ছবি : সংগৃহীত
সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার জন্য ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন- রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
আজ সোমবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কমিটি বলেছে, দুই অর্থনীতিবিদ সামষ্টিক অর্থনীতির (ম্যাক্রো-ইকোনমি) নতুন কিছু মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলগুলো কার্যকর স্থিতিশীল নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসব মডেলের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে যথাযথ রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির চরম উত্থান-পতন অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য গত বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন আমেরিকান-ইসরায়েলি জোয়েল মোকিয়র, ফ্রান্সের ফিলিপ আগিয়োঁ ও কানাডার পিটার হাউইট।
ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার কিংবা পারমাণবিক সংঘাতের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি। সম্প্রতি মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের এক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।
আগামী ৭৫ বছরে মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে এমন ১৭টি প্রধান ঝুঁকির তালিকার শীর্ষে রয়েছে এআই ও পারমাণবিক সংঘাত। তালিকায় রয়েছে ধনী দেশগুলোর সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু সংকট এবং শৈশবকালীন অপুষ্টির মতো বিষয়গুলোও।
‘দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ঝুঁকিগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কিত। তাই এগুলো একসঙ্গেই মোকাবিলা করতে হবে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি হুমকি মোকাবিলার জন্য ‘বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের পথ’ খোলা রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের পরিচালক ও কমিশন কো-চেয়ার অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মারে বলেন, ‘আজকের বিশ্বনেতাদের গৃহীত সিদ্ধান্তই পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও সার্বিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’
বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকিগুলোর কারণে অসুস্থতা, পঙ্গুত্ব কিংবা অকালমৃত্যুর হার কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তা মডেলিং করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পরিমাপের এই সূচকটি ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স’ (ড্যালি) নামে পরিচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জৈবাস্ত্রের ব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর প্রয়োগ এবং পারমাণবিক যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক খাদ্যসংকট আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে মানবজাতিকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’ এতে আরও বলা হয়, এমন ঘটনার আশঙ্কা কম হলেও এগুলো মানবজাতিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বিশাল পরিমাণ ধূলিকণা বা কণা ছড়িয়ে দিয়ে সূর্যালোক আটকে দিতে পারে পারমাণবিক সংঘাত। এর ফলে বিশ্বব্যাপী চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে এআই-সৃষ্ট জৈবাস্ত্রও মানবজাতির জন্য একইরকম ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ‘দ্য ল্যানসেট’-এর একটি সম্পাদকীয় মন্তব্যেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘এই আশঙ্কাগুলো যদি সত্যি হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মানবজাতির ওপর এক মহাপ্রলয় নামিয়ে আনবে।’
তালিকাভুক্ত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে যেগুলো যৌথভাবে ১০০ কোটিরও বেশি সুস্থ মানুষের জীবনের ক্ষতি করতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বায়ুদূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস), শৈশবকালীন অপুষ্টি, জলবায়ু বিপর্যয়, প্রথাগত যুদ্ধ বা সংঘাত, বৈদেশিক সাহায্য কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, আয়বৈষম্য, নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে পড়া মহামারি, স্থূলতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ধূমপান এবং অসুস্থতাজনিত বার্ধক্য।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি কত বেশি সুস্থ জীবন কেড়ে নিতে পারে শুধু সেটিই দেখা হয়নি, বরং সেই ঝুঁকি সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে কি না তাও বিবেচনা করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) সংক্রামক রোগ মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক ও কমিশন সদস্য ইব্রাহিম আবু বকর বলেন, ‘আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করিনি যে আপনাদের আমরা ভয় দেখাতে চাই, তাই মানবজাতির সামনে কতশত ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে তা দেখাচ্ছি। আমরা এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে শুরু করেছি যে, আপনি যদি আন্তর্জাতিক স্তরের বা জাতীয় পর্যায়ের একজন আইনপ্রণেতা হন, তবে এগুলোই সেই সম্ভাব্য হুমকি যার মুখোমুখি আপনি হতে পারেন। আর আপনি যদি এখনই পদক্ষেপ নেন, তবে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে হুতিপন্থি গণমাধ্যম। তবে ওই হামলার সঙ্গে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন।
এর আগে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। রোববার হুতিদের বিবৃতিতে শনিবারের হামলার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে এর আগে বৃহস্পতিবার একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাব এখনো ইরানের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ধ্রুব রাঠি
গতকাল শনিবার আটকের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাদাপোশাকের ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করেছিলেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয় গুরুগ্রাম পুলিশ।
ধ্রুব রাঠি বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে গেলে হয়তো আমাকে আটক করা হতো। কিন্তু তারা আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় অপহরণ করেছেন। পরে জানতে পেরেছি, বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। একজন অপরাধীর মতো আমাকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
গতকাল শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষকে আটক করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে ধ্রুব রাঠিও ছিলেন। আজ রোববার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ধ্রুব রাঠি কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং ভারতের ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় নিজের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য ওই দিন ভারতের রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধ্রুব রাঠি যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আবারও আটকসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার।
