ছবি : সংগৃহীত
মস্কো ও কিইভ কিছুদিন আগেও আবু ধাবিতে দুই দফা আলোচনায় মিলিত হয়েছিল।
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া সেসব আলোচনাকে উভয় পক্ষ ‘গঠনমূলক’ বললেও দৃশ্যমান কোনো ব্রেক থ্রু দেখা যায়নি। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন পর জেনিভাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় ফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কেবল কিইভকেই ‘বারবার’ ছাড় দিতে বলায় বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন।
আলোচক দলের নেতা পরিবর্তনের মাধ্যমে মস্কো সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করাতে চাইছে বলেও তিনি শনিবার অভিযোগ করেছেন, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আগামী মঙ্গল ও বুধবার সুইজারল্যান্ডের শহরটিতে রুশ, মার্কিন ও ইউক্রেইনীয় আলোচক দলের বসার কথা রয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও এখন মস্কো, কিইভ দুই পক্ষকেই ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন।
“ত্রিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হবে, সবার জন্য সহায়ক হবে বলে আমরা সত্যিই আশা করছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে মাঝে মাঝে মনে হয় সবাই যেন পুরোপুরি ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে,” বার্ষিক মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী প্রতিবেশী দেশে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর চলতি বছর ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেইন আবু ধাবিতে দুই দফা আলোচনায় মিলিত হয়েছিল। উভয় পক্ষ সেসব আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বললেও দৃশ্যমান কোনো ব্রেক থ্রু দেখা যায়নি।
জেলেনস্কি মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেইনে বেশি বেশি অস্ত্র সরবরাহসহ নানামুখী উপায়ে রাশিয়াকে চাপ দিয়ে শান্তিতে রাজি করাতে মিত্রদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
চার বছর আগে, ইউক্রেইনের রুশ অভিযান শুরুর কয়েকদিন আগে একই সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার কথা স্মরণ করে ইউক্রেইনের এ প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমা কর্মকর্তারা অনেক কথা বলেন, কিন্তু সেই তুলনায় তেমন পদক্ষেপ নেন না। পুতিনকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বাধ্য করার ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্পের এবং এই যুদ্ধবিরতি খুবই দরকার, বলেছেন তিনি।
ইউক্রেইনের অন্য কর্মকর্তারাও বলছেন, কোনো শান্তি চুক্তি হলে তা নিয়ে গণভোট আয়োজনে যুদ্ধবিরতি লাগবে। ওই গণভোট জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেই হবে।
শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের দিক থেকে ‘খানিকটা চাপ’ আছে বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন জেলেনস্কি। আগেরদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দ্রুত শান্তি অর্জনের ‘সুযোগ’ হাতছাড়া করা জেলেনস্কির উচিত হবে না, যে কারণে তিনি ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেও তাগাদা দিচ্ছেন।
“আমেরিকানরা প্রায়ই ছাড়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসে, এবং বেশিরভাগ সময়ই ইউক্রেইনের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের বিষয়টি আসে, রাশিয়ার ক্ষেত্রে নয়,” বলেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেইনে এরই মধ্যে অনেক কিছুতে ছাড় দিয়েছে দাবি করে তিনি এখন মস্কো কী কী বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত তা শুনতে চান বলেও জানান।
এদিকে রাশিয়া বলেছে, জেনিভায় তাদের আলোচক দলের নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। অথচ আবু ধাবিতে দুই দফার আলোচনায় রুশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইগর কোস্তিওকভ।
আলোচক দলের নেতা বদলানোর এ ঘটনায় শনিবার ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি; কোনো সিদ্ধান্তে দুই পক্ষের একমত হতে যেন দেরি হয় তার লক্ষ্যেই রাশিয়া এমনটা করছে বলেও তার ধারণা।
আগের যে আলোচনাগুলোতে মেদিনস্কি ছিলেন, সেগুলোতে তার ভূমিকা নিয়ে ইউক্রেইনের কর্মকর্তাদের ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গঠনমূলক আলোচনার বদলে মেদিনস্কি প্রায়ই ইউক্রেইনের আলোচক দলকে ‘ইতিহাসের পাঠ’ দেওয়া শুরু করেন বলে তাদের অভিযোগ।
ভূখণ্ড নিয়ে অচলাবস্থা
পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের যে এলাকাগুলো এখনও ইউক্রেইনের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাশিয়া চায় সেসব এলাকা থেকে কিইভ সেনা প্রত্যাহার করে নিক, কিন্তু ইউক্রেইন তাতে রাজি নয়। ইউক্রেইনের বাহিনী সেসব এলাকা থেকে সরে গেলে রাশিয়া দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে মার্কিন আলোচকরা কিইভকে বলেছেন, শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি এমনটাই জানান।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইউক্রেইনের দখলে থাকা দোনেৎস্কের এলাকায় ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা ও এক হাজার ২০০ কিলোমিটার ফ্রন্টলাইনে যার যেখানে দখল আছে সেটাকে সেভাবে রেখে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব নিয়ে ইউক্রেইনও আলোচনায় আগ্রহী ছিল বলে জানান জেলেনস্কি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে তার সঙ্গে থাকা ইউক্রেইনের প্রধান আলোচক রুস্তম উমেরভ বলেন, কেবল দুটি বিকল্পই খোলা রয়েছে। হয় ইউক্রেইন এখনকার সীমানা ধরে রাখবে না হলে সেখানে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে।
ক্রাইমিয়াসহ ইউক্রেইনের ২০১৪ পূর্ববর্তী সীমানার প্রায় ২০ শতাংশই এখন রাশিয়ার দখলে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা ইউক্রেইনের পুরো ভূখণ্ডের প্রায় দেড় শতাংশ কব্জা করে নিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ভাষ্য। সম্প্রতি তারা ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেইনের কর্মকর্তাদের আরেকটি উদ্বেগ হল- নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেজন্য আর কয়েক মাস পর পুরো ট্রাম্প প্রশাসনের নজরই চলে যাবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুতে, সেসময় ওয়াশিংটনের মনোযোগ যেমন কমে যাবে তেমনি রাশিয়ার নতুন সমন্বিত আক্রমণের সম্ভাবনাও কম নয়।
জেলেনস্কির আশা, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় থাকবে এবং ইউরোপের জন্যও সুযোগ তৈরি হবে, যেন তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মস্কো-কিইভ আলোচনায় এখন ইউরোপের ভূমিকা নেই বললেই চলে।
“ইউরোপ কার্যত আলোচনার টেবিলে নেই, আমার মতে, এটা অনেক বড় ভুল,” বলেছেন তিনি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বরং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাব দিতে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সময়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ আকাশ হামলা আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় আয়োজিত ভলদাই আলোচনা ক্লাবের রাজনৈতিক ফোরামে এসব কথা বলেন পুতিন।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার প্রস্তাবের বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘তারা যদি তোমাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে তোমরাও তাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে-এমন কথা বলা হচ্ছে। এটা নিছক হাস্যকর।’
গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো হামলা কিছু ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, রাশিয়া এরই মধ্যে এসব হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ করে রেল যোগাযোগকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং প্রায় সারাক্ষণ কিয়েভকে সতর্ক অবস্থায় রাখছে।
এর মধ্যেই ইউক্রেন আরেকটি কঠিন শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলার সময় একটি ড্রোন একটি স্কুলে আঘাত হানে বলে শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই সময় শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রাজধানীতে একের পর এক আকাশ হামলা চলছিল।
তবে পুতিন বলেন, রাশিয়া সামরিক উপায়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চায় মস্কো বলেও জানান তিনি।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক হুঁশিয়ারি
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। পুতিন বলেন, প্রয়োজন হলে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, ‘যদি রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখানে আমরা কালিনিনগ্রাদের কথা বলছি এবং সম্ভবত আরও কিছু ভূখণ্ডের কথাও বলা যেতে পারে, তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্যই এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।’
পুতিনের এই বক্তব্যের আগে রাশিয়া ন্যাটোর কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ওই নোট পেয়েছে। এতে মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো যদি বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখবে।
তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা উচিত।
পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন একটি মুহূর্ত হঠাৎ চলে আসতে পারে, যখন পরিস্থিতি বদলানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ক্রমাগত উত্তেজনা ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা একসময় এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরতের ইঙ্গিত
এদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রাশিয়ায় জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির ব্যবসা ও সম্পদ ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন পুতিন। ভলদাই ফোরামে তিনি বলেন, সম্পর্কের উন্নতি হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো তাদের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ ফিরে পেতে পারে।
গত মাসে রাশিয়া সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক নেসলে, ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা ওশাঁ, সাবেক ফরাসি ডিআইওয়াই চেইন লেরয় মার্লিন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রুশ সম্পদ জব্দ করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তবে পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এসব সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথ খোলা থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।
তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।
মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।
এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। তার আগে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক একটি গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।
এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।
ছবি : সংগৃহীত
মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তারা জানিয়েছে, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, এই ঘটনা নিয়ে যেসব দাবি বা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী কাবা শরিফের (গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা) দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করেছিল।
ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’
এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : সিবিএস নিউজ