ছবি : সংগৃহীত
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েলের আরও একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ৩ মার্চ এক মেষপালক আওয়াদ আল-শাম্মারি দুর্ঘটনাক্রমে একটি ঘাঁটির কাছে গেলে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার থেকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গোপন ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হতো। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জানলেও ইরাককে জানায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও গোপন ঘাঁটি থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
দিনটি ছিল ৩ মার্চ, স্থানীয় সময় বেলা প্রায় ২টা। একটি পিকআপ ট্রাক ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে যাচ্ছে। মরুভূমিতে বসবাস করা স্থানীয় বেদুইন বসতির কাছে সেটি পরিচিত এক দৃশ্য। পিকআপটি স্থানীয় এক মেষপালকের। তিনি বাজার করতে কাছের শহর আল-নুখাইবে যাচ্ছিলেন।
তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পিকআপটি ফিরে আসে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক ছিল। ফিরে আসার সময় সেটিতে আগুন জ্বলছিল এবং গুলিতে সেটি ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।
তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে (পিকআপ) ধাওয়া করছিল এবং বারবার গুলি চালাচ্ছিল, একপর্যায়ে সেটি মরুভূমিতে বালুর মধ্যে থেমে যায়। সেটিতে তখনো আগুন জ্বলছিল।
ইরাকের মরুভূমিতে প্রাণঘাতী এই হামলা নিয়ে আগে কখনো কোথাও খবর প্রকাশ পায়নি। ট্রাকটি ২৯ বছর বয়সী আওয়াদ আল-শাম্মারির। শাম্মারির চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তাঁর ভাই আওয়াদ ট্রাকটি নিয়ে বাজার করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথ চলতে গিয়ে তিনি অজান্তে ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে স্থাপন করা একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির মুখোমুখি পড়ে যান।
অত্যন্ত গোপনীয় এবং দারুণভাবে সুরক্ষিত ওই সামরিক আস্তানার কাছাকাছি চলে যাওয়ার কারণেই আওয়াদকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে বিশ্বাস তাঁর পরিবারের।
আওয়াদ আল-শাম্মির কারণেই শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল তাদের শত্রুদেশ ইরাকের ভেতরে দুটি গোপন সামরিক স্থাপনা থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দুর্ভাগ্যজনক সেই যাত্রা শুরুর পর থেকে ভয়াবহ পরিণতির আগে কোনো একসময় আওয়াদ ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি যা দেখেছিলেন, তা জানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ওই মেষপালক বলেছিলেন, সেখানে একটি উড়োজাহাজ ওঠা-নামার পথ এবং সেটি ঘিরে সেনা, হেলিকপ্টার ও তাঁবুর সমাবেশ রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ ইরাকি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, বাগদাদের আঞ্চলিক মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে একটি ঘাঁটি পরিচালনা করছিল।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইরাকের ভেতরে ইসরায়েলের একটি সামরিক ফাঁড়ি থাকার খবর প্রকাশ করে। ইরাকি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে আওয়াদের আবিষ্কার করা সামরিক স্থাপনাটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় আরেকটি ঘাঁটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ আল-শাম্মারি যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধেরও আগে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, দেশের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চল বেছে নিয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ইসরায়েল অস্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করে, যাতে ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় অভিযান চালানোর জন্য সেগুলো ব্যবহার করা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এই ফাঁড়ি ও ঘাঁটি এবং আওয়াদ আল-শাম্মারির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য করা একাধিক অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়াদ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।
ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলো নিয়ে যেসব কর্মকর্তা কথা বলেছেন, তাঁদের অধিকাংশই এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় হওয়ায় নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন, তা ইঙ্গিত করে যে অন্তত একটি ঘাঁটি, যেটিতে আওয়াদ হঠাৎ করে পৌঁছে গিয়েছিলেন, সেটির বিষয়ে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকেই অথবা তারও আগে থেকে ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য ছিল।
এর অর্থ দাঁড়ায়, বাগদাদের অন্য প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এ বিষয়ে ইরাককে কোনো তথ্য দেয়নি। তাদের শত্রু বাহিনী যে গোপনে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে, এটা ওয়াশিংটন বাগদাদকে জানতে দেয়নি।
ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্য ওয়াদ আল-কাদু বলেন, ‘এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, দেশটির সরকার ও তার বাহিনীগুলোর পাশাপাশি ইরাকি জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রদর্শন করার শামিল।’
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইসরায়েলের সেই হিসাব-নিকাশের অংশ ছিল, যার ভিত্তিতে ইসরায়েল ধরে নিয়েছিল, ইরাকে গোপনে সামরিক আস্তানা গড়ে সেখান থেকে সামরিক অভিযান চালানো তাদের জন্য নিরাপদ হবে।
দুজন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছর জুনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাত-উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের উড়োজাহাজগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ইরাককে তাদের রাডার বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। এর ফলে বাগদাদ শত্রুর তৎপরতা শনাক্তের জন্য আরও বেশি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
ইসরায়েলের এসব ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মরুভূমির এক মেষপালকের নজরে পড়ার আগপর্যন্ত সত্যিই কি ইরাকি বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি জানত না? নাকি তারা জানত, কিন্তু উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
যেকোনো সম্ভাবনাই এই ইঙ্গিত করে, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েনে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি।
আল-কাদু বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা নেতৃত্বের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
এ নিয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন ইউফ্রেতিস ফোর্সেসের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের এই আবিষ্কারের এক মাসের বেশি সময় আগে থেকে তাঁর বাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সন্দেহ করে আসছিল।
আল-হামদানি বলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরাক সরকার এ নিয়ে নীরব।
ইরাকের সরকার এখন পর্যন্ত তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এটি স্বীকার করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।
কারণ, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরাকের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে দেখে।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের কাছে ‘কোনো ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।’
মরুভূমিতে ইসরায়েলের ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর ইরাকে ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে দেশটিতে ইরানের প্রভাব সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আঞ্চলিক দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আওয়াদ যে ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, সেটি ইসরায়েলের বিমানবাহিনীকে অভিযানে সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হতো।
এসব ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ইসরায়েলি উড়োজাহাজগুলোকে ইরান পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো, তা কমানো যায়। এটি মূলত সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য একটি অস্থায়ী উপস্থিতির কথা মাথা রেখে তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল বলে জানান দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছিলেন, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘বিমানবাহিনী এবং স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় ও প্রতারণামূলক কৌশলের কারণে’ ইসরায়েলি অভিযানে সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশ্নগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলেছে।
তবে সাবেক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এবং ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন কূটনীতিকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিজেদের ভেতর যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাতে সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানে না—এটা কল্পনাতেও বিশ্বাস করা অসম্ভব।
বিপজ্জনক গোপন তথ্য যেভাবে ফাঁস হলো
ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ডার জেনারেল আল-হামদানি দাবি করেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমির বেদুইন সম্প্রদায়গুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক কমান্ডকে সেখানে অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতার বিষয়ে নানা খবর দিচ্ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী কাছাকাছি না গিয়ে বরং দূর থেকে ‘সম্ভাব্য ইসরায়েলি বাহিনীর সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’।
তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
আওয়াদ আল-শাম্মারি যেদিন বিদেশি বাহিনীর মুখোমুখি হন, সেদিন তিনিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই এবং কারবালা আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ফাহিম আল-গুরাইতি।
তার কিছু সময় পর জেনারেল আল-গুরাইতি ও আওয়াদ আল-শাম্মারির পরিবারের সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনী ও তাঁর স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাঁর পরিবার দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে, এরপর হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করা বেদুইন বাসিন্দাদের সন্ধান পায়। তাদের কাছ থেকে তাঁরা আওয়াদের শেষ পরিণতির কথা জানতে পারে, জানতে পারে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল।
আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, আওয়াদের পিকআপের মতোই দেখতে একটি পুড়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক সেখানে পড়ে আছে, কিন্তু কেউ সেখানে যাওয়ার সাহস করেনি। আমরা সেখানে গিয়ে পোড়া ট্রাক ও পুড়ে যাওয়া মরদেহ দেখতে পাই।’
আওয়াদের পরিবার তাঁর রক্তাক্ত ও পোড়া মরদেহের ছবি দেখিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর মাথা ও আঙুল পুড়ে কালো হয়ে গেছে। ছবিতে পোড়া পিকআপও দেখা যাচ্ছে। জেনারেল আল-গুরাইতি ও জেনারেল আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের কাছ থেকে খবর পাওয়ার এক দিন পর ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ড একটি পুনর্বীক্ষণ দল সেখানে পাঠায়।
তারও এক দিন পর ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিটগুলো এলাকাটির কাছে পৌঁছালে তারা গোলাগুলির মুখে পড়ে। এতে এক সেনা নিহত এবং দুজন আহত হন, দুটি যানবাহনে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর ইউনিটগুলো সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বাগদাদে ইরাকের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তখনো বোঝার চেষ্টা করছিলেন, সেখানে আসলে কী ঘটেছিল।
দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের কারণে তাঁদের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়। শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ঘটনাটিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি বা এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছিলেন।
সেনাদের ওপর হামলা ও সেনা হতাহতের ঘটনার পর জনসমক্ষে ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছিল, ‘বিদেশি’ বাহিনী তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে।
আর ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল-আমির ইয়ারাল্লাহ গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে জানান জেনারেল আল-হামদানি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা। তাঁরা বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী নিশ্চিত করেছিল, ওই কাজ তাদের বাহিনীর নয়, ওটা মার্কিন বাহিনী নয়। তখন আমরা বুঝতে পারি, এটি ইসরায়েলি বাহিনী ছিল।’
ইরাকি সেনাদের ওপর হামলার চার দিন পর, ৮ মার্চ ইরাকি পার্লামেন্ট সামরিক নেতৃত্বকে একটি গোপন ব্রিফিং আয়োজনে বাধ্য করে। ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত পার্লামেন্ট সদস্যরা জানান, তাঁরা এর বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেননি। তবে তাঁদের একজন হাসান ফাদাম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল ইরাকের ভেতরে অন্তত আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপন করেছিল।
হাসান ফাদাম বলেন, আল-নুখাইবেরটি সেই ঘাঁটিগুলোর একটি, শুধু এটির অবস্থান ফাঁস হয়েছে।
আরেক ইরাকি কর্মকর্তা দ্বিতীয় ঘাঁটির অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সেটির অবস্থান সম্পর্কে আলাদা কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, সেটিও দেশটির পশ্চিমের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
সাবেক ও বর্তমান দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী ইরাকি ভূখণ্ডে কোনো কার্যক্রম চালালে তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাগদাদকে জানানো বাধ্যতামূলক।
ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়, ওয়াশিংটন হয় ইসরায়েলি কার্যক্রম গোপন রেখেছিল অথবা ইরাকের শীর্ষ কমান্ডকে জানানো হয়েছিল, তারা তা গোপন রেখেছিল।
তবে কর্মকর্তারা এ–ও বিশ্বাস করেন, মরুভূমির ওই মেষপালক ঘটনাটি প্রকাশ করার আগপর্যন্ত ইরাকি নেতৃত্ব বিদেশি সামরিক বাহিনীর ওই উপস্থিতি যে ইসরায়েলি বাহিনী ছিল, তা তারা জানত-এমনটা প্রায় অসম্ভব। বরং খুব সম্ভবত তারা সেটিকে মার্কিন ঘাঁটি বলে ধরে নিয়েছিল।
ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এদিন মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে।
এর আগে ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পেসএক্সের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৬০০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ইলন মাস্ক এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়।
তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।
এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। তবে ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবার তা হারান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাস্কের সম্পদ আবার দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারের হিসাবে তার সম্পদ ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম।
সূত্র: ইয়াহু ফাইনান্স
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের কার্যালয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক। (ছবি- দ্য ডন)
তীব্র রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরাসরি আলোচনায় বসেছে অবশেষে। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার পিটিআইয়ের লংমার্চের আগে আজ শনিবার বিকেলে শেষ মুহূর্তে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা। লংমার্চটি বন্ধ করতে মরিয়া সরকার। অন্যদিকে যেকোনো উপায়ে লংমার্চ আয়োজনে অনড় বিরোধী দল। দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের এই সংলাপ- সংঘাতের ‘মেঘ কেটে দেওয়ার’ একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা নিয়ে সংশয়ও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আলোচনায় সমঝোতা চেষ্টার মধ্যেও দুই পক্ষের কথাবার্তায় উত্তপ্ত বারুদের গন্ধ রয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে পিটিআইয়ের ৪ অক্টোবরের লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেখা যাক কী হয়, তারা যদি লংমার্চ স্থগিত নাও করে, আমাদের কাছে তাদের থামানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ’ফেডারেল মন্ত্রীরা সতর্ক করে আরও বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পিটিআইয়ের প্রতিবাদের ডাক বিবেচনা করে কেন্দ্রের কাছে সেখানে গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। অন্যদিকে এমন সিদ্ধান্তে সরকারকে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি দাবি ও রাজপথে আন্দোলন দমনের বিরুদ্ধে পিটিআই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। আগামীকাল বড় আকারের লংমার্চের ঘোষণা দেয় পিটিআই। এমন আন্দোলনের মুখে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমিত করতে উভয় পক্ষ একপর্যায়ে সংলাপে বসতে সম্মত হয়। শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের মুখোমুখি বসে এক ঘণ্টা আলোচনা করেছে। পিপিপি’র প্রতিনিধিসহ সরকার নেতৃত্বাধীন একটি জোট এবং পিটিআই নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট শুক্রবার ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের চেম্বারে এক দফা আলোচনা শেষ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এই সভাটি ডাকা হয়েছিল।
শেষ মুহূর্তে আরেকটি সমঝোতা চেষ্টা আজ
পিটিআই ঘোষিত রোববারের লংমার্চের আগে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আজ দুপুরে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সরকারের মুখপাত্রদের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করবে পিটিআই। সরকার তাতে কী সাড়া দেয় সেটিই আসল বিষয়। তবে প্রথম দফায় কী অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই তেমন কিছু বলেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার জন্য সংসদই সঠিক মঞ্চ-আয়াজ সাদিকের এই দাবিটি যেমন সঠিক, তেমনি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দাবি করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের যুক্তিও সমান ন্যায়সঙ্গত। এখানে বিশ্বাসের একটি ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত দূর করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারের ক্রমাগত হুমকি সরকার-বিরোধী দলের বৈরিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই যে আলোচনা শুরু করেছে-তা বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ।
লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল পিটিআই, চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ
এদিকে এরই মধ্যে লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে পিটিআই। তাদের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, লংমার্চ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে অব-দ্য-রেকর্ড আলোচনা চলছে।
যেকোনো মূল্যে ৪ অক্টোবরের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে পিটিআইয়ের খাইবার পখতুনখাওয়ার তথ্য সম্পাদক শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে শুরু হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আর মালাকান্দ বিভাগের মিছিলটির নেতৃত্বে থাকবেন পিটিআই-এর প্রাদেশিক সভাপতি ও এমএনএ জুনায়েদ আকবর খান। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা, পেশোয়ার, মালাকান্দ এবং হাজারা থেকে আসা মিছিলগুলো সোয়াবিতে এসে একত্রিত হবে। লংমার্চের সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোনোকিছুই এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ। গভর্নর শাসন কোনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গুরুতর করে তুলবে। খাইবার পখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শগুলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন। সরকার যদি সত্যিই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়, তবে তাদের অবিলম্বে ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া উচিত।
অস্থায়ী স্বস্তি না স্থায়ী সমাধান
প্রথম দফার বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে তার মধ্যে পিটিআই-এর দাবিগুলো হলো- ইমরান খানকে কারাগার থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করা। অন্যদিকে সরকারের দাবি হলো- ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (জাতীয় সংসদ) স্পিকারের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনার স্বার্থে পিটিআইকে তাদের ৪ অক্টোবরের ঘোষিত লংমার্চ ও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার বা স্থগিত করতে হবে।
যদিও প্রথম দফার বৈঠক শেষে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছে। তবুও এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও পাকিস্তানে এ ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ কেবল সাময়িক উত্তেজনা কমানোর কৌশল বা ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া পাকিস্তানে রয়েছে বহুমুখী সংকট। বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, ডলারের সংকট, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং নতুন করে বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজপথ বনাম সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ সংঘাত কোনো পক্ষকেই বিজয়ী করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করছে। উভয় পক্ষ যদি ব্যক্তিগত অহমিকা ও মুখোমুখি সংঘাতের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখাতে পারে, তবেই পাকিস্তানের আকাশ থেকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সমঝোতা নিয়ে কী বলছে পিটিআই
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনার সফলতা সম্পূর্ণভাবে সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন পিটিআই নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে দেখা করার অনুমতি, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বৈঠকে তাদের পক্ষের নেতা ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে একজন পরিপক্ক এবং সমঝোতাকামী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ খুঁজে বের করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত, আমি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এই আলোচনাকে আশাব্যঞ্জক বলতে পারি। তিনি জানান, শুক্রবারের আলোচনায় উভয় পক্ষই যার যার অবস্থান তুলে ধরেছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।
এছাড়া পিটিআই নেতা গওহর আলী খান এক ঘণ্টার এই বৈঠকটিকে ‘আন্তরিক’ বলে অভিহিত করেছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্পষ্ট কোনো অগ্রগতিও হয়নি।
কী চায় পিটিআই
বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন, তাদের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য একটি সহজ সদ্বিচ্ছা প্রকাশ হতে পারে, যা দ্রুত একটি বড় অগ্রগতিও তৈরি করতে পারে। পিটিআইয়ের অন্য দাবিগুলো হলো- কারাবন্দি নেতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া এবং ঘোষিত লংমার্চের আগে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানের বোনদের মুক্তি দেওয়া। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। বিরোধী এ দলটি সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেছে যে, কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
সরকারকে সততার সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আব্বাস জাফরি বলেছেন, যদি সরকার রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সত্যি চিন্তিত হয় তাহলে উচিত হবে সততার সাথে আলোচনা করা এবং সমস্যা সমাধানের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদের ডাক ‘বহাল’ থাকবে। তিনি বলেন, আলোচনা করা রাজনৈতিক নেতাদের পথ; আলোচনা বড় বড় সমস্যা ও যুদ্ধের সমাধানও করতে পারে। এটি অবশ্য সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আলোচনার অপর পক্ষ হিসেবে সরকার আসলেই কি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায় কি না। তারা সরকারে আছে এবং শান্তি বজায় রাখা, সংকট সমাধান করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।
সরকার কী চায়
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপে পিপিপি নেতা শেরি রহমান বলেছেন, তাদের দল আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি লংমার্চের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পিটিআইকে এটি ‘নিঃশর্তভাবে’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছেন, পিটিআইকে এটি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের হাতেই সময় আছে। আমরা শনিবার আবার বসব। এর মধ্যেই এটি শেষ করার চেষ্টা করব।
কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে শেরি রহমান বলেন, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তবে বিরোধী দল কিছুটা সময় চেয়েছে এবং ‘আমাদের তা সম্মান করা উচিত।’ তিনি মন্তব্য করেন, একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।
পরে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এই গোষ্ঠীগুলো যে সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে তা বিবেচনা করলে। পিপিপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল নিঃশর্তভাবে লং মার্চ বাতিল করার মাধ্যমে এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটবে। এতে করে দেশ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।’ সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা একে অপরকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং একটি গঠনমূলক ও আন্তরিক পরিবেশে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। অংশগ্রহণকারীরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে স্পিকার সাদিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাদিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর অফিস সব সময় উন্মুক্ত এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। মতপার্থক্য ও সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা, এবং পদ বা অফিস স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। সংসদই একমাত্র মঞ্চ যেখানে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
সরকারের কী করণীয়
পিটিআই আলোচনার সময়ও তাদের প্রতিবাদের ডাক বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর- এমন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, লংমার্চ কর্মসূচি নিঃশর্তভাবে বাতিল করতে হবে। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই তাদের লংমার্চ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। আলোচনাকে একটি সঠিক সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের এ প্রস্তাবে কতটুকু সাড়া দেবে বিরোধী দল তাই সে ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য ডন আজ এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশীদের শত্রুতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির উত্থাপিত পয়েন্টটি যৌক্তিক। তবে কেবল জাতীয় ঐক্যের দোহাই দিয়ে বৈধ রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন করা যেতে পারে না। উভয় পক্ষকেই আলটিমেটাম বা চরম হুঁশিয়ারি থেকে পিছিয়ে আসতে হবে। গভর্নর শাসন জারির হুমকি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নিতে হবে। একইভাবে পিটিআইয়েরও ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা মার্চ করবই’-এমন অবস্থান পরিহার করা উচিত।
বৈঠকে কারা ছিলেন
বৈঠকে কাশ্মীর বিষয়ক এবং গিলগিট-বালতিস্তান মন্ত্রী আমির মুকাম, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পিপিপির পক্ষে সিনেটর শেরি রহমান এবং জাতীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ নাভিদ কামার ও এজাজ হুসাইন জাখরানি এতে অংশ নেন।
বিরোধী দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, আমির ডোগার, সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং পিটিআই-এর সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা।
এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান (ছবি-রয়টার্স)
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে তাইওয়ান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আট বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে, চীনের আপত্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ বিলিয়ন ডলারের আলাদা একটি অস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব স্থগিত করে রেখেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তাইওয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুদ্ধবিমানগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত আগমন দেখতে বহু স্থানীয় মানুষ দুরবিন ও বড় লেন্সের ক্যামেরা নিয়ে বিমানঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের কাছে ভিড় জমান।
চীনের ক্রমাগত সামরিক হুমকি ও নিত্যদিনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে তাইওয়ান।
খবর- এএফপি
স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।
‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।
‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’
উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে মারধর এবং তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তার বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে যান। পরে দুজনকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাড়িতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। মারধরের কারণে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীকে একটি পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার গতিবিধি জানতে পারেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন তথ্যমতে বিশ্বে ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।
ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।