আজ রোববার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এর ফলে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পরিচালিত ওই প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। এর মধ্য দিয়ে এখন প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি হলো।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া সুপারিশ তিনি অনুমোদন করেছেন।
শাহবাজ শরিফের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে সরে থাকার’ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।
কারাবন্দী নেতা ইমরানের মুক্তির দাবিতে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে ৪ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ শুরু করেন। গতকাল শনিবার ছিল লংমার্চের সপ্তম দিন। এখনো লংমার্চ খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশেই অবস্থান করছে।
ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁর দল পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেন। বৈঠকের পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা জোরালো হয়।
এদিকে পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নরের শাসন পাখতুনখাওয়ায় কোনো সমস্যার সমাধান আনবে না।
ছবি : সংগৃহীত
বিমানের ভেতর থেকে আটকের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এ সময় তাদের পৃথক স্থানে রাখা, জোর করে মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সৌরভ দাস। তার আরও সন্দেহ, পুলিশের হেফাজতে তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে, এমনকি ফোনে প্রমাণও সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সৌরভ দাস। তার দাবি, আটকের কোনো লিখিত কারণ বা নথি তাদের দেওয়া হয়নি। ফোন জব্দের রসিদ চাইলে পুলিশ তা দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।
সৌরভ দাস বলেন, ‘পুরো দেশ জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা শুধু সরকারের সামনে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চান। কিন্তু এখন রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে।’
দিল্লিতে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে দাবি করে সৌরভ বলেন, পুরো শহরকে দুর্গের মতো করে রাখা হয়েছে। ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া, দোকানপাট ও সড়কে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে জনসমক্ষে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে সরকার।
বিমান থেকে আটক করার অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, তারা দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ বিমানের সিঁড়িতে উঠে তাদের আটক করে। তার ভাষায়, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তাদের অপহরণ করা হচ্ছে।
সৌরভ বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের আটক করা হতে পারে। কিন্তু এভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, তা ভাবিনি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও বিজয় মালিয়ার নাম উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, একই সরকার তাদের বিমানে করে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, অথচ আন্দোলনকারী নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে।
তিনজনকে রাখা হয় তিন স্থানে
আটকের পর তাদের একসঙ্গে না রেখে পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সৌরভ। তিনি জানান, তাকে আর কে পুরমে রাখা হয়েছিল। আশুতোষ রাঙ্কাকে নেওয়া হয়েছিল বল্লভগড়ে। আর অভিজিৎ দিপকেকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।
সৌরভের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে জোর করে মুঠোফোন নেওয়া হয়। তারা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানাননি; তবে ফোন জব্দের লিখিত রসিদ বা নথি চেয়েছিলেন। পুলিশ তা দিতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের আটকের কোনো কাগজপত্র দেয়নি, আটকের কারণও জানায়নি। আমাদের ফোন জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু জব্দের রসিদ চাইলেও তারা তা দেয়নি।’
আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি
আটক অবস্থায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সৌরভের। তার দাবি, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ জানায়, আটক অবস্থায় তাদের কোনো অধিকার নেই।
সৌরভ বলেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার আইনি অধিকার আমাদের আছে। কিন্তু পুলিশ বলেছে, আটক থাকলে আমাদের কোনো অধিকার নেই। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে অন্যদের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, তা কল্পনা করুন।’
ফোন হ্যাক বা ক্লোন করার সন্দেহ
পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের মুঠোফোনে কী করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌরভ দাস। তার আশঙ্কা, পুলিশ তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করে থাকতে পারে। এমনকি ফোনে কোনো প্রমাণ সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, ‘আমরা সন্দেহ করছি, তারা আমাদের ফোন হ্যাক করেছে অথবা ক্লোন করেছে। হয়তো প্রমাণও বসিয়ে দিয়েছে। আমাদের এই সন্দেহ অমূলক নয়। কারণ, তারা কোনো নথি দেয়নি এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের ফোন তাদের কাছে ছিল।’
তবে ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা কিংবা ফোনে প্রমাণ সংযোজনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়নি।
নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে, অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত করা হয়েছে। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলেও তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির এই আন্দোলন চলছে। ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
নরেন্দ্র মোদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানাচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। রোববার তামিলনাড়ু তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের (টিএনডিআইপিআর) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।
চেন্নাই সফরে মোদির বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। তিনি পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লি বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত চেন্নাই মেট্রোতে ভ্রমণ করবেন এবং পরে একই পথে ফিরে আসবেন। এ ছাড়া শহরের জালাকান্তেশ্বর মন্দিরে পূজা দেবেন তিনি।
এরপর আইআইটি মাদ্রাজের ব্রেন সেন্টার পরিদর্শন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সফরে ১৩ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধন ও হস্তান্তর করবেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেবেন।
এ ছাড়া চেন্নাইয়ের জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোদি। সেখানে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তথ্যসূত্র: এএনআই