ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ এএম

ইরানের কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তাদের চলমান ব্যাপক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়। 


অভিযানের আওতায় বন্দর আব্বাসসহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন বন্দরনগরীতেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার পর পুরোনো একটি প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। 


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রথম দিক থেকেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর তা হলো, ওয়াশিংটন কি ইরানের ভূখণ্ড দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে?


যুদ্ধের এক মাস পর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে একটি তথ্য দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, ইরানের খারগ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হয়ে থাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যের পর সেখানে স্থল অভিযানের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছিল।


গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর দ্বীপ দখলের আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। 


তবে গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। এরপর বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। এ ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে এটি বলতে পারব না। কারণ, আমি যদি বলি, তবে তা বোকামি হবে।’


তাহলে প্রশ্ন জাগে, এটি কি কেবলই যুদ্ধংদেহী কথাবার্তা, নাকি সত্যিই এমন কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে?


ইরানের দ্বীপ দখলে মার্কিন সক্ষমতা


লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ আল-জাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত কৌশলগত দিক’ বিবেচনা করলে ইরানের দ্বীপগুলো দখল করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আকাশ, নৌ ও উভচর সামরিক শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছোট কোনো দ্বীপ দখল করতে পারে। 


তবে এর ফলে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে, তা সামাল দেওয়ার সদিচ্ছা তাদের থাকতে হবে। 


বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট অগ্রবর্তী ঘাঁটিতেও এসব সেনা অবস্থান করছেন।


জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক নাদের হাশেমিও আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, শুধু দ্বীপ দখল করাই নয়; বরং সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মতো সামরিক ও লজিস্টিক (রসদ সরবরাহ) সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের আছে। কারণ, বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে সামরিক দিক থেকে তারা এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নাদের হাশেমি মনে করেন, আসল প্রশ্ন হলো, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা মূল্য চোকাতে হবে।


কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, ‘সাময়িকভাবে একটি দ্বীপ দখল করা এক জিনিস। কিন্তু সেখানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, রসদ সরবরাহ করা এবং সেখান থেকে কৌশলগত সুবিধা আদায় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’


ক্রিগ আরও উল্লেখ করেন, কেশম দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হবে। কারণ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; বরং বেশ বড় একটি দ্বীপ, যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের ঠিক গায়েই অবস্থিত।


হেঙ্গামের মতো ছোট ছোট দ্বীপ হয়তো সহজেই দখল করা যাবে। তবে এগুলো ইরানের গোলন্দাজ বাহিনী, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌকার বহরের নাগালের মধ্যেই থাকবে।


সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখল করতে গেলে তা আর ‘সীমিত অভিযান’ থাকবে না। তখন এটি বড় ধরনের একটি উভচর সামরিক অভিযানে রূপ নেবে।


দ্বীপগুলো দখল করলেই যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ করবে, এমন নয়। উল্টো এর ফলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং সেগুলোতে টানা হামলা হতে থাকবে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তেহরানের হাতে একটি বড় যুক্তি তুলে দেবে। তখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারবে।


অত্যন্ত ব্যয়বহুল অভিযান


এ ধরনের পদক্ষেপে প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হবে। সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ ধারণা করেন, একটি সীমিত অভিযানের জন্যও শুরুতে ৫–১০ হাজার সেনার একটি বাহিনীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে লড়াকু সেনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, প্রকৌশলী, রসদ সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা ও কমান্ড শাখার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।


যদি একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেনার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু দখল নয়, এর পরের লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে গেলেও অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজন হবে বলে ক্রিগ জানান।


ক্রিগ বলেন, ‘ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা সরাসরি হামলার মুখে মার্কিন সেনাদের কাজ করতে হবে। এ ছাড়া রসদবাহী জাহাজ, ল্যান্ডিং ক্রাফট ও হেলিকপ্টারগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও কামানের গোলার ঝুঁকির মধ্য দিয়েই সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে।’


যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিংস কলেজের এই শিক্ষক আরও যোগ করেন, ‘ইরানকে যে তাৎক্ষণিক দ্বীপগুলো পুনর্দখল করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারা শুধু অবিরাম হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে ওই অঞ্চলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর অবস্থানে পরিণত হবে।’


ক্রিগ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ওই সেনাদের রসদ সরবরাহ করতে পারে। তবে এ জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন নৌ নিরাপত্তা ও আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করার ব্যবস্থাও চালু রাখতে হবে। তখন সেখানে টিকে থাকাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল মিশন হয়ে দাঁড়াবে। নৌপথ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া একটি অভিযান খুব দ্রুতই ভূখণ্ড দখলের এক অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।’


যুক্তরাষ্ট্র আসলেই দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনো দ্বীপ, বিশেষ করে খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করবে কি না, তা নিয়ে ‘যথেষ্ট সন্দেহ’ প্রকাশ করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি।


অধ্যাপক হাশেমি বলেন, এর ফলে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। দেশের ভেতরেও এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী ‘মাগা’ (আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলো) ঘাঁটিতে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। এটি এমন এক রাজনৈতিক ঝুঁকি, যা নিশ্চিতভাবেই ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে।


বিশ্লেষকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে চিন্তা করলে যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক দূর যেতে পারে, এমনকি তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডও দখল করতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তারা পাঁচ লাখ সেনা পাঠিয়েছিল। সেই সক্ষমতা তাদের আজও আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে এমন কিছু ভাবাও অসম্ভব। এর বাইরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল প্রভাব তো পড়বেই। আরব বিশ্বের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও ব্যাপক ফাটল ধরবে।


হাশেমি বলেন, ‘এসবই কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা। বাস্তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’


শুরুতেই কি ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে হবে


ক্রিগ বলছেন, ইরানের যেকোনো দ্বীপ দখল করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে হবে। তবে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।


ইরানের অনেক রাডার সিস্টেম, উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি, ড্রোনঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টারগুলো স্থানান্তরযোগ্য। এগুলোর অনেক কিছুই লুকানো অবস্থায় বা মূল ভূখণ্ডের একেবারে ভেতরে অবস্থিত। ফলে দ্বীপে সেনা নামানোর সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হয়তো সাময়িকভাবে সেই হুমকি দমিয়ে রাখতে পারবে। 


তবে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে তাদের টানা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।


ক্রিগ দাবি করেন, দ্বীপ দখলের এ ধারণার মূল দুর্বলতা এখানেই। নৌপথে হুমকি তৈরির জন্য ইরানের আসলে এই দ্বীপগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই। তারা মূল ভূখণ্ড থেকেই অনায়াসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে।


হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা যদি সত্যিই পুরোপুরি নষ্ট করতে হয়, তবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের একটি বড় অংশে হামলা চালাতে হবে। এমনকি সম্ভাব্য দখলদারত্বও কায়েম করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তেমন পরিস্থিতিতে এ অভিযান আর শুধু দ্বীপ দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বরং আরও বড় পরিসরের একটি স্থলযুদ্ধের সূচনা করবে।’


মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি উল্লেখ করেন, এমন দৃশ্যপট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এর জন্য এত দিন ধরে চলা হামলার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি বোমাবর্ষণের প্রয়োজন হবে। এ কারণেই ওয়াশিংটন আদৌ সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।


নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব


কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো দ্বীপ দখল করলে তেহরান বিষয়টিকে চরম উসকানি হিসেবেই নেবে। এর জবাবে তারা হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি মাইন পুঁতে রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়ে দিতে পারে তারা।


ক্রিগ আরও জানান, দ্বীপগুলো যার দখলেই থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলবে। জাহাজের বিমা খরচ তখন বহুগুণ বেড়ে যাবে। আর পানিতে থাকা মাইন সরাতেও অনেক সময় লাগবে। পাশাপাশি এমন কোনো দখলের ঘটনা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। কারণ, এসব দেশ চায় হরমুজ প্রণালি খোলা থাকুক। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘাঁটি বা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে চায় না।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিগের চূড়ান্ত উপসংহার হলো, দ্বীপ দখলের বিষয়টি হয়তো একটি চমকপ্রদ সামরিক ভাবমূর্তি তৈরি করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা’ রক্ষার লড়াইকে ‘ভূখণ্ড দখলের এক যুদ্ধে’ পরিণত করবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্য হয়ে কোনোভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এমন বড় কোনো স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে, যা তারা যেকোনো মূল্যেই এড়াতে চায়।



সর্বশেষ সব খবর

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০১ পিএম

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।


“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।


বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।


দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”


ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।


দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।


এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।


এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।


খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। 


তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।


স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।


ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।


আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।


কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।


সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর আদিয়ালা কারাগারে যাবেন না। 


তিনি বলেন, এর মধ্যে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেলে ওই দিন ২০ লাখ লোকের সমাবেশ করা হবে।


আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।


আদিয়ালা কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।


খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’


উল্লেখ্য গতকাল ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।


আফ্রিদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৈঠকের অনুমতি দেওয়া না হলে দলের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (গতকাল) রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ করবেন পিটিআইয়ের কর্মীরা।


জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিটিআইদলীয় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এই বার্তা দেবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’


পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।


আফ্রিদি অভিযোগ করেন, এমনকি সরকারি মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দেশ ও দেশের শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।


খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান চায় এবং কেবল ইমরান খানই তা নিশ্চিত করতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করবেন।


আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের ওপর জোর দেওয়ার জন্য পিটিআইয়ের কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ দারুণ উৎসাহী এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।


পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এই গণজাগরণে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তিনি বলেন, আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।


আফ্রিদি বলেন, যিনিই পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহন করবেন, তাঁকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।


পিটিআইয়ের অব্যাহত প্রতিবাদ এবং কারাবন্দী দলের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এল। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।


পরে রাতের বেলায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আফ্রিদি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।


পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’


খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাউদার্নের ট্রেনটি লুইস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী ছিল।


ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। ট্রেনে থাকা প্রায় ১৫০ যাত্রীকে পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।


ঘটনাস্থলের ছবিতে উল্টে যাওয়া বগির ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন।


ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডমিনিক আইওনু সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়; কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


যাত্রী র‌্যাচেল হিথ জানান, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এরপর বিকট শব্দ ও চিৎকার শুরু হয় এবং একটি বগি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলে তিনি জানান।


দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার কয়েকটি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর

বড় বিপাকে ইউক্রেনের কৃষকরা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ এএম

রাশিয়া ২০২২ সালে আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এ কারণে নিজের জমির দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন দেশটির কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার তিনি পড়েছেন অন্য ধরনের বিপাকে। 


ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ফলে সেই ফসল নিয়েই অনিশ্চয়তায় রিবালকোর মতো হাজার হাজার কৃষক।


ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। 


আগামী মাসে শুরু হবে ভুট্টা কাটার মৌসুম। নিজের শস্য সংরক্ষণাগারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫৭ বছর বয়সী রিবালকো বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর কোনো জায়গা নেই। কৃষকদের জন্য এটি পুরোপুরি একটি বিপর্যয়।’


ইউক্রেনের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। ফলে এই অবরোধ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে একে অপরের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।


দুই বড় শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত


ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌ ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।


স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতভর চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্রিগেট রয়েছে। 


প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি


গত বুধবার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া দরকার। 


যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।


বিতর্কিত দ্বীপে পুতিন


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো জাপানের দাবিকৃত বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতুরুপ দ্বীপে যান। সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।


পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘পুতিনের এই সফর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ 


কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। এরপর থেকেই এগুলো মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে আছে। 


খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসির

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ছক কষেছিল ইরান-ইসরাইলি গোয়েন্দাদের এমন দাবিকে পুরোপুরি ভুয়া বলে সন্দেহ করছে তুরস্ক।


ইসরাইল দাবি করেছিল, ইরানের একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে। এই সতর্কতার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের বিমান ও যাত্রাপথ পরিবর্তন করে এবং তাকে কড়া নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়।


তবে তুরস্কের কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের একটি সাজানো নাটক। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-ইরানের সাথে যুদ্ধ থামিয়ে ট্রাম্প যে চুক্তির আলোচনা করছিলেন, তা যেকোনো মূল্যে বানচাল করা। 


পাশাপাশি, তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ করা এবং তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া।


তুরস্ক আরও জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের মতো ওই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তুরস্কে এ ধরনের বড় হামলা চালানোর কোনো বাস্তব সুযোগ বা সাহস ইরানের নেই। আঙ্কারার এক সূত্রের মতে, যে হামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না বা কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, মূলত সেই কাল্পনিক হামলার হিরো সাজতেই ইসরাইল এই মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছিল।


সূত্র: মিডলইস্ট আই।

সর্বশেষ সব খবর