ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সামরিক হামলা চালানো, ক্ষতিকর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আর মিত্রদের সঙ্গে মিলে নিজের সীমানার বাইরে পর্যন্ত প্রভাব খাটানো-এসব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এক বিশাল শক্তি আছে।
শুধু রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বেসরকারি কোম্পানি, বিদেশি সরকার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করেও তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এমন ক্ষমতার সমাহার খুব কম দেশেরই আছে।
কিন্তু এই শক্তি ধরে রাখা সহজ নয়। কারণ, এই ক্ষমতা টিকে আছে একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর। সামরিক শক্তি ব্যবহার মানে রক্তপাত, বিপুল অর্থ খরচ এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়া। শুল্ক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিলে অন্য দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্য ও লেনদেনের পথ খুঁজতে শুরু করে।
আবার মিত্রদের সঙ্গে জোটও সব সময় মসৃণ থাকে না; দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়াতে পারে। কিন্তু এতে সেই বৈশ্বিক ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের অবস্থা একেবারে আলাদা। তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সীমিত, মিত্রও কম। কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে তারা অন্যদের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়ে নিজে লাভ করতে পারে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টা করেছে, যেন এই পথই আয় করার উৎস হয়। এখন ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম একই অঞ্চলের সমুদ্রতলের ডেটা কেব্ল বা সাবমেরিন কেব্লগুলোর ওপরও ফি বসানোর কথা বলছে।
এটা শুধু ডেটার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের একটি বড় দুর্বল জায়গায় আঘাত। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট-এই বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাদের ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার পুরোপুরি নির্ভর করে সাবমেরিন কেব্ল সংযোগের ওপর।
ইরান এখন ভূগোলকে শুধু একটি সংকীর্ণ পথ হিসেবে নয়, বরং আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাদের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে তেলবাহী জাহাজকে চাপে ফেলা যায়। একইভাবে এখন কেব্লের মালিক, ক্লাউড সেবাদাতা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও চাপে ফেলতে চায় তারা।
সাবমেরিন কেব্লগুলোর মানচিত্র দেখলে বোঝা যায়, বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের কাছাকাছি থাকা ফ্যালকন, গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল-মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা, কুয়েত-ইরান ও ইউএই-ইরান কেব্লগুলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। ফলে এই ডিজিটাল অবকাঠামোও এখন সেই একই উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় রয়েছে, যেখানে জাহাজ চলাচল ও নৌ টহল হয়।
ডেটা যেখানে ব্যবহার করা হয়, সেখানে কর বসানো যায় না। কিন্তু যেখান দিয়ে ডেটা চলাচল করে, সেই পথ যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তখন সেখানেই চাপ তৈরি করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের অফিস বা শহর তাদের আসল দুর্বল জায়গা নয়। তাদের আসল দুর্বলতা হলো সমুদ্রের নিচের কেব্ল যেগুলো বিভিন্ন দেশের জলসীমা আর সরু সমুদ্রপথগুলোয় বিছানো আছে। এই জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রাষ্ট্রগুলো অনুমতি দিয়ে বা আটকে রেখে প্রভাব খাটাতে পারে।
ইরান ঠিক এ জায়গাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। সহজভাবে বললে-লাভটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে, কিন্তু দুর্বল জায়গাটা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে। আর সেই জায়গাগুলো ধরেই চাপ তৈরি করা সম্ভব।
এ ধরনের ক্ষমতা আগের যুগের থেকে আলাদা। আগে শক্তি মানে ছিল তেল, খনিজ, জমি বা বন্দর নিজের দখলে রাখা। এখন ইরান দেখাচ্ছে, এসবের মালিক না হয়েও সুবিধা নেওয়া যায়। এর জন্য শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ন্ত্রণ বা হুমকি তৈরি করতে পারলেই যথেষ্ট।
সমুদ্রতলের কেব্ল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ডিজিটাল দুনিয়াও আসলে খুব বাস্তব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। ‘ক্লাউড’ কোনো ভাসমান জিনিস নয়, এর ভিত্তি সমুদ্রের নিচে। ডেটা চলাচল নির্ভর করে নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং স্টেশন, মেরামতের জাহাজ, লাইসেন্স, মালিকানা এবং নিরাপত্তার ওপর। এ কারণে কেব্লগুলো আধুনিক সংঘাতে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এর সামান্য ক্ষতিও বড় অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে এখন আর শুধু খোলা বা বন্ধ- এভাবে দেখা ঠিক হবে না। সেখানে কিছু জাহাজ চলাচল করছে। তবে অনেক সময় সেগুলো চলছে ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ চলাচল এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ সুবিধা।
সাবমেরিন কেব্ল নিয়েও ইরান একই কৌশল প্রয়োগ করতে চাইছে। এর জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে হবে না বা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও ডেটার প্রবাহ বন্ধ করতে হবে না। শুধু এতটাই দরকার- এই প্রবাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা, যাতে নিরাপত্তারও একটা মূল্য দাঁড়িয়ে যায়।
ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত শুরুতেই এই ফি আরোপের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করবে, যাতে এটি গ্রহণযোগ্যতা না পায়। তারা বিমা কোম্পানি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে আগেই পরিস্থিতি সামলাতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করতে চাইবে, কেব্ল মেরামতের কাজ যেন কোনোভাবে আটকে না পড়ে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কেব্ল রুট, নতুন ল্যান্ডিং পয়েন্ট এবং মেরামতব্যবস্থার উন্নতি করে এই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করতে পারে। উদ্দেশ্য শুধু হরমুজ খোলা রাখা নয়, বরং অনিরাপত্তা থেকে লাভ করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া।
সাবমেরিন কেব্লে ফি বসানোর কথা ইরান বলছে ঠিকই, কিন্তু এটা পুরোপুরি বাস্তবে হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে এতে বোঝা যায়, ইরান কী করতে চাইছে।
সাধারণভাবে যখন কোনো দেশ চাপ দেয়, তখন তারও খরচ হয়। কিন্তু ইরান এমন একটা উপায় খুঁজছে, যেখানে সে অন্যদের ওপর চাপ দেবে, আবার সেখান থেকেই টাকা আয়ও করবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তি না হয়েও নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইরান চাইছে, বিশ্ব যেন ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে তার জন্য একটা ‘মূল্য’ দেয়।
সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র: আনাদোলু
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম ধাপ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার কাছে ফরম আই-১৩০ দিয়ে পারিবারিক অভিবাসন আবেদন করা।
প্রথম ধাপ আই-১৩০ আবেদন
গ্রিন কার্ডধারী বা আইনগত স্থায়ী বাসিন্দা তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ফরম আই-১৩০, ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ জমা দিতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে বৈধ বিয়ের প্রমাণ, আবেদনকারীর গ্রিন কার্ডের কপি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি দিতে হয়। তবে আই-১৩০ অনুমোদন পেলেই স্বামী বা স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। এর পরবর্তী ধাপে অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।
স্পাউস কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে পড়বেন
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ২এ পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণির আওতাভুক্ত। এই শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনটির অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ।
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, এফ২এ শ্রেণির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ সব দেশের জন্য বর্তমান। তবে ভিসা চূড়ান্তভাবে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ প্রযোজ্য। ফলে কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে, তা অগ্রাধিকার তারিখ ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
এরপর ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের প্রক্রিয়া
আই-১৩০ অনুমোদনের পর মামলা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফি, আর্থিক সহায়তার নথি, পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
বাংলাদেশে বসবাসকারী স্পাউসের ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী পারিবারিক ভিসার আবেদনকারীদের আর্থিক সহায়তার ফরম, পিটিশনারের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বসবাসের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হয়।
গ্রিন কার্ডধারীর বিদেশে থাকার বিষয়ে সতর্কতা
বিয়ের পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডধারীকেও সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাময়িক বিদেশযাত্রা সাধারণত স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় সমস্যা তৈরি করে না। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা বা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে রাখার ইচ্ছা না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচিত হতে পারে।
ভিজিটর ভিসায় এনে পরে স্থায়ী করার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ
স্পাউসকে পর্যটক বা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এনে পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ ভিজিটর ভিসা সাময়িক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই স্থায়ীভাবে থাকার অভিপ্রায় গোপন করে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভুল তথ্য দেওয়া বা অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গ্রিন কার্ডধারী পরে নাগরিক হলে কী হবে
আই-১৩০ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় গ্রিন কার্ডধারী যদি পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান, তাহলে তাঁর স্পাউসের আবেদন এফ২এ থেকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ বা আইআর শ্রেণিতে আপগ্রেড করা যায়। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা থাকে না।
নাগরিকত্বের প্রমাণ ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে জমা দিয়ে আবেদনটি আপডেট করতে হয়।
তাই বাংলাদেশে বিয়ের পর স্পাউসকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করা, আই-১৩০ সঠিকভাবে জমা দেওয়া, ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী অগ্রাধিকার তারিখ পর্যবেক্ষণ করা এবং ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে তিন দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি পরিবহন এবং কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মাসে কিয়েভ সফরের সময় ইউক্রেনের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ইউক্রেনও ভারতের কাছ থেকে এমন একটি প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
কী আছে ভারতের প্রস্তাবে
ভারতের পরিকল্পনার প্রথম দিকটি হলো জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয়ত, কৃষ্ণসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিয়ে ভারতের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটি অন্য কয়েকটি দেশের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের চেয়ে বিস্তৃত।
ইউক্রেনের হাতে আরও তিন প্রস্তাব
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারতসহ চারটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ। অন্য তিনটি প্রস্তাব গেছে তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
সিবিহার ভাষ্য, ভারতের প্রস্তাব চারটির মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত। তিনি বলেন, ইউক্রেন বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তবে কোনো চুক্তিতে শুধু স্থল ও আকাশে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় থাকলে হবে না। জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্য প্রস্তাবের সঙ্গে পার্থক্য
ভারতের প্রস্তাবের সঙ্গে তুরস্ক ও মিশরের উদ্যোগের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তুরস্ক ও মিশরের প্রস্তাব মূলত কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা।
ভারতের পরিকল্পনায় এই দুই বিষয়কে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রস্তাবের সঙ্গে একত্র করা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ভারতের
ভারত এত দিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। নয়াদিল্লি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে। এর পেছনে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, নয়াদিল্লি এখন শুধু যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে থেমে নেই। রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই পক্ষের সঙ্গেই বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করছে ভারত।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ও ছিল।
মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা নিতে চায় দিল্লি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ভারতও আলোচনার মধ্যস্থতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নয়াদিল্লির তিন দফা প্রস্তাব বাস্তবে কতটা অগ্রগতি আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।
ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস হালজেন
পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। হালজেনের জন্ম বেলজিয়ামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
নিউট্রিনো হলো একটি মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। ভর অত্যন্ত সামান্য, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কণা চারপাশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু সেগুলো দেখা যায় না। কোনো উপস্থিতি জানান না দিয়েই এগুলো পৃথিবী ও মানুষের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে। একেবারে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে একটি নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বা মানমন্দির হলো এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই মহাবিশ্বে প্রাকৃতিক কণা ত্বরক থাকার বিষয়ে ধারণা করছিলেন। এসব ত্বরকগুলো মানুষ নির্মিত যেকোনো কণা ত্বরকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু ত্বরকগুলোর উৎস এখনো রহস্যময়। এগুলো কী, কোথায় আছে এবং এর ভেতরে প্রধানত কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই কণাকে শনাক্ত করার জন্য ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৮৮ সালে একটি রূপকল্প তুলে ধরেন। সেটি অনুযায়ী, যখন একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।
হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে সেই আলোর ঝলকানি শনাক্ত করা যায়। বরফের সুবিধাজনক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এখানকার বরফগুলো অন্য কিছুর উপস্থিতিতে প্রভাবিত হয় না বললেই চলে। এলাকাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় ভূমিকম্পও হয় না।
হালজেন তাঁর রূপকল্প প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত অন্য গবেষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কয়েক বছর পরই বরফের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। এজন্য দক্ষিণ মেরুতে এক ঘন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘আইসকিউব’ মানমন্দির তৈরি করা হয়।
মানমন্দিরটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর গবেষকরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেন। কয়েক বছর পর তারা সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে আসা নিউট্রিনো আবিষ্কারের তথ্যও প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস সন্ধানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা একটি চমৎকার যন্ত্র উপহার দিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবের মাধ্যমে ক্রমাগত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন।
ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইডিএফ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন।
নতুন করে হামলা হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে : ইরান
ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা রোববার জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে আরও সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াল্লা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত সেনা, পাইলট, সহায়ক কর্মী ও লজিস্টিকস সদস্য রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে।
ওয়াল্লা আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত অবনতির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও বজায় রাখা হচ্ছে।
এমন সময়ে এসব প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৭টি শর্ত উপস্থাপন করেছিল ইরান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওই শর্তগুলো মেনে নেয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি