গত ৯ মে রাশিয়ার মস্কো শহরের কেন্দ্রে ক্রেমলিন প্রাচীরের পাশে অবস্থিত অজ্ঞাত সৈনিকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৯ মে, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ পিএম

ক্ষমতা ও শক্তিকে বশে রাখতে বার্ধক্যের সঙ্গেই যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। 


বৃদ্ধ হতে চান না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বার্ধক্যকে থামিয়ে দিতে চান একই জায়গায়। বরং বয়সের কাঁটা ঘুরবে বিপরীতে। বার্ধক্যের দোরগোড়ায় আসামাত্রই জীবনের চাকা মুখ ঘুরিয়ে গড়গড়িয়ে পিছন দিকে চলবে। অর্থাৎ, ফিরে যাওয়া যাবে যৌবনে।


বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে নির্দেশ জারি করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুবক হওয়ার ওষুধ আবিষ্কার করতে হবে। এজন্য মোটা অঙ্কের তহবিল বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। 

 

গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের এক সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। যেখানে তিনি বলেছিলেন, একদিন মানুষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করে অমরত্ব লাভ করতে পারবে। অনেকে এটাকে বয়স্ক দুই নেতার অদ্ভুত খোশগল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।


 কিন্তু বাস্তবে এই কথোপকথন রাশিয়ায় ক্রেমলিন-সমর্থিত এক বড়সড় দীর্ঘায়ু (লংজেভিটি) এজেন্ডার প্রতিফলন। যা এখন রাশিয়ার বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। সিলিকন ভ্যালির জেফ বেজোস, স্যাম অল্টম্যান ও পিটার থিয়েলের মতো পুতিনও দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য-বিরোধী গবেষণায় আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন।

 

রাশিয়ায় এটি এখন রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট একটি বড় প্রকল্প বা কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। যেখানে অর্গান প্রিন্টিং তথা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি, মিনি-পিগের মাধ্যমে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন এবং চরম ঠান্ডায় শরীরের এক্সপোজারের মতো বিভিন্ন পদ্ধতিতে বার্ধক্য ধীর করার চেষ্টা চলছে।


গত মাসে রুশ সরকার জানায়, ‘নতুন স্বাস্থ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি’ উদ্যোগের অধীনে বিজ্ঞানীরা কোষীয় বার্ধক্য ধীর করার জন্য জিন থেরাপি তৈরি করছেন। প্রকল্পটি পুতিনের বার্ধক্য ঠেকানোর প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত যেখানে তিনি সম্প্রতি ২৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন।

 

উপ-বিজ্ঞানমন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি এই প্রকল্পকে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল পন্থাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন। কর্মকর্তারা ল্যাবে তৈরি অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়েও গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন— যা পুতিন বেইজিংয়ে উল্লেখ করেছিলেন।

 

২০২৪ সালে চালু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য এই দশকের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৭৫ হাজার জীবন বাঁচানো। সমালোচকরা বলছেন, এই সংখ্যাটি ইউক্রেনে রুশ সেনাদের আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রায় মিলে যায়।

 

প্রকল্পটি বায়োপ্রিন্টিং (জীবন্ত টিস্যু ৩ডি প্রিন্টিং) এবং জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের ওপর জোর দিচ্ছে। এতে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত মিনি-পিগের ভিতরে মানুষের উপযোগী অঙ্গ বড় করা হয়।

 

গবেষকরা মানুষের কার্টিলেজ ও ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি ছাপানোয় অগ্রগতির দাবি করেছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ পুরো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই রকম সময়সীমা পিগ-জাত অঙ্গের ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে। ক্রেমলিন বলছে, একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সমর্থন রয়েছে এবং এটি একটি সমন্বিত জাতীয় প্রচেষ্টা।


এই উদ্যোগের মূল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন পুতিনের মেয়ে মারিয়া ভোরন্তসোভা (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এবং জেনেটিক্স কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত) এবং পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক, যিনি কুর্চাতোভ ইনস্টিটিউটের প্রধান। তাকে এই উদ্যোগের মূল বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি হিসেবে দেখা হয়।

 

কোভালচুক বলেছেন, ভবিষ্যতের বিজ্ঞান মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রমাগত মেরামত ও প্রতিস্থাপন সম্ভব করে তুলবে। অমরত্বকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন হলেও, মানুষের শরীর মেরামতের ক্ষমতা ক্রমশ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

 

পশ্চিমা দেশে যেখানে টেক বিলিয়নিয়াররা এ ধরনের গবেষণা অর্থায়ন করেন, সেখানে রাশিয়ার এই কর্মসূচি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে খুব কম পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশ করতে পেরেছে। অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, অগ্রগতির দাবিগুলোকে প্রমাণিত ফলাফলের চেয়ে আকাঙ্ক্ষা হিসেবেই দেখা উচিত।

 

বায়োপ্রিন্টিংয়ে কাজ করা রুশ গবেষক আলেকজান্ডার অস্ট্রোভস্কি বলেন, বিজ্ঞান একা এগোতে পারে না। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সীমিত হয়ে যাওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত আশাবাদী ফলাফল উপস্থাপন করতে পারেন।


কোভালচুক দীর্ঘায়ু গবেষণাকে পশ্চিমের সঙ্গে সভ্যতার সংঘাত হিসেবেও দেখেন। ২০১৫ সালের এক বক্তৃতায় তিনি ভবিষ্যতে ‘দাসসুলভ মানুষ’ তৈরির আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। তিনি কোভিড-১৯ মহামারিকে পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করেও দাবি করেছেন।

 

পুতিনও কখনো কখনো এমন বক্তব্য দিয়েছেন। কোভালচুক সোভিয়েত আমলের পশ্চিমা ষড়যন্ত্র নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোকে প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করেছেন। পুতিনও বলেছেন, এসব কাজ তাঁকে কেজিবিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।

 

আরেকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন ভ্লাদিমির খাভিনসন। তিনি পশুর টিস্যু থেকে তৈরি পেপটাইড-ভিত্তিক বার্ধক্যবিরোধী চিকিৎসার জন্য পরিচিত। পুতিনের কাছ থেকে বড় রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খাভিনসন একবার বলেছিলেন, নেতাদের আয়ু বাড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব এবং মানুষ ১২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তিনি ২০২৪ সালে ৭৭ বছর বয়সে মারা যান।

 

যদিও খাভিনসন ও কোভালচুক যোগ্য বিজ্ঞানী, সমালোচকরা বলছেন রাশিয়ার গবেষণা পরিবেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ফলাফল খুব কম উৎপাদন করছে। ইউক্রেন আক্রমণের পর দেশ ছাড়া অনেক গবেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং সহযোগিতা কমিয়েছে।

 

পুতিন প্রায়ই পশু শিকার, হকি ও মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও সক্রিয়তার ছবি তুলে ধরেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলেন, এর পেছনে বার্ধক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে— বিশেষ করে কোভিডকালে কঠোর বিচ্ছিন্নতা ও লম্বা টেবিল এই সতর্কতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।


পুতিনের চেহারার পরিবর্তন নিয়ে কসমেটিক প্রসিডিউর নিয়েও জল্পনা চলছে। তার ঘনিষ্ঠ অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সত্তরের দশকে, যা রাশিয়ার রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির বার্ধক্যকেই প্রতিফলিত করে।

 

রাশিয়ার এই দীর্ঘায়ু নিয়ে মনোযোগ সোভিয়েত আমলের জীবন বাড়ানোর ব্যর্থ কিছু পরীক্ষার কথাও মনে করিয়ে দেয়। আধুনিক গবেষণা সত্ত্বেও দেশটির গড় আয়ু এখনও পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পুরুষদের গড় আয়ু ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক নিচে। 

 

শেষ পর্যন্ত ক্রেমলিনের আয়ু বাড়ানোর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইতিহাসের সব শাসকদের সামনে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেই মৃত্যুর সীমাকেই চ্যালেঞ্জ করছে। 

 

তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৪ পিএম

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।


হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।


তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।


প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।


মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।


এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।


ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।


সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।


স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৯ পিএম

চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। তার আগে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।


তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।


চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।


তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।


পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক একটি গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।


এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। 


শুক্রবার (২ অক্টোবর) তারা জানিয়েছে, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, এই ঘটনা নিয়ে যেসব দাবি বা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।


এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী কাবা শরিফের (গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা) দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করেছিল।

সর্বশেষ সব খবর

ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ এএম

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।



সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।


৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।


চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সূত্র : সিবিএস নিউজ

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন

সর্বশেষ সব খবর