ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬, সময় : ১:১৯ এএম

ভারতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এল চমকের পর চমক। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি অন্য দুই রাজ্যও সাক্ষী থাকল পালাবদলের। আসামে বিজেপিই থাকল, তবে আরও শক্তিশালী হয়ে। 


কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে মসনদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আবার সফল হলো ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পদুচেরি নিয়ে পাঁচটি বিধানসভায় গত মাসে ভোট গ্রহণ করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে সব রাজ্যে একসঙ্গে ভোট গণনা শুরু হয়। গতকাল রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়া না গেলেও কে জয়ী হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।


বহিরাগত জুজুই তুরুপের তাস হিমন্তের


আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবার আঞ্চলিক জোটসঙ্গীদের ছাড়াই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে। ১২৬টি আসনের মধ্যে একাই ৮২টিতে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে তারা। এই সাফল্যের প্রধান কারিগর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা; যিনি ‘উন্নয়ন’ ও ‘সাংস্কৃতিক সুরক্ষা’র এক মিশেল ঘটিয়ে নিজেকে রাজ্যের একমাত্র ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছেন। একদিকে গত পাঁচ বছরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প; অন্যদিকে ‘বহিরাগত’দের হাত থেকে অসমিয়া পরিচয় রক্ষার কৌশলী প্রচার—এই দুইয়ের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে ‘হিমন্ত ম্যাজিক’।


আসামের এক শিক্ষক সুনিত ঠাকুরের কথায়, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন কুমার বরার মতো প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতাদের বিজেপিতে শামিল করা ছিল তাঁর রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক। তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতোই বিজেপির প্রচারের একটি প্রধান অংশ ছিল তথাকথিত বহিরাগত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে। এটিও বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে।


বিপরীতে আসামে কংগ্রেসের ভরাডুবির মূলে রয়েছে চরম সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের অভাব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের পরাজয় এবং বড় বড় নেতার দলত্যাগ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। পাশাপাশি ‘অসম সম্মিলিত মোর্চা’র অন্দরে আসন রফা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং এআইইউডিএফের সঙ্গে জোটের ফলে হিন্দু ও অসমিয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঝোঁকে। প্রচারের ক্ষেত্রেও কংগ্রেস ভুল কৌশল অবলম্বন করে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সমস্যাগুলোর পরিবর্তে পবন খেরা ও হিমন্তের স্ত্রীর সংঘাতের মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ায় গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে দলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


তামিল আকাশে নতুন তারা বিজয়


তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্রাবিড়ীয় আধিপত্যে ইতি টেনে এক ঐতিহাসিক উত্থান ঘটল অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের (থালাপতি বিজয়) দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাঝাগম’ সংক্ষেপে ‘টিভিকে’–এর। পুরোনো দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে পেছনে ফেলে জয় প্রায় নিশ্চিত করেছে নতুন এই দল।


বিজয়ের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং ‘বিকল্প রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি। প্রচারের মাধ্যমে দ্রাবিড়ীয় ভাবাদর্শকে সরাসরি আক্রমণ না করে বরং তাঁকে আধুনিক ও কার্যকর করার কথা বলেছিলেন বিজয়। এই কৌশলী অবস্থান এবং তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী ফ্যান ক্লাবের সাংগঠনিক শক্তি তাঁর প্রচলিত প্রথা ভাঙার লড়াইয়ে গতি বাড়িয়েছে।


তামিলনাড়ুতে দীর্ঘ সময় ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের পাল্টাপাল্টি শাসনে বীতশ্রদ্ধ তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা চলচ্চিত্র তারকা বিজয়ের মধ্যে এক স্বচ্ছ ও নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন। সোজা কথায়—সরাসরি তামিল জাতীয়তাবাদ এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে সাধারণ মানুষের আবেগ ছুঁতে পেরেছে টিভিকে। পাশাপাশি ভোটের প্রচারে বারবার ঘোষিত দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাসও ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সেই সূত্রে দুর্নীতি–সংক্রান্ত অসংখ্য মামলা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক স্থবিরতা; যা সাধারণের মনে ক্ষোভের দাবানল জ্বেলে দেয়। এ ছাড়া আদর্শগত পার্থক্য ছাপিয়ে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের ক্ষমতার লড়াই প্রাধান্য পাওয়ায় এক নতুন বিকল্পের প্রতি আগ্রহী করে তোলে জনমানসকে। এই সম্মিলিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতেই তামিলভূমে নবাগত তৃতীয় শক্তি হিসেবে বিজয়ের টিভিকেকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে মুখিয়ে ওঠে জনতা জনার্দন।


তবে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক নম্বর’ ১১৮ বিজয়ের দলও পাচ্ছে না। ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হতে অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে বিজয়কে।


কেরালায় বাম দুর্গের পতন


কেরালার রাজনীতিতে ‘বিকল্প শাসন’–এর চিরাচরিত প্রথা মেনেই পালাবদল ঘটেছে। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম জোট এলডিএফ সরকারকে সরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। ১৪০টি আসনের মধ্যে ৮৯ আসনে জয়ী হয়েছে ইউডিএফ জোট, কংগ্রেস একাই পেয়েছে ৬৩ আসন।


বিশ্লেষকদের মতে, গত ১০ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এই পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ। সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ ভোটারদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের মেরুকরণ ইউডিএফের পাল্লা ভারী করেছে। সেই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিশানা করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নিরন্তর প্রচার এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির মিশেল ইউডিএফের পালে হাওয়া দিয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নিজের দুর্গ ধর্মদমে জয়ী হলেও তাঁর মন্ত্রিসভার প্রায় ১৩ জন মন্ত্রী ধরাশায়ী হয়েছেন। এই পরাজয় এলডিএফের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা, যা তাদের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি চাতানুরের মতো আসনে জয়লাভ করে কেরালায় আবার নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। এই ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করল যে কেরালার ভোটাররা শাসনের ধারাবাহিকতার চেয়ে পরিবর্তনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।


অন্যদিকে পরিবর্তনের দমকা বাতাস স্পর্শ করেনি পদুচেরিকে। সেখানে ৩০টি আসনের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএনআরসি বিজেপির সঙ্গে জোট করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।



সর্বশেষ সব খবর

কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক কূটনীতিক। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।


জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডির প্রধান গ্রিনস্প্যান চার দফা গোপন ভোটের মধ্যে তিনবারই শীর্ষে ছিলেন। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনো একটির ভেটো তার এগিয়ে থাকার অবস্থানকে থামিয়ে দিতে পারে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিকের বরাতে জাতিসংঘবিষয়ক বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোটে গ্রিনস্প্যানের পক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ‘নিরুৎসাহিত’ বা ডিসকারেজ ভোট পড়ে তিনটি এবং দুটি ভোটে কোনো মতামত জানানো হয়নি।


পর্তুগালের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তার উত্তরসূরি হতে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে চার নারী ও তিন পুরুষ। চতুর্থ দফার ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট। তিনি আটটি সমর্থন পেয়েছেন। দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে অল্প ব্যবধানে তিনিই শীর্ষে ছিলেন।


তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রসি। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান।


এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি, ইকুয়েডরের মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুননু।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গত সপ্তাহের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কয়েকজন প্রার্থী বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।


তবে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন কোনো প্রার্থীকে শেষ মুহূর্তে মহাসচিব পদে নিয়ে আসতে পারে।


নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে কমপক্ষে নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একটি দেশের ভেটোও এড়াতে হবে। এই পাঁচ দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।


এই দুটি ধাপ পার হলে প্রার্থীর নাম জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।


১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে দুই প্রার্থীকে ভেটো দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার পর অচলাবস্থা কাটাতে নিরাপত্তা পরিষদের এই অনানুষ্ঠানিক ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয়। গোপন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সমালোচনা থাকলেও বিভিন্ন রূপে এটি এখনো চালু রয়েছে।


ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রতিটি প্রার্থীর ক্ষেত্রে গোপনে তিন ধরনের মতামত দেন, ‘সমর্থন’, ‘নিরুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’।


তবে নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটের পর নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ব্যালট আলাদা রঙের হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কোনো প্রার্থী সম্ভাব্য ভেটোর মুখে পড়তে পারেন কি না, তা বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ওই প্রার্থীকে ভেটো দিতে পারে, তা জানা যায় না।


মঙ্গলবারের ভোটে অবশ্য ব্যালটে কোনো রঙের পার্থক্য রাখা হয়নি। ভোট শেষে নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতি ও জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বনাফোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরবর্তী দফার ভোট কবে হবে, তা জানাননি তিনি।


জাতিসংঘের মহাসচিবের পদটি ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই বিবেচনায় এবার লাতিন আমেরিকার কোনো প্রার্থী মহাসচিব হওয়ার কথা। বর্তমান দৌড়ে ওই অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তবে ম্যাকি সাল ও ওলারা ওতুননু আফ্রিকার প্রার্থী।


সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ডের

সর্বশেষ সব খবর

ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে মনোনীত করেছেন দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর মধ্য দিয়ে তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পর আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন তিনি।


সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে মানসুরির দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পাম) ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে। এরপর দলটির শীর্ষ নেতা ফৌজি লেকজাকে পেছনে ফেলে ৫০ বছর বয়সী মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন বাদশাহ।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মানসুরি মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে করপোরেট আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।


রাজনীতিতে তার উত্থানও দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালে মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন মানসুরি। পরে বিদায়ী জোট সরকারের নগর পরিকল্পনা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে মানসুরি বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদকে নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য বড় সম্মানের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


তবে নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকার আইনসহ মরক্কোর কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মানসুরি বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেকে ‘লৌহ নারী’ হিসেবে দেখতেও তিনি অনাগ্রহী।


মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। তবে ৩৯৫ আসনের সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনে জোটের প্রয়োজন হতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৪ পিএম

দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এ উপলক্ষে ইরাকজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকার এ উপলক্ষে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।


মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।


মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ–উদ্বেগ উভয়ই আছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে পারে তেহরান।


ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।


ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।


যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায় ২০০৩ সালে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।


ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।


ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইয়াসিরি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্‌যাপন করবে দেশটির মানুষ।


তবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফালুজা


অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত নয়। ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা।’


তেহরানের সুযোগ


ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো তেহরান–সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে ভূমিকা রাখছে এই গোষ্ঠীগুলো। চলতি মাসেই ইরাক থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় যে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইরাকে ছিলেন।


ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এর ফলে ইরাক থেকে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।


সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

নেপালে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও এর জেরে সৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগের ভয়াবহ নানা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।  


সংবাদ সংস্থা পিটিআই নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৮২টি পরিবার। পাশাপাশি ১১৪টি গবাদিপশুরও মৃত্যু হয়েছে।


কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ৩০৪টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন সাতজন।


এ ছাড়া ৮৭টি বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৫১টি ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)।


টানা বৃষ্টিতে ২২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৪২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১টি সেতুও।


এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে নেপালে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রবিবার মানাং জেলায় বড় ধরনের একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ মার্সিয়াংদি নদীতে গিয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য নদীটির প্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও ভূমিধস ও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ এএম

প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম কৌশলগত বোমারু বিমান। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।


রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।


মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না বলে জানিয়েছে রাশিয়া।


রুশ সামরিক বাহিনীর বরাতে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।


রাশিয়ার ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলে তৈরি বিশাল আকারের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন, নিক্ষেপ ও সরবরাহে সক্ষম। বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে ১৯৫২ সালে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বিমানটি এখনো রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়ায় এটি ব্যবহার করা হয়।


রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিন্দা শহরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন।


এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল এমআই-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।


বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।


তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।


ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।


পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়। 


এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

সর্বশেষ সব খবর