বক্তব্য দেন মহাদেবপুর ইউএনও মানজুরা মুশাররফ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

এবারের ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সর্বোচ্চ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ। তিনি বলেন, শুমারির সময় তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজারদের কোন রকম রাজনৈতিক বা অন্য কোন রকম অবৈধ চাপ সৃষ্টির খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ শাপলায় আয়োজিত এ সংক্রান্ত প্রেস কনফারেন্সে সিনিয়র সাংবাদিক কিউ. এম. সাঈদ টিটোর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এর আয়োজন করে। ইউএনও সারাদেশে একই সাথে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে জাতীয় পর্যায় থেকে সরবরাহ করা প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন। এর আগে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ঢাকায় আয়োজিত প্রেস কনফারেন্স সরাসরি দেখানো হয়। 


এসময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন, মহাদেবপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৩৫ জন তথ্য সংগ্রহকারি ও ১৩ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে উপজেলার উত্তরগ্রাম ও রাইগাঁ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে শুমারি শুরু হবে।


তিনি বলেন, শুমারিতে সব ফ্যামিলির নাম তিন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত হবে। এ সংক্রান্ত চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে গণশুনানীর মাধ্যমে স্বচ্ছ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার নাম করে কেউ টাকা দাবি করলে সাথে সাথেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


এসময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রব্বানী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী, উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ রাজু, সাংবাদিক ইউসুফ আলী সুমন, জুলহাজ খান, বরুণ মজুমদার, লিয়াকত আলী বাবলু, সাখাওয়াত হোসেন এবং নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারি ও সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

রাজশাহীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। গতকাল সোমবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।


জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে।


এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুল চলাকালে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে না থেকে কোচিং সেন্টারে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে স্কুলের সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এই নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু থাকলে অভিযান চালানো হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কোচিং সেন্টার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয়েও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গণবিজ্ঞপ্তিটি বাস্তবায়নে পুলিশ সুপার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

“ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরের লালপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লালপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।


লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোঃ মিশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস সুলতানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ।


হরিপুর সীমান্তে ৯৬ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২০ পিএম

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযান। দিনাজপুর, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৬ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১২ অক্টোবর রাত ১০টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন গোবিন্দপুর বিওপির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।


বিজিবির অভিযানে হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢাকদহ গোপালপুর এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় সিরাপের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপের সর্বমোট জব্দমূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।


উদ্ধার করা সিরাপের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বাহিনীটির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, তার বন্ধক নেওয়া ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।


একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে কেন্দ্র করে তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিলেও দিদার ও তার সহযোগীরা আবার টাকা দাবি করছেন।


আমেনা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে তারা বসবাসের উপযোগী করে জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা চরের জমি দখল করতে তাদের ওপর অন্যায়-অবিচার করছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।


স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিক মানববন্ধন করে। উল্টো এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়।  


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতির অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’


তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই শিশুকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন। পরে তিনি বিয়ে করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই মেয়েকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান ওই মা। পরে ওই শিশুদের চাচি তাদের বাড়ি নিয়ে যান। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়।


স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে জানতে পারেন, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। পরে দুই শিশুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


দুই শিশুর চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি শিশুদের চিনতে পেরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা তাঁকে বলেন, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না।


পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা–বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।


শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্বাস প্রামাণিক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে চশমা ছাড়াই কুরআন পড়তে পারা আলোচিত শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ১২৩ বছর ৪ মাস। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাতি রিপন হোসেন। মৃত্যুকালে আব্বাস প্রামাণিক দুই মেয়ে ও ছয় ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্বাস প্রামাণিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে রোববার (১১ অক্টোবর) হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় তার কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেবাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে চিকিৎসক পাঠানো হয় এবং তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নাতি-নাতনিদের বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে।


নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক। সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন তিনি। অসুস্থতা কিংবা বয়সের ভার—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়েননি সদাচারী এই মানুষটি।


পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আব্বাস আলী। পাশাপাশি বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করেছেন অনেক মানুষকে। জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে মানুষের সেবায়।


যেখানে আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, সেখানে এই বয়সেও আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি অটুট থাকা সবাইকে বিস্মিত করেছে। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই কষ্ট হয়, সেখানে এখনো পরম মমতায় হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পাতা উলটে কোনো চশমা ছাড়াই তিলাওয়াত করতেন এ বৃদ্ধ।


শতবর্ষী এ প্রবীণের জীবন কেটেছে অতি সাদামাটাভাবে। কখনো যানবাহনে চড়েননি তিনি, পায়ে হেঁটেই গেছেন গন্তব্যে। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার দিন কাটে একটি ভাঙা ঘরে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার।


ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন আব্বাস আলী। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে ছুটে আসেন।