে এখন এলাকার বহু যুবক ও উদ্যোক্তা পাহাড়ি টিলায় মাল্টা ও কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হওয়া যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ জানান, নিজ বাড়ির একটি টিলায় প্রায় ৩০০টি মাল্টা ও ৫০টি কমলা গাছ দিয়ে তিনি প্রথম চাষাবাদ শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এ বছর তিনি তিন থেকে চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছেন। জুবেদ বলেন, কমলার ফল আসতে একটু দেরি হলেও মাল্টা এক বছরেই ফলন দেয়। সে কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আরও দুটি নতুন বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।
সবুজের ছায়াঘেরা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ। উঁচুনিচু টিলা আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মধ্যে সকাল হলেই শোনা যায় বিভিন্ন ধরনের পাখির কিচিরমিচির। এমনই অপরূপ সাজে সজ্জিত পাহাড়ি জনপদ নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনা এখন নতুন সম্ভাবনার সাক্ষী।
একই এলাকার কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল খয়ের কায়েদ ২০১৪ সালে শখের বশে বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে শুরু করা এই বাগানে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন, যার মধ্যে তাঁর লাভ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। বাগান পরিচর্যাকারী হারুনুর রশিদ জানান, মালিক কায়েদ মিয়ার সাফল্য দেখে তারা আরও নতুন বাগান করার জন্য জায়গা খুঁজছেন। অন্যদিকে, প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন তাঁর বাড়ির আঙিনায় ৩০০টি গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, জুবেদ ও কায়েদ মিয়ার বাগানগুলোর সুনাম এখন হবিগঞ্জ ও সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে ও ফল কিনতে আসছেন। বাজারে যে মাল্টা পাওয়া যায় তা অনেক সময় টক হলেও এখানকার গাছের মাল্টা অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন এসে বাগান থেকে তাজা ফল সংগ্রহ করছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জুল হোসেন বকুল এবং স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, তাদের সফলতা দেখে দিনারপুর এলাকায় এখন অনেকে বেকারত্ব দূর করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি এসব বাগানে কাজ করে অনেক শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।
নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ধনঞ্জয় দেবনাথ জানান, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে জুবেদ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পুরো ঋণ পরিশোধ করেছেন। তাদের এমন সাফল্য ব্যাংকের জন্য আনন্দের।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফিন হাসান জানান, দিনারপুরের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা, লেবু ও কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জুবেদ মিয়ার কমলার পরীক্ষামূলক চাষও সফল হয়েছে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।
নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।
টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে ।
আজ সোমবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে অভিযান পরিচালিত হয় এবং সুজনের বাড়ি থেকে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ও ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ পরিদর্শক মো: রাশিদুল ইসলাম, সহকারি উপ পরিদর্শক মো: জিয়াউল হক, মো: আলমগীর হোসেন, সিপাই প্রবাল চন্দ্র সরকার, মো: ফরহাদ হোসেন, অক্ষয় কুমার, জাহাঙ্গীর মাতাব্বর, সুমাইয়া আক্তার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কান্দাপাড়া যৌন পল্লীর পাশে মুত অন্তু রবিদাসের ছেলে সুজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালিনা করা হয়, সুজন পলাতা রয়েছে, তার বাড়িতে তল্লাশি করে ৩৮০ পিচ ইয়াবা ২০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপুর ও গোড়াই এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রির অভিযোগে সোহাগপুর বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে গোড়াই এলাকার মোল্লা ওরাল এন্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ৫ হাজার টাকা এবং গোড়াই ওয়াল সেতুর নিচে অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রির অভিযোগে তিন ফল বিক্রেতাকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার উদ্যোগে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৫ আগস্ট (সোমবার) সকালে শ্রী শ্রী কালিবাড়ী'র নাট মন্দির প্রাঙ্গনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর প্রধান উপদেষ্টা ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি শ্যামল হোড় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি, টাঙ্গাইলের জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক পিনাকী দে, সদস্য সচিব শংকর সরকার, শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর উপদেষ্টা মনিন্দ্র মোহন ঘোষ, সহসভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টির সহকারী পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকার, শ্রী শ্রী ছোট কালিবাড়ীর সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভার শুরুতেই পবিত্র গীতা পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নরেশ সরকার। সভাটি সঞ্চালনা করেছেন শ্রী শ্রী কালিবাড়ীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সরকার।
টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর টাঙ্গাইল জেলায় ১৩৫৭ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২৩৩ টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৭০ টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২৮ টি, সখীপুর উপজেলায় ৪৪ টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮২ টি, নাগরপুর উপজেলায় ১৩৮ টি, বাসাইল উপজেলায় ৮১ টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৪ টি, গোপালপুর উপজেলায় ৫৭ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ৩৬ টি, মধুপুর উপজেলায় ৬০ টি ও ঘাটাইল উপজেলায় ৯৪ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
‘Standing with Teachers’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনাজপুর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, দিনাজপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম জেলা পরিষদ, দিনাজপুরের প্রশাসক জনাব এ্যাড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল; শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট, দিনাজপুরের সভাপতি জনাব অধ্যাপক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম; দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), দিনাজপুর জনাব এস এম হাবিবুল হাসান; জেলা শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব খন্দকার মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দিনাজপুর জনাব মোঃ সাইফুজ জামান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়ীত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তাঁরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, দায়ীত্ব ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Standing with Teachers’-শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হলে শিক্ষার গুণগত মান আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে দিনাজপুরের এই আলোচনা সভায়।