ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানুষ গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ উপভোগ করেছেন। বিরল ও অনন্য এ মহাজাগতিক ঘটনা কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। দেশটির স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর এ গ্রহণ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ এলাকা থেকেই দেখা যায়, সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়েছে।
তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এসব অঞ্চলের মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হন। ফলে সেখানে নেমে আসে অনেকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সমবেত বিশাল জনতা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখে বিস্ময় ও উল্লাসে ফেটে পড়ে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মতে, মহাবিশ্ব যে কতটা ‘বিস্ময়কর’, এ ঘটনা তা আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি শুরু হয়েছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে। ভীষণ দুর্গম ও নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে মানুষের আনাগোনা যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ।
তবে দ্রুতই সূর্যগ্রহণের পথ উত্তর মহাসাগর দিয়ে ঘুরে সন্ধ্যার শুরুতে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। এরপর দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে যুক্তরাজ্যের মানুষও মহাজাগতিক এ বিস্ময়ের আংশিক রূপ দেখার সুযোগ পায়।
উত্তর স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় ছয়টার দিকে এ আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে এটি দেখা যায় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে।
সূর্যগ্রহণের শুরুর দিকে বিষয়টি একেবারেই টের পাওয়া যায়নি। তবে যেসব এলাকার আকাশ মেঘমুক্ত ছিল, সেখানকার মানুষ ধীরে ধীরে চাঁদের আড়ালে সূর্যের একাংশ ঢাকা পড়ার দৃশ্যটি লক্ষ করেন।
মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশির ভাগ এলাকার আকাশ ছিল চমৎকার পরিষ্কার। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা টানা এক ঘণ্টা ধরে সূর্যের ওপর দিয়ে চাঁদের ধীরগতিতে এগিয়ে যাওয়ার এক অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পান।
উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আকাশ তুলনামূলক মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবে তা সত্ত্বেও বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের ঢল নামানো ঠেকানো যায়নি।
কেউ কেউ আগেভাগেই বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মহাজাগতিক ঘটনাটির ঠিক আগের দিনগুলোতে চোখের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি এই চশমার বেশ সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে চশমা বিক্রির দোকান, হার্ডওয়্যারসামগ্রীর দোকান, এমনকি বেকারিতে রাখা চশমাগুলোও নিমেষে শেষ হয়ে যায়।
অবশ্য এ চশমা-সংকট মানুষকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। সূর্যগ্রহণ নিরাপদে দেখার জন্য অনেকেই রান্নাঘরের ঝাঁজরি, কর্নফ্লেক্সের খালি বাক্স ও বিশেষ ধরনের কাগজের টুকরা ব্যবহার করেন।
মূলত চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তখনই সূর্যগ্রহণ ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদ সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়। ফলে আমাদের গ্রহের ওপর সাময়িকভাবে ছায়া পড়ে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ খুব ধীরে অথচ নিশ্চিতভাবে সূর্যের আরও বেশি অংশ ঢেকে দিতে থাকে। এ সময় পুরো প্রক্রিয়া দেখতে অনেকটা লাইটের আলো কমিয়ে দেওয়া রেগুলেটর বা ডিমার সুইচের মতো কাজ করে।
যুক্তরাজ্য থেকে দেখার সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি সরলরেখায় ছিল না। এর ফলে সেখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকেই চাঁদের ছায়ায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকা পড়ার চিত্র চোখে পড়ে। ১৯৯৯ সালের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। তবে কর্নওয়ালে সূর্য ঢাকা পড়ার এ হার ছিল আরও বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশ।
এদিকে স্পেনের কিছু অংশের মানুষ আরও বেশি জাদুকরি অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটায় (স্পেনের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটা) সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একদম নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় চলে আসে। আর এতেই দেখা পাওয়া যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণের।
চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও এ বিরল ঘটনাটি দেখতে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের আ করুনা শহরে এসেছিলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সেই মুহূর্তে সবাই উল্লাস করছিলেন এবং এই অসাধারণ দৃশ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
মহাবিশ্ব সত্যিই বিস্ময়কর
সাধারণত পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১৮ মাস বা দেড় বছর পরপর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি এলাকায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। হিসাব অনুযায়ী, একই স্থানে সাধারণত প্রায় ৪০০ বছরে মাত্র একবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের নির্দিষ্ট গতিপথে সমবেত হওয়া মানুষ সেই বিরল ঘটনারই সাক্ষী হয়েছেন। এ সময় চাঁদের পেছন থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের লালচে আভা দৃশ্যটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।
প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুক চিরে বেরিয়ে আসা সেই আলো আসলে ছিল সূর্যের করোনা বা আলোকবলয়। এটি মূলত হাজার হাজার মাইল দূরের মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসের তীব্র প্রবাহ।
আর যাঁরা খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করছিলেন, তাঁরা হয়তো সূর্যের অশান্ত চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি হওয়া গ্যাসের ছোট ছোট গোলাপি বলয়ও দেখতে পেয়েছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় প্রমিনেন্স বা সৌরশিখা। এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য চাঁদ তার আড়ালে লুকিয়ে রাখা সূর্যকে আবারও দৃশ্যমান করতে শুরু করে। এ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হয়েছিল দুই মিনিটের কম। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে উপস্থিত হওয়া অনেকের জন্যই মুহূর্তটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আমাদের এ পৃথিবীতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারার পুরো বিষয় আসলে এক অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক কাকতালীয় ব্যাপার। সূর্য আমাদের পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার (৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল) দূরে অবস্থিত, যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের ঠিক ৪০০ গুণ বেশি। আবার কাকতালীয়ভাবে চাঁদের ব্যাসও সূর্যের ব্যাসের চেয়ে ঠিক ৪০০ গুণ ছোট।
আর এ নিখুঁত অনুপাতের কারণেই আমাদের আকাশ থেকে চাঁদ ও সূর্যকে একদম একই আকারের মনে হয়। চাঁদের আকার যদি সামান্য ছোট হতো কিংবা এর কক্ষপথ পৃথিবী থেকে আরেকটু দূরে থাকত, তবে আমরা মানবজাতি কখনোই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এ অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য দেখতে পেতাম না।
বিজ্ঞানীদের মতে, আমরা খুব দ্রুতই, অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের এক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ফলে সূর্যগ্রহণপ্রেমীরা কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবেন।
তবে এই সূর্যগ্রহণের কোনোটিই যুক্তরাজ্য থেকে দেখা যাবে না। ২০২৭ সালে দেশটি থেকে বড়জোর একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যেখানে কিছু অঞ্চলে সূর্যের মাত্র ৪৫ শতাংশ ঢাকা পড়বে। এ পরিস্থিতিতে আজকের চেয়ে বড় বা পূর্ণাঙ্গ কোনো সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০৮১ সালে যুক্তরাজ্যে এমন একটি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ অংশ ঢাকা পড়বে। আর যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে ২০৯০ সালে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগির হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছের এই পাহাড়ের গভীরে তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী সুরক্ষিত স্থাপনা। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানে। এর আগে গত জুলাইয়েও তিনি স্থাপনাটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তিনি ইরানকে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছিলেন।
ট্রাম্পের নতুন হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র; দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কোথায়
ইরানে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত। নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থেকে এর দূরত্ব মাত্র প্রায় দুই কিলোমিটার।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়টির ভেতরে মাটির কয়েক শ মিটার নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। মূল কক্ষগুলো অন্তত ১০০ মিটার গভীরে বলে ধারণা করা হয়। ফলে শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমা দিয়েও স্থাপনাটিতে হামলা চালানো কঠিন হতে পারে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, স্থাপনাটি এখনো নির্মাণাধীন এবং চালু হয়নি। তবে পশ্চিমা কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে বিকল্প হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর জন্য এই স্থাপনা তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থাপনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি এখনো প্রায় অক্ষত। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন তখন হামলার লক্ষ্য হয়নি। চলমান সংঘাতেও স্থাপনাটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনকেন্দ্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম পুনর্গঠনের জন্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেখানে সেন্ট্রিফিউজের যন্ত্রাংশ তৈরি, সংযোজন কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাইয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল যে গত বছরের শেষ দিকে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কতটা ক্ষতি হয়েছে
২০২৫ সালের হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে চালু থাকা প্রায় ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়েছে বলে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনকেন্দ্র এবং ইরানের একমাত্র ইয়েলোকেক উৎপাদনকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৬ সালের মার্চে নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার প্রবেশপথের ভবনগুলোতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে স্থাপনার ভেতরে অতিরিক্ত ক্ষতির প্রমাণ তারা পায়নি।
ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার টানেলের প্রবেশপথ এখনো বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো কার্যক্রম চলছে- এমন প্রমাণ নেই।
ট্রাম্পের দাবি নিয়ে প্রশ্ন
২০২৫ সালের জুনের হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করা হয়েছে।
তবে কয়েক দিন পর ফাঁস হওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছয় মাসেরও কম সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত ৯০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।
তবে হামলার পর থেকে কোনো পরিদর্শক ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে ইরানের মজুত ইউরেনিয়ামের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু হামলার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আগের তুলনায় কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসির মতে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে তাত্ত্বিকভাবে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলে তা ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে এই মজুত বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
