তহশিলদার নিলুফা
খুলনা আন্তঃজেলার মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে থাকা ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বরত তহশিলদার নিলুফা ইয়াসমিন কে অবশেষে তার দূর্নীতি ধরা পড়ার কারণেই খুলনা জেলা প্রশাসক কর্তৃক তাকে দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের ২০২৬ ইং তারিখে ১৫৯০ নং স্মারকের আদেশে এ বদলী করা হয়।
জানা যায়, গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৫৫৪৩ দাগের খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২ একর ৪৩ শতক জমি শেখ তুহিনুল ইসলাম নামে লিজ প্রদান করা হয় তাছাড়া ৫৫৪৩ দাগের ১ একর আড়াই শতক জমি নজরুল ইসলামের নামে দাম পত্তন করে মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিবেদনও দেন নিলুফা ইয়াসমিন যেখানে ইতিপূর্বে অন্যান্য তহশিলদাররা সরকারের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও নিলুফা ইয়াসমিন সরকারের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন। এতে সরকারি জমি জমি যেমন একদিকে দখল হারায় অন্যদিকে রাজস্ব থেকেও হয় বঞ্চিত। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের সাথে একাত্তমতাপোণ করে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, জেলা শাসক সহ একাধিক দপ্তরে তার বিরুদ্ধে বার বার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও থামানো সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নিলুফা ইয়াসমিন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা থাকাকালীন ফুলতলার দামোদর, থুকড়া, দৌলতপুর, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং প্রতিটি অফিসেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো আকাশ ছোঁয়া। এসব দূর্নীতির অর্থ দিয়ে নগরীর মুজগুন্নী মৌজার আর এস ৪৪৩ নং ১৫২৯ নং দাগের ৫ শতক জমি স্বামী মো. সেলিম করীম, পিতা-বাচ্চু মিয়ার নামে ক্রয় করে ভাড়াটিয়া থেকে বাড়িওয়ালা হন।
গত ২০১৫ সালে দামোদর তহসিল অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নিলুফা ইয়াসমিন এফ-২৫৩১৯৪-২৫৩২০০, ২৫৩৯৪-২৫৩৩০নং ৪টি দাখিলা বহি থেকে শেষের ৭ পাতা করে মোট ২৮টি দাখিলা চুরি করে গোপনীয়ভাবে বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খাজনা কর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। উক্ত ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ১২৬৪ ও ১৮৮৭ নং খতিয়ানে ০.০৭০০ একর জমিতে মুজগুন্নী মৌজায় খুলনা যশোর মহাসড়ক সংলগ্নে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল করিম টাওয়ার এবং তার সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের এবং জেলা প্রশাসকের প্রায় ২০ শতক জমির উপরে ভারী মেশিনারিজের দোকান করে দেখল নেনও তিনি।
দৌলতপুর ভূমি অফিসে থাকা কালীন বয়রা মৌজার নিষেধাজ্ঞাকৃত খতিয়ানের খাজনা কেটে দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে নিলুফার নামে বিভাগীয় মামলা হয়। যার মামলা নং-১/২০১৯। উক্ত মামলায় গুরু দন্ড থেকে লঘু দন্ডে বেতন গ্রেটের নিম্ন ধাপে অবনমিতকরণ করা হয় ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত ২৪/০১/২০১৯ চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, এই ঘুষখোর নায়েবের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৪ উপ-সহকারী থেকে সহকারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতী নেন। নায়েব নিলুফার স্বামী সেলিম করীম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ও ভাই শাহাবুদ্দিন'র একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই সুবাদে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শাহাবুদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীতে আসতেন। এখন বিএনপি'র স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্যদের গা ঘেষে চলছেন।
বর্তমানে নিলুফা বিভিন্ন মান্যবর ব্যক্তির নিকটে বিএনপির ছাত্র বিষায়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল কে নিজের ফুফাতো ভাই, খুলনা ০৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী এবং খুলনায় কর্মরত দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিনিধি সাবেক আওয়ামী স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হকের এপিএস আবু হেনা মুক্তির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে চলছেন বলে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি ফুলতলা উপজেলার দামোদর মৌজার স্কাউট ভবনের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড দেন। দামোদর মৌজার সরকারের ক তফশিলভুক্ত অধিকাংশ সম্পত্তির দাখিলা প্রদান করেছে। যা অডিট আপত্তিতে নায়েব নিলুফা ইয়াসমিনকে দায়ী করা হয়। সরকারী জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ০৪০.১৩-১৮১নং স্বারকে গত ২৩ নভেম্বর ২০১৫ খ্রিঃ, জেলা প্রশাসক বরাবর অডিট আপত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উক্ত প্রতিবেদনের জবাব না দেয়ায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ঢাকা হতে ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৯ পূর্ণরায় অডিট আপত্তি নোটিশ আসে। তাতে উল্লেখ থাকে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক বিধি বহির্ভূতভাবে ৩৪ লক্ষ ৪১ হাজার তিনশত বাহাত্তর টাকা মূল্যের ঝধ ও ঞ অপঃ এর ৯২ ধারামতে খাস খতিয়ানভুক্ত ০.১৪ একর সরকারি সম্পত্তি এবং বাংলাদেশ গেজেটের ক তফশিলভুক্ত ০.১৫ একর সম্পত্তির দাখিলা ২০১৪-১৫ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রদান করে। যার পূর্ণরায় তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
দুর্নীতিগ্রস্থ নিলুফা ইয়াসমিন গত ৯ জানুয়ারী ২০০৩ চাকুরিতে যোগদান করে এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনমহল তার চাকরি জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেখানেই গিয়েছে সেখানেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি দায়ে দন্ডিত হয়েছে। তারপরও এতো বড় অদক্ষ, অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্থ ভূমি কর্মকর্তাকে কিভাবে বিনা বিচারে সরকারি চাকরীতে পদোন্নতি পান সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে সচেতন মহল দাবি করেন।
এদেশে যতদিন পর্যন্ত এ ধরনের নীতি নির্ধারকরা চেয়ারে থাকবেন ততদিন শুধু একস্থান থেকে অন্য স্টেশনে বদলী করলে দূর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে না বরং স্বল্প শাস্তির জন্য অপরাধে আরো জড়িত হবে। এমতাবস্থায় যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ সকলের দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয় তবেই ভূমি সেক্টরের অনিয়ম ও দূর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের এক গর্ভবতী নারীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
