• প্রকাশ : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬, সময় : ২:১৫ এএম

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে আন্দোলনে নামেন সোনাতলা এলাকাবাসী। এই আন্দেোলনকারীদের সাথে মিশে গিয়েছিলো অভিযুক্ত জাকির হোসেনও। এমনকি পুলিশ এলাকায় গিয়ে ফাহিমার হত্যাকারীদের খোঁজতে অভিযানে নামলে জাকিরও তাদের সাথে অংশ নেন। পরে তার আচরণ সন্দেহ জনক মনে হলে তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য। এমন তথ্য জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)-এর উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।


সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিল। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। 


তিনি বলেন, আমরা সকলে এলাকায় গিয়েছি, আমি নিজে গিয়েছি। থানার নারী-পুরুষ সব সদস্য গিয়েছি, আমরা চেষ্টা করেছি, মানুষের সঙ্গে মিশে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে। সেও (জাকির) চালাক প্রকৃতির। সেও আমাদের সঙ্গে মিশে মিশে এই ঘটাগুলো সে দেখেছে। এরপর চাপ যখন বেশি পড়েছে তখন সে নিজেই এগুলো বের করেছে। 


জাকিরকে সন্দেহ হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের পর সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিলো এলাকার কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এলাকার প্রতিটি মানুষের তথ্য আমরা সংগ্রহ করছিলাম। ওই এলাকায় আমরা তিনজন সন্দেহ ভাজককে সনাক্ত করি। যারা মাদকাসক্ত বা পূর্বে এধরণের কাজের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে জাকিরকে আটক করে সব স্বীকার করে। 


এরআগে সংবাদ সম্মেলনে জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির। 


সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।


মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 


ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 


মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।সোমবার রাতে জাকিরকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ। জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্ৰাম ইউনিয়নে ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করায় ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১ম স্ত্রী আশরিফা বেগম।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্ৰাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বুল্লাই পাড়া গ্ৰামের জয়নুল ইসলামের স্ত্রী আশরিফা বেগম ৪ বছর ধরে সংসার করিয়া আসিতেছে। তাদের ঘরে আয়াতুল ইসলাম(০২) একটি সন্তান আছে। এমতাবস্থায় বিগত ১০ অক্টোবর পশ্চিম দলিরাম বানিয়া পাড়া গ্ৰামের স্বপ্না আক্তার  তার সংসারের দুইটি সন্তান রেখে আমার স্বামী জয়নুল ইসলামকে গোপনে বিবাহ করে।


এ ব্যাপারে আশরিফা বেগম বলেন, আমি আমার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করলে সেও আমাকে বলে যে আমি স্বপ্নাকে বিয়ে করেছি। তুমি সন্তানকে নিয়ে তুমি তোমার মত করে চলো। আমি আর বাড়িতে যাব না আমাকে ভরনপোষন দিতে অস্বীকার করে এবং আমার দেন মোহরের টাকা দিয়ে দেবে তালাক দিবে এবং আমাকে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া সহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমতাবস্থায় আমি আমার সন্তানকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করতেছি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।  


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।


পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।


তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।


পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।


এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।


পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।


অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ নগর ছাত্রদল নেতা রিফাত দেওয়ান ও তাঁর বন্ধু জুম্মনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিভি আনোয়ার ও তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এরশাদনগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাত দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ অক্টোবর ফুটবল খেলতে মাঠে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর বন্ধু জুম্মনও হামলার শিকার হন। হামলার সময় তাঁকে টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামুর সঙ্গে চলাফেরা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রিফাত। 


তিনি আরও জানান, হামলায় রিফাতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত জুম্মনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু। 


তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে টিভি আনোয়ার তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কামরুল ইসলাম কামু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হামলা-মামলা ও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে এবং বাড়িছাড়া থাকতে হয়েছে। এমনকি বাড়িতে থাকতে না পারায় নিজের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। 


তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন কামরুল ইসলাম। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মঞ্জু কীভাবে যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


 মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ছাত্রদল নেতাসহ দুজনের ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩২ পিএম

কাল দিনভর শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর আজও স্বাভাবিক হয়নি আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অনেক কারখানায় কর্মীরা হাজির হলেও কাজ না করে বিক্ষোভ করে শুরু করেন। কিছু কারখানার ভেতরে এবং কিছুক্ষেত্রে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপ। 


আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমিকরা এলেও কাজ না করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 


তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশুলিয়ায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। 


ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। রাজধানীর মিরপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জে মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। কারখানা ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। 


পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫টি, গাজীপুরে ৩, সাভার ও আশুলিয়ায় ২টি। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ এএম

সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।


ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।


সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র


নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। 

নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।

ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।


এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।


ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।


৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।


উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।