ইরানের রেলস্টেশনে নিজেদের ব্যাগ হাতে দুই নারী। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:২৭ পিএম

ইরানে বসবাসকারীদের আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রেনে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ফারসি ভাষার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় আইডিএফ জানায়, ইরানের মানুষকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৯টা পর্যন্ত ট্রেন ব্যবহার ও ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।


তারা আরও জানিয়েছে, ট্রেনে এবং রেললাইনের আশপাশে অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।


এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়, ইরানে এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো ইন্টারনেট নেই। এ কারণে ইসরায়েলের এই বার্তা অনেকের কাছে পৌঁছাবে না। এছাড়া হাজার হাজার যাত্রী ইসরায়েলিদের সতর্কতার আগেই ট্রেনে চড়ে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন এবং অনেকেই স্টেশনে অবস্থান করছেন। তবে খবরটি যখন ছড়িয়ে পড়বে তখন এটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করবে।


এ সতর্কতা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্ত চলাচলের অনুমতি না দিলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন।


ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেহরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলার একটি ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং যাদের তারা হিজবুল্লাহর সদস্য বলে দাবি করেছে, এমন কয়েকজনকে হত্যা করেছে।


এছাড়া পৃথক এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে আসার পথে তারা তা প্রতিহত করেছে।





পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।


পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।


দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।


এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।


বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।


বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র: এএনআই


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ পিএম

জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 


জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।


ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।


এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।


দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।


জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।


সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।


এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তরুণদের এ দলটি। ভিডিওটিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজকে দেখা গেছে। 


অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ (সেভ আওয়ার ভোটস, সেভ ডেমোক্রেসি) স্লোগানের অধীনে আয়োজিত বিক্ষোভে রাঠী এবং রাজ অংশগ্রহণ করবেন।


স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং নাগরিকদের একটি জোট। সে জোটের অধীনেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বৃহত্তর সমাবেশেও এই দুজনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভগুলো আবর্তিত। তারা এসআইআর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সমাজকর্মী ও নাগরিকদের ফ্রিডম পার্কে একত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ১০ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভটিকে আয়োজকরা ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রুশ বাহিনী। ৭ অক্টোবর বুধবারের এ হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৮ জন। নিহত ২৮ জনের মধ্যে ৫ জন শিশুও আছে। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় এই শিশুরা।


শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশই পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।


প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে জানিয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির সেই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।


হামলায় নিহতের পাশপাশি আহও হয়েছেন বহুসংখ্যক। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিন, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক  জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন তিনি।


“ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ”, বিবৃতিতে বলেছেন জেলেনস্কি।


ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, “আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম।বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।”


“(হামলার সময়) আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।"


প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে আঘাত হানা শুরু করে রুশ বাহিনী। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষ ভাবে বলা হয়েছিল।


উল্লেখ্য, শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।


উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।


ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, “আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।”


“পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।”


ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে রুশ বাহিনী।


প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।


অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন, বলেন, “এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।”


সূত্র : এএফপি


সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৪ এএম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।


বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।


জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।


অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।


সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।


ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।


সূত্র: আনাদোলু


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ধাপ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ফরম আই-১৩০ দিয়ে পারিবারিক অভিবাসন আবেদন করা।


প্রথম ধাপ আই-১৩০ আবেদন


গ্রিন কার্ডধারী বা আইনগত স্থায়ী বাসিন্দা তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ফরম আই-১৩০, ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ জমা দিতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে বৈধ বিয়ের প্রমাণ, আবেদনকারীর গ্রিন কার্ডের কপি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি দিতে হয়। তবে আই-১৩০ অনুমোদন পেলেই স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। এর পরবর্তী ধাপে অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।


স্পাউস কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে পড়বেন


গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ২এ পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণির আওতাভুক্ত। এই শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনটির অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ।


সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ২এ শ্রেণির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ সব দেশের জন্য বর্তমান। তবে ভিসা চূড়ান্তভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ প্রযোজ্য। ফলে কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে, তা অগ্রাধিকার তারিখ ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।


এরপর ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের প্রক্রিয়া


আই-১৩০ অনুমোদনের পর মামলা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফি, আর্থিক সহায়তার নথি, পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।


বাংলাদেশে বসবাসকারী স্পাউসের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী পারিবারিক ভিসার আবেদনকারীদের আর্থিক সহায়তার ফরম, পিটিশনারের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বসবাসের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হয়।


গ্রিন কার্ডধারীর বিদেশে থাকার বিষয়ে সতর্কতা


বিয়ের পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডধারীকেও সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক বিদেশযাত্রা সাধারণত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় সমস্যা তৈরি করে না। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা বা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে রাখার ইচ্ছা না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচিত হতে পারে।


ভিজিটর ভিসায় এনে পরে স্থায়ী করার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ


স্পাউসকে পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এনে পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ ভিজিটর ভিসা সাময়িক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।


শুরু থেকেই স্থায়ীভাবে থাকার অভিপ্রায় গোপন করে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভুল তথ্য দেওয়া বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


গ্রিন কার্ডধারী পরে নাগরিক হলে কী হবে


আই-১৩০ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় গ্রিন কার্ডধারী যদি পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান, তাহলে তাঁর স্পাউসের আবেদন এফ২এ থেকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ বা আইআর শ্রেণিতে আপগ্রেড করা যায়। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা থাকে না।


নাগরিকত্বের প্রমাণ ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে জমা দিয়ে আবেদনটি আপডেট করতে হয়।


তাই বাংলাদেশে বিয়ের পর স্পাউসকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করা, আই-১৩০ সঠিকভাবে জমা দেওয়া, ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী অগ্রাধিকার তারিখ পর্যবেক্ষণ করা এবং ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা।