শুভেন্দু অধিকারী
গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে অফিস করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রমাণিক। অবশ্য তাঁদের দপ্তর এখনও বণ্টন হয়নি। এই বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বৈঠকে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির বয়স পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।
সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছেন নবান্নতে। সেখানেই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। তারপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েকটি দপ্তরের সচিব ও কর্মকর্তা।
শান্তি নিশ্চিত সরকারের অগ্রাধিকার
এরই মধ্যে বৈঠকের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্যের ডিজিপি শ্রী সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার শ্রী অজয় নন্দের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম।
পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।’
আজ সোমবার নবান্নে এরপর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে।
এরপর বিকেল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।
বিজেপির নিহত ৩২১ কর্মীর পাশে সরকার
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।
প্রথমত, দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখলো দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সমস্ত প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
সীমান্ত সুরক্ষায় ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর
শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেওয়া হবে।
আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া করতে বলেছি। আগের সরকারের মতো আলাপ করা প্রশ্নোত্তরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা তার ক্যাবিনেট যাবে না।’
এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফকে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলোতে এতদিন রাজ্য সরকার যুক্ত হয় নেই সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথম ক্যাবিনেটের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে আমরা যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হলাম। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন। প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং অন্যান্য সেন্ট্রাল স্পনসরড স্কিমে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। উজলা যোজনার ৮ লাখ ৬৫ হাজার পিটিশন যেটা আগের সরকার কেন্দ্রকে পাঠায়নি, আমরা সেটা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের সিআরপিসি আইপিসি চলছিল। আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তার সঙ্গেও আমরা যুক্ত হলাম।’
বাড়ানো হলো সরকারি চাকরির বয়স
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গেছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হলো।
১৬ জুন ২০২৫, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জনগণনার জন্য মিনিস্টার হোম অ্যাফেয়ার্স থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এরা শুধু পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি দেশের সঙ্গে দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই ছিল এই জনগণনা আটকে দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই মুহূর্ত থেকে জনগণনার কাজ আজ থেকেই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’
‘আমিত্ব’ নয়, ‘আমরা’ নীতিতে চলব
শুভেন্দুর দাবি, আমাদের কিছু পেপার ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে। আমাদের সংকল্পপত্রে যে ঘোষণাগুলো করেছিলাম সেই বিষয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আমরা পরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেব। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’ নীতিতে চলবে। বেঁচে থাকা চার-পাঁচ পার্সেন্ট সমালোচক, তারাও যাতে কোনো সমালোচনা করতে না পারে, আমরা তেমনভাবেই কাজ করব। আমাদের উপর ভরসা রাখুন, আমরা ঠিক পথেই চলব। আগের সিএমকে তো প্রশ্ন করতে পারতেন না।
ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এদিন মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে।
এর আগে ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পেসএক্সের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৬০০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ইলন মাস্ক এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়।
তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।
এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। তবে ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবার তা হারান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাস্কের সম্পদ আবার দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারের হিসাবে তার সম্পদ ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম।
সূত্র: ইয়াহু ফাইনান্স
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের কার্যালয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক। (ছবি- দ্য ডন)
তীব্র রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরাসরি আলোচনায় বসেছে অবশেষে। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার পিটিআইয়ের লংমার্চের আগে আজ শনিবার বিকেলে শেষ মুহূর্তে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা। লংমার্চটি বন্ধ করতে মরিয়া সরকার। অন্যদিকে যেকোনো উপায়ে লংমার্চ আয়োজনে অনড় বিরোধী দল। দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের এই সংলাপ- সংঘাতের ‘মেঘ কেটে দেওয়ার’ একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা নিয়ে সংশয়ও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আলোচনায় সমঝোতা চেষ্টার মধ্যেও দুই পক্ষের কথাবার্তায় উত্তপ্ত বারুদের গন্ধ রয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে পিটিআইয়ের ৪ অক্টোবরের লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেখা যাক কী হয়, তারা যদি লংমার্চ স্থগিত নাও করে, আমাদের কাছে তাদের থামানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ’ফেডারেল মন্ত্রীরা সতর্ক করে আরও বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পিটিআইয়ের প্রতিবাদের ডাক বিবেচনা করে কেন্দ্রের কাছে সেখানে গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। অন্যদিকে এমন সিদ্ধান্তে সরকারকে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি দাবি ও রাজপথে আন্দোলন দমনের বিরুদ্ধে পিটিআই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। আগামীকাল বড় আকারের লংমার্চের ঘোষণা দেয় পিটিআই। এমন আন্দোলনের মুখে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমিত করতে উভয় পক্ষ একপর্যায়ে সংলাপে বসতে সম্মত হয়। শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের মুখোমুখি বসে এক ঘণ্টা আলোচনা করেছে। পিপিপি’র প্রতিনিধিসহ সরকার নেতৃত্বাধীন একটি জোট এবং পিটিআই নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট শুক্রবার ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের চেম্বারে এক দফা আলোচনা শেষ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এই সভাটি ডাকা হয়েছিল।
শেষ মুহূর্তে আরেকটি সমঝোতা চেষ্টা আজ
পিটিআই ঘোষিত রোববারের লংমার্চের আগে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আজ দুপুরে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সরকারের মুখপাত্রদের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করবে পিটিআই। সরকার তাতে কী সাড়া দেয় সেটিই আসল বিষয়। তবে প্রথম দফায় কী অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই তেমন কিছু বলেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার জন্য সংসদই সঠিক মঞ্চ-আয়াজ সাদিকের এই দাবিটি যেমন সঠিক, তেমনি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দাবি করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের যুক্তিও সমান ন্যায়সঙ্গত। এখানে বিশ্বাসের একটি ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত দূর করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারের ক্রমাগত হুমকি সরকার-বিরোধী দলের বৈরিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই যে আলোচনা শুরু করেছে-তা বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ।
লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল পিটিআই, চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ
এদিকে এরই মধ্যে লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে পিটিআই। তাদের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, লংমার্চ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে অব-দ্য-রেকর্ড আলোচনা চলছে।
যেকোনো মূল্যে ৪ অক্টোবরের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে পিটিআইয়ের খাইবার পখতুনখাওয়ার তথ্য সম্পাদক শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে শুরু হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আর মালাকান্দ বিভাগের মিছিলটির নেতৃত্বে থাকবেন পিটিআই-এর প্রাদেশিক সভাপতি ও এমএনএ জুনায়েদ আকবর খান। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা, পেশোয়ার, মালাকান্দ এবং হাজারা থেকে আসা মিছিলগুলো সোয়াবিতে এসে একত্রিত হবে। লংমার্চের সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোনোকিছুই এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ। গভর্নর শাসন কোনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গুরুতর করে তুলবে। খাইবার পখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শগুলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন। সরকার যদি সত্যিই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়, তবে তাদের অবিলম্বে ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া উচিত।
অস্থায়ী স্বস্তি না স্থায়ী সমাধান
প্রথম দফার বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে তার মধ্যে পিটিআই-এর দাবিগুলো হলো- ইমরান খানকে কারাগার থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করা। অন্যদিকে সরকারের দাবি হলো- ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (জাতীয় সংসদ) স্পিকারের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনার স্বার্থে পিটিআইকে তাদের ৪ অক্টোবরের ঘোষিত লংমার্চ ও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার বা স্থগিত করতে হবে।
যদিও প্রথম দফার বৈঠক শেষে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছে। তবুও এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও পাকিস্তানে এ ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ কেবল সাময়িক উত্তেজনা কমানোর কৌশল বা ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া পাকিস্তানে রয়েছে বহুমুখী সংকট। বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, ডলারের সংকট, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং নতুন করে বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজপথ বনাম সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ সংঘাত কোনো পক্ষকেই বিজয়ী করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করছে। উভয় পক্ষ যদি ব্যক্তিগত অহমিকা ও মুখোমুখি সংঘাতের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখাতে পারে, তবেই পাকিস্তানের আকাশ থেকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সমঝোতা নিয়ে কী বলছে পিটিআই
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনার সফলতা সম্পূর্ণভাবে সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন পিটিআই নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে দেখা করার অনুমতি, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বৈঠকে তাদের পক্ষের নেতা ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে একজন পরিপক্ক এবং সমঝোতাকামী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ খুঁজে বের করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত, আমি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এই আলোচনাকে আশাব্যঞ্জক বলতে পারি। তিনি জানান, শুক্রবারের আলোচনায় উভয় পক্ষই যার যার অবস্থান তুলে ধরেছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।
এছাড়া পিটিআই নেতা গওহর আলী খান এক ঘণ্টার এই বৈঠকটিকে ‘আন্তরিক’ বলে অভিহিত করেছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্পষ্ট কোনো অগ্রগতিও হয়নি।
কী চায় পিটিআই
বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন, তাদের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য একটি সহজ সদ্বিচ্ছা প্রকাশ হতে পারে, যা দ্রুত একটি বড় অগ্রগতিও তৈরি করতে পারে। পিটিআইয়ের অন্য দাবিগুলো হলো- কারাবন্দি নেতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া এবং ঘোষিত লংমার্চের আগে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানের বোনদের মুক্তি দেওয়া। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। বিরোধী এ দলটি সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেছে যে, কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
সরকারকে সততার সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আব্বাস জাফরি বলেছেন, যদি সরকার রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সত্যি চিন্তিত হয় তাহলে উচিত হবে সততার সাথে আলোচনা করা এবং সমস্যা সমাধানের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদের ডাক ‘বহাল’ থাকবে। তিনি বলেন, আলোচনা করা রাজনৈতিক নেতাদের পথ; আলোচনা বড় বড় সমস্যা ও যুদ্ধের সমাধানও করতে পারে। এটি অবশ্য সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আলোচনার অপর পক্ষ হিসেবে সরকার আসলেই কি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায় কি না। তারা সরকারে আছে এবং শান্তি বজায় রাখা, সংকট সমাধান করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।
সরকার কী চায়
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপে পিপিপি নেতা শেরি রহমান বলেছেন, তাদের দল আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি লংমার্চের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পিটিআইকে এটি ‘নিঃশর্তভাবে’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছেন, পিটিআইকে এটি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের হাতেই সময় আছে। আমরা শনিবার আবার বসব। এর মধ্যেই এটি শেষ করার চেষ্টা করব।
কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে শেরি রহমান বলেন, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তবে বিরোধী দল কিছুটা সময় চেয়েছে এবং ‘আমাদের তা সম্মান করা উচিত।’ তিনি মন্তব্য করেন, একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।
পরে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এই গোষ্ঠীগুলো যে সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে তা বিবেচনা করলে। পিপিপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল নিঃশর্তভাবে লং মার্চ বাতিল করার মাধ্যমে এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটবে। এতে করে দেশ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।’ সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা একে অপরকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং একটি গঠনমূলক ও আন্তরিক পরিবেশে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। অংশগ্রহণকারীরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে স্পিকার সাদিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাদিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর অফিস সব সময় উন্মুক্ত এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। মতপার্থক্য ও সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা, এবং পদ বা অফিস স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। সংসদই একমাত্র মঞ্চ যেখানে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
সরকারের কী করণীয়
পিটিআই আলোচনার সময়ও তাদের প্রতিবাদের ডাক বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর- এমন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, লংমার্চ কর্মসূচি নিঃশর্তভাবে বাতিল করতে হবে। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই তাদের লংমার্চ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। আলোচনাকে একটি সঠিক সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের এ প্রস্তাবে কতটুকু সাড়া দেবে বিরোধী দল তাই সে ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য ডন আজ এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশীদের শত্রুতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির উত্থাপিত পয়েন্টটি যৌক্তিক। তবে কেবল জাতীয় ঐক্যের দোহাই দিয়ে বৈধ রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন করা যেতে পারে না। উভয় পক্ষকেই আলটিমেটাম বা চরম হুঁশিয়ারি থেকে পিছিয়ে আসতে হবে। গভর্নর শাসন জারির হুমকি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নিতে হবে। একইভাবে পিটিআইয়েরও ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা মার্চ করবই’-এমন অবস্থান পরিহার করা উচিত।
বৈঠকে কারা ছিলেন
বৈঠকে কাশ্মীর বিষয়ক এবং গিলগিট-বালতিস্তান মন্ত্রী আমির মুকাম, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পিপিপির পক্ষে সিনেটর শেরি রহমান এবং জাতীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ নাভিদ কামার ও এজাজ হুসাইন জাখরানি এতে অংশ নেন।
বিরোধী দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, আমির ডোগার, সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং পিটিআই-এর সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা।
এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান (ছবি-রয়টার্স)
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে তাইওয়ান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আট বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে, চীনের আপত্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ বিলিয়ন ডলারের আলাদা একটি অস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব স্থগিত করে রেখেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তাইওয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুদ্ধবিমানগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত আগমন দেখতে বহু স্থানীয় মানুষ দুরবিন ও বড় লেন্সের ক্যামেরা নিয়ে বিমানঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের কাছে ভিড় জমান।
চীনের ক্রমাগত সামরিক হুমকি ও নিত্যদিনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে তাইওয়ান।
খবর- এএফপি
স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।
‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।
‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’
উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।
ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ক্যাপ্টেনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন শাহরুখ-সালমান
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে মারধর এবং তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তার বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে যান। পরে দুজনকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাড়িতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। মারধরের কারণে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীকে একটি পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার গতিবিধি জানতে পারেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন তথ্যমতে বিশ্বে ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।
ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।