• প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, সবই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলায় যোগ দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট কী লক্ষ্য অর্জন করতে চান?


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনও ‘শাসন পরিবর্তন’কে যুদ্ধের লক্ষ্য বলে বর্ণনা করছেন। কখনও বলছেন, ইরান যেন পারমাণনিবক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।


তিনি কখনো বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, আবার কখনো বলছেন, তা অনেক দীর্ঘ হতে পারে। ইরানে হামলার পর এ কয়েক দিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? এই আলোচনা এখন সামনে এসেছে।


প্রায় দুই দশক আগে ইরাকে যে অজুহাতে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবারও প্রায় একই অজুহাত সামনে আনা হয়েছে, যার কোনো গোয়েন্দাভিত্তি নেই। বরং এরকম এক যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আরেকটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, আর তা হল- একটি সন্দেহজনক যুক্তির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলার ভিত্তিও’ তৈরি করতে পারে।


আরেকটি বিকল্প পরিস্থিতির কথাও বলেছে সিএনএন। সেটি হল-এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প যদি এ অঞ্চলে ৫০ বছরের জন্য ইরানের হুমকি কমিয়ে আনতে পারেন এবং সে দেশে স্বাধীনতার সূচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারেন।


গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ পর্যায়েরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন হামলায়।


গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”


ইরানে এবারের মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এপিক ফিউরি বা মহাতাণ্ডব’। ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন বা গর্জনরত সিংহ’।


‘হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র’


খামেনির বিদায়ের পর যা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনও দেখা যায়নি ইরানে, অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানিরা এখনো রাস্তায় নামেনি। চারদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।


গত রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।


খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।


এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে প্রবেশে করেছে যুদ্ধ। সিএনএন লিখেছে, ইরানে হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সবথেকে বড় হামলা এখনো চালানো হয়নি।


সিএনএন সঞ্চালক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। মনে হয় খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী আছে আমাদের। আমরা সেটি ব্যবহার করছি।”


ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসেনি। সেটি আসছে খুব শিগগিরই।” মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণকে ‘বড় বিস্ময়’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব দেশগুলোকে) বলেছিলাম, ‘আমরা এটি সামলে নেব’। কিন্তু এখন তারা লড়াই করতে চাইছে। তারা বেশ আগ্রাসীভাবেই লড়াই করছে। তাদের ভূমিকা খুব সামান্যই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা এতে যুক্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে।”


সিএনএন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও ‘আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?


• বিমান অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা করলে এটি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলা ক্ষমতা কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং একটি নতুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে সক্ষম হতে পারে।


• ইরানের বাকি নেতৃত্ব নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যে যেন দেশটি আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে না পারে।


• খারাপ যা ঘটতে পারে, তা হল- ইরানের পরিস্থিতি লিবিয়ার মতো হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা কতৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হতে পারে। গোষ্ঠীগত লড়াই বা গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে অঞ্চলজুড়ে, উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে পারে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ উগ্রপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে।


গত সোমবার রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছে শত শত ইরানি।


সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ও বৈশ্বিক নীতি বিশারদ ম্যাক্স বুট কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সম্মেলনে বলেছেন, “ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা অযৌক্তিক এবং অবৈধ। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ব্যর্থ হবে।” তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সমালোচনা করেন।


তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো সক্রিয় থাকায় দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা ‘কঠিন’ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউস।


কারণ হিসেবে সংস্থার সাবেক এ পরিচালক বলেন, “সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।” ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন না।


এ অবস্থায় ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ডেভিড পেট্রাউস।


তবে সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।”


কী চলছে ইরানে


বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, তাতে ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ দাবি করেছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন কর্মকর্তা।


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫৩টি শহর আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা ১০৩৯-এ পৌঁছেছে।


খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪০ দিনের শোক পালনের জন্য দেশের সব সরকারি এবং সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। সরকার শোককাঠিন্যকে “জাতির একত্রিত ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিবিসি লিখেছে, সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় ইরানের আর কোনো জাহাজ নেই।


ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, কুয়েত, আরব আমিরাতেও মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি দেশে মার্কিন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যস্থল।


মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন মিশনে তাদের সব ধরনের সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাস এক্স পোস্টে বলেছে, “আমরা সব ধরনের নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।”


এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক মাধ্যমে দেশত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ার খবর এসেছে।


গত সোমবার অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তাদের দুটি ডেটা সেন্টার অঞ্চলে ‘সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আশপাশের যেসব শহরকে পাল্টা হামলার নিশানা বানিয়েছে, দোহা সে তালিকার একটি।


আল জাজিরা লিখেছে, এর আগে সোমবার কাতারের বিমান বাহিনী তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুসাফাহ এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওমান, জর্ডান ও ইরাকেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করছে। ইসরায়েল পাল্টা লেবাননের বৈরুতে হামলা করেছে।


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য কোনো দেশে হামলা বা আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি ইরানের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব?


উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


ইরানের হামলার কারণে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যে কারণে সোমবার ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।


আল জাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


ইরানের ড্রোন হামলা জেরে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। সেদিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।


বিবিসি লিখেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বের তেল-গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালী হয়ে।


সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে।


আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?


ইরানে কেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কী এ বিষয়ে স্পষ্ট কারণ রয়েছে?


হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ফলে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী, এ বিষয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্তি থাকে, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো। ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যদিও এর আগে ১২ দিনের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছিলেন।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার জোর দিয়েই বলেছেন, ইরানি সন্ত্রাসী বা ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় ইরান সমর্থিত মিলিয়াশিয়াদের হাতে আমেরিকানদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার যুক্তি হাজির করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে কারণ তারা জানতেন ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছে এবং তাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায়, কী কারণে যুদ্ধে জড়িয়েছেন সেটি তারা জানে না। ফলে ইতোমধ্যে তাদের এই সামরিক অভিযান সমস্যায় পড়ে থাকতে পারে।


ডেমোক্রেটিক সেনেটর জিন সাহিন সোমবার সিএনএনকে বলেন, “সত্যি কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমাদের শোনা দরকার তিনি কী চান।”


“সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত মোড় ঘোরানোর সুযোগ হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঘটবে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়,” বলেন তিনি।


ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা যেন অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তার কৌশলেরই একটি অংশ। যুদ্ধে লক্ষ্য অনিশ্চিত রেখে তিনি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চান, যাতে যখন চাইবেন তখনই বিজয় ঘোষণা করতে পারেন।


তিনি যেন ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন- বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করে।


কিন্তু আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও অনুগত শাসক বসানোর একমাত্র নজির চিন্তা করা কী সম্ভব? যদিও ট্রাম্প বলেছেন, কিছু সমালোচকের কথায় তিনি বিরক্ত নন, যারা বলছেন-ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে গেলে তার নিজের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান।


সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধে লক্ষ্য সীমিত করে এনেছেন বলে মনে করা হয়েছে।


গত সোমবার তিনি বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা হল ইরানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূর্চি ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা ধ্বংস করা। মনে হচ্ছে তিনি এবং হেগসেথ দুজনই আগে থেকেই ব্যর্থতার অজুহাত তৈরি করে রাখছেন, যাতে ইরানের বর্তমান পুনর্গঠিত হলে সে দেশের জনগণের ঘাড়েই দোষ চাপানো যায়, ‘তোমরাই তো সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছ’।


হেগসেথ বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তা স্পষ্ট। ইরানের জনগণ: এটা তোমাদের সময়।”


কিছু বিশ্লেষক ভেনিজুয়েলায় মাদুরাকে উৎখাত প্রসঙ্গ টেনেছেন। মাদুরাকে ধরে আনার পর ভেনিজুয়েলায় অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বহু দশক ধরে চেষ্টা করেও ইরানে মধ্যপন্থি কোনো নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।


এমনকি খামেনিকে হত্যা করার পর এখনও এমন কোনো নেতা খুঁজে পায়নি তারা। যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।


‘শিগগিরই আগ্রহ হারাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’


আল জাজিরা লিখেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পর্বে এগিয়ে থাকতে পারেন—যদিও এই ‘জয়’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মূলত তাদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের ঐক্যের কারণে।


তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। উভয় পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্রটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ—দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঐক্যের ভিত্তি স্পষ্ট নয়।


মনোযোগ সরে গেলে, দুজনই এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন। ট্রাম্প দ্রুত অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার চাপ অনুভব করতে পারেন, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারেন।


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও রাজনৈতিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই—এমন অভিযোগ উঠছে। তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে পারবেন না বলেই বারবার ইরানিদের ‘সহায়তা করা’ বা তারা নিজেদের দেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরুর অভিযোগ, সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এই ‘অস্বস্তিকর’ জোটটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তাদের অর্জন ‘বড় মূল্য দিয়ে সীমিত সাফল্য লাভ’ হয়ে থাকতে পারে।


কতদিন চলবে এ যুদ্ধ?


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত করবে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, তার এক সদস্য বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ‘দীর্ঘায়িত’ হবে না।


আলি মোআলেমি বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের সময় ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ বা রাজনৈতিক ও দলীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য যে বিবেচ্য হবে না, সেই বিষয়ে শপথ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। তিনি বলেন, “বিপ্লবের শহীদ নেতার মতোই একজনকে নির্বাচিত করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।”


মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ইসলামি ঐতিহ্যে, বিশেষ করে শিয়া ইতিহাসচেতনায়, শহীদ হওয়া পরাজয়ের প্রতীক নয়। বরং এটি ‘স্রষ্টার সঙ্গে অঙ্গীকারের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের’ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।


খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের’ বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করে গেছেন।


খামেনির মৃত্যু ইরানে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খামেনির এই ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে ঘটনাকে তার বিরোধীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে ভেবেছিল, সেটিই উল্টো ব্যাপক জনসমাবেশ ও সংগঠনের শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।


গত শনিবার ট্রাম্পের এক বক্তব্যের বরাতে বিবিসি লিখেছে, ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। তবে পরে তিনি আরও দীর্ঘ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন।


গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।


গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।”


এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “প্রায় এক মাস। আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সবসময় ভেবেছি এটা চার সপ্তাহ চলবে।”


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’।


নেতানিয়াহু অবশ্য এই সংঘাতকে আগের দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর মতো দেখতে নারাজ, জানিয়েছে রয়টার্স।


ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”



সর্বশেষ সব খবর

ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ এএম

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।



সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।


৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।


চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সূত্র : সিবিএস নিউজ

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

ইরানকে নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইরান উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।


পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে আমাদের সমাজের অধিকার রক্ষা করি। আমরা কখনো সংলাপ থেকে পালিয়ে যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও তিনবার আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে।’


‘চুক্তি’ বলতে পেজেশকিয়ান সম্ভবত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছেন।


ওই সমঝোতার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে। ইরানের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।


পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর জনগণ, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সংহতি আরও বেড়েছে।’


তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’


সূত্র : সিবিএস নিউজ

সর্বশেষ সব খবর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে নেতানিয়াহু তাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহু।


সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সর্বশেষ সব খবর

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আলজাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৩ পিএম

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।


বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেবে।


ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘সময় এসে যাচ্ছে। যে কোনোভাবেই হোক, বিষয়টি খুব শিগগির শেষ হবে।’


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর