হরমুজ প্রণালি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ এএম

বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সম্প্রতি ইরাক সফর করেন। এই সফরে ডলারকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের কথা জানান ঘালিবাফ। এর পাশাপাশি ইরাকি ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ পারাপারে বিশেষ অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল বাগদাদ।


শনিবার(২২ আগস্ট) ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরাকের তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে সহযোগিতা করেছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির বিষয়টি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাগদাদ।


তবে, বিষয়টি এখনও জটিল রয়ে গেছে বলে তিনি জানান। বাগদাদে অনুষ্ঠিত ‘বাগদাদ ডায়ালগ’ নীতি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।


হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও অনেক কম। হামলার ঝুঁকি থাকায় এই জলপথে যাচ্ছে না তেলবাহী ট্যাংকার।


ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জানিয়েছেন, তুরস্কের জেইহান (Ceyhan) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাগদাদ। একই সঙ্গে সিরিয়ার বানিয়াস (Baniyas) এবং জর্ডানের আকাবা (Aqaba) বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি শুরু করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


এদিকে, হরমুজে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। সংঘাত শুরুর আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত এবং মাসে গড়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এর বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বসরা তেল টার্মিনাল থেকে রপ্তানি করা হতো। তবে, হরমুজে সংঘাতের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অনেকাংশে কমেছে।




সর্বশেষ সব খবর

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ এএম

ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আবেদন করা শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার  শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।


সভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের এ বিষয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


সিএএ-এর অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের কর্তৃত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান। সব শরণার্থীকে সম্মানের সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ।


এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ-এর আওতায় বিচারাধীন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। আগে এসব আবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি, গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হতো।


তৃণমূল কংগ্রেস ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ বিরোধিতার সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, আমরা যখন সিএএ এনেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নিয়ে উপহাস করতেন। তিনি বলতেন, তার সরকার এটি বাস্তবায়ন হতে দেবে না। মমতাদিদি, আপনি এই আইন কার্যকর করতে রাজি হননি, কিন্তু আপনাকে ও আপনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। এখন আমাদের এখানে বিজেপি সরকার রয়েছে।


তিনি আরও জানান, চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে রাজ্য থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করবে রাজ্য সরকার।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

ভারতের ওডিশা প্রদেশ উপকূল থেকে ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ২৪ জন ক্রু সদস্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এমভি ওশান উইনার নামে ওই কার্গো জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে যাত্রা শুরু করে। শনিবার (২২ আগস্ট) ডুবে যাওয়া জাহাজটি ১৭০০ টন লোহার আকরিজক বহন করছিল বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।


জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে চীনের ২০ জন, মিয়ানমারের ৩ জন এবং একজন বাংলাদেশি ছিলেন। এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে।


শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ওডিশার শ্রী বিজয়পুরামের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন এমন একটি বার্তা আসে যে, জাহাজটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ওই বার্তায় নৌযানটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তারও অনুরোধ করে।


ঘটনার পরপরই ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও ভারতীয় নৌবাহিনী একটি যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এরইমধ্যে সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় দুটি জাহাজ যোগ দিয়েছে এবং আরও একটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এরইমধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের দুইজনকে উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারীরা।




সর্বশেষ সব খবর

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও তেহরান ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ আছে।


শুক্রবার ডাক্তারদের এক সমাবেশে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ভালো।”


তিনি বলেন, “পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, আমেরিকা সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”


আল জাজিরা লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মুখে জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওই সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ছাড় দিয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তির এমন একটি ধারাও তারা দেখাতে পারবে না, যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। এতে সব প্রতিশ্রুতিই অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।”


গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির সমঝোতায় পৌঁছলেও কার্যত যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়।


এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শুক্রবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকির জবাবে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।


ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।


ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইরানের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ব্যাপক। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিধ্বংসী, শাস্তিমূলক ও মারাত্মক জবাব দেবে।”


ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার এবং সমঝোতার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে।


পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।


গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বলছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে গোপনে তেলবাহী জাহাজের বহর পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।


ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর মানে হল, আমরা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখছি।”


ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলেই আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে স্থলভাগের অনেকটা এলাকাও পড়ে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।”


এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেন, কোনও দেশ ইরানকে যে কোনও ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন বেসেন্ট।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।


আদালত বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই নীতি নেওয়া হয়েছিল। ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস গতকাল শুক্রবার এ নীতি বাতিল করে রায় দেন।


বিচারক বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই করে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।


সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ‘আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।’


জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক দেশও এ তালিকায় ছিল।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। এ কারণেই তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


এ রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।


বিচারক ভার্গাস এ রায় দিয়েছেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামে দুটি সংগঠনের করা মামলায়। সঙ্গে মামলায় ছিলেন তালিকাভুক্ত ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা। এ ছাড়া এসব দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাঁদের পক্ষে যেসব মার্কিন নাগরিক অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাঁরাও মামলায় ছিলেন।


ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারিতে এই নীতি কার্যকর করার সময় বলেছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।


তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০২ পিএম

সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে একটি কার্গো জাহাজ জিম্মি করেছে জলদস্যুরা।  জাহাজটিকে থাকা ১০ নাবিকদের মধ্যে অন্তত ৬ জন ভারতীয়।  ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘লুতুফ’ নামের জাহাজটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জলদস্যুরা ছিনতাই করে। 


সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে তুরস্কের জন্য পাঠানো অস্ত্র ও বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দখল করা হয়। সংবেদনশীল তথ্যের কারণে ওই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি।


জাহাজটিতে ৬ জন ভারতীয় নাবিক ছাড়াও একজন তুর্কি নাগরিক, একজন জর্জিয়ান নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।


কর্মকর্তার দাবি, আটজন জলদস্যু জাহাজটি দখল করে পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার গারমালের কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জলদস্যুরা এর আগে গত ২৬ এপ্রিল ‘সোয়ার্ড’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ছিনতাই করেছিল। 


জাহাজটিতে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো অস্ত্র এবং যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ছিল। জাহাজটির মালিক ‘পোলার মুভমেন্ট শিপিং’নামের একটি প্রতিষ্ঠানের।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভারত ও তুরস্কের কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি।


তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলায় বিয়ের আসরে বরকে দেখার পর বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক কনে। কনের দাবি, আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, আসরে আসা ব্যক্তি তিনি নন। এ ঘটনায় বরযাত্রী ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে আর হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের বুধবারের (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্থানের ছাতারগড় থেকে বরযাত্রী ফিরোজপুরে এসেছিল। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সাতফেরা শুরুর আগেই কনে আপত্তি জানান।


কনে পরিবারের সদস্যদের জানান, বিয়ের আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, সেই ব্যক্তি নয়, অন্য একজনকে বর হিসেবে আনা হয়েছে। তার এ অভিযোগের পর দুই পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিয়ে স্থগিত হয়ে যায়। তবে কনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার। 


তাদের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতির সময় দুই পরিবারের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল এবং কনের পরিবারের কাছে বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল।


বরের নানা মহেন্দ্র সিং জানান, বিয়ের মধ্যস্থতাকারী এবং কনের মায়ের কাছেও বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি পরে পুলিশের কাছেও গড়ায়। বরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।


ফিরোজপুরের গুরু হরসাহাইয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) তেজিন্দরপাল সিং জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। তদন্তের সময় বর ও কনে উভয় পক্ষের পরিবারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।


পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, পরে দুই পরিবার নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। তবে বিরোধ মিটলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান আর সম্পন্ন হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর