তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি (ছবি-এএফপি)
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একটি যুগের অবসান ঘটে। তবে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইরান দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিবর্তন কি শুধু নেতৃত্বের পালাবদল, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেক পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।
ঐতিহাসিক ভার্সাই থেকে মধ্যপ্রাচ্য
গত মাসে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্থানটি বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, একই প্রাসাদে ১৯১৯ সালে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই চুক্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবারের মাত্র দেড় পৃষ্ঠার নতুন এই সমঝোতা স্মারকের তুলনা করতে শুরু করেন অনেকে। দুই চুক্তির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্ন উঠেছে—এই সমঝোতাও কি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে? যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ছোট ছোট সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি এখনো অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইরানকি আরও শক্তিশালী?
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসরের মতে, বড় যুদ্ধ শুধু বিজয়ী-পরাজিত নির্ধারণ করে না, এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক দাবার ছকই বদলে দেয়। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।’ যুদ্ধের আগে ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছিল।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার ক্ষমতা হারায়। লেবাননে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গাজায় হামাসের ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান চলে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হামলা হয়।
এসব কারণে অনেক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলের সঙ্গে এ ধারণা পুরোপুরি মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও দেখাতে পেরেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ শেষে প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে আসে—আসলে কে কাকে দুর্বল করল?
ভিন্ন কৌশলে নতুন নেতৃত্ব
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার ভাষায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায় এসেছে। তারা একদিকে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাসর বলেন, ‘ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব আগের প্রজন্মের মতো আদর্শবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬ বছর। তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনির চেয়ে প্রায় ৩০ বছর ছোট তিনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগই বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলি খামেনির নেতৃত্বই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড় বাধা ছিল। তার বিদায়ের পর সেই কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা: বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনির সময় ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করত, যেখানে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হতো। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও অংশ নেয়।
ভালি নাসরের মতে, আগের নেতৃত্বের তুলনায় বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের দ্বিধা কম। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার কাশেম সোলেইমানি নিহত হলে, ইরান ঘোষণা দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই সংযম দেখা যায়নি। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ দফায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা আহত হয়।
উপসাগরীয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ
বিবিসির মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-নীতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এবার সেই ঘাঁটিগুলোই ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন বুঝতে পারছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণও হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, এ কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সৌদি আরবও আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। তবে ভায়েজ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে দেবে। কারণ বাস্তবে ওয়াশিংটনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে নেই।
বদলাবে কি ইরানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য?
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।তেহরানে নতুন নেতৃত্ব এলেও সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বাধীন বা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি। চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তাই ভিন্নমত দমনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে হিজাবের বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হয়েছে। তেহরানের কিছু রেস্তোরাঁয় নীরবে মদ বিক্রিও চলছে—যা আগে কল্পনাও করা যেত না।
অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। বরং যুদ্ধের পর রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যুদ্ধের পর বদলে গেছে সাধারণ মানুষের মনোভাবও। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছে বিবিসি।
বহু বছর ধরে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ থাকা অনেক মানুষ যুদ্ধের সময় ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন—তাদের প্রকৃত শত্রু কে? যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তোলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছিল, তাদের হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে ইরানি সমাজের একাংশে।
চীনের মতো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বর্তমান পরিস্থিতিকে মাও-পরবর্তী চীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ইরানের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন বুঝতে পারছে যে পুরোনো পথে আর এগোনো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে নতুন এক সামাজিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ ক্ষমতার কেন্দ্র আগের চেয়ে আরও বেশি মাত্রায় আইআরজিসির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
কূটনীতিতে নতুন সুযোগ: যুদ্ধের পর উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তনের’ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড়ের বিনিময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে সেটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ইরান সীমিত পরিসরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।
আলোচনা সফল হলে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পথও খুলে যেতে পারে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনাই নতুন নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।
চ্যাথাম হাউজের সানাম ভাকিল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে বা আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারালে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট এখনো অমীমাংসিত। ফলে সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ঝুঁকিও সমানভাবে রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ভেঙে পড়বে—এই ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। বরং ইরানের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়—এই পরিবর্তন ইরানের জন্য নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, নাকি আবারও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যকে।
ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এদিন মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে।
এর আগে ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পেসএক্সের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৬০০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ইলন মাস্ক এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়।
তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।
এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। তবে ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবার তা হারান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাস্কের সম্পদ আবার দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারের হিসাবে তার সম্পদ ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম।
সূত্র: ইয়াহু ফাইনান্স
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের কার্যালয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক। (ছবি- দ্য ডন)
তীব্র রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরাসরি আলোচনায় বসেছে অবশেষে। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার পিটিআইয়ের লংমার্চের আগে আজ শনিবার বিকেলে শেষ মুহূর্তে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা। লংমার্চটি বন্ধ করতে মরিয়া সরকার। অন্যদিকে যেকোনো উপায়ে লংমার্চ আয়োজনে অনড় বিরোধী দল। দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের এই সংলাপ- সংঘাতের ‘মেঘ কেটে দেওয়ার’ একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা নিয়ে সংশয়ও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আলোচনায় সমঝোতা চেষ্টার মধ্যেও দুই পক্ষের কথাবার্তায় উত্তপ্ত বারুদের গন্ধ রয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে পিটিআইয়ের ৪ অক্টোবরের লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেখা যাক কী হয়, তারা যদি লংমার্চ স্থগিত নাও করে, আমাদের কাছে তাদের থামানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ’ফেডারেল মন্ত্রীরা সতর্ক করে আরও বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পিটিআইয়ের প্রতিবাদের ডাক বিবেচনা করে কেন্দ্রের কাছে সেখানে গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। অন্যদিকে এমন সিদ্ধান্তে সরকারকে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি দাবি ও রাজপথে আন্দোলন দমনের বিরুদ্ধে পিটিআই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। আগামীকাল বড় আকারের লংমার্চের ঘোষণা দেয় পিটিআই। এমন আন্দোলনের মুখে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমিত করতে উভয় পক্ষ একপর্যায়ে সংলাপে বসতে সম্মত হয়। শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের মুখোমুখি বসে এক ঘণ্টা আলোচনা করেছে। পিপিপি’র প্রতিনিধিসহ সরকার নেতৃত্বাধীন একটি জোট এবং পিটিআই নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট শুক্রবার ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের চেম্বারে এক দফা আলোচনা শেষ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এই সভাটি ডাকা হয়েছিল।
শেষ মুহূর্তে আরেকটি সমঝোতা চেষ্টা আজ
পিটিআই ঘোষিত রোববারের লংমার্চের আগে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আজ দুপুরে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সরকারের মুখপাত্রদের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করবে পিটিআই। সরকার তাতে কী সাড়া দেয় সেটিই আসল বিষয়। তবে প্রথম দফায় কী অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই তেমন কিছু বলেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার জন্য সংসদই সঠিক মঞ্চ-আয়াজ সাদিকের এই দাবিটি যেমন সঠিক, তেমনি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দাবি করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের যুক্তিও সমান ন্যায়সঙ্গত। এখানে বিশ্বাসের একটি ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত দূর করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারের ক্রমাগত হুমকি সরকার-বিরোধী দলের বৈরিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই যে আলোচনা শুরু করেছে-তা বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ।
লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল পিটিআই, চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ
এদিকে এরই মধ্যে লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে পিটিআই। তাদের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, লংমার্চ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে অব-দ্য-রেকর্ড আলোচনা চলছে।
যেকোনো মূল্যে ৪ অক্টোবরের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে পিটিআইয়ের খাইবার পখতুনখাওয়ার তথ্য সম্পাদক শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে শুরু হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আর মালাকান্দ বিভাগের মিছিলটির নেতৃত্বে থাকবেন পিটিআই-এর প্রাদেশিক সভাপতি ও এমএনএ জুনায়েদ আকবর খান। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা, পেশোয়ার, মালাকান্দ এবং হাজারা থেকে আসা মিছিলগুলো সোয়াবিতে এসে একত্রিত হবে। লংমার্চের সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোনোকিছুই এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ। গভর্নর শাসন কোনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গুরুতর করে তুলবে। খাইবার পখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শগুলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন। সরকার যদি সত্যিই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়, তবে তাদের অবিলম্বে ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া উচিত।
অস্থায়ী স্বস্তি না স্থায়ী সমাধান
প্রথম দফার বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে তার মধ্যে পিটিআই-এর দাবিগুলো হলো- ইমরান খানকে কারাগার থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করা। অন্যদিকে সরকারের দাবি হলো- ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (জাতীয় সংসদ) স্পিকারের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনার স্বার্থে পিটিআইকে তাদের ৪ অক্টোবরের ঘোষিত লংমার্চ ও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার বা স্থগিত করতে হবে।
যদিও প্রথম দফার বৈঠক শেষে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছে। তবুও এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও পাকিস্তানে এ ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ কেবল সাময়িক উত্তেজনা কমানোর কৌশল বা ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া পাকিস্তানে রয়েছে বহুমুখী সংকট। বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, ডলারের সংকট, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং নতুন করে বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজপথ বনাম সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ সংঘাত কোনো পক্ষকেই বিজয়ী করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করছে। উভয় পক্ষ যদি ব্যক্তিগত অহমিকা ও মুখোমুখি সংঘাতের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখাতে পারে, তবেই পাকিস্তানের আকাশ থেকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সমঝোতা নিয়ে কী বলছে পিটিআই
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনার সফলতা সম্পূর্ণভাবে সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন পিটিআই নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে দেখা করার অনুমতি, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বৈঠকে তাদের পক্ষের নেতা ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে একজন পরিপক্ক এবং সমঝোতাকামী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ খুঁজে বের করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত, আমি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এই আলোচনাকে আশাব্যঞ্জক বলতে পারি। তিনি জানান, শুক্রবারের আলোচনায় উভয় পক্ষই যার যার অবস্থান তুলে ধরেছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।
এছাড়া পিটিআই নেতা গওহর আলী খান এক ঘণ্টার এই বৈঠকটিকে ‘আন্তরিক’ বলে অভিহিত করেছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্পষ্ট কোনো অগ্রগতিও হয়নি।
কী চায় পিটিআই
বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন, তাদের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য একটি সহজ সদ্বিচ্ছা প্রকাশ হতে পারে, যা দ্রুত একটি বড় অগ্রগতিও তৈরি করতে পারে। পিটিআইয়ের অন্য দাবিগুলো হলো- কারাবন্দি নেতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া এবং ঘোষিত লংমার্চের আগে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানের বোনদের মুক্তি দেওয়া। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। বিরোধী এ দলটি সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেছে যে, কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
সরকারকে সততার সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আব্বাস জাফরি বলেছেন, যদি সরকার রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সত্যি চিন্তিত হয় তাহলে উচিত হবে সততার সাথে আলোচনা করা এবং সমস্যা সমাধানের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদের ডাক ‘বহাল’ থাকবে। তিনি বলেন, আলোচনা করা রাজনৈতিক নেতাদের পথ; আলোচনা বড় বড় সমস্যা ও যুদ্ধের সমাধানও করতে পারে। এটি অবশ্য সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আলোচনার অপর পক্ষ হিসেবে সরকার আসলেই কি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায় কি না। তারা সরকারে আছে এবং শান্তি বজায় রাখা, সংকট সমাধান করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।
সরকার কী চায়
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপে পিপিপি নেতা শেরি রহমান বলেছেন, তাদের দল আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি লংমার্চের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পিটিআইকে এটি ‘নিঃশর্তভাবে’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছেন, পিটিআইকে এটি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের হাতেই সময় আছে। আমরা শনিবার আবার বসব। এর মধ্যেই এটি শেষ করার চেষ্টা করব।
কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে শেরি রহমান বলেন, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তবে বিরোধী দল কিছুটা সময় চেয়েছে এবং ‘আমাদের তা সম্মান করা উচিত।’ তিনি মন্তব্য করেন, একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।
পরে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এই গোষ্ঠীগুলো যে সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে তা বিবেচনা করলে। পিপিপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল নিঃশর্তভাবে লং মার্চ বাতিল করার মাধ্যমে এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটবে। এতে করে দেশ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।’ সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা একে অপরকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং একটি গঠনমূলক ও আন্তরিক পরিবেশে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। অংশগ্রহণকারীরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে স্পিকার সাদিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাদিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর অফিস সব সময় উন্মুক্ত এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। মতপার্থক্য ও সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা, এবং পদ বা অফিস স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। সংসদই একমাত্র মঞ্চ যেখানে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
সরকারের কী করণীয়
পিটিআই আলোচনার সময়ও তাদের প্রতিবাদের ডাক বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর- এমন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, লংমার্চ কর্মসূচি নিঃশর্তভাবে বাতিল করতে হবে। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই তাদের লংমার্চ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। আলোচনাকে একটি সঠিক সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের এ প্রস্তাবে কতটুকু সাড়া দেবে বিরোধী দল তাই সে ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য ডন আজ এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশীদের শত্রুতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির উত্থাপিত পয়েন্টটি যৌক্তিক। তবে কেবল জাতীয় ঐক্যের দোহাই দিয়ে বৈধ রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন করা যেতে পারে না। উভয় পক্ষকেই আলটিমেটাম বা চরম হুঁশিয়ারি থেকে পিছিয়ে আসতে হবে। গভর্নর শাসন জারির হুমকি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নিতে হবে। একইভাবে পিটিআইয়েরও ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা মার্চ করবই’-এমন অবস্থান পরিহার করা উচিত।
বৈঠকে কারা ছিলেন
বৈঠকে কাশ্মীর বিষয়ক এবং গিলগিট-বালতিস্তান মন্ত্রী আমির মুকাম, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পিপিপির পক্ষে সিনেটর শেরি রহমান এবং জাতীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ নাভিদ কামার ও এজাজ হুসাইন জাখরানি এতে অংশ নেন।
বিরোধী দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, আমির ডোগার, সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং পিটিআই-এর সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা।
এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান (ছবি-রয়টার্স)
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে তাইওয়ান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আট বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে, চীনের আপত্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ বিলিয়ন ডলারের আলাদা একটি অস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব স্থগিত করে রেখেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তাইওয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুদ্ধবিমানগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত আগমন দেখতে বহু স্থানীয় মানুষ দুরবিন ও বড় লেন্সের ক্যামেরা নিয়ে বিমানঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের কাছে ভিড় জমান।
চীনের ক্রমাগত সামরিক হুমকি ও নিত্যদিনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে তাইওয়ান।
খবর- এএফপি
স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।
‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।
‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’
উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।
ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ক্যাপ্টেনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন শাহরুখ-সালমান
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে মারধর এবং তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তার বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে যান। পরে দুজনকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাড়িতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। মারধরের কারণে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীকে একটি পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার গতিবিধি জানতে পারেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন তথ্যমতে বিশ্বে ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।
ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।