জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, যুদ্ধে তেহরান সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে। এ কারণে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুস্পষ্ট পথ ওয়াশিংটনের হাতে নেই।
সোমবার জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফ্রিডরিখ মের্ৎস এ কথা বলেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গভীর কৌশলগত সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ব্যর্থ সামরিক অভিযানগুলোর উদাহরণ টেনে আনেন।
জার্মানির চ্যান্সেলর বলেন, ‘এ ধরনের সংঘাতের সমস্যা হলো, এতে শুধু জড়িয়ে পড়াটাই শেষ কথা নয়, এখান থেকে আবার বেরিয়েও আসতে হয়। অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সত্য, আমরা ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে এমনটাই দেখেছি। ইরাকের ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই।’
দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, যুদ্ধের প্রভাব এরই মধ্যে জার্মানির অর্থনীতিতে আঘাত হানতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুরো বিষয়টা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর বলেন, জার্মানি হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েন করতে প্রস্তুত আছে। তবে তা যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর।
জ্বালানিসংকট, অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ এ সংঘাতের বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে ইউরোপজুড়ে যখন উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক তখন জার্মানির চ্যান্সেলর এমন মন্তব্য করলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ‘সংকটজনক অবস্থায়’ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তার ভবিষ্যৎ অবস্থা কী হবে, সেটিও আমরা জানি না। তবে আমরা জানি, তিনি এখন জীবিত আছেন।’
পাইকের বর্তমান বয়স ৫০ বছর, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তারা স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন।
বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার অনুমতি দিলে কার্যক্রম এগিয়ে যায়। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ছিলেন। তবে ব্যর্থ ওই কার্যক্রমের পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় পরিণত হয়েছিল।’
এক ঘণ্টা ধরে শিরায় প্রবেশের চেষ্টা
বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানান। তারা ঘটনাটিকে গোপনীয়তার মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘গত রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল এক ঘণ্টা ধরে একটি আইভি লাইন (শিরায় ওষুধ দেয়ার প্রক্রিয়া) স্থাপনের চেষ্টা করে। আমি শুধু তার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছি। এর একটি তার হাত থেকে বের করার সময় বাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে পাইক তখনও শ্বাস নিচ্ছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একটি অন্ধকার কক্ষে বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। ওই পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কখন এবং আদৌ চিকিৎসকরা তাকে সহায়তা করতে শুরু করেছিলেন কি না, সেটিও আমার জানা ছিল না।’
এখন রাজ্যটির গভর্নরকে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তাদের এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাইকের আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা আরও কিছু আইনি পথ নিয়েও ভাবছেন।
টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হবে। তবে এজন্য সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। লি বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে এবং এ কারণেই এই তদন্ত।’ তবে স্বাধীন তদন্ত কে পরিচালনা করবে, তা গভর্নর এখনো স্পষ্ট করেননি।
লি চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩ ডিসেম্বর দণ্ডিত খুনি গ্যারি সাটনের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে। তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন, যারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায়িত্বে ছিল, তারা নিজেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অনুমোদিত এবং রাজ্যের আইনসম্মত, নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়মে ওই সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতির অনুমতি নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আদালতে দেয়া পাইকের আইনজীবীদের নথি অনুযায়ী, প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী তাকে পেন্টোবারবিটালের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। আইনজীবীরা বলছেন, ‘এই মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমে মিস পাইক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছেন এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্তভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’
‘ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে’
টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে উত্তর সহজ- ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
২০২৬ সালে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। কারণ, প্রাণঘাতী ওষুধ দেয়ার জন্য তার শিরা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য সাজা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বরং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাব দিতে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সময়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ আকাশ হামলা আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় আয়োজিত ভলদাই আলোচনা ক্লাবের রাজনৈতিক ফোরামে এসব কথা বলেন পুতিন।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার প্রস্তাবের বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘তারা যদি তোমাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে তোমরাও তাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে-এমন কথা বলা হচ্ছে। এটা নিছক হাস্যকর।’
গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো হামলা কিছু ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, রাশিয়া এরই মধ্যে এসব হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ করে রেল যোগাযোগকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং প্রায় সারাক্ষণ কিয়েভকে সতর্ক অবস্থায় রাখছে।
এর মধ্যেই ইউক্রেন আরেকটি কঠিন শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলার সময় একটি ড্রোন একটি স্কুলে আঘাত হানে বলে শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই সময় শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রাজধানীতে একের পর এক আকাশ হামলা চলছিল।
তবে পুতিন বলেন, রাশিয়া সামরিক উপায়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চায় মস্কো বলেও জানান তিনি।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক হুঁশিয়ারি
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। পুতিন বলেন, প্রয়োজন হলে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, ‘যদি রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখানে আমরা কালিনিনগ্রাদের কথা বলছি এবং সম্ভবত আরও কিছু ভূখণ্ডের কথাও বলা যেতে পারে, তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্যই এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।’
পুতিনের এই বক্তব্যের আগে রাশিয়া ন্যাটোর কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ওই নোট পেয়েছে। এতে মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো যদি বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখবে।
তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা উচিত।
পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন একটি মুহূর্ত হঠাৎ চলে আসতে পারে, যখন পরিস্থিতি বদলানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ক্রমাগত উত্তেজনা ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা একসময় এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরতের ইঙ্গিত
এদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রাশিয়ায় জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির ব্যবসা ও সম্পদ ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন পুতিন। ভলদাই ফোরামে তিনি বলেন, সম্পর্কের উন্নতি হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো তাদের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ ফিরে পেতে পারে।
গত মাসে রাশিয়া সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক নেসলে, ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা ওশাঁ, সাবেক ফরাসি ডিআইওয়াই চেইন লেরয় মার্লিন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রুশ সম্পদ জব্দ করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তবে পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এসব সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথ খোলা থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।
তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।
মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।
এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। তার আগে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক একটি গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।
এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।
ছবি : সংগৃহীত
মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তারা জানিয়েছে, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, এই ঘটনা নিয়ে যেসব দাবি বা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী কাবা শরিফের (গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা) দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করেছিল।
ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।