উপজেলার ভাগ্যকূল ইউনিয়নের উত্তর কামারগাঁও এলাকায় গতকাল শনিবার সকাল ১২ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে, আহতরা হলেন মমতাজ বেগম ও তার ৪ মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তার।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর কামারগাঁও এলাকার শওকত মৃধা বাড়ির পাশে জনৈক আনেচের মুদি দোকানে গেলে জালাল শেখ নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দেন। পরবর্তীতে শওকত মৃধার মা মমতাজ বেগম বিষয়টি জানেন এবং প্রতিবাদ করতে গেলে জালাল শেখ ও তার মেয়ে জথি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মমতাজ বেগম ও তার চার মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানায় পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দিনাজপুরে ৫৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রুনা আক্তার সুমি (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে জেলার কোতোয়ালী থানাধীন ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর নতুনপাড়া গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ওই নারীর দেহ তল্লাশী করে সাত পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে বসতঘরের তোষকের নিচ থেকে আরও ৫০ পিস ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো ১০০ মিলিগ্রাম মাত্রার। এ ছাড়া মাদক বিক্রির অর্থ বলে উল্লেখ করা নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারী ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে বলে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
কেক কেটে উৎসব নয়, জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার আর অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা-এভাবেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
আজ বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ। ৪ হাজার অসহায় মানুষ পেয়েছেন চক্ষুসেবা। শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য শেয়ার করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ ও পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সাইকেলের কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ভোগান্তি কমবে। আর তা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথমদিনে মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেয়া হয়।
সাইকেল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলেও পালন করেছেন তিনি। তখন দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
সাইকেল বিতরণ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, নারীশিক্ষার উন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
চক্ষু চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে। যারা তাদের ধোঁকায় পড়েছে তারা আজ আফসোস করে। এরা ভোটের জন্য মাথায় টুপি দিয়ে ঢাকের তালে নেচেছে, এবার ভোট শেষ-তাদের আর পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। মুসলিমদের বেহেশতের লোভও আর দেখায় না। ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম মুয়াজ্জিন, খাদেমদের কথা তারা ভাবে না, বলেও না। অথচ তাদের কথা ভেবেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আপনাদের সন্তান তারেক রহমান ফ্যামিলী কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার আসনে যাদের চোখের সমস্যা আছে তা দূর করতে চাই। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দেয়া হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আকতার, রুপসী বিডি গ্রুপের এমডি মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তার স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম, প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাত প্রমুখ। পরে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্যদেরকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকাল ৪টা পর্যন্ত উক্ত নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আজ রোববার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩ ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্যকোন ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘন্টা পূর্ব হতে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘন্টা পর অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
উল্লেখ্য যে আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলনের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরে গোসল করতে নেমে আপন দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন কৃষ্ণ কাহারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই বোন হলো স্বর্ণা রানী কাহার (৭) ও রুপা রানী কাহার (৫)। তারা ওই বাড়ির কৃষ্ণ কাহারের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার দুপুরে কৃষ্ণ কাহারের স্ত্রী পিংকী রানী বাথরুমে ছিলেন। এ সময় তার দুই মেয়ে বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যায়। পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পুকুরঘাটে মেয়েদের দেখতে না পেয়ে পাশের দাদার বাড়িতে খুঁজতে যান তিনি। সেখানে তাদের না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। একপর্যায়ে পুকুরের দিকে তাকিয়ে পানির ওপর বুদ্বুদ উঠতে দেখেন পিংকী রানী। সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিক পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেগ-দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা ও সোনা-রুপা পাওয়া গেছে
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে এবার নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রৌপ্য ও ১৮ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চমবারের মতো সিলগালা অবস্থায় থাকা ডেগ ও দানবাক্স খুলা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা শুরু হয়। কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আগের গণনার এক মাস আট দিন পর পঞ্চমবারের মতো এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ ও ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল ও পয়সা, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ১৭ কাতারি রিয়াল ও পয়সা।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ কুয়েতি ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল ও ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি। গণনার সময় দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া যায়।
এদিকে, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হবে দানের টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখনো প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যার জন্য সিভিও জমা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ন হবে। তারপর মাজারের টাকা প্রতিনিদিন গণনা করা হবে। আজকে ১ মাস ৮ দিন পর আমরা পঞ্চমবারের মতো এই মাজারের দানের টাকার গণনা করছি।’
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া পাওয়া গিয়েছিল ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ ও ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।