বিয়ের মেহেদি হাতেই শেষ বিদায় মিতুর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ এএম

হাতে মেহেদির টকটকে লাল রঙ আর খয়েরি বেনারসি শাড়িতে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতুর। নববধূ সাজে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিলেন মিতু। কিন্তু সেই শ্বশুর ঘরে আর পৌঁছানো হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনায় সমস্ত স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় তার।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাগেরহাটের রামপালে নৌ-বাহিনীর বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে ১৪ জন নিহত হয়েছেন তার মধ্যে মিতু, তার বোন, দাদি ও নানি রয়েছে।


মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, “জানাজা শেষে আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার ও নানি আনোয়ারা বেগমকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়।”


আর মিতুর দাদি রাশিদা বেগমকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


এর আগে মিতু ও তার সঙ্গে নিহত বাকিদের মরদেহ দেখতে তাদের নাকসা গ্রামের বাড়িতে শত শত মানুষ জড়ো হয়। একই পরিবারের চারজনের মরদেহ একসঙ্গে দেখে স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।


মিতুর মা মুন্নি খাতুন দুই মেয়ে আর শাশুড়ির লাশ বাড়িতে আনার সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পরপর ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি।


মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেহলা বুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়।


গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নববধূ মিতু নিয়ে মোংলায় বাড়ি ফিরছিলেন বরের পরিবারের সদস্যরা। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌ-বাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মোংলার এই বর ও কনের আর বাড়ি ফেরা হল না।


বরের পক্ষের নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম।


আজ শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছায়। আর কনে, তার বোন, দাদি ও নানির লাশ নেওয়া হয় খুলনার কয়রা উপজেলায়।


তারা হলেন- কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম।


নিহতদের মধ্যে আরেকজন হলেন মাইক্রোবাস চালক নাইম। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।


এছাড়া আহত অবস্থায় একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


বর সাব্বির মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান চালাতেন। আর কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হস্তান্তর করা হয়।


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহগুলো হস্তান্তরের সময় মর্গের অদূরে একটি খোলা জায়গায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন কনে মিতুর বাবা আবদুস সালাম।


এক দিনেই তিনি তার দুই মেয়ে, মা ও শাশুড়িকে হারিয়েছেন। স্বজনরা তাকে ঘিরে ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’। 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।


ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।


এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়। 


হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।


এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।


হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র‌্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।


মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৭ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন, ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম, ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাইন উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


এসময় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও অংশীজনের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

রংপুর সদর পাগলাপীরের মাদক ও মবসাম্রাজ্ঞী শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’সহ তাঁর সহযোগীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড যেন কোনোভাবেই থামছে না। জমি জবরদখল, মাদকের রমরমা ব্যবসা, হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।


সর্বশেষ রবিবার অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় তাঁরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ভয়ংকর সব অপরাধ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


রবিবার দুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহিনুর বেগমসহ তাঁর ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহিনুর বেগমেরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ আরও কয়েকজন।


পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের অতর্কিত হামলায় আহত হন তাঁরা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


এলাকাবাসী জানায়, দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনের মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা জমিসহ অন্যান্য জমি জবরদখল করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে শাহিনুর বেগমসহ আরও অনেকের বিরোধ চলে আসছে।


এর জেরে ওই প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফিরে জমি উদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর জমির মামলার নোটিশ হাতে পেয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধারে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা।


এই ঘটনায় ওই প্রবাসী চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করলে ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমও মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। আর সেই মামলায় সাক্ষী করা হয় তাঁরই সৎ বোন সাবনাজ বেগমকে।


ভুক্তভোগী শাবনাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানায়, নারী নির্যাতনের মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ, ভয়ভীতি, হয়রানি ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা।


তাঁদের অভিযোগ, সত্যের বাইরে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় একের পর এক ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা, এলাকার মানুষের ওপর হামলা, গালিগালাজ, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাড়াটিতে মসজিদ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে উত্তেজনা সৃষ্টি, লোকজন জড়ো করে হামলা, মিথ্যা মামলা এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে উসকে দিচ্ছে।


জানা যায়, হরিদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পশ্চিম পাড়ায় নতুন করে গড়ে ওঠা পাড়ায় স্থানীয়দের ধর্মীয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ অর্থে ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি কেনেন ওই প্রবাসী। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধ ও জবরদখলের কারণে মসজিদের নির্মাণকাজ থমকে আছে।


সম্প্রতি শাহিনুর বেগমের বোনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯।


এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা নতুন করে আবারও ওই প্রবাসীকে জড়িয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়ানো ও হত্যার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


উক্ত ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং প্রবাসী নওশের আলম সুমন প্রবাস থেকে নিজ ও পরিবারসহ সম্পত্তি রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।


এদিকে, ওই প্রবাসী গতবছর ছুটিতে দেশে আসলে পূর্বের জমির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেই চাপ না মানায় মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে, কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের রংপুর সদর কমিটির সহসভাপতি ও খলেয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন (তোফা খানের) ছেলে রায়হান খাঁন ও তাঁর সহযোগী সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পাগলাপীর আলোয়াকুড়ি নামক জায়গায় ২০২৫ সালের ২২ জুন নওশের আলম সুমনের ওপর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলা চালায়।


এ সময় মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।


এর পাঁচদিন পর, ২৭ জুন রাতে আবারও ওই প্রবাসীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে পাঠানপাড়া থেকে লোকজন জড়ো করে প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বাড়িতে হামলার পরিস্থিতি তৈরি এবং পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।


পরে ঘটনাস্থলে যৌথবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সিরাজুল ইসলামের মামাতো দুই ভাই সেনাবাহিনীর কাছে আগুন লাগানোর ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


এদিকে, আদালতের রায় ওই প্রবাসীর পক্ষে গেলেও আদালতের রায় অমান্য করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান খাঁন, সিরাজুল ইসলাম দলবল নিয়ে মসজিদের জমির অপর পাশে জবরদখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।


এমন বাস্তবতায় পাগলাপীরের মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ার এই বিরোধ এখন আর শুধু ব্যক্তি বা জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রবাসীকে চাঁদা দাবিতে টার্গেট করা, হামলা, ভয়ভীতি, মামলা, জমি দখল এবং মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে মব তৈরির অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।


স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।




এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।


নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০২ পিএম

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে মো. কামরুল জামান (৩৭) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।


নিহত কামরুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবু নাসের চৌধুরী।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামরুল সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত আরও দুই কর্মী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পরে ওই হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।


ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী আরও বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর