ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ এএম

ইরানের কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তাদের চলমান ব্যাপক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়। 


অভিযানের আওতায় বন্দর আব্বাসসহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন বন্দরনগরীতেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার পর পুরোনো একটি প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। 


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রথম দিক থেকেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর তা হলো, ওয়াশিংটন কি ইরানের ভূখণ্ড দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে?


যুদ্ধের এক মাস পর গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে একটি তথ্য দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, ইরানের খারগ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ দিয়ে হয়ে থাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যের পর সেখানে স্থল অভিযানের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছিল।


গত ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর দ্বীপ দখলের আলোচনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। 


তবে গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। এরপর বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। এ ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে এটি বলতে পারব না। কারণ, আমি যদি বলি, তবে তা বোকামি হবে।’


তাহলে প্রশ্ন জাগে, এটি কি কেবলই যুদ্ধংদেহী কথাবার্তা, নাকি সত্যিই এমন কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে?


ইরানের দ্বীপ দখলে মার্কিন সক্ষমতা


লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ আল-জাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সীমিত কৌশলগত দিক’ বিবেচনা করলে ইরানের দ্বীপগুলো দখল করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত আকাশ, নৌ ও উভচর সামরিক শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছোট কোনো দ্বীপ দখল করতে পারে। 


তবে এর ফলে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে, তা সামাল দেওয়ার সদিচ্ছা তাদের থাকতে হবে। 


বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট অগ্রবর্তী ঘাঁটিতেও এসব সেনা অবস্থান করছেন।


জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক নাদের হাশেমিও আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, শুধু দ্বীপ দখল করাই নয়; বরং সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মতো সামরিক ও লজিস্টিক (রসদ সরবরাহ) সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের আছে। কারণ, বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে সামরিক দিক থেকে তারা এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নাদের হাশেমি মনে করেন, আসল প্রশ্ন হলো, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা মূল্য চোকাতে হবে।


কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, ‘সাময়িকভাবে একটি দ্বীপ দখল করা এক জিনিস। কিন্তু সেখানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, রসদ সরবরাহ করা এবং সেখান থেকে কৌশলগত সুবিধা আদায় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’


ক্রিগ আরও উল্লেখ করেন, কেশম দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হবে। কারণ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; বরং বেশ বড় একটি দ্বীপ, যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের ঠিক গায়েই অবস্থিত।


হেঙ্গামের মতো ছোট ছোট দ্বীপ হয়তো সহজেই দখল করা যাবে। তবে এগুলো ইরানের গোলন্দাজ বাহিনী, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌকার বহরের নাগালের মধ্যেই থাকবে।


সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখল করতে গেলে তা আর ‘সীমিত অভিযান’ থাকবে না। তখন এটি বড় ধরনের একটি উভচর সামরিক অভিযানে রূপ নেবে।


দ্বীপগুলো দখল করলেই যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়া বন্ধ করবে, এমন নয়। উল্টো এর ফলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং সেগুলোতে টানা হামলা হতে থাকবে। একই সঙ্গে এ ঘটনা তেহরানের হাতে একটি বড় যুক্তি তুলে দেবে। তখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারবে।


অত্যন্ত ব্যয়বহুল অভিযান


এ ধরনের পদক্ষেপে প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হবে। সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ ধারণা করেন, একটি সীমিত অভিযানের জন্যও শুরুতে ৫–১০ হাজার সেনার একটি বাহিনীর প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে লড়াকু সেনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, প্রকৌশলী, রসদ সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা ও কমান্ড শাখার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।


যদি একসঙ্গে কয়েকটি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেনার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু দখল নয়, এর পরের লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে গেলেও অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজন হবে বলে ক্রিগ জানান।


ক্রিগ বলেন, ‘ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা সরাসরি হামলার মুখে মার্কিন সেনাদের কাজ করতে হবে। এ ছাড়া রসদবাহী জাহাজ, ল্যান্ডিং ক্রাফট ও হেলিকপ্টারগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও কামানের গোলার ঝুঁকির মধ্য দিয়েই সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে।’


যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিংস কলেজের এই শিক্ষক আরও যোগ করেন, ‘ইরানকে যে তাৎক্ষণিক দ্বীপগুলো পুনর্দখল করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারা শুধু অবিরাম হামলা চালিয়ে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে ওই অঞ্চলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর অবস্থানে পরিণত হবে।’


ক্রিগ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ওই সেনাদের রসদ সরবরাহ করতে পারে। তবে এ জন্য তাদের নিরবচ্ছিন্ন নৌ নিরাপত্তা ও আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করার ব্যবস্থাও চালু রাখতে হবে। তখন সেখানে টিকে থাকাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল মিশন হয়ে দাঁড়াবে। নৌপথ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া একটি অভিযান খুব দ্রুতই ভূখণ্ড দখলের এক অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।’


যুক্তরাষ্ট্র আসলেই দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনো দ্বীপ, বিশেষ করে খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করবে কি না, তা নিয়ে ‘যথেষ্ট সন্দেহ’ প্রকাশ করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি।


অধ্যাপক হাশেমি বলেন, এর ফলে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। দেশের ভেতরেও এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী ‘মাগা’ (আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলো) ঘাঁটিতে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। এটি এমন এক রাজনৈতিক ঝুঁকি, যা নিশ্চিতভাবেই ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে।


বিশ্লেষকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে চিন্তা করলে যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক দূর যেতে পারে, এমনকি তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডও দখল করতে পারে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে তারা পাঁচ লাখ সেনা পাঠিয়েছিল। সেই সক্ষমতা তাদের আজও আছে। কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে এমন কিছু ভাবাও অসম্ভব। এর বাইরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল প্রভাব তো পড়বেই। আরব বিশ্বের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও ব্যাপক ফাটল ধরবে।


হাশেমি বলেন, ‘এসবই কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা। বাস্তবে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’


শুরুতেই কি ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে হবে


ক্রিগ বলছেন, ইরানের যেকোনো দ্বীপ দখল করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে হবে। তবে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।


ইরানের অনেক রাডার সিস্টেম, উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি, ড্রোনঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টারগুলো স্থানান্তরযোগ্য। এগুলোর অনেক কিছুই লুকানো অবস্থায় বা মূল ভূখণ্ডের একেবারে ভেতরে অবস্থিত। ফলে দ্বীপে সেনা নামানোর সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হয়তো সাময়িকভাবে সেই হুমকি দমিয়ে রাখতে পারবে। 


তবে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে তাদের টানা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।


ক্রিগ দাবি করেন, দ্বীপ দখলের এ ধারণার মূল দুর্বলতা এখানেই। নৌপথে হুমকি তৈরির জন্য ইরানের আসলে এই দ্বীপগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই। তারা মূল ভূখণ্ড থেকেই অনায়াসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে।


হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা যদি সত্যিই পুরোপুরি নষ্ট করতে হয়, তবে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের একটি বড় অংশে হামলা চালাতে হবে। এমনকি সম্ভাব্য দখলদারত্বও কায়েম করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘তেমন পরিস্থিতিতে এ অভিযান আর শুধু দ্বীপ দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বরং আরও বড় পরিসরের একটি স্থলযুদ্ধের সূচনা করবে।’


মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক হাশেমি উল্লেখ করেন, এমন দৃশ্যপট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এর জন্য এত দিন ধরে চলা হামলার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি বোমাবর্ষণের প্রয়োজন হবে। এ কারণেই ওয়াশিংটন আদৌ সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।


নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব


কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো দ্বীপ দখল করলে তেহরান বিষয়টিকে চরম উসকানি হিসেবেই নেবে। এর জবাবে তারা হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি মাইন পুঁতে রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ, মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়ে দিতে পারে তারা।


ক্রিগ আরও জানান, দ্বীপগুলো যার দখলেই থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলবে। জাহাজের বিমা খরচ তখন বহুগুণ বেড়ে যাবে। আর পানিতে থাকা মাইন সরাতেও অনেক সময় লাগবে। পাশাপাশি এমন কোনো দখলের ঘটনা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। কারণ, এসব দেশ চায় হরমুজ প্রণালি খোলা থাকুক। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘাঁটি বা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে চায় না।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিগের চূড়ান্ত উপসংহার হলো, দ্বীপ দখলের বিষয়টি হয়তো একটি চমকপ্রদ সামরিক ভাবমূর্তি তৈরি করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা’ রক্ষার লড়াইকে ‘ভূখণ্ড দখলের এক যুদ্ধে’ পরিণত করবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্য হয়ে কোনোভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এমন বড় কোনো স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে, যা তারা যেকোনো মূল্যেই এড়াতে চায়।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নবজাতকদের ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।


‘থাইমামান থাঙ্গা মোথাইরাম থিত্তাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তামিলনাড়ু সরকার ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ দিয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের হাতে সোনার আংটি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, নবজাতকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানানো এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি মাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করা হয়েছে।


২০২৬ সালের ২২ জুন বা তার পরে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এ সুবিধা পাবে। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা যেসব মা গর্ভাবস্থায় পিকমি পোর্টালে নিবন্ধন করে আরসিএইচ আইডি পেয়েছেন, তাদের সন্তানদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।


রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, মামা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। এ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাতেই সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মামা যেমন তার বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, এই আংটিও তেমন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।


প্রকল্পের সূচনা মাদুরাই থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায়। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্যাকেটে করে তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।


২২ জুন থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জমে থাকা আংটি বিতরণে রাজ্যজুড়ে ১০৭টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জন শিশুকে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়া হবে।


তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের বক্তব্য, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা করা। ফলে সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এ সংস্থাকে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি গিয়ে নেতানিয়াহু সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।


বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, এমন সময় নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর সামনে এলো যখন হামাসের হামলার আগে পাওয়া কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক চলছে। যদিও এই সফরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি যান নেতানিয়াহু। সেখানে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের বাকিটা সময় আবুধাবিতে অবস্থান করেন তিনি।


অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় তার এই সফরের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে এমন সময় তিনি আবুধাবি সফর করলেন যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে নেতানিয়াহু কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্ক চলছে।


এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের ওই হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি গোপন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি সেটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।


কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যে ব্যক্তিগত বিমানটিতে আবুধাবি গিয়েছিলেন, সেটির মালিকানা এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর। নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যবসায়ীর বিমানটি ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে ব্যবহার করেন।


সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, বিকেলে বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আবুধাবিতে অবতরণ করে। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর সেখানে পৌঁছায়।


কান আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও আবুধাবি সফরে একই বিমান ব্যবহার করেছিলেন নেতানিয়াহু।


আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনাল এক আমিরাতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমিরাত সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে আলোচনা করে। এসব আলোচনা সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হয় না।


২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।


২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ পিএম

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ১০০ বছর। তার ছেলে মোখজানি মাহাথির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথির মোহাম্মদ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।


এক্স-এ এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মরহুম তুন ডক্টর সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। জাতি তাঁকে একজন মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ও তাঁর অবদানকে চিরকাল স্মরণ করবে।


আনোয়ার আরও বলেন, সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 


উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে সেলাঙ্গরের ক্লাং-এ জন্মগ্রহণকারী সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথম দিকের নারী চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অফ মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কাজ করেন।


তিনি ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি চলতি বছরের আগস্ট মাসে তাঁদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন।


মাহাথির ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ ফের শুরু হলে তার জন্য তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেয়া সাত দিনের রোডম্যাপ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এমন মন্তব্য করলেন তিনি।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা কমাতে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধে জয়ী হবে।


হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের একটি দাবিকে কেন্দ্র করেও। তেহরান দাবি করেছে, তারা প্রণালীতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন পানির নিচের ড্রোন জব্দ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।


অন্যদিকে, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ ও ‘সন্ত্রাসবাদী’ কর্মকাণ্ডের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।


আইআরজিসির দাবি, জব্দ করা আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি একটি উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সাবমার্সিবল, যার নাম ‘রেমাস ৬০০’। বর্তমানে এটি আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হেফাজতে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।


ফার্স নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর উন্নতমানের ওই ড্রোন জব্দ করতে সক্ষম হন।


আইআরজিসি ড্রোনটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছে।


কীভাবে ড্রোনটি জব্দ করা হলো?


ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে সেটির গতিবিধি শনাক্ত করে। এরপর একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ইরান।


তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। একইভাবে ড্রোনটির সঙ্গে কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা অন্য কোনও যান জড়িত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।


‘রেমাস ৬০০’ কী?


ইরানের দাবি করা ড্রোনটি ‘রেমাস ৬০০’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে।


এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন চালানোর জন্য সরাসরি কোনও মানবচালকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট রুট ও মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো পানির নিচে চলাচল করতে পারে এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।


ইরানের দাবি সত্য হলে, ড্রোনটি জব্দ করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা তথ্য, সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মিশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান।


হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।


পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।


এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের ইরানি দাবি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করে আইআরজিসি। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে জানায়, সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই


ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে আইআরজিসির এই দাবি প্রকাশ করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ফলে ইরান যে ড্রোনটি জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, সেটি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘রেমাস ৬০০’ কি না এবং সেটি কোনও গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত ছিল কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


তবে ড্রোনটি বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মাধ্যমে ড্রোনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগও তেহরান পেতে পারে।


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। 


সূত্র: আল-জাজিরা


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো রূপান্তর নয়, বরং ভাঙন চলছে বলে মনে করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে ক্রমেই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।


নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার আনিতা আনন্দ জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার গতিপথ বদলে গেছে। অর্থনৈতিক সংযুক্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো জাতিসংঘ সনদ। কিন্তু সেটিও এখন উপেক্ষিত।


এমন অবস্থায় কানাডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আনন্দ। তিনি বলেন, তাঁর দেশ আরও বেশি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অর্জনের পথে এগোবে। একক অংশীদারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নতুনদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে।


অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কানাডা ছোট রাষ্ট্র, মধ্যম শক্তি ও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জোট গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজও অব্যাহত রাখবে। 


আনন্দ বলেন, ‘কেউ কেউ সম্পর্কের মাঝে আরও উঁচু দেয়াল তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে যেতে চাইছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বই সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথ।’


পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের বিষয়ে আনন্দ ইউক্রেন ও ন্যাটোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আর্কটিক অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান। 


তিনি বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। দিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।


কানাডা উপসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকায় নতুন সুযোগ খুঁজছে। আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আনন্দ বলেন, তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।


ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি অটোয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।