ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ এএম

যুদ্ধ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করাকে রোববার নিজেদের ইতিহাসের ‘উজ্জ্বল মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।


যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খানের মূল্যায়নও একই রকম।


তার ভাষায়, “আমার দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে পাকিস্তানকে এত উঁচু অবস্থানে কখনও দেখিনি।”


পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের অতীত টানতে গিয়ে এই কূটনীতিক বলেন, “২০২২ সালে আমি যখন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ওয়াশিংটনে যাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুব কঠিন। অথচ এখন পাকিস্তান সেই কাজটি করছে, যা করার কথা জাতিসংঘের।”


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাজির হওয়াটা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। কিন্তু দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে বড় ধরনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে।


পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসলেও তেহরান অবশ্য ইসলামাবাদকে খুব একটা ভরসা করে না।


রোববার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই টুইটারে লেখেন, “পাকিস্তান আমাদের ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী। কিন্তু আলোচনার জন্য উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়। মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্যতাও তাদের নেই।


“তারা সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলে না।”


পাকিস্তান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠল, সেই আলোচনায় ‘ড্রপ সাইট’ লিখেছে, এটা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপ ও নানা কৌশলের গল্প। একই সঙ্গে তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর আধিপত্য ধরে রাখার দক্ষতার প্রমাণও।


ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের কাছে আসার ঘটনাক্রম হিসেবে ২০২২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া; ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘কারচুপি করা’ এবং দেশটির সামরিক শক্তিকে আরো ক্ষমতাবান করার বিষয়গুলো সামনে এনেছে ‘ড্রপ সাইট’।


তবে নতুন এই সম্পর্ক আঞ্চলিক রাজনীতির অবয়বে পরিবর্তনের আশা জাগালেও তা দুর্বল ভিত্তির কারণে ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


পাকিস্তানকে নিয়ে এখন যেসব প্রশংসা সংবাদমাধ্যমে আসছে, সেগুলোর কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে ইরান যুদ্ধে তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে। কিন্তু এই গল্পের বুনন শুরু হয়েছে অনেক আগেই।


ইসলামাবাদে বার্নস


২০২১ সালের জুনে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসলামাবাদ সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা— সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস।


ওই সময়ের খবর অনুযায়ী, তিনি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য পুরো একটা দিন অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি।


ইমরান খানের কার্যালয় ফোনে বার্নসকে জানিয়ে দেয়, কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী কেবল তার সমপর্যায়ের নেতার সঙ্গেই কথা বলবেন।


ওই সময় ইমরান খানের সমপর্যায়ের ব্যক্তি ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি ওই বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খানের ফোনালাপের অনুরোধ একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


বাইডেনের এই অস্বীকৃতি ছিল তার আগের প্রশাসনের অবস্থান থেকে অনেকটাই ভিন্ন।


২০১৯ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমরান খানকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও সেই বৈঠক চলে দেড় ঘণ্টার বেশি।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খানের মধ্যে তখন উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছু বিষয়ে মিলও ছিল তাদের মধ্যে।


দুজনই রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে আশি ও নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এছাড়া দুজনই প্রায় একই সময়ে রাজনীতিক পরিচয়ে হাজির হন।


২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও ইমরান খান আবার দেখা করেন। পরের বছরের জানুয়ারিতে তাদের আরেক দফা সাক্ষাৎ হয় হোয়াইট হাউজে।


কিন্তু বাইডেন প্রশাসনের কাছে ইমরান খান ছিলেন ‘পাকিস্তানের ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মাত্র।


দুই দশক ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছিলেন, পাকিস্তান একদিকে তালেবানকে আশ্রয় দেয়, অন্যদিকে উপরে উপরে মিত্রতা দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার সামরিক সহায়তা নেয়।


২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক একাডেমির শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর পাকিস্তাননের সামরিক বাহিনী বেশ সমালোচনায় পড়ে যায়। কারণ সেই অভিযান চালানো হয় ইসলামাবাদকে না জানিয়েই।


২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহল বলতে থাকে, ওয়াশিংটনের আফগানিস্তান ছেড়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা উচিত।


ড্রপ সাইট লিখেছে, একই সময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু ইমরান খানের সরকার সেটি প্রত্যাখ্যান করে।


নীতিগতভাবে ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ— উভয়ের সঙ্গেই একটা কূটনৈতিক সীমারেখা টেনেছিল। কিন্তু ইমরানের খানের এই নীতির কারণে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভাবতে শুরু করেছিল, দেশটি হয়ত আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।


এমন মনোভাবের কারণেই ২০২১ সালের জুলাইয়ে ইমরানের অজান্তেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সিআইএর ইসলামাবাদ স্টেশনের সাবেক প্রধানকে ওয়াশিংটনে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়।


পাকিস্তানের জেনারেলরা যে নির্বাচিত সরকারের বাইরে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেছে, এ ঘটনা ছিল তার প্রাথমিক ইঙ্গিত।


‘সবই ক্ষমা করে দেওয়া হবে’


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মোকাবেলা করাই ছিল তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।


মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।


রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন পাকিস্তান অপ্রত্যাশিতভাবে নিজেকে এই বিভক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আবিষ্কার করে।


ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন রুশ বাহিনী ইউক্রেইনে প্রবেশ করে, সেদিন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত একটি বৈঠক করতে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন ইমরান খান।


সেই বৈঠকের কয়েক দিন আগে বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ফোন করে ইমরান খানকে রাশিয়া সফর বাতিল করার অনুরোধ জানান।


ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপ থেকে জানা যায়, সুলিভান সেদিন ইমরান খানের সফরের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে ইসলামাবাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কতা তোয়াক্কা করেননি।


ওই বৈঠকের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে আনা একটি প্রস্তাবে পাকিস্তান ভোটদানে বিরত থাকে।


ড্রপ সাইট লিখেছে, সবকিছু মিলিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন কূটনীতিকরা গোপনে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের এই বার্তা দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।


২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান।


সেই কথোপকথন পরে ফাঁস হয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।


ফাঁস হওয়া সেই কথোপকথন অনুযায়ী, লু সেদিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন, একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে যদি ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ প্রশমিত করা যাবে, অর্থাৎ ‘সব ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (এই বাক্যটি পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের মুখ থেকে এসেছিল)।


এরপর ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনে একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।


সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার ওয়াশিংটনকে এমন সব সুবিধা দিতে থাকে, যা ইমরান খান প্রত্যাখ্যান করেছিল।


কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তান ইউক্রেইনের জন্য কামানের গোলাসহ বিভিন্ন সামরিক রসদ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।


ফাঁস হওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, এসব অস্ত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এবং তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানের এসব রসদ ইউক্রেইনের অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী যখন ব্যাপকভাবে নির্বাচনে কারচুপি করে ইসলামাবাদে পছন্দের সরকার বসায়, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, কেউই কোনো কথা বলেনি।


পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র


২০২২ সালের ৯ এপ্রিল, যেদিন ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটে, সেদিনই একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল 'শাহীন-৩’। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।


পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভারতকে মাথায় রেখে পরিচালিত হয়। কিন্তু সেদিন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়, সেটি ইসরায়েলেও আঘাত হানতে সক্ষম।


ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষার সূত্র ধরে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবার সামনে আনা হয়।


যে সেনাপ্রধানের হাতে ইমরান খানের পতন ঘটে, সেই কামার জাভেদ বাজওয়ার ২০২২ সালের অক্টোবরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন সফর করেন। সফরটি হয় সেনাপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ মাসে।


সফরকালে বাজওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানসহ বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


সেসব বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, যা ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাবে না।


যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় বাজওয়া এই আশ্বাসও দেন, চীনের কাছ থেকে পাকিস্তান দূরে সরে আসতে চায়।


২০২২ সালের অক্টোবরে দেশে ফেরার পরেই জেনারেল বাজওয়া ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশনের’ (এসপিডি) প্রধানকে ফোন করেন। এসপিডি মূলত পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র তদারকি করে থাকে।


বাজওয়া ও এসপিডি প্রধানের কথোপকথনের বিবরণ সম্পর্কে জানা যায়, জেনারেল বাজওয়া সেদিন তাকে দেশের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের পরিদর্শন ও পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।


পাকিস্তানে এসপিডি প্রধান সরাসরি জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএসসি) কমিটির কাছে জবাবদিহি করেন। এই কমিটি আবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করে, সেনাপ্রধানের অধীনে নয়।


এই যুক্তি দেখিয়ে এসপিডি প্রধান সেদিন সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করেন। অমান্য করার কারণে এটা স্পষ্ট হয় যে, সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন না।


একই মাসের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, "পাকিস্তান সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ। কারণ এই দেশটির কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।"


হুট করে আসা এই বিবৃতি অনেক পর্যবেক্ষককে অবাক করেছিল। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভাষ্য, এই বিবৃতির সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার সম্পর্ক ছিল।


এই ঘটনার এক মাস পর বাজওয়া পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে তার স্থলাভিষিক্ত হন জেনারেল আসিম মুনির, যিনি ২০২৫ সালে নিজেকে 'ফিল্ড মার্শাল' পদে উন্নীত করেন। নিজের জন্য 'চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস' নামে একটি নতুন পদও তৈরি করেন।


এছাড়া সংবিধানে সংশোধনী এনে জেসিএসসির ভূমিকা বিলুপ্ত করেন তিনি, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি আসিম মুনিরকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও দেয়।


আসিম মুনিরের দ্বিতীয় অধ্যায়


আসিম মুনির হলেন ট্রাম্পের ভাষায় ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’। মুনির নিজেও এই উপাধি বেশ উপভোগ করেন। তবে মুনির যে এমন পদে আসীন হবেন, তা কখনোই হিসাবে ছিল না।


২০১৯ সালের এপ্রিলে মুনির যখন দেশের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তা এবং ইরানের রেভলুশনারি গার্ড কোরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছিলেন।


ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের বেলুচ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ নিয়ে ইরানিদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান আসিম মুনির।


কিন্তু বেলুচ অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তান ও ইরানের পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশকে আরো কাছে টানতে পারত। কিন্তু সেটা হতো ইরানকে একঘরে করার মার্কিন পরিকল্পনার পরিপন্থি।


মার্কিন নির্দেশে হোক, কিংবা নিজের সহজাত প্রবৃত্তির কারণে হোক, আসিম মুনির সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে মার্কিনিদের মস্ত বড় উপকার করেছিলেন।


আসিম মুনিরের এই আচরণ নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা ইমরান খানের কাছে নালিশ জানান। সেই নালিশের জেরেই ২০১৯ সালের জুনে ইমরান খান তাকে সরিয়ে দেন বলে ধারণা করা হয়।


আইএসআই প্রধান হিসেবে আসিম মুনিরই সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বাজওয়া তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের তালিকা করেছিলেন, সেখানে আসিম মুনিরের নামই ছিল না।


ইমরান খান পরে অভিযোগ করেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মুনির লন্ডনে যান এবং নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন।


ইমরান খানের মতে, ওই বৈঠক ছিল সেই ষড়যন্ত্রের সূচনা, যাকে তিনি পরে ‘লন্ডন প্ল্যান’ বলে অভিহিত করেন।


বলা হয়, ওই পরিকল্পনাটি ছিল আসিম মুনির, নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তানের উচ্চ আদালতের কিছু বিচারপতির মধ্যকার একটি সমঝোতা, যার অধীনে ইমরান খানের সরকার ও তার দলকে ধ্বংস করার বিনিময়ে আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর আসিম মুনিরকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুর্নীতি, আদালত অবমাননা ও জাতীয় নিরাপত্তার একগুচ্ছ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


২০২৩ সালের অক্টোবরে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার দণ্ড বাতিল হয়ে যায়।


২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার ছোট ভাই শেহবাজ শরিফ আবারও প্রধানমন্ত্রী হন এবং আসিম মুনির হয়ে যান দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। ইমরান খান এখনো কারাগারেই আছেন।


চীনকে ঠেকানো


গত দশকের প্রায় পুরোটা সময় পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ছিল। বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প হিসেবে ২০১৫ সালে চালু হয় ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’।


এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাকিস্তানে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল, যারা কিনা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে হিমশিম খাচ্ছিল।


ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সম্পর্ককে কখনো কখনো ‘সবচেয়ে গভীর সমুদ্রের চেয়েও গভীর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


আসিম মুনিরের অধীনে সেই সম্পর্ক প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।


চীনের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যে ৯০টি প্রকল্প ছিল, তার মধ্যে মাত্র ৩৮টি সম্পন্ন হয়েছে। ২৩টি এখনো নির্মাণাধীন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাজই শুরু হয়নি।


কাজ শেষ হওয়া সর্বশেষ বড় প্রকল্প ছিল ‘গোয়াদার ইস্ট বে এক্সপ্রেসওয়ে’। এটি শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর থেকে পাইপলাইনে নতুন কোনো বড় প্রকল্প যুক্ত হয়নি।


নতুন অর্থায়নের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে চীন সফর করার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ খালি হাতে বেইজিং ছাড়েন।


চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া পরিশোধ না করায় পাকিস্তানের দেনা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যা দুই দেশের দ্বন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পর্দার আড়ালের সম্পর্ক ছিল আরও শীতল। পাকিস্তান বেইজিংকে গোপনে আশ্বস্ত করেছিল যে, তারা চীনকে গোয়াদারের গভীর সমুদ্র বন্দরে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেবে। সেই ঘাঁটির বিনিময়ে বেইজিংয়ের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে পাকিস্তান।


তারা চীনের কাছে দাবি করে, এই অনুমোদনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিশোধ হিসেবে কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়, তবে চীন যেন তার ক্ষতিপূরণ বা সুরক্ষা দেয়।


তারা ভারতের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতায় পাল্লা দিতে চীনের সহায়তাও চান। সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, তারা বেইজিংয়ের কাছে পাকিস্তানের জন্য একটি সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক 'সেকেন্ড-স্ট্রাইক' সক্ষমতা অর্জনের দাবি তুলেছিল। তবে চীন তাতে রাজি হয়নি।


ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়ে ২০২৫ সালের অগাস্টে এক সাক্ষাৎকারে আসিম মুনির বলেছিলেন, "আমরা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর জন্য কোরবানি দেব না।"


তবে নিজেদের স্বার্থে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটাই করেছে।


জোটের জাল


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। তিন বছর আগে ইমরান খানের সরকার এই চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।


অন্যদিকে পাকিস্তানের নতুন সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে তৎপর হয়ে ওঠে।


ট্রাম্প পরিবার যখন ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসায় নামে, ইসলামাবাদও তা অনুসরণ করে ‘পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল’ গঠন করে।


এই কাউন্সিল গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স’ এর শীর্ষ কর্তারা ইসলামাবাদে যান।


২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল পাকিস্তানে পা রাখা সেই প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রধান নির্বাহী এবং স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাচ উইটকফ এবং এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাক ফোকম্যান ও চেজ হিরো।


সফরের শেষ দিকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এই স্মারকের মাধ্যমে পাকিস্তান তার বার্ষিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের একটি অংশ ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ফার্মের মাধ্যমে লেনদেন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।


যখন চীনের ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মার্কিন নির্ভরতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছিল, পাকিস্তান তখন মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে একটি ‘বিরল খনিজ’ চুক্তি ঘোষণা করে।


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই চুক্তিটি হয় সামরিক বাহিনী পরিচালিত ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এবং মিসৌরি-ভিত্তিক ফার্ম ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস’-এর মধ্যে।


এই চুক্তির অধীনে, পাকিস্তানি অ্যান্টিমনি, তামা, টংস্টেন এবং বিরল খনিজ উপাদানের বিনিময়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আসে।


এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন যখন গাজায় তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সন্ধান করছিল, তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী স্বেচ্ছায় সেখানে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।


ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পুরোটা সময় পাকিস্তান প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করেছে। এই চেষ্টায় তারা প্রতিশ্রুতি অনেক দিয়েছে, বাস্তবায়ন করেছে খুবই কম।


ইসলামাবাদ থেকে অনবরত প্রচার চালানো হলেও ইরান যুদ্ধের শান্তি আলোচনা অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।


ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে বাদ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দেওয়া শুরু করেছে।


তবে ট্রাম্প এখনো পাকিস্তান নিয়ে বিরক্ত নন। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা চমৎকার। আমি মনে করি পাকিস্তানিরা দারুণ কাজ করেছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী এক কথায় অসাধারণ।”



সর্বশেষ সব খবর

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনও ভারত খতিয়ে দেখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই এবং নতুন কোনো আপডেট পেলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বান ভারত খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এর আগে এক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।’


একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের মনোভাব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট এবং নতুন করে জ্বালানি সহায়তার অনুরোধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকেও ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।


রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। আর আপনারা যে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধের কথা বললেন, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিজেদের শোধন ক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের সার্বিক প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যালোচনা করা হবে।’


অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।


সরকার বলছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে বিদ্যমান পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সফরের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে পারস্পরিক আস্থা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এসব সম্পর্ক জোরদার করা হবে।


বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এগিয়ে নেয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

মক্কা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট থেকে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এর একটি হলো সীমান্তবর্তী ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ অঞ্চলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত রাশিয়া ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মাঝখানে ছিল। ফলে সেগুলো প্রায়ই মস্কোর চেয়ে বরং তাদের প্রতিপক্ষের জন্য বেশি সমস্যা তৈরি করতো। ইউরোপে দীর্ঘদিন এমন বাফার স্টেটের ভূমিকায় ছিল ক্রিমিয়ান খানাত (বর্তমান ক্রিমিয়া)। সতোরো থেকে ১৮ শতকে চীন সীমান্তে এমন ভূমিকায় ছিল জুঙ্গার খানাত (বর্তমানে জিনজিয়াং প্রদেশ)। এ ধরনের বাফার স্টেট বজায় রাখাটা মস্কোর কৌশলগত নীতির একটি কার্যকর দিক হিসেবে আজও বহাল।


এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো- আত্মরক্ষা ও বিবাদমান অঞ্চল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলা। অর্থাৎ, মস্কো যখন নিজের সীমান্তের কোনো অংশে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তখন বাফার স্টেটগুলো প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারবে। এ থেকে রাশিয়া পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।  


বিশ্বে চলমান সংঘাতের প্রথম ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তখন ক্রিমিয়াকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে জড়ায়। এটি পরে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রথম ফ্রন্ট তৈরির পর পশ্চিমারা তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে মূল লক্ষ্য হতে পারে চীন।


একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনী এবং অন্যপক্ষে ইরান ও পরোক্ষ সমর্থকদের মধ্যকার শত্রুতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রবেশ করেছে। রাশিয়া এই ঘটনাপ্রবাহ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ইউক্রেনীয় ফ্রন্টে তাদের বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আপাতত সীমিত।


এই অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে তা যখন অনিশ্চিত, তখনই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে একটি জোট গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট এরই মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।


এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি উল্টে দেবে না। কিন্তু তারপরও উদ্যোগটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সদস্যরা রাশিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তেমনি মস্কোর পশ্চিমা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টিতে সক্ষম।


অঞ্চলটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটন ১৯৯১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তা ‘মুসলিম ন্যাটোর’ কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কারণ, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। 


এখানকার আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বলা হয়, ইউরোপ ও চীনে জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজেই তাদের তৈরি ‘উন্মুক্ত বিশ্ব ব্যবস্থা’র কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলছে। এর কারণ হলো, অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে চীন ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তুলে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক কাঠামো বজায় রাখার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিগুলোকে (বিশেষ করে চীনকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বেশি অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে।


এ অবস্থায় মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এই জোটের সদস্যদের অভিন্ন স্বার্থ মূলত রাজনৈতিক। তারা একে অপরের প্রভাব ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগিয়ে নিজ অবস্থান শক্ত করতে রাজি হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম। 


ইরান যুদ্ধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ইরান যখন সৌদির ভূখণ্ডে হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া আসেনি। অন্যদিকে তুরস্ক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দূরে থাকছে। 


কেবল সংহতি প্রকাশ বা ঘোষণা দিয়ে একটি টেকসই সামরিক জোট গড়ে তোলা যায় না। ইতিহাস বলছে, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পরিচালনার জন্য জোটে অন্তত একটি প্রধান বা প্রভাবশালী পরাশক্তির উপস্থিতি আবশ্যক। বর্তমানে কেবল একটি জোট এখানে সফল। সেটি হলো- ন্যাটো। এই জোট গঠনের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন কিংবা প্যারিসের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এর বিনিময়ে তারা ইউরোপীয়দের কাছে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার মর্যাদা পেয়েছে।


পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঐক্য নেই। দুই দেশের সরকারের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্য এবং ইরানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্য দেশের নেতৃত্বের অধীনে সঁপে দিতে রাজি নয়।


রাশিয়ার জন্য এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। নতুন জোটের সদস্যরা চাইলে এককভাবে দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বে মস্কোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারত। কিন্তু মস্কোর স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের সমন্বিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম।


এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাও কম। নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একে অপরের সঙ্গে থাকা প্রতিযোগিতামূলক অংশীদারত্বও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মক্কা চুক্তিটি রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার চেয়ে বরং আমেরিকার কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলবে। 


জোটটি যখন আঞ্চলিক স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে শুরু করবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তাই জোটের সদস্যদের বন্ধু বানানোর প্রয়োজন নেই রাশিয়ার। মস্কো ইউক্রেন ফ্রন্টে মনোযোগ দেওয়ার সময় নতুন জোটের সদস্যরা পশ্চিমাদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।


লেখক: তিমোফেই বোরদাচেভ, রাশিয়াভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ভালদাই ক্লাবের কর্মসূচি পরিচালক

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপের ফল প্রকাশ করেছে রয়টার্স।


এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তার জনপ্রিয়তা আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। বর্তমান মেয়াদে এটিই ট্রাম্পের সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। একই সঙ্গে এটি তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের সঙ্গে মিলে গেছে।


জরিপের ফল বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হয়ে যেতে পারে।


ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জরিপে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দীর্ঘায়িত হবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক হয়েছে।


যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তিনি শুরুতে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্পের দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তারা বেশি বিশ্বাস করেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে গেলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।


অভিবাসন ইস্যুতে অবশ্য রিপাবলিকানদের সামান্য এগিয়ে থাকা এখনো রয়েছে। জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। তবে এই ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশীয় পয়েন্ট, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা এ ইস্যুতে ২৬ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।


এই জনমত জরিপের ফল সামনে এসেছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিমধ্যেই খুবই কম। যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে চাপে ফেলতে পারে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল শিক্ষা স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল পড়ালেখা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ (পিএমডিসি) । পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


পিএমডিসির প্রকাশিত এক দাপ্তরিক চিঠির বরাতে আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ আদেশ কার্যকর থাকবে।


সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নীতিগত নির্দেশনা এবং গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত পিএমডিসির বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্ত চিকিৎসায় নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।


পাশাপাশি ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্থগিত রেখে আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পড়াশোনা চলাকালে পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্থানান্তরের সুবিধাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


অন্যদিকে যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে কোর্স শেষ করেছেন, তাদের ডিগ্রি অর্জন এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টি প্রামাণিকভাবে নথিবদ্ধ ও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়া আফগান শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হলে, বিলম্ব করলে বা তথ্য গোপন রাখা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিএমডিসি।


পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার মান ও পেশাগত নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা পিএমডিসি। সংস্থাটির এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশটিতে অবস্থানরত আফগান শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষা অর্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

মর্কিন সেনা

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫৩ পিএম

মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। কোনো ইরানি নারী এ কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে হাতামি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘আর্থিক জিহাদে’ অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এ পুরস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।


হাতামি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো ‘আগ্রাসী মার্কিন সামরিক সদস্যকে’ হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলে তাকে ৩০ হাজার ডলার বা ৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।


তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন হত্যা কিংবা আটকের চেষ্টা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ইরানের সেনাপ্রধান।


হাতামি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি মার্কিন সেনাকে হত্যায় যে অস্ত্র ব্যবহার করবেন, সেটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেওয়া হবে এবং তাকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে একটি পরিকল্পিত জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের কোনো তথ্য নেই। গত এপ্রিলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একজন মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছিল।


এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি আবারও জানিয়েছেন হাতামি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক মাসে হামলা ও পাল্টা হামলা হয়েছে। বর্তমানে সংঘাতের বড় অংশ দক্ষিণ ইরান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।


হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।


এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এর আগে ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘বিপজ্জনক রসিকতা’ না করার সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা বড় ভুল এবং প্রয়োজনে ইরানি যোদ্ধারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিতে পারে।


বর্তমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিহতদের কেউই ইরানের ভেতরে মারা যাননি; জর্ডান ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় একটি হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে তারাপীঠ মন্দিরের কাছে এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে; খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।


এনডিটিভি জানিয়েছে, বীরভূমের মন্দির শহর তারাপীঠের একটি পাঁচতলা হোটেলের নিচতলায় ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় দমবদ্ধ হয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। হোটেলটির নিচতলার অধিকাংশই পুড়ে যায়।


আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “আমাদের এখানে রাতে পাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন তার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন হোটেলের সাজসজ্জার ফাইবার আবরণগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।


“ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা ঘর ছেড়ে বাইরে এসে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। পিছন দিক দিয়ে বের হওয়ার দরজা থাকলেও অন্ধকারের মধ্যে সেটা কেউ খুঁজে পাননি। তারা রিসেপশনের সামনে দিয়ে বের হতে শুরু করলে আগুন দগ্ধ হন।”


হোটেলের উপরের তলাগুলোতে অনেকে আটকা পড়েছিলেন। তবে আগুন দোতালার উপরে উঠেনি। তাই তারা বেঁচে যান। হোটেলটির অধিকাংশ অতিথিই পুণ্যার্থী। তারা তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিতে এসেছিলেন। মৃতদের নাম, পরিচয় জানা যায়নি।


দমকল বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।


ঘটনার খবর পেয়ে নিকটবর্তী থানা থেকে পুলিশ হাজির হয়েছে ও তদন্ত শুরু করেছে।

সর্বশেষ সব খবর