আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ভবন

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে- তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার সঙ্গে ‘দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করে’।


যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস আইসিসির প্রতি তাদের ‘অব্যাহত এবং অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করার জন্য ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫টি।


অন্যদিকে আইসিসি এ নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, ‘ইতিহাস এই মুহূর্তটির বিচার করবে।’


প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো হলো আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি শৃঙ্খলার ভিত্তির ওপর একটি আক্রমণ। 


আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না। 


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বড় ধরনের আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো আইসিসি।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে আদালতটির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তার জন্য ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে।


তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এসব প্রতিক্রিয়া এসেছে। শুক্রবার শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে প্রচেষ্টার জন্য সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে একটি ‘বিপথগামী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে ‘ধ্বংস’ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আইসিসির সাথে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’ 


যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার আগে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড (ছাড়ের সময়) দিয়েছে, যার মানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এর কার্যক্রমের জন্য অর্থ প্রদান চালিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন উদ্বেগ মোকাবিলার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশগুলোকে সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে এই পদক্ষেপটি খোদ আদালতকেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং আর্থিকভাবে এর কাজ করার সক্ষমতা ধসিয়ে দিতে পারে। 


ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, আইসিসি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা গ্লোবালিস্ট (বিশ্বায়নবাদী)। এরা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতের একটি তদন্তের কারণে তারা ক্ষুব্ধ, যা আদালত ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণেও তারা ক্ষুব্ধ। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোতে এমন কথা বলা হয়নি, এই পদক্ষেপগুলো তুলে নেওয়ার আগে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।


তবে রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প আইসিসিকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে ধ্বংস করে দেব।’  মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিসিকে ব্যাংকিং বা সফটওয়্যারের মতো পণ্য বা পরিষেবা প্রদানে বাধা দেবে।


রুবিও বলেন, আইসিসি এবং এর সদস্য দেশগুলো মার্কিন উদ্বেগের সমাধান করবে এমন আশায় ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেরি করেছিল। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশগুলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে।




ধ্রুব রাঠি

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।


কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করেন ধ্রুব রাঠি। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে। কমিশনের কোনো জবাবদিহিও নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি এখানে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আসিনি।"


ধ্রুব রাঠির সশরীরে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়ে তথ্যনির্ভর ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া এই ইউটিউবারের অনুসারী রয়েছেন লাখো মানুষ।


প্রশ্ন হলো, কে এই ধ্রুব রাঠি? কীভাবে একজন প্রকৌশলের শিক্ষার্থী থেকে ভারতের অন্যতম পরিচিত ইউটিউবার হয়ে উঠলেন তিনি?


ধ্রুব রাঠির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতকে। তিনি একটি হিন্দু জাট পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা মহাবীর রাঠি এবং মা উর্মিলা রাঠি।


ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পারিবারিক পরিবেশ থেকে ধ্রুব রাঠি কঠোর পরিশ্রম, শ্রদ্ধাবোধ ও জানার আগ্রহের মতো মূল্যবোধ অর্জন করেন। সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। হরিয়ানায় কাটানো শৈশব তাঁর ব্যক্তিত্ব ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


১৭ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমান ধ্রুব রাঠি। সেখানে কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কেআইটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা তার জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।


নিজের ওয়েবসাইটে ধ্রুব রাঠি লিখেছেন, "বর্তমানে আমি জার্মানিতে বসবাস করলেও ভারত সব সময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি দেশ হয়ে থাকবে। আমি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করি। আমার কনটেন্টের মাধ্যমে দেশটির অগ্রগতি ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি।"


২০১৩ সালে জার্মানিতে কলেজজীবনে থাকাকালে ইউটিউবে যাত্রা শুরু করেন ধ্রুব রাঠি। শুরুতে প্রযুক্তি ও পরিবেশবিষয়ক নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন তিনি। তাঁর প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ এসব কনটেন্ট তৈরিতে প্রভাব ফেলে।


তার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউব চ্যানেল চালু করার পেছনে শুরুতে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। জ্ঞান ভাগাভাগি করার আগ্রহ থেকেই এর সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।


২০১৪ সালে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের কার্যক্রম ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি ভিডিও প্রথমবারের মতো ভাইরাল হয়। 


ধ্রুব রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিও তার ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি।


পরবর্তী সময়ে তার ভিডিওতে রাজনীতি ও সামাজিক সমস্যা ছাড়াও ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে থাকে। জটিল বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা এবং তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছানো তার কনটেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।


২০১৩ সালে ইউটিউব চ্যানেল চালুর পর ধীরে ধীরে নিজের দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন ধ্রুব রাঠি। ২০১৪ সালে বিজেপি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে তৈরি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক কনটেন্টে তার পরিচিতি বাড়ে।


২০১৮ সালে ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ‘ধ্রুব রাঠি ব্লগস’ নামে দ্বিতীয় ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন তিনি। ২০২২ সালে তার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাবস্ক্রাইবার ও অনুসারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবারদের একজন হিসেবে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।


২০২৩ সালে নাস একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে ‘ধ্রুব রাঠি একাডেমি’ চালু করেন তিনি। সেখানে সময় ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কোর্স নিয়ে আসেন।


ধ্রুব রাঠির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ইউটিউব চ্যানেল ‘@DhruvRathee’-তে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখ। ভ্রমণবিষয়ক চ্যানেল ‘@DhruvRatheeVlogs’-এ সাবস্ক্রাইবার ৩৫ লাখ ৩০ হাজার।


ইনস্টাগ্রামে ‘@dhruvrathee’ অ্যাকাউন্টে তার অনুসারী ১ কোটি ৯১ লাখ। ফেসবুকে ‘@DhruvRathee’ পেজে অনুসারী ৭৬ লাখ এবং এক্সে ‘@dhruv_rathee’ অ্যাকাউন্টে অনুসারী ৩৩ লাখ।


এসব প্ল্যাটফর্মে তার জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তৈরি কনটেন্টের প্রভাব ও বিস্তারের পরিচয় দেয়।


ধ্রুব রাঠি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের রাজনীতি, সরকার, সামাজিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। তবে বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়া তার উপস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নে তার বক্তব্য কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি বলে তার মন্তব্যও গুরুত্ব পেয়েছে।


জার্মানিতে বসবাস করেও ভারতের রাজনীতি ও সামাজিক বিষয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করা ধ্রুব রাঠি এখন দেশটির পরিচিত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন। অনলাইনে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই ইউটিউবারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ তার ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় সেখানে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেওয়া ও আটক করতে শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। এ ঘটনায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার সকালে বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরে সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। এর আগে থেকেই বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ। দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রাজধানীগামী বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।


দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ৭ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।


দ্য হিন্দুকে সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকা অন্তত ১০০ জনকে রাতভর অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ।


ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিমুখী যাত্রা ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।


বিক্ষোভকারীদের রামলীলা ময়দানে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ জানায়, সেখানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন জমা পড়েনি।


গুরুগ্রাম থেকে আটক ধ্রুব রাঠি


বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির। তবে আজ শনিবার গুরুগ্রামে তার বাবার সঙ্গে অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়।


গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, আটকের পর ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামের অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


ধ্রুব রাঠির আটকের বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলটি বলেছে, ‘স্বৈরশাসক তরুণদের ভয় পায়, যারা তার অন্যায়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নীরব থাকতে অস্বীকার করে।’


সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে দলটি।


মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ এএম

ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে প্রচেষ্টার জন্য সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই ঘোষণা আসে। ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিকে একটি ‘বিপথগামী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে ‘ধ্বংস’ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আইসিসির সাথে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।’ 


প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো হলো আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি শৃঙ্খলার ভিত্তির ওপর একটি আক্রমণ। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না। 


যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে এই পদক্ষেপটি খোদ আদালতকেই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে এবং আর্থিকভাবে এর কাজ করার সক্ষমতা ধসিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার আগে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড (ছাড়ের সময়) দিয়েছে, যার মানে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এর কার্যক্রমের জন্য অর্থ প্রদান চালিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটন বলছে, মার্কিন উদ্বেগ মোকাবিলার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার জন্য দেশগুলোকে সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি বিচারের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজে আমাদের মূল স্তম্ভ হলো আইসিসি।  যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং নেদারল্যান্ডস আইসিসির প্রতি তাদের ‘অব্যাহত এবং অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করার জন্য ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫টি।


ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, আইসিসি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা গ্লোবালিস্ট (বিশ্বায়নবাদী)। এরা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতের একটি তদন্তের কারণে তারা ক্ষুব্ধ, যা আদালত ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণেও তারা ক্ষুব্ধ। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোতে এমন কথা বলা হয়নি, এই পদক্ষেপগুলো তুলে নেওয়ার আগে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।


রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প আইসিসিকে আমেরিকানদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে ধ্বংস করে দেব।’ মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিসিকে ব্যাংকিং বা সফটওয়্যারের মতো পণ্য বা পরিষেবা প্রদানে বাধা দেবে।


রুবিও বলেন, আইসিসি এবং এর সদস্য দেশগুলো মার্কিন উদ্বেগের সমাধান করবে এমন আশায় ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেরি করেছিল। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশগুলোকে একটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে।


বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভে সিজেপির নেতাদের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজ

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ এএম

ভারতের নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেশার গ্রুপখ্যাত তরুণদের দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক আটক হয়েছে। তারপরও বিক্ষোভে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন যুব আন্দোলনটির নেতারা। বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।


বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দিল্লির পুলিশ ও প্রশাসন। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছে দিল্লি পুলিশ। এছাড়া, সারাদেশ থেকে দিল্লিগামী একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  


ককরোচ নেতৃস্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হলেও বিক্ষোভ পূর্বানির্ধারিত সময়েই হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। দেশজুড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে যুব আন্দোলনটি, বিরোধী দলগুলো এবং তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো।


ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমি শনিবার দিল্লিতে পৌঁছাব এবং যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের তরুণরা এখন আর আপনাকে ভয় পায় না।’


আন্দোলনের সঙ্গে ইতোমধ্যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী, অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো পরিচিত মুখ যোগ দিয়েছে। এতে আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বার্তায় রাঠী নিশ্চিত করেছেন, আজ দিল্লির বিক্ষোভে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে হওয়া বিক্ষোভেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। 


ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলছে, ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন জেন-জিদের মধ্যে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।


২০২৪ সালে ভারতে ভোটার ছিল অন্তত ৯৬ কোটি মানুষ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রখ্যাত এই দেশটিতে গত বছর থেকে ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়। পরে তা অন্যান্য রাজ্যে সম্প্রসারিত হয়। বহু মানুষ এর আওতায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে জানা যায়, সংশোধনের অনেক সিদ্ধান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাই নিতেন। এ বিষয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কথা আমলে নিতেন না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্যটি উঠে আসার পরপরই তোলপাড় শুরু হয় ভারতে। বিরোধী দলসহ সিজেপি নেমে আসে রাস্তায়।


বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক পর ভোটার তালিকার এই সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি সুবিধা পায়।


বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি: পুলিশ


এদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সিজেপি অনুমতি নেয়নি। বিক্ষোভকারীরা নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


রয়টার্সের হাতে আসা একটি সরকারি নথি অনুযায়ী, রাজধানীতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি ভারত-শাসিত কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকেও পুলিশ সদস্যদের দিল্লিতে আনা হচ্ছে।


সিজেপি জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন রাজ্যে তাদের হাজার হাজার সমর্থককে আটক করছে পুলিশ। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি কিংবা এক্সে প্রকাশিত ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।


নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিবিরোধী এক ডজনেরও বেশি দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কংগ্রেস। বিরোধী জোট শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।


ট্রেন বাতিল, মেট্রোর কিছু প্রবেশপথ বন্ধ


আজ শনিবার নয়াদিল্লিগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ‘বিশৃঙ্খল জনতা’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ মেট্রো ট্রেনের সংখ্যাও কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কিছু মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ রাখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ গতকাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, শনিবার ভোর থেকে নয়াদিল্লিতে যেসব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের পৌঁছানোর কথা ছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এর মধ্যে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসও রয়েছে।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ওই কর্মকর্তা জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল মালিক হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের পরিকল্পনার কথা বলছেন।


হেগসেথ জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামলাটি যে দিন, সময়ে ও স্থানে ঘটেছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন, আনুমানিক সময় ও স্থানও তার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’।


হেগসেথ আরও বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমটি জনসমক্ষে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’


এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, মেজর নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কখন ও কোথায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সচিবকে দেওয়া হয়েছে।


নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।


হামলার পর হাসান দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।


তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।


নাভি পিল্লাই

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি অঙ্গীকার ও দৃঢ় নৈতিক অবস্থান পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। 


নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু হয়। পরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।


নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।