ছবি : সংগৃহীত
মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।
ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।
ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।
২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।
জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।
কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।
জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’
এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে
ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।
হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।
জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।
যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’
এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।
জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’
অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।
হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’
ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’
আটককৃতদের বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও শুক্রবারের (২ অক্টোবর) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০ কোম্পানিকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। এগুলো হলো- জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মাণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নিউ দিল্লি। তবে রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, আইএনএ, নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরে বরখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করা হয়। ফলে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোট ১২টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে কোনো সংগঠনকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) শুক্রবার সকাল ১১টায় সেখানে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২৮ সেপ্টেম্বর এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে চিঠিও জমা দিয়েছিল।
ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিল। তবে তাদেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, যন্তর মন্তরে বড় সংখ্যায় বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারেন। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ হয়ে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের দুই দিক- টলস্টয় মার্গ ও কেরালা ভবন দিয়েও প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
এ বিক্ষোভে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম হয়েছে।
চলতি বছর দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে চতুর্থবারের মতো গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। গত মাসে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিশ পাঠায়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ‘সংকটজনক অবস্থায়’ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তার ভবিষ্যৎ অবস্থা কী হবে, সেটিও আমরা জানি না। তবে আমরা জানি, তিনি এখন জীবিত আছেন।’
পাইকের বর্তমান বয়স ৫০ বছর, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তারা স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন।
বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার অনুমতি দিলে কার্যক্রম এগিয়ে যায়। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ছিলেন। তবে ব্যর্থ ওই কার্যক্রমের পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় পরিণত হয়েছিল।’
এক ঘণ্টা ধরে শিরায় প্রবেশের চেষ্টা
বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানান। তারা ঘটনাটিকে গোপনীয়তার মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘গত রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল এক ঘণ্টা ধরে একটি আইভি লাইন (শিরায় ওষুধ দেয়ার প্রক্রিয়া) স্থাপনের চেষ্টা করে। আমি শুধু তার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছি। এর একটি তার হাত থেকে বের করার সময় বাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে পাইক তখনও শ্বাস নিচ্ছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একটি অন্ধকার কক্ষে বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। ওই পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কখন এবং আদৌ চিকিৎসকরা তাকে সহায়তা করতে শুরু করেছিলেন কি না, সেটিও আমার জানা ছিল না।’
এখন রাজ্যটির গভর্নরকে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তাদের এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাইকের আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা আরও কিছু আইনি পথ নিয়েও ভাবছেন।
টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হবে। তবে এজন্য সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। লি বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে এবং এ কারণেই এই তদন্ত।’ তবে স্বাধীন তদন্ত কে পরিচালনা করবে, তা গভর্নর এখনো স্পষ্ট করেননি।
লি চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩ ডিসেম্বর দণ্ডিত খুনি গ্যারি সাটনের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে। তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন, যারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায়িত্বে ছিল, তারা নিজেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অনুমোদিত এবং রাজ্যের আইনসম্মত, নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়মে ওই সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতির অনুমতি নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আদালতে দেয়া পাইকের আইনজীবীদের নথি অনুযায়ী, প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী তাকে পেন্টোবারবিটালের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। আইনজীবীরা বলছেন, ‘এই মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমে মিস পাইক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছেন এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্তভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’
‘ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে’
টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে উত্তর সহজ- ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
২০২৬ সালে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। কারণ, প্রাণঘাতী ওষুধ দেয়ার জন্য তার শিরা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য সাজা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বরং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাব দিতে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সময়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ আকাশ হামলা আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় আয়োজিত ভলদাই আলোচনা ক্লাবের রাজনৈতিক ফোরামে এসব কথা বলেন পুতিন।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার প্রস্তাবের বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘তারা যদি তোমাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে তোমরাও তাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে-এমন কথা বলা হচ্ছে। এটা নিছক হাস্যকর।’
গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো হামলা কিছু ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, রাশিয়া এরই মধ্যে এসব হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ করে রেল যোগাযোগকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং প্রায় সারাক্ষণ কিয়েভকে সতর্ক অবস্থায় রাখছে।
এর মধ্যেই ইউক্রেন আরেকটি কঠিন শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলার সময় একটি ড্রোন একটি স্কুলে আঘাত হানে বলে শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই সময় শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রাজধানীতে একের পর এক আকাশ হামলা চলছিল।
তবে পুতিন বলেন, রাশিয়া সামরিক উপায়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চায় মস্কো বলেও জানান তিনি।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক হুঁশিয়ারি
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। পুতিন বলেন, প্রয়োজন হলে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, ‘যদি রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখানে আমরা কালিনিনগ্রাদের কথা বলছি এবং সম্ভবত আরও কিছু ভূখণ্ডের কথাও বলা যেতে পারে, তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্যই এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।’
পুতিনের এই বক্তব্যের আগে রাশিয়া ন্যাটোর কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ওই নোট পেয়েছে। এতে মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো যদি বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখবে।
তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা উচিত।
পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন একটি মুহূর্ত হঠাৎ চলে আসতে পারে, যখন পরিস্থিতি বদলানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ক্রমাগত উত্তেজনা ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা একসময় এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরতের ইঙ্গিত
এদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রাশিয়ায় জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির ব্যবসা ও সম্পদ ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন পুতিন। ভলদাই ফোরামে তিনি বলেন, সম্পর্কের উন্নতি হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো তাদের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ ফিরে পেতে পারে।
গত মাসে রাশিয়া সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক নেসলে, ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা ওশাঁ, সাবেক ফরাসি ডিআইওয়াই চেইন লেরয় মার্লিন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রুশ সম্পদ জব্দ করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তবে পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এসব সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথ খোলা থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।
তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।
মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।
এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। তার আগে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক একটি গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।
এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।
ছবি : সংগৃহীত
মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তারা জানিয়েছে, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, এই ঘটনা নিয়ে যেসব দাবি বা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী কাবা শরিফের (গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা) দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করেছিল।