এ কারণেই অক্ষত ও গভীর ভূগর্ভে নির্মিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকির ফলে স্থাপনাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের দশম দিনের মাথায় আজ শনিবার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, ‘এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁরা দুজনই নেপালের নাগরিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন। দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারেও অভিযান চলছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গতকাল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছিলেনন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।
২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ হন শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী। তাঁদের মধ্যে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলছে, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।
ছবি : সংগৃহীত
ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়ে থাকার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজন। কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শহরজুড়ে হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় নিউমার্কেট এলাকা ছাড়াও ঠাকুরপুকুর ও মুকুন্দপুরের বহু হোটেল, গেস্টহাউস ও লজে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরের হাসপাতাল এলাকায় আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম সংকটে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কম খরচের অধিকাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেসব হোটেল খোলা রয়েছে, সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক বাংলাদেশি রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের আশপাশের ফুটপাত কিংবা রাস্তার ধারের বিভিন্ন স্থানে রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও।
বর্ষার মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মশার উপদ্রবের পাশাপাশি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কার মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের স্বজনদের। অনেকের জন্য পর্যাপ্ত স্নান ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। ফলে তাদের হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু রাস্তার পাশে রাত কাটানোর কারণে যানবাহনের শব্দ, হর্ন এবং শহরের ব্যস্ত পরিবেশে রোগীদের বিশ্রামও ব্যাহত হচ্ছে। এতে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ঠাকুরপুকুরের হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাস্তার ধারে পরপর শুয়ে বা বসে আছেন চিকিৎসা করাতে আসা বহু বাংলাদেশি নাগরিক। কারও মাথার পাশে লাগেজ, কারও পাশে ওষুধপত্র। তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিযোগ, কলকাতায় আগে কম খরচে যেসব হোটেলে থাকা যেত, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন বন্ধ। আর যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানে ভাড়া তিন গুণ বা তারও বেশি চাওয়া হচ্ছে। ফলে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের যশোরের বাসিন্দা খুরশিদ আলম শাশুড়ির ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর হোটেল না পেয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন।
খুরশিদ আলম বলেন, আগে যে হোটেলে তারা থাকতেন, সেখান থেকে হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে বলে চলে যেতে বলা হয়েছে। এরপর থেকে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে সারাদিন সেখানে থাকার পর রাতে রাস্তায় এসে সময় কাটাতে হচ্ছে। কত দিন এভাবে থাকতে হবে, সেটিও তারা জানেন না।
কই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারাও। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা দুলাল দাস জানান, তার ছেলের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। আগে হোটেলে থেকে চিকিৎসা করালেও এখন থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাকে রাত কাটাতে হচ্ছে রাস্তার ফুটপাতে।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা মোহাম্মদ পাবেলও মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ঠাকুরপুকুরে এসেছেন। তিনি বলেন, আশপাশে কোনো হোটেলে জায়গা না পাওয়ায় রাতের পর রাত ফুটপাতেই বসে বা শুয়ে কাটাতে হচ্ছে।
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’
সোনিয়া গান্ধীর বহুলপ্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ অবশেষে ভারতে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। পাণ্ডুলিপিসংক্রান্ত মতভেদের জেরে দেশের অন্যতম প্রধান প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া সম্প্রতি বইটি প্রকাশের প্রকল্প বাতিল করে দিলেও পাঠকদের হতাশ না করে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশনী সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া এটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে।
পেঙ্গুইন প্রকাশনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার এক সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত পদ্মনাভন সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের খবর জানাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ নভেম্বর পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পারে সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত বইটি।
অবশ্য ভারতে প্রকাশনা থেকে পিছিয়ে গেলেও আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বইটি প্রকাশ করবে তাদেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ. নফ। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাণ্ডুলিপির তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সুপারিশ করা প্রকাশকের দায়িত্বের অংশ।
তবে লেখক সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, এমন যুক্তি দেখিয়ে ভারতে বইটি প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছিল পেঙ্গুইন। তাদের এমন সিদ্ধান্ত গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক পাঠক ও বিশ্লেষক অভিযোগ তোলেন সেন্সরশিপের।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বইটি প্রকাশের স্বত্ব নেওয়ায় পাঠক মহলে প্রশংসায় ভাসছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের ‘মেরুদণ্ড থাকা প্রকাশক’ আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করছেন।
হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর এই বইটি কোনো সাধারণ স্মৃতিকথা নয়, বরং বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রচনা। এতে উঠে এসেছে ভারতের রাজনীতি, প্রেম, পরিচয় ও নিজস্ব দায়িত্বের গভীর ব্যক্তিগত অথচ নাটকীয় মেলবন্ধন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রধান হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির ইতিহাসেও সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মেলোনি। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত তিনি ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিরতার জন্য পরিচিত দেশটিতে গত আট দশকে ৬৮টি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের। এর আগে চার মেয়াদে সবচেয়ে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার ইতিহাস গড়েছিলেন প্রয়াত সিলভিও বেরলুসকোনি। তবে কোনো একক মেয়াদে টানা ১ হাজার ৪১২ দিন ক্ষমতায় থাকার যে রেকর্ড বেরলুসকোনির ছিল, তা এবার ছাড়িয়ে গেল মেলোনির কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি।
২০২২ সালের অক্টোবরে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন মেলোনি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বারিতে এই রেকর্ড উদযাপন করা হচ্ছে।
ইতালির সংবাদপত্র ইল সোলে ২৪ ওরে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ইতালির তরুণ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে উঠে আসায় কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা শর্টকাট ছাড়া লড়াই করেই তাকে এ অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে।
অতীতে বেনিটো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কারণে ইতালিতে ডানপন্থি রাজনীতি নিয়ে যে ভীতি ছিল, তা থেকে দলকে দূরে রাখার ঘোষণাও আগেই দিয়েছিলেন মেলোনি।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক
জর্জিয়া মেলোনি সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। রোমা ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, সরকারের মেয়াদকাল দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মাপা যায় না। তিনি বলেন, মেলোনি সরকারের দীর্ঘদিন টিকে থাকার পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনি আইন একটি বড় ভূমিকা রেখেছে, যার সুবাদে ডানপন্থি জোট সহজেই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এছাড়া সরকারের টিকে থাকার স্বার্থে দলটি তাদের অনেক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকেও সরে এসেছে।
বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক পিয়েরো ইনিয়াজির মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এই স্থবিরতা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সরকারি ঋণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধের আইন প্রণয়ন করায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে রয়েছে মেলোনি প্রশাসন।
নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় তিনি বন্ধু জর্জিয়া মেলোনিকে যুদ্ধোত্তর ইতালির দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানান। লিখেছেন, ‘এই রেকর্ড থেকেই বোঝা যায় যে, ইতালির মানুষ মেলোনির ওপর কতটা আস্থা রাখেন।’
পাশাপাশি শুভেচ্ছাবার্তায় ভারত ও ইতালির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মোদি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা উল্লেখ করে মোদি লেখেন, ‘আগামী দিনগুলোতে তার (মেলোনি) সাফল্যের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাই।’
খবর- এএফপি ও আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
পিঠের চুলকানি মেটানোর অভিনব ব্যবসা খুলে মাসে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান (১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা) আয় করছেন চীনের শেনজেন শহরের ৩২ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ঝাং শাওছিয়াও। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝাংয়ের প্রতিষ্ঠিত ‘সুমা’ নামের স্পা-ধর্মী প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকরা নির্ধারিত শয্যায় শুয়ে বিশেষ সুচালো নখযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে পিঠ চুলকানোর সেবা নেন। প্রতি এক ঘণ্টার জন্য গ্রাহকদের গুনতে হয় ৩০০ ইউয়ান (৫ হাজার ৫০০ টাকা)।
শেনজেনের বাওআন ও ফুসিয়ান এলাকায় দুটি শাখা চালু করে অল্প সময়ের মধ্যেই লাভজনক এই ব্যবসার সূচনা করেন ঝাং। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপে থাকা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরাই মূল গ্রাহক হলেও গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং বাকিরা নারী।
একটি অনলাইন ভিডিও দেখে এবং শৈশবে বাবার পিঠ চুলকে দেওয়ার স্মৃতির অনুপ্রেরণায় ঝাং এই ধারণাকে ব্যবসায় রূপ দেন। তিনি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল শেখান যা গ্রাহকদের স্নায়ু শিথিল করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
বর্তমানে সূচনার খরচ তুলে নিয়ে দেশজুড়ে ১০০টি শাখা খোলার স্বপ্ন দেখছেন ঝাং এবং এই কাজটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী চুলকানোর ফলে স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে মস্তিষ্ককে আরামের অনুভূতি দেয়, যদিও দীর্ঘস্থায়ী চুলকানির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট