ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও তেহরান ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ আছে।
শুক্রবার ডাক্তারদের এক সমাবেশে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ভালো।”
তিনি বলেন, “পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, আমেরিকা সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”
আল জাজিরা লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মুখে জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওই সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ছাড় দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তির এমন একটি ধারাও তারা দেখাতে পারবে না, যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। এতে সব প্রতিশ্রুতিই অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।”
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির সমঝোতায় পৌঁছলেও কার্যত যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়।
এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শুক্রবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকির জবাবে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইরানের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ব্যাপক। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিধ্বংসী, শাস্তিমূলক ও মারাত্মক জবাব দেবে।”
ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার এবং সমঝোতার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে।
পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বলছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে গোপনে তেলবাহী জাহাজের বহর পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর মানে হল, আমরা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখছি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলেই আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে স্থলভাগের অনেকটা এলাকাও পড়ে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।”
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেন, কোনও দেশ ইরানকে যে কোনও ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন বেসেন্ট।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
আদালত বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি নেওয়া হয়েছিল। ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস গতকাল শুক্রবার এ নীতি বাতিল করে রায় দেন।
বিচারক বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই করে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।
সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক দেশও এ তালিকায় ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। এ কারণেই তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
এ রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
বিচারক ভার্গাস এ রায় দিয়েছেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামে দুটি সংগঠনের করা মামলায়। সঙ্গে মামলায় ছিলেন তালিকাভুক্ত ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা। এ ছাড়া এসব দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাঁদের পক্ষে যেসব মার্কিন নাগরিক অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাঁরাও মামলায় ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারিতে এই নীতি কার্যকর করার সময় বলেছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে একটি কার্গো জাহাজ জিম্মি করেছে জলদস্যুরা। জাহাজটিকে থাকা ১০ নাবিকদের মধ্যে অন্তত ৬ জন ভারতীয়। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘লুতুফ’ নামের জাহাজটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জলদস্যুরা ছিনতাই করে।
সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে তুরস্কের জন্য পাঠানো অস্ত্র ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। সংবেদনশীল তথ্যের কারণে ওই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
জাহাজটিতে ৬ জন ভারতীয় নাবিক ছাড়াও একজন তুর্কি নাগরিক, একজন জর্জিয়ান নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
কর্মকর্তার দাবি, আটজন জলদস্যু জাহাজটি দখল করে পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার গারমালের কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জলদস্যুরা এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ছিনতাই করেছিল।
জাহাজটিতে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো অস্ত্র এবং যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ছিল। জাহাজটির মালিক ‘পোলার মুভমেন্ট শিপিং’নামের একটি প্রতিষ্ঠানের।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভারত ও তুরস্কের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলায় বিয়ের আসরে বরকে দেখার পর বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক কনে। কনের দাবি, আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, আসরে আসা ব্যক্তি তিনি নন। এ ঘটনায় বরযাত্রী ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে আর হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের বুধবারের (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্থানের ছাতারগড় থেকে বরযাত্রী ফিরোজপুরে এসেছিল। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সাতফেরা শুরুর আগেই কনে আপত্তি জানান।
কনে পরিবারের সদস্যদের জানান, বিয়ের আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, সেই ব্যক্তি নয়, অন্য একজনকে বর হিসেবে আনা হয়েছে। তার এ অভিযোগের পর দুই পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিয়ে স্থগিত হয়ে যায়। তবে কনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার।
তাদের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতির সময় দুই পরিবারের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল এবং কনের পরিবারের কাছে বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল।
বরের নানা মহেন্দ্র সিং জানান, বিয়ের মধ্যস্থতাকারী এবং কনের মায়ের কাছেও বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি পরে পুলিশের কাছেও গড়ায়। বরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ফিরোজপুরের গুরু হরসাহাইয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) তেজিন্দরপাল সিং জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। তদন্তের সময় বর ও কনে উভয় পক্ষের পরিবারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, পরে দুই পরিবার নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। তবে বিরোধ মিটলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান আর সম্পন্ন হয়নি।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। দুর্ঘটনার পর এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার বিবিসিকে পুলিশ মুখপাত্র আহমাদ রুফাই জানান, গোরোনিও এলাকার গোরাউয়ের কাছে এখন পর্যন্ত ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও জরুরি সেবাদানকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান রুফাই।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নৌকাটিতে থাকা শিশুরা ধান কাটার কাজে যাওয়া কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে ভ্রমণ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, একটি স্থানীয় মসজিদের সামনে প্রায় ৫০টি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন তারা। মরদেহগুলোর অনেকগুলো মাদুর ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো ছিল এবং দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইজেকিয়েল মানজো বিবিসিকে বলেন, গোরাউ অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে সেখানে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নাইজেরিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি কার্যকরে ঘাটতিকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
এর আগে গত মাসে জিগাওয়া রাজ্যে নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে যাওয়ার পথে কৃষক ও জেলেদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জন মারা যান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাইজার নদীতে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নৌদুর্ঘটনা কমাতে নিরাপদ নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ, নৌপথ খনন, ঘাট ও টার্মিনালে জলপথ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং নৌকার চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব উদ্যোগের অনেকগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন বা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
নাইজেরিয়ার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। অনেক গ্রাম জলপথের কাছাকাছি অবস্থিত, আর দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও সেতুর অভাবে স্থলপথে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় মানুষ ও পণ্য পরিবহনে কাঠের নৌকার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আলাস্কায় একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রত্যন্ত কেপ নিউেনহাম এলাকার একটি রাডার সাইটের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এফএএর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ৪৪১ মডেলের বিমানটি আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ থেকে কেপ নিউেনহামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। গন্তব্যটি অ্যাঙ্কোরেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিকিউরিটি এভিয়েশনের পরিচালিত ওই চার্টার ফ্লাইটে দুই পাইলট ও ছয় যাত্রী ছিলেন।
আলাস্কান কমান্ড জানায়, বিমানটি বেসামরিকভাবে চুক্তিবদ্ধ একটি ফ্লাইট ছিল এবং এতে আটজন কর্মী ছিলেন। পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করে, দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই।
কেপ নিউেনহাম বিমানবন্দরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দরটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি স্থাপনা এবং সেখান থেকে লং রেঞ্জ রাডার সাইটে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই স্থাপনায় কেবল সামরিক ও অনুমোদিত চার্টার ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি রয়েছে।
বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার তদন্ত করবে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এনটিএসবি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আলাস্কা এয়ার ন্যাশনাল গার্ড পরিচালিত আলাস্কা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস বলেন, ‘এটি আমাদের সামরিক পরিবার এবং আমরা যেসব জনগোষ্ঠীর সেবা করি, তাদের জন্য এক মর্মান্তিক ক্ষতি।’ নিহতরা কঠিন পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী ছিলেন বলেও জানান তিনি।
নিহতদের স্বজনদের অবহিত করার পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আলাস্কান কমান্ড।
সূত্র: সিএনএন
ইমরান খান
কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার অভিযোগের পর তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ জানিয়েছে, আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি এখনো পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এটি ইমরান খানের জন্য আদালত থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ইমরান খান অবশ্য এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
ইমরান খানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এর আগে ইমরান খানের একজন আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্যও তার দলকে সতর্ক করেছে আদালত।
ইমরান খান পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা হয়েছে। ইমরান খান এসব মামলাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত বছরের শেষ দিকে পৃথক একটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
ইমরানের কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে তার সমর্থকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: বিবিসি