তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি (ছবি-এএফপি)

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একটি যুগের অবসান ঘটে। তবে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইরান দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 


অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিবর্তন কি শুধু নেতৃত্বের পালাবদল, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেক পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।


ঐতিহাসিক ভার্সাই থেকে মধ্যপ্রাচ্য

গত মাসে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্থানটি বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, একই প্রাসাদে ১৯১৯ সালে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই চুক্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবারের মাত্র দেড় পৃষ্ঠার নতুন এই সমঝোতা স্মারকের তুলনা করতে শুরু করেন অনেকে। দুই চুক্তির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্ন উঠেছে—এই সমঝোতাও কি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে? যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ছোট ছোট সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি এখনো অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


ইরানকি আরও শক্তিশালী?

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসরের মতে, বড় যুদ্ধ শুধু বিজয়ী-পরাজিত নির্ধারণ করে না, এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক দাবার ছকই বদলে দেয়। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।’ যুদ্ধের আগে ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছিল।


দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার ক্ষমতা হারায়। লেবাননে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গাজায় হামাসের ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান চলে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হামলা হয়। 


এসব কারণে অনেক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলের সঙ্গে এ ধারণা পুরোপুরি মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও দেখাতে পেরেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ শেষে প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে আসে—আসলে কে কাকে দুর্বল করল?


ভিন্ন কৌশলে নতুন নেতৃত্ব

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার ভাষায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায় এসেছে। তারা একদিকে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।


নাসর বলেন, ‘ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব আগের প্রজন্মের মতো আদর্শবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬ বছর। তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনির চেয়ে প্রায় ৩০ বছর ছোট তিনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগই বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলি খামেনির নেতৃত্বই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড় বাধা ছিল। তার বিদায়ের পর সেই কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’


আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা: বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনির সময় ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করত, যেখানে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হতো। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও অংশ নেয়।


ভালি নাসরের মতে, আগের নেতৃত্বের তুলনায় বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের দ্বিধা কম। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার কাশেম সোলেইমানি নিহত হলে, ইরান ঘোষণা দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই সংযম দেখা যায়নি। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ দফায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা আহত হয়।


উপসাগরীয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ

বিবিসির মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-নীতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এবার সেই ঘাঁটিগুলোই ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন বুঝতে পারছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণও হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, এ কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সৌদি আরবও আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। তবে ভায়েজ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে দেবে। কারণ বাস্তবে ওয়াশিংটনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে নেই।


বদলাবে কি ইরানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য?

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।তেহরানে নতুন নেতৃত্ব এলেও সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বাধীন বা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি। চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তাই ভিন্নমত দমনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে হিজাবের বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হয়েছে। তেহরানের কিছু রেস্তোরাঁয় নীরবে মদ বিক্রিও চলছে—যা আগে কল্পনাও করা যেত না।


অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। বরং যুদ্ধের পর রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যুদ্ধের পর বদলে গেছে সাধারণ মানুষের মনোভাবও। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছে বিবিসি।


বহু বছর ধরে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ থাকা অনেক মানুষ যুদ্ধের সময় ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন—তাদের প্রকৃত শত্রু কে? যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তোলে।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছিল, তাদের হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে ইরানি সমাজের একাংশে। 


চীনের মতো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বর্তমান পরিস্থিতিকে মাও-পরবর্তী চীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ইরানের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন বুঝতে পারছে যে পুরোনো পথে আর এগোনো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে নতুন এক সামাজিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ ক্ষমতার কেন্দ্র আগের চেয়ে আরও বেশি মাত্রায় আইআরজিসির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।



কূটনীতিতে নতুন সুযোগ: যুদ্ধের পর উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তনের’ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড়ের বিনিময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে সেটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ইরান সীমিত পরিসরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।


আলোচনা সফল হলে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পথও খুলে যেতে পারে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনাই নতুন নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।


চ্যাথাম হাউজের সানাম ভাকিল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে বা আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারালে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট এখনো অমীমাংসিত। ফলে সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ঝুঁকিও সমানভাবে রয়ে গেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ভেঙে পড়বে—এই ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। বরং ইরানের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়—এই পরিবর্তন ইরানের জন্য নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, নাকি আবারও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যকে।



সর্বশেষ সব খবর

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনও ভারত খতিয়ে দেখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই এবং নতুন কোনো আপডেট পেলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বান ভারত খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এর আগে এক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।’


একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের মনোভাব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট এবং নতুন করে জ্বালানি সহায়তার অনুরোধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকেও ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।


রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। আর আপনারা যে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধের কথা বললেন, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিজেদের শোধন ক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের সার্বিক প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যালোচনা করা হবে।’


অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।


সরকার বলছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে বিদ্যমান পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সফরের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে পারস্পরিক আস্থা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এসব সম্পর্ক জোরদার করা হবে।


বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এগিয়ে নেয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

মক্কা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট থেকে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এর একটি হলো সীমান্তবর্তী ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ অঞ্চলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত রাশিয়া ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মাঝখানে ছিল। ফলে সেগুলো প্রায়ই মস্কোর চেয়ে বরং তাদের প্রতিপক্ষের জন্য বেশি সমস্যা তৈরি করতো। ইউরোপে দীর্ঘদিন এমন বাফার স্টেটের ভূমিকায় ছিল ক্রিমিয়ান খানাত (বর্তমান ক্রিমিয়া)। সতোরো থেকে ১৮ শতকে চীন সীমান্তে এমন ভূমিকায় ছিল জুঙ্গার খানাত (বর্তমানে জিনজিয়াং প্রদেশ)। এ ধরনের বাফার স্টেট বজায় রাখাটা মস্কোর কৌশলগত নীতির একটি কার্যকর দিক হিসেবে আজও বহাল।


এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো- আত্মরক্ষা ও বিবাদমান অঞ্চল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলা। অর্থাৎ, মস্কো যখন নিজের সীমান্তের কোনো অংশে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তখন বাফার স্টেটগুলো প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারবে। এ থেকে রাশিয়া পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।  


বিশ্বে চলমান সংঘাতের প্রথম ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তখন ক্রিমিয়াকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে জড়ায়। এটি পরে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রথম ফ্রন্ট তৈরির পর পশ্চিমারা তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে মূল লক্ষ্য হতে পারে চীন।


একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনী এবং অন্যপক্ষে ইরান ও পরোক্ষ সমর্থকদের মধ্যকার শত্রুতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রবেশ করেছে। রাশিয়া এই ঘটনাপ্রবাহ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ইউক্রেনীয় ফ্রন্টে তাদের বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আপাতত সীমিত।


এই অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে তা যখন অনিশ্চিত, তখনই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে একটি জোট গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট এরই মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।


এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি উল্টে দেবে না। কিন্তু তারপরও উদ্যোগটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সদস্যরা রাশিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তেমনি মস্কোর পশ্চিমা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টিতে সক্ষম।


অঞ্চলটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটন ১৯৯১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তা ‘মুসলিম ন্যাটোর’ কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কারণ, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। 


এখানকার আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বলা হয়, ইউরোপ ও চীনে জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজেই তাদের তৈরি ‘উন্মুক্ত বিশ্ব ব্যবস্থা’র কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলছে। এর কারণ হলো, অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে চীন ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তুলে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক কাঠামো বজায় রাখার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিগুলোকে (বিশেষ করে চীনকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বেশি অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে।


এ অবস্থায় মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এই জোটের সদস্যদের অভিন্ন স্বার্থ মূলত রাজনৈতিক। তারা একে অপরের প্রভাব ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগিয়ে নিজ অবস্থান শক্ত করতে রাজি হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম। 


ইরান যুদ্ধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ইরান যখন সৌদির ভূখণ্ডে হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া আসেনি। অন্যদিকে তুরস্ক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দূরে থাকছে। 


কেবল সংহতি প্রকাশ বা ঘোষণা দিয়ে একটি টেকসই সামরিক জোট গড়ে তোলা যায় না। ইতিহাস বলছে, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পরিচালনার জন্য জোটে অন্তত একটি প্রধান বা প্রভাবশালী পরাশক্তির উপস্থিতি আবশ্যক। বর্তমানে কেবল একটি জোট এখানে সফল। সেটি হলো- ন্যাটো। এই জোট গঠনের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন কিংবা প্যারিসের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এর বিনিময়ে তারা ইউরোপীয়দের কাছে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার মর্যাদা পেয়েছে।


পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঐক্য নেই। দুই দেশের সরকারের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্য এবং ইরানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্য দেশের নেতৃত্বের অধীনে সঁপে দিতে রাজি নয়।


রাশিয়ার জন্য এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। নতুন জোটের সদস্যরা চাইলে এককভাবে দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বে মস্কোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারত। কিন্তু মস্কোর স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের সমন্বিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম।


এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাও কম। নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একে অপরের সঙ্গে থাকা প্রতিযোগিতামূলক অংশীদারত্বও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মক্কা চুক্তিটি রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার চেয়ে বরং আমেরিকার কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলবে। 


জোটটি যখন আঞ্চলিক স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে শুরু করবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তাই জোটের সদস্যদের বন্ধু বানানোর প্রয়োজন নেই রাশিয়ার। মস্কো ইউক্রেন ফ্রন্টে মনোযোগ দেওয়ার সময় নতুন জোটের সদস্যরা পশ্চিমাদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।


লেখক: তিমোফেই বোরদাচেভ, রাশিয়াভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ভালদাই ক্লাবের কর্মসূচি পরিচালক

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপের ফল প্রকাশ করেছে রয়টার্স।


এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তার জনপ্রিয়তা আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। বর্তমান মেয়াদে এটিই ট্রাম্পের সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। একই সঙ্গে এটি তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের সঙ্গে মিলে গেছে।


জরিপের ফল বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হয়ে যেতে পারে।


ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জরিপে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দীর্ঘায়িত হবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক হয়েছে।


যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তিনি শুরুতে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্পের দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তারা বেশি বিশ্বাস করেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে গেলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।


অভিবাসন ইস্যুতে অবশ্য রিপাবলিকানদের সামান্য এগিয়ে থাকা এখনো রয়েছে। জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। তবে এই ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশীয় পয়েন্ট, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা এ ইস্যুতে ২৬ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।


এই জনমত জরিপের ফল সামনে এসেছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিমধ্যেই খুবই কম। যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে চাপে ফেলতে পারে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল শিক্ষা স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল পড়ালেখা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ (পিএমডিসি) । পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


পিএমডিসির প্রকাশিত এক দাপ্তরিক চিঠির বরাতে আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ আদেশ কার্যকর থাকবে।


সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নীতিগত নির্দেশনা এবং গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত পিএমডিসির বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্ত চিকিৎসায় নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।


পাশাপাশি ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্থগিত রেখে আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পড়াশোনা চলাকালে পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্থানান্তরের সুবিধাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


অন্যদিকে যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে কোর্স শেষ করেছেন, তাদের ডিগ্রি অর্জন এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টি প্রামাণিকভাবে নথিবদ্ধ ও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়া আফগান শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হলে, বিলম্ব করলে বা তথ্য গোপন রাখা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিএমডিসি।


পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার মান ও পেশাগত নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা পিএমডিসি। সংস্থাটির এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশটিতে অবস্থানরত আফগান শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষা অর্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

মর্কিন সেনা

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫৩ পিএম

মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। কোনো ইরানি নারী এ কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে হাতামি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘আর্থিক জিহাদে’ অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এ পুরস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।


হাতামি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো ‘আগ্রাসী মার্কিন সামরিক সদস্যকে’ হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলে তাকে ৩০ হাজার ডলার বা ৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।


তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন হত্যা কিংবা আটকের চেষ্টা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ইরানের সেনাপ্রধান।


হাতামি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি মার্কিন সেনাকে হত্যায় যে অস্ত্র ব্যবহার করবেন, সেটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেওয়া হবে এবং তাকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে একটি পরিকল্পিত জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের কোনো তথ্য নেই। গত এপ্রিলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একজন মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছিল।


এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি আবারও জানিয়েছেন হাতামি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক মাসে হামলা ও পাল্টা হামলা হয়েছে। বর্তমানে সংঘাতের বড় অংশ দক্ষিণ ইরান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।


হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।


এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এর আগে ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘বিপজ্জনক রসিকতা’ না করার সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা বড় ভুল এবং প্রয়োজনে ইরানি যোদ্ধারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিতে পারে।


বর্তমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিহতদের কেউই ইরানের ভেতরে মারা যাননি; জর্ডান ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় একটি হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে তারাপীঠ মন্দিরের কাছে এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে; খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।


এনডিটিভি জানিয়েছে, বীরভূমের মন্দির শহর তারাপীঠের একটি পাঁচতলা হোটেলের নিচতলায় ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় দমবদ্ধ হয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। হোটেলটির নিচতলার অধিকাংশই পুড়ে যায়।


আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “আমাদের এখানে রাতে পাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন তার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন হোটেলের সাজসজ্জার ফাইবার আবরণগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।


“ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা ঘর ছেড়ে বাইরে এসে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। পিছন দিক দিয়ে বের হওয়ার দরজা থাকলেও অন্ধকারের মধ্যে সেটা কেউ খুঁজে পাননি। তারা রিসেপশনের সামনে দিয়ে বের হতে শুরু করলে আগুন দগ্ধ হন।”


হোটেলের উপরের তলাগুলোতে অনেকে আটকা পড়েছিলেন। তবে আগুন দোতালার উপরে উঠেনি। তাই তারা বেঁচে যান। হোটেলটির অধিকাংশ অতিথিই পুণ্যার্থী। তারা তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিতে এসেছিলেন। মৃতদের নাম, পরিচয় জানা যায়নি।


দমকল বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।


ঘটনার খবর পেয়ে নিকটবর্তী থানা থেকে পুলিশ হাজির হয়েছে ও তদন্ত শুরু করেছে।

সর্বশেষ সব খবর