ফজলে হুদা বাবুল (ডানে) ও আব্দুস সাত্তার নান্নু (বামে) একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে এবার চরম প্রতিকুল পরিস্থিতি রাজনৈতিক কুটকৌশল আর সাহসীকতার সাথে মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত ভূমিধ্বস বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে দারুণ চমক দেখালেন বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল।
অপর সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিকে ডিঙ্গিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৪৭ হাজার ৪৬৮ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান। জামায়াত ছাড়া অপর ছয় জন প্রার্থীর কেউই জামানত বাজেয়াপ্ত না হবার মত ভোট পাননি।
তার এই বিজয়ে শুরু থেকেই নেপথ্যে মনস্তাত্ত্বিক কারিশমা দেখিয়ে মাঠে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেছে নির্বাচনের সময় গঠন করা কৌশলী সংগঠন মহাদেবপুর ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী। তাই নতুন এমপির সাথে এখন মহাদেবপুরে আলোচনায় রয়েছেন ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠনের কর্ণধার মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীতা ঘোষণা করে গতবছর ৩ নভেম্বর। নওগাঁ-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলকে। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে প্রচার প্রচারণায় সহযোগীতা কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ২০১৮ এর নির্বাচনে এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পীকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নুর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাই তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
মহাদেবপুরে জনিকে না পেয়ে তার প্রতিনিধি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর সাথেও দেখা করে নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগীতা চান ফজলে হুদা বাবুল। এসময় ফজলে হুদা বাবুল আর আব্দুস সাত্তার নান্নুর একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ঢাকা থেকে ফিরে ৮ নভেম্বর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধন থেকে বয়কট বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট শ্লোগান দেয়া হয়। জনি তার বক্তব্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর নেতৃত্বে, বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আক্কাস, সেকেন্দার আলী, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র ও তাদের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের দিন জনির পক্ষ ত্যাগ করে ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে যোগ দেন।
এতে জনি মূলত, নেতাশূন্য হয়ে পড়েন। কিন্তু জনির কর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তারা প্রায় প্রতিদিনই মহাদেবপুর সদর, মোল্লাকুড়ি মোড়, নওহাটা মোড়, মাতাজীহাট প্রভৃতি স্থানে কাফনের কাপড় পড়ে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে চুড়ান্ত মনোনয়নপত্রে দলের প্রধানের স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ধানের শীষের প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এই সময়ের মধ্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে রবিউল আলম বুলেটকে মনোনয়ন দেয়া হয় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৮ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করে। এরকম পরিস্থিতিতে ধানের শীষের প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মহাদেবপুর উপজেলা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করা হয়। পরে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত এর কমিটি বিস্তৃত করা হয়।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে রবিউল আলম বুলেট মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।
২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দিন থেকেই মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। তারা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠীকে নিস্ক্রিয় করার দাবি জানালেও প্রার্থী তা করেননি। কারণ অনেকেরই সন্দেহ ছিল প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারণা চালালেও গোপনে অন্য কারও পক্ষে কাজ করতে পারেন।
এরকম একটি অবিশ্বাস দানা বেঁধে ওঠে। কিন্তু এসবকে তোয়াক্কা না করে ফজলে হুদা বাবুল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকলকে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। অল্পদিনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক্ষেত্রে ফজলে হুদা বাবুলের বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হলো তিনি বিবাদমান সব গ্রুপকে কৌশলে ধানের শীষের প্রচারণায় আনতে সক্ষম হন। উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী শেষদিকে ধানের শীষের প্রচারে অংশ নেন।
বিজয় পরবর্তী সমাবেশে রবিউল আলম বুলেট বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সব ভেদাভেদ ভুলে মনপ্রাণ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন জন্যই আমাদের এই বিজয়।
আর আব্দুস সাত্তার নান্নু বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে যা কিছু উচিৎ তিনি করেছেন।
খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।
ড্রেনের পাশে নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশগঞ্জ এলাকায় সমীরের বাড়ির গলির পেছনে ড্রেনের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মহেশগঞ্জ বাজার এলাকায় পথচারীরা নবজাতক কন্যাশিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতকের পরিচয় ও তার মা-বাবার সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬
"দূর্বার তারুন্য, দূর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল দশটায় সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দিকাঠি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকরা প্রতিযোগিতায় নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিজয়ী ও সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ ঘোষণা করেন। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকরা অমি আলম।
বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, নলছিটি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ সমিটির সভাপতি শামসুল আলম খান বাহারের সভাপতিত্বে এসময় আর-ও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল বাশার, প্রভাষক মানবেন্দ্র মুখার্জী, জয়নাল আবেদীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, শাহাদাত আলম, শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মল্লিক মনিরুজ্জামান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।
নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।