যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন, তবে এখনো চুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো আগের প্রস্তাবটি নিয়ে হতাশা প্রকাশের এক দিন পর এ কথা বলেন ট্রাম্প।
গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান ১৪ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানকে পাঠায়। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, তার পাল্টায় ১৪ দফা প্রস্তাব তৈরি করে তেহরান।
ইরানে যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তেহরান চায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। আর ট্রাম্প চাইছেন ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ বন্ধ করুক। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে ইরান। পরে ট্রাম্প প্রশাসনও ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ শুরু করে। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেও নৌ অবরোধ চলতে থাকে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের জাহাজে হামলা, আটক এবং বাধা দেওয়ার ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবটিতে কী আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন কি না।
ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে কী আছে
ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবটি মূলত ওয়াশিংটনের দেওয়া ৯ দফা শান্তি পরিকল্পনার জবাব। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রস্তাবের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দুই মাসের একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। ইরানের এই ১৪ দফা পরিকল্পনা মূলত একটি বিস্তৃত শান্তিকাঠামো, যা শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করছে।
নতুন শান্তি প্রস্তাবে ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চেয়ে যুদ্ধ অবসানের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চায়। এ ছাড়া তারা ৩০ দিনের মধ্যে সব বিষয় নিষ্পত্তি করতে চায়।
নতুন প্রস্তাবে ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, শতকোটি ডলার মূল্যের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, সব শত্রুতা বন্ধ (লেবাননসহ) এবং ‘হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
গত বছরের জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছিল ইরান। দেশটি ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা চায়। ইসরায়েল এর আগে ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় নাশকতা চালিয়েছে।
ট্রাম্প কি এ প্রস্তাব গ্রহণ করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান বাজে আচরণ করলে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা শুরু করবে।
গত শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেও আবার হামলা শুরু করা না–করা প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট আগের মতোই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।
হামলা আবার শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেটা আবারও ঘটার সম্ভাবনা আছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো অবস্থানে’ আছে। তিনি দাবি করেন, ইরান সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কারণ, কয়েক মাসের সংঘাত ও নৌ অবরোধে দেশটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন। কারণ, গত ৪৭ বছরে ইরান মানবজাতি এবং বিশ্বকে যে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তার জন্য যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি তারা।
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মুসগ্রেভ মনে করেন, ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের নতুন প্রস্তাবটি না পড়েই বা এর সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য না নিয়েই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আগের শান্তি প্রস্তাবগুলোতে কী ছিল
ইরানে গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির এক দিন আগে তেহরান একটি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানের ১০ দফা ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব’, তবে ‘যথেষ্ট ভালো নয়’।
২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাবে গত ৭ এপ্রিল ইরান এ প্রস্তাব দিয়েছিল।
ওয়াশিংটনের ওই পরিকল্পনায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ ছিল। তাতে বলা হয়েছিল, এ সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করবে।
ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য বলছে, প্রস্তাবে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা, ইরানের পক্ষ থেকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার স্থায়ী অঙ্গীকার, ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক অবকাঠামোর সব অংশ পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া, হরমুজ প্রণালি আবারও চালু করা এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল। এ ছাড়া এতে জাতিসংঘের সেই ব্যবস্থার অবসান করার কথা বলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।
তবে ইরান এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা বলেছিল, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুনর্গঠিত হয়ে আবারও হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে। এর পরিবর্তে তারা তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল।
বর্তমানে পরিস্থিতি কী
যুদ্ধবিরতি চলতে থাকলেও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার বলেছে, হামলার জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। কারণ, আগের চুক্তিগুলো মানার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনীহা দেখেছিল তারা।
গতকাল রোববার আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, ‘এটার অর্থ একটাই, তা হলো ট্রাম্পকে এখন অসম্ভব এক সামরিক অভিযান পরিচালনা অথবা ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তির মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প সুযোগগুলো কমে এসেছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম গেছে বেড়ে।
ইরানকে চাপ দিতে গত ১৩ এপ্রিল সব ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেল ও গ্যাস–সংকট আরও তীব্র হয়। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ২৯ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৬৫ ডলারের মতো।
ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে ‘খুব লাভজনক ব্যবসা’ বলার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা পণ্যবাহী যান দখল করেছি। তেল দখল করেছি। এটি একটি খুব লাভজনক ব্যবসা। কে ভাবতে পেরেছিল যে আমরা জলদস্যুর মতো আচরণ করব! আমরা কিন্তু কোনো খেলা খেলছি না।’
এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘জলদস্যুতার এক নিন্দনীয় স্বীকারোক্তি’ বলে আখ্যা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি আল–জাজিরাকে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করছে।
ত্রিতা পারসি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল এবং অবরোধ থাকুক বা না থাকুক, তা চলতে পারত।’
পারসি আরও বলেন, ‘নৌ অবরোধ ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং উল্টো এটি কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
তাঁর মতে, নৌ অবরোধ আরোপের আগে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। যদি তিনি সেই অবস্থায় সময়কে কাজে লাগাতেন, তাহলে ইরানের বিপরীতে তিনি অনেক শক্ত অবস্থানে থাকতেন।
ট্রাম্প জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় একটি নৌ চলাচল বিষয়ক জোট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ভাবছেন। এর নাম হতে পারে মেরিটাইম ফ্রিডম কন্সট্রাক্ট (এমএফসি)। এর উদ্দেশ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটের মূল কাজ হবে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা, কূটনৈতিক সমন্বয় করা এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র: আনাদোলু
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ধাপ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ফরম আই-১৩০ দিয়ে পারিবারিক অভিবাসন আবেদন করা।
প্রথম ধাপ আই-১৩০ আবেদন
গ্রিন কার্ডধারী বা আইনগত স্থায়ী বাসিন্দা তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ফরম আই-১৩০, ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ জমা দিতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে বৈধ বিয়ের প্রমাণ, আবেদনকারীর গ্রিন কার্ডের কপি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি দিতে হয়। তবে আই-১৩০ অনুমোদন পেলেই স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। এর পরবর্তী ধাপে অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।
স্পাউস কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে পড়বেন
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ২এ পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণির আওতাভুক্ত। এই শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনটির অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ।
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ২এ শ্রেণির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ সব দেশের জন্য বর্তমান। তবে ভিসা চূড়ান্তভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ প্রযোজ্য। ফলে কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে, তা অগ্রাধিকার তারিখ ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
এরপর ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের প্রক্রিয়া
আই-১৩০ অনুমোদনের পর মামলা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফি, আর্থিক সহায়তার নথি, পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
বাংলাদেশে বসবাসকারী স্পাউসের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী পারিবারিক ভিসার আবেদনকারীদের আর্থিক সহায়তার ফরম, পিটিশনারের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বসবাসের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হয়।
গ্রিন কার্ডধারীর বিদেশে থাকার বিষয়ে সতর্কতা
বিয়ের পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডধারীকেও সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক বিদেশযাত্রা সাধারণত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় সমস্যা তৈরি করে না। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা বা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে রাখার ইচ্ছা না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচিত হতে পারে।
ভিজিটর ভিসায় এনে পরে স্থায়ী করার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ
স্পাউসকে পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এনে পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ ভিজিটর ভিসা সাময়িক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই স্থায়ীভাবে থাকার অভিপ্রায় গোপন করে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভুল তথ্য দেওয়া বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গ্রিন কার্ডধারী পরে নাগরিক হলে কী হবে
আই-১৩০ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় গ্রিন কার্ডধারী যদি পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান, তাহলে তাঁর স্পাউসের আবেদন এফ২এ থেকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ বা আইআর শ্রেণিতে আপগ্রেড করা যায়। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা থাকে না।
নাগরিকত্বের প্রমাণ ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে জমা দিয়ে আবেদনটি আপডেট করতে হয়।
তাই বাংলাদেশে বিয়ের পর স্পাউসকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করা, আই-১৩০ সঠিকভাবে জমা দেওয়া, ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী অগ্রাধিকার তারিখ পর্যবেক্ষণ করা এবং ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে তিন দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পরিবহন এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মাসে কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ইউক্রেনও ভারতের কাছ থেকে এমন একটি প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
কী আছে ভারতের প্রস্তাবে
ভারতের পরিকল্পনার প্রথম দিকটি হলো জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিয়ে ভারতের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটি অন্য কয়েকটি দেশের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের চেয়ে বিস্তৃত।
ইউক্রেনের হাতে আরও তিন প্রস্তাব
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতসহ চারটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। অন্য তিনটি প্রস্তাব গেছে তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
সিবিহার ভাষ্য, ভারতের প্রস্তাব চারটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত। তিনি বলেন, ইউক্রেন বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তবে কোনো চুক্তিতে শুধু স্থল ও আকাশে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় থাকলে হবে না। জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্য প্রস্তাবের সঙ্গে পার্থক্য
ভারতের প্রস্তাবের সঙ্গে তুরস্ক ও মিশরের উদ্যোগের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তুরস্ক ও মিশরের প্রস্তাব মূলত কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই বিষয়কে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রস্তাবের সঙ্গে একত্র করা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ভারতের
ভারত এত দিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। নয়াদিল্লি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে। এর পেছনে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, নয়াদিল্লি এখন শুধু যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে থেমে নেই। রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করছে ভারত।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ও ছিল।
মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা নিতে চায় দিল্লি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ভারতও আলোচনার মধ্যস্থতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নয়াদিল্লির তিন দফা প্রস্তাব বাস্তবে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।
ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস হালজেন
পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। হালজেনের জন্ম বেলজিয়ামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
নিউট্রিনো হলো একটি মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। ভর অত্যন্ত সামান্য, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কণা চারপাশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু সেগুলো দেখা যায় না। কোনো উপস্থিতি জানান না দিয়েই এগুলো পৃথিবী ও মানুষের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে। একেবারে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে একটি নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বা মানমন্দির হলো এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই মহাবিশ্বে প্রাকৃতিক কণা ত্বরক থাকার বিষয়ে ধারণা করছিলেন। এসব ত্বরকগুলো মানুষ নির্মিত যেকোনো কণা ত্বরকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু ত্বরকগুলোর উৎস এখনো রহস্যময়। এগুলো কী, কোথায় আছে এবং এর ভেতরে প্রধানত কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই কণাকে শনাক্ত করার জন্য ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৮৮ সালে একটি রূপকল্প তুলে ধরেন। সেটি অনুযায়ী, যখন একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।
হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে সেই আলোর ঝলকানি শনাক্ত করা যায়। বরফের সুবিধাজনক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এখানকার বরফগুলো অন্য কিছুর উপস্থিতিতে প্রভাবিত হয় না বললেই চলে। এলাকাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় ভূমিকম্পও হয় না।
হালজেন তাঁর রূপকল্প প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত অন্য গবেষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কয়েক বছর পরই বরফের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। এজন্য দক্ষিণ মেরুতে এক ঘন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘আইসকিউব’ মানমন্দির তৈরি করা হয়।
মানমন্দিরটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর গবেষকরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেন। কয়েক বছর পর তারা সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে আসা নিউট্রিনো আবিষ্কারের তথ্যও প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস সন্ধানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা একটি চমৎকার যন্ত্র উপহার দিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবের মাধ্যমে ক্রমাগত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন।
ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইডিএফ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন।
নতুন করে হামলা হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে : ইরান
ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা রোববার জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে আরও সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াল্লা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত সেনা, পাইলট, সহায়ক কর্মী ও লজিস্টিকস সদস্য রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে।
ওয়াল্লা আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত অবনতির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও বজায় রাখা হচ্ছে।
এমন সময়ে এসব প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৭টি শর্ত উপস্থাপন করেছিল ইরান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওই শর্তগুলো মেনে নেয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি