• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬, সময় : ১২:৫০ পিএম

২০১৯ সালে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তুরস্ক। এর জেরে কানাডা তখন তুরস্কের অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কানাডার এই নিষেধাজ্ঞার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল তুর্কি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার ও টিএআই।


দুই প্রতিষ্ঠানই ড্রোন তৈরিতে কানাডিয়ান নির্মাতা ওয়েস্ক্যামের তৈরি ইলেকট্রো-অপটিক্যাল (ইও) ও ইনফ্রারেড (আইআর) ক্যামেরা ব্যবহার করতো। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা দেশীয় কোম্পানিসহ বিকল্প সরবরাহকারীর খোঁজে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ ধরনের ক্যামেরা উৎপাদন করে।


সিরিয়ার সেনাদের উপর তুরস্কের ড্রোন হামলা; Image Source: AFP


এই ঘটনার সাত বছর পর তুরস্কের ড্রোন ক্যামেরার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশটি আঙ্কারার ড্রোন কিনতে চাচ্ছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে কানাডার এক কর্মকর্তা বলেন, “নজরদারির উদ্দেশ্যে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়ন সক্ষম ড্রোন কিনতে আগ্রহী কানাডা।”

 

আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ড্রোন নাও কেনা হতে পারে।” তবে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডার মনোভাবে পরিবর্তন স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এ বিষয় নিয়ে কানাডার আঙ্কারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে এক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কানাডার প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ফুর জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে যেসব খাতে আঙ্কারার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত তার দেশ।

 

চলতি সপ্তাহে ডিফেন্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে স্টিফেন সম্ভাব্য সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গোলাবারুদ উৎপাদন, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা খাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা শুধু প্রস্তুত পণ্য কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, বরং যৌথ উন্নয়ন কর্মসূচিও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাতে কানাডা শূন্য থেকে শুরু না করে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে চায়, সেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আঙ্কারা সাধারণত এমন ধরনের ব্যবস্থার প্রতি উন্মুক্ত। অতীতে তুর্কি কোম্পানিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদনে একই ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে।

ভরসা কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর

 

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র অটোয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে উভয়পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।



কানাডার অবস্থান সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, “তুরস্কের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো। কারণ তার কারণেই অটোয়ার মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে।” ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী এখন আর ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া নিরাপত্তা ছাতার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছেন না।



ওই কর্মকর্তা বলেন, “কানাডিয়ানরা আর মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তারা বৈচিত্র্য আনতে চায়।”



কানাডা ইতোমধ্যে ন্যাটোর দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এছাড়া দেশটি ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলে একটি ড্রোন উদ্ভাবনকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে, যার জন্য তিন বছরে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

 

 





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

নেপালে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও এর জেরে সৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগের ভয়াবহ নানা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।  


সংবাদ সংস্থা পিটিআই নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৮২টি পরিবার। পাশাপাশি ১১৪টি গবাদিপশুরও মৃত্যু হয়েছে।


কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ৩০৪টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন সাতজন।


এ ছাড়া ৮৭টি বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৫১টি ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)।


টানা বৃষ্টিতে ২২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৪২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১টি সেতুও।


এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে নেপালে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রবিবার মানাং জেলায় বড় ধরনের একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ মার্সিয়াংদি নদীতে গিয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য নদীটির প্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও ভূমিধস ও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ এএম

প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম কৌশলগত বোমারু বিমান। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।


রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।


মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না বলে জানিয়েছে রাশিয়া।


রুশ সামরিক বাহিনীর বরাতে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।


রাশিয়ার ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলে তৈরি বিশাল আকারের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন, নিক্ষেপ ও সরবরাহে সক্ষম। বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে ১৯৫২ সালে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বিমানটি এখনো রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়ায় এটি ব্যবহার করা হয়।


রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিন্দা শহরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন।


এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল এমআই-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।


বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।


তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।


ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।


পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়। 


এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।


ঈদে ছুটি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ায়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুসলিমদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর আগে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির আইনে দুই ঈদের পৃথক স্বীকৃতি ছিল না।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ শীর্ষক অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ (এবি ২০১৭)-এ স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি বিলটি উত্থাপন করেন।


তবে এই স্বীকৃতির অর্থ ঈদের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি দপ্তর, স্কুল, আদালত, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে- এমন নয়। আইনে সরকারি ক্যালেন্ডারে ঈদকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মী, স্কুল জেলা ও কমিউনিটি কলেজের জন্য কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


নতুন আইনে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনকে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ঈদের তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি তারিখের পরিবর্তে ইসলামি মাসের তারিখকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।


আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এটি মূলত বেসামরিক বা সরকারি ক্যালেন্ডারভিত্তিক স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আচার বা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না।


মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন আইনে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। 


ফলে ঈদের দিন ক্লাস, পরীক্ষা বা অন্য কোনো শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। 


