মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বড় আকারে বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে নতজানু করতে পারবেন। তবে আদালতের রায়ের কারণে তিনি তাঁর সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এর মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন চীনকে নতজানু করার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তাঁর সে লক্ষ্য সীমিত হয়ে সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রির মতো কয়েকটি চুক্তির মধ্যে এসে ঠেকেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সমাধানে চীনের সহায়তাও চাইছেন তিনি।
১৪ ও ১৫ মে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা। গত অক্টোবরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত করার পর এটি দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেয়েস বলেন, ‘এক অর্থে এখন ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন, চীনের ট্রাম্পকে নয়।’
রেয়েস আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের এখন পররাষ্ট্রনীতি পর্যায়ে একটি সাফল্য দরকার। এমন একটি সাফল্য, যা দেখিয়ে দেবে যে তিনি শুধু বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতেই ব্যস্ত নন; তিনি বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান।’
ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে। সংক্ষিপ্ত ওই বৈঠকে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন। আর সি চিন পিং বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি থেকে সরে এসেছিলেন।
এর পর থেকে চীন নীরবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও জোরালো করেছে। আর ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতের রায় মোকাবিলা করা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। এ যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর জনপ্রিয়তাও কমে গেছে।
ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে আসন্ন বৈঠক হবে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। দুই নেতা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। ইউনেসকো ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান টেম্পল অব হেভেন ঘুরে দেখবেন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন। তাঁরা একসঙ্গে চা পান করবেন ও মধ্যাহ্নভোজ সারবেন।
তবে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক পর্যায়ে এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সাফল্য আসার সম্ভাবনা কম। মূলত কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু রূপরেখা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে দুই নেতা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধে চলমান বিরতির মেয়াদ আরও বাড়াতে রাজি হবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান টিম কুকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা থাকবেন। ২০১৭ সালে তিনি যখন বেইজিং সফর করেছিলেন, তার তুলনায় এবারের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল আকারে ছোট।
গতকাল সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্য আলোচনা ছাড়াও তিনি বৈঠকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি এবং হংকংয়ে কারাবন্দী থাকা গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের বিষয়টিও তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, চীনে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্দী থাকা দুই মার্কিন নাগরিকের পরিবারও তাঁদের মুক্তির জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে (সি) অনেক সম্মান করি এবং আশা করি তিনিও আমাকে সম্মান করেন।’
একের পর এক যুদ্ধ
ট্রাম্প ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সেখানে বলেছিলেন, তাঁর আরোপিত শুল্ক চীনকে বুঝিয়ে দেবে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ করার দিন শেষ।’
এই শুল্কের জবাবে বেইজিং তাদের বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। এতে পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, এসব খনিজের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর অনেক বেশি নির্ভরশীলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ চাপই ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সমঝোতার পথ তৈরি করে।
এর পর থেকে ট্রাম্প একের পর এক নতুন সংকটে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার নেতাকে তুলে নেওয়া, ন্যাটোর সদস্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো, যা মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দেয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটও তৈরি করে।
গত মাসে রয়টার্স/ইপসোসের করা জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেন না।
এখন ট্রাম্প চাইছেন, চীন যেন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে রাজি করায়, যেন চলমান সংঘাতের অবসান ঘটে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। দেশটি ইরানের রপ্তানীকৃত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতাও।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন উপ–জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাট পটিংগার গত সপ্তাহে তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে বলেছেন, যদিও চীন হয়তো চাইছে, এমন কিছু হোক, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করে দেবে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে তারাও পুরোপুরি মুক্ত নয়।
কোনো চুক্তি হলে তার বিনিময়ে কিছু সুবিধা পেতে চাইবে চীন। আর সি চিন পিংয়ের অগ্রাধিকারের জায়গাটি হলো তাইওয়ান। স্বায়ত্তশাসিত এ দ্বীপ অঞ্চলকে চীন নিজের অংশ বলে দাবি করে থাকে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে চীন আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে। এমনকি শক্তি প্রয়োগের চিন্তাও করতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু তাদের বক্তব্য বা অবস্থান সামান্য বদলায়, তাহলে তাইওয়ান নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। এতে এশিয়ার অন্যান্য দেশও চিন্তিত হয়ে পড়তে পারে। কারণ, তারা যুক্তরাষ্ট্রকেই নিরাপত্তার বড় ভরসা হিসেবে দেখে।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি-পরামর্শ বোর্ডের সদস্য উ জিনবো বলেন, ট্রাম্পের উচিত স্পষ্ট করে বলা, তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করবেন না বা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক এজেন্ডাকে উৎসাহিত করে—এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না।
লোকদেখানো যুদ্ধবিরতি
চীন চায়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যেন আর কোনো পাল্টা বাণিজ্য পদক্ষেপ না নেয়—বিশেষ করে প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা না নেয়। একই সঙ্গে তারা চায় চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি এবং উন্নত মেমোরি চিপের ওপর আগে থেকে থাকা নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হোক। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এমনটাই বলেছেন।
গত অক্টোবর থেকে বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়াচ্ছে। তারা এমন আইন চালু করেছে, যাতে বিদেশি কোম্পানিগুলো যদি চীন থেকে সরিয়ে সরবরাহশৃঙ্খল অন্য দেশে নেয়, তবে তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি বিরল খনিজ রপ্তানির লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও আরও কঠোর করেছে চীন।
জরিপ অনুযায়ী, এখন ৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। এটি গত অক্টোবর মাসে শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশ হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, যদি দুই দেশের সম্পর্ক শুধু স্থিতিশীল থাকে এবং চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের অস্থায়ী বিরতি কিছুটা সময়ের জন্যও বাড়ানো যায়, সেটাকেই ট্রাম্প নিজের জন্য একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখাতে পারেন।
শুধু সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা এবং চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের অস্থায়ী বিরতি কিছুটা সময়ের জন্য বাড়াতে পারলেই ট্রাম্প সেটিকে নিজের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দাবি করতে পারেন।
সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র: আনাদোলু
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ধাপ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ফরম আই-১৩০ দিয়ে পারিবারিক অভিবাসন আবেদন করা।
প্রথম ধাপ আই-১৩০ আবেদন
গ্রিন কার্ডধারী বা আইনগত স্থায়ী বাসিন্দা তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ফরম আই-১৩০, ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ জমা দিতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে বৈধ বিয়ের প্রমাণ, আবেদনকারীর গ্রিন কার্ডের কপি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি দিতে হয়। তবে আই-১৩০ অনুমোদন পেলেই স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। এর পরবর্তী ধাপে অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।
স্পাউস কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে পড়বেন
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ২এ পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণির আওতাভুক্ত। এই শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনটির অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ।
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ২এ শ্রেণির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ সব দেশের জন্য বর্তমান। তবে ভিসা চূড়ান্তভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ প্রযোজ্য। ফলে কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে, তা অগ্রাধিকার তারিখ ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
এরপর ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের প্রক্রিয়া
আই-১৩০ অনুমোদনের পর মামলা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফি, আর্থিক সহায়তার নথি, পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
বাংলাদেশে বসবাসকারী স্পাউসের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী পারিবারিক ভিসার আবেদনকারীদের আর্থিক সহায়তার ফরম, পিটিশনারের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বসবাসের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হয়।
গ্রিন কার্ডধারীর বিদেশে থাকার বিষয়ে সতর্কতা
বিয়ের পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডধারীকেও সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক বিদেশযাত্রা সাধারণত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় সমস্যা তৈরি করে না। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা বা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে রাখার ইচ্ছা না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচিত হতে পারে।
ভিজিটর ভিসায় এনে পরে স্থায়ী করার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ
স্পাউসকে পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এনে পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ ভিজিটর ভিসা সাময়িক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই স্থায়ীভাবে থাকার অভিপ্রায় গোপন করে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভুল তথ্য দেওয়া বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গ্রিন কার্ডধারী পরে নাগরিক হলে কী হবে
আই-১৩০ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় গ্রিন কার্ডধারী যদি পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান, তাহলে তাঁর স্পাউসের আবেদন এফ২এ থেকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ বা আইআর শ্রেণিতে আপগ্রেড করা যায়। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা থাকে না।
নাগরিকত্বের প্রমাণ ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে জমা দিয়ে আবেদনটি আপডেট করতে হয়।
তাই বাংলাদেশে বিয়ের পর স্পাউসকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করা, আই-১৩০ সঠিকভাবে জমা দেওয়া, ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী অগ্রাধিকার তারিখ পর্যবেক্ষণ করা এবং ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে তিন দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পরিবহন এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মাসে কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ইউক্রেনও ভারতের কাছ থেকে এমন একটি প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
কী আছে ভারতের প্রস্তাবে
ভারতের পরিকল্পনার প্রথম দিকটি হলো জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিয়ে ভারতের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটি অন্য কয়েকটি দেশের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের চেয়ে বিস্তৃত।
ইউক্রেনের হাতে আরও তিন প্রস্তাব
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতসহ চারটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। অন্য তিনটি প্রস্তাব গেছে তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
সিবিহার ভাষ্য, ভারতের প্রস্তাব চারটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত। তিনি বলেন, ইউক্রেন বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তবে কোনো চুক্তিতে শুধু স্থল ও আকাশে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় থাকলে হবে না। জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্য প্রস্তাবের সঙ্গে পার্থক্য
ভারতের প্রস্তাবের সঙ্গে তুরস্ক ও মিশরের উদ্যোগের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তুরস্ক ও মিশরের প্রস্তাব মূলত কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই বিষয়কে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রস্তাবের সঙ্গে একত্র করা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ভারতের
ভারত এত দিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। নয়াদিল্লি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে। এর পেছনে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, নয়াদিল্লি এখন শুধু যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে থেমে নেই। রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করছে ভারত।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ও ছিল।
মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা নিতে চায় দিল্লি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ভারতও আলোচনার মধ্যস্থতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নয়াদিল্লির তিন দফা প্রস্তাব বাস্তবে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।
ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস হালজেন
পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। হালজেনের জন্ম বেলজিয়ামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
নিউট্রিনো হলো একটি মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। ভর অত্যন্ত সামান্য, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কণা চারপাশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু সেগুলো দেখা যায় না। কোনো উপস্থিতি জানান না দিয়েই এগুলো পৃথিবী ও মানুষের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে। একেবারে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে একটি নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বা মানমন্দির হলো এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই মহাবিশ্বে প্রাকৃতিক কণা ত্বরক থাকার বিষয়ে ধারণা করছিলেন। এসব ত্বরকগুলো মানুষ নির্মিত যেকোনো কণা ত্বরকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু ত্বরকগুলোর উৎস এখনো রহস্যময়। এগুলো কী, কোথায় আছে এবং এর ভেতরে প্রধানত কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই কণাকে শনাক্ত করার জন্য ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৮৮ সালে একটি রূপকল্প তুলে ধরেন। সেটি অনুযায়ী, যখন একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।
হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে সেই আলোর ঝলকানি শনাক্ত করা যায়। বরফের সুবিধাজনক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এখানকার বরফগুলো অন্য কিছুর উপস্থিতিতে প্রভাবিত হয় না বললেই চলে। এলাকাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় ভূমিকম্পও হয় না।
হালজেন তাঁর রূপকল্প প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত অন্য গবেষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কয়েক বছর পরই বরফের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। এজন্য দক্ষিণ মেরুতে এক ঘন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘আইসকিউব’ মানমন্দির তৈরি করা হয়।
মানমন্দিরটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর গবেষকরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেন। কয়েক বছর পর তারা সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে আসা নিউট্রিনো আবিষ্কারের তথ্যও প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস সন্ধানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা একটি চমৎকার যন্ত্র উপহার দিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবের মাধ্যমে ক্রমাগত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন।
ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইডিএফ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন।
নতুন করে হামলা হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে : ইরান
ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা রোববার জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে আরও সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াল্লা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত সেনা, পাইলট, সহায়ক কর্মী ও লজিস্টিকস সদস্য রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে।
ওয়াল্লা আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত অবনতির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও বজায় রাখা হচ্ছে।
এমন সময়ে এসব প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৭টি শর্ত উপস্থাপন করেছিল ইরান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওই শর্তগুলো মেনে নেয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি