বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক সরকার বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের গোয়ালপাড়া এলাকায় চাওয়াই নদীর বাম তীরে ৩৬০ মিটার বাঁধ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় থেকে পূজার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী রংপুর ও রাজশাহীসহ তিনটি জেলা সফর করবেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।
বাঁধ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির
‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে কথাগুলো বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। কে জানত, সেটিই হবে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা। রাতের খাবার খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। এর মধ্যে শুনলেন স্বামীর মৃত্যুসংবাদ। দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান লুৎফুজ্জামান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কোলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন লুৎফুজ্জামান (৪৪)। এর কিছুক্ষণ পরই গ্রামের একটি দোকানের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা। ছেলেকে কোলে নিয়ে স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কেঁদে কেঁদে তিনি বলেন, ‘এভাবে যে একজন মানুষকে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে মেরে ফেলবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে প্রথমে ভাবছিলাম কেউ হয়তো ফটকা (পটকা) ফুটাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ বলাবলি করল, তাঁকে (লুৎফুজ্জামান) মেরে ফেলছে।’
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আনন্দিতা বলেন, ‘আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা তাঁকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় গতকাল রাত সোয়া আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকায় লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন; পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। থাকতেন তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে।
রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় চায়ের দোকানটি। চারদিকে নীরবতা। দোকানটি থেকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়িটি প্রায় ২০ গজ দূরে। সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। তেলনজিয়া গ্রামে অধিকাংশ গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস।
লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তাঁরা তখন ঘরের বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। তাঁর মাথা গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছে।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। লুৎফুজ্জামানের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা জানান, তাঁদের দুই সন্তান। চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন লুৎফুজ্জামান। চা খেয়ে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে বের হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন। মুঠোফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক ওই দোকানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন তাঁরা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তেলনজিয়ার ওই দোকানি রবিন রাংসা বলেন, ‘আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।’
রবিন রাংসার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাঁদের একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিল। গুলি করার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা পালিয়ে যান। কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিল। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত লুৎফুজ্জামানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। তাঁদের আজ দুপুরের পরেই বিএসএফ ও বিজিবির অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের পর হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার চৌদ্দগ্রামে একটি মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিবির কুমিল্লা সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে শুক্রবার দুপুরেই হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আটক দুই পুলিশ সদস্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করায় আটক হন। আজ দুপুরের দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের পর তাদের হস্তান্তর করা হবে। এ সময় ১০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজসহ বিজিবির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক ক্ষুদে বার্তায় ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থানার পাঁচ কনস্টেবল ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ওই অভিযানে অংশ নেন।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করেন। পরে টহল দলের নেতৃত্বে থাকা এএসআই ইমরান হোসেন তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাঁকেও আটক করা হয়।
ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, পরে সেখানে উপস্থিত বিএসএফ সদস্যদের ডেকে এনে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় টহল দলের অপর চার সদস্য নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবিকে বিষয়টি জানান।
আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকাটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। সেখানে অভিযান চালানোর সময় সীমান্ত চিহ্নিত করা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর সকালে একই এলাকার ২০৫৯ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে র্যাবের একটি দল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা র্যাবের সদস্য রিদান বড়ুয়া, আবদুল মজিদ ও ওয়াহিদকে আটক করে স্থানীয় একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় দুই সোর্সকেও আটক করা হয়েছিল।
পরে বিএসএফ ও বিজিবির পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আট ঘণ্টা পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গুলসা,পাবদা ও টেংরা মাছের সাথে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
প্রশিক্ষণে আধুনিক উপায়ে গুলসা পাবদা ও টেংরা মাছ চাষে জলাশয় প্রস্তুতি থেকে মাছ বিক্রয় পর্যন্ত নানান দিক তুলে ধরা হয়। জলাশয় প্রস্তুতিতে চুন ও লবণ প্রয়োগ খাবার ও পানি প্রস্তুতিতে ১৫ দিন পরপর পরিমাণ মতো অটোপালিশ,চিটাগুড়,ইস্ট পাউডারের সংমিশ্রণের প্রয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, জেলা মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, কিশোরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা(অ:দা:) আব্দুস সালাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের আওতায় উক্ত প্রশিক্ষণে উপজেলার ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেছে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। একই সাথে দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রধান সহ মন্দির পরিদর্শন করেছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস।
বৃহস্পতিবার ( ১৫ অক্টোবর ) বিকেলে পঞ্চগড় পৌর শহরের দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় থাকা ৩৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সাথে নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য চালু করা হয়েছে মনিটরিং সেল বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
একই সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপপ্রচার প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। পরে তিনি পঞ্চগড় শহরের বিভিন্ন দূর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন।
এসময় পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ বিজিবি আওতাধীন পঞ্চগড় জেলায় সীমান্ত এলাকায় যতগুলো পূজা মন্ডপ রয়েছে সেগুলো নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি। আমাদের টহল দল সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি। ২৪ ঘন্টা আমাদের বিজিবি টহল দল তৎপর রয়েছে। যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা পূজা মন্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছি।
রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সকালে রাজশাহীতে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরে তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর নদীপথে চর আসারিয়াদহ ইউনিয়নে যান। এ সময় নদীভাঙন রোধ, নদীতীরবর্তী জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরে রাজশাহী শহরের আই-বাঁধ, টি-বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধ এলাকাও পরিদর্শন করেন।
দুপুরে নাটোরে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত ‘বড়াল নদী অববাহিকায় পানিসম্পদ পুনর্বাসন (বড়াল নদী ড্রেজিং, নারদ নদ ও মুসা খাঁ নদী পুনঃখনন)’ শীর্ষক প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের প্রস্তাবনা ও বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নদী, খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, কারিগরি সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুফলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল হক মিলন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, রাজশাহীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আবুল হোসেন তুহিনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
সফরকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।