তবে স্কুল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। একইভাবে কমিউনিটি কলেজগুলোও স্থানীয় চুক্তির মাধ্যমে ঈদের দিন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে।


২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাট হ্যানি এবি ২০১৭ উত্থাপন করেন। বিভিন্ন কমিটির অনুমোদনের পর ২৬ মে অ্যাসেম্বলিতে বিলটি ৬৪-১ ভোটে পাস হয়। 


পরে সিনেটের অনুমোদন এবং সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতির পর ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এতে স্বাক্ষর করেন।


আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন ও আইশা ওয়াহাবসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। কেয়ার-ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিলও বিলটির পক্ষে কাজ করেছে।


নতুন আইনের ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনের অনুপস্থিতির জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি হলো এবং সরকারি কর্মীদের জন্যও ঈদের স্বীকৃতি সরকারি কাঠামোয় যুক্ত হলো। স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয়ভাবে ঈদের দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে ঈদের স্বীকৃতি পাওয়ার পরও আদালত, সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি বা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২০ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি বাংলাদেশে আসেনি। তবে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ।


পাকিস্তানের দাবি, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়। 


আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।


হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।


এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।


বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


এদিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।


কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।


একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা। 


তবে রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।


আমেরিকা যখন ইরানের বিমান খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাফল্য উদযাপন করছে, ইরান অপরদিকে দাবি করছে- তারা শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।


সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে আমেরিকা ইরানের পুরো বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে "অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ" করা। ওয়াশিংটন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল নিয়ম মেনে চলার জন্য। 


এরপর বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সারাবিশ্বে ইরানের সমস্ত এয়ারলাইন্সের "কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।'


তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা অবতরণ করে, তবে আপনি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণ পরিষেবা দিতে পারবেন না, এমনকি তাদের কাছে টিকিট বিক্রি পারবেন না- অন্যথায় আপনাকে ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।'


মার্কিন এ পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে তেহরান সোমবার জানায়, তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তেহরানের ফ্লাইট অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর 


তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।


নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনের দৈনিক গড় ফ্লাইট সংখ্যা (৮০ থেকে ৯০টি)-র তুলনায় এটি অনেক কম। ইরানের প্রধান দুটি এয়ারলাইন্স- জাতীয় পতাকাবাহী 'ইরাম এয়ার' এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন 'মাহান এয়ার' এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


রবিবার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৫টি মাহান এয়ার এবং ২টি ইরান এয়ার পরিচালনা করেছে। অথচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তারা প্রত্যেকে গড়ে প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। এই পরিসংখ্যানটি বেসেন্টের দেওয়া তথ্যের (যিনি বলেছিলেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে) চেয়ে বেশি, তবে তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি করা ৬০টি ফ্লাইটের চেয়ে কম।


বিমানবন্দরের পরিচালককে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, 'এখনও ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে।' 


চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র বেইজিং মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে "অবৈধ এবং একপাক্ষিক" হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাহান এয়ারের ফ্লাইটগুলো আগের মতোই চীনের বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত বজায় রেখেছে।


রাশিয়া এবং পাকিস্তানেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে, যদিও কোনো দেশই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।


তবে মাহান এয়ার জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা তুরস্কে তাদের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকাবাহী ইরান এয়ার ইস্তাম্বুলে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে, পাশাপাশি ইরানের আরও কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন্স তুরস্কের অন্যান্য শহরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ এবং মালয়েশিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রয়োগ করা হয়নি, যেখানে মূলত ইরানের ছোট এয়ারলাইন্সগুলো সেবা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, তা তারা এখনো ঘোষণা করেনি।


গাল্ফ বা পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকায় যেতে ইচ্ছুক ইরানি যাত্রীদের জন্য অন্যতম প্রধান সংযোগকেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ডে ইরানের সব ধরনের আসা-যাওয়ার ফ্লাইট "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" স্থগিত করেছে। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশনের ডিরেক্টরেট জেনারেলের একটি সূত্র সোমবার এএফপি-কে জানান, সাত মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর কুয়েতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও তাদের বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। ইরানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'আইএসএনএ' জানিয়েছে, ইরানি ফ্লাইটগুলো এখন আর আজারবাইজান ও জর্জিয়া এবং ইরাকে যেতে পারছে না। তবে ইরাক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ছাড় চাইছে ইরাক। ইরাক সরকার শনিবারে জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে বলা হয়েছে, 'ইরাকের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে এসব বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ইরাক সরকার মার্কিন পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করছে।' 


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা  হয়, একটি ছাড় পেলে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসহ মানবিক কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।


ইরানি এয়ারলাইন্সগুলো মূলত ইরাকি শিয়া পুণ্যার্থীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে কিংবা ইরানিদের ইরাকের তীর্থস্থানগুলোতে যাতায়াতের সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া এ ফ্লাইটগুলো ইরানে পড়তে যাওয়া ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের যাতায়াতে সাহায্